Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মোদীর সঙ্গে দু দিন আগের কথোপকথন ফাঁস করলেন ট্রাম্প চার বাক্যে ফের বন্ধু প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা

গত মঙ্গলবার ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প ও মোদী  ভারত আমেরিকা সম্পর্ক  পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা এবং হরমুজ় প্রণালীর পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে তাঁদের মধ্যে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাম্প্রতিক ফোনালাপ নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মঙ্গলবার দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোনে কথা হয়, যা নিয়ে প্রথমে সমাজমাধ্যমে তথ্য দেন মোদী নিজেই। তিনি জানান, ভারত-আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং হরমুজ় প্রণালী ঘিরে উদ্বেগ— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এ বার সেই ফোনালাপ নিয়েই মুখ খুললেন ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার সংবাদসংস্থা এএনআই-এর পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে মোদীর সঙ্গে তাঁর কথোপকথন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি উষ্ণ প্রতিক্রিয়া দেন। ট্রাম্প বলেন, “মোদীর সঙ্গে আমার খুব ভাল কথা হয়েছে। উনি আমার খুব ভাল একজন ভারতীয় বন্ধু। খুব ভাল কাজ করছেন। আমাদের কথাবার্তা খুব ভাল হয়েছে।” যদিও ঠিক কী বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনও নির্দিষ্ট মন্তব্য করেননি। তবে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, মোদীর প্রতি ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক শ্রদ্ধা বজায় রয়েছে।

মোদী গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজের সমাজমাধ্যম পোস্টে জানান, ট্রাম্পের ফোন পেয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, প্রায় ৪০ মিনিট ধরে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা চলে। সেই কথোপকথনে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে কথা হয়। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরান-ইজরায়েল পরিস্থিতি এবং হরমুজ় প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখা কতটা জরুরি, সে বিষয়েও মতবিনিময় করেন তাঁরা।

হরমুজ় প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল সরবরাহ এই পথ দিয়েই হয়। ফলে সেখানে অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব পড়তে পারে। সেই কারণেই বিষয়টি নিয়ে মোদী ও ট্রাম্পের আলোচনা কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সম্পর্ক আন্তর্জাতিক মহলে একাধিকবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই দুই নেতার ব্যক্তিগত সমীকরণ নিয়েও বরাবর আগ্রহ রয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তবে ট্রাম্পের নতুন মেয়াদ শুরু হওয়ার পর সেই সম্পর্কে কখনও উষ্ণতা, কখনও টানাপোড়েন দেখা গিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছিল বাণিজ্য নীতি নিয়ে। রাশিয়ার কাছ থেকে খনিজ তেল কেনার কারণে ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেয় ওয়াশিংটন। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপে দুই দেশের সম্পর্কে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ এবং ভারতের কৌশলগত অবস্থানের কথা মাথায় রেখে দিল্লি নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় ছিল। ফলে অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।

শুধু বাণিজ্য নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রেও মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসে। ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার সময় ট্রাম্প প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন, তাঁর হস্তক্ষেপে দুই দেশের সংঘর্ষ থেমেছে। যদিও ভারত সেই দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে মানেনি। নয়াদিল্লি স্পষ্ট করে জানায়, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক দ্বিপাক্ষিক বিষয় এবং বাইরের কোনও মধ্যস্থতার প্রয়োজন নেই। এই ঘটনাও দুই দেশের অবস্থানগত পার্থক্য সামনে এনে দেয়।

এছাড়াও সেই সময় মোদীর চিন সফর এবং সেখানে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক, পাশাপাশি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কেড়েছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, বৈশ্বিক কূটনীতিতে ভারত নিজের স্বাধীন অবস্থান স্পষ্ট করছে এবং আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেও বহু-মেরুকেন্দ্রিক নীতি অনুসরণ করছে।

তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পরিস্থিতির বদল ঘটেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে নতুন করে বাণিজ্যিক সমঝোতা হয়েছে, কৌশলগত সহযোগিতা বেড়েছে এবং প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে আলোচনা আরও এগিয়েছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ রক্ষার মতো ইস্যুতেও দুই দেশের যোগাযোগ বেড়েছে।

এই আবহেই ফের ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রকাশ্যে প্রশংসায় ভরালেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক এক প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প মোদীকে তাঁর ‘বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেন এবং জানান, মোদী অত্যন্ত ভাল কাজ করছেন। পাশাপাশি তাঁদের মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক কথোপকথনও খুব ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখে মোদীর প্রশংসা নতুন ঘটনা নয়। অতীতেও একাধিকবার ট্রাম্প মোদীর নেতৃত্ব, জনপ্রিয়তা এবং প্রশাসনিক দক্ষতার প্রশংসা করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কে কিছু মতপার্থক্য সামনে আসার পর ফের এই উষ্ণ মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য কেবল সৌজন্যমূলক বক্তব্য নয়, বরং কূটনৈতিক বার্তাও বহন করছে। কোনও রাষ্ট্রনেতাকে ‘বন্ধু’ বলে উল্লেখ করা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভাষায় একটি ইতিবাচক সংকেত। এর মাধ্যমে বোঝানো হয় যে, দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও পারস্পরিক আস্থা বজায় রয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্যে সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

সম্প্রতি মোদী ও ট্রাম্পের মধ্যে ফোনে কথা হয়েছে বলে জানা যায়। সেই আলোচনায় ভারত-আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এবং হরমুজ় প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের প্রশংসা আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ, বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে ভারতকে একটি নির্ভরযোগ্য কৌশলগত অংশীদার হিসেবেই দেখছে আমেরিকা— এমন ব্যাখ্যাও সামনে আসছে।

news image
আরও খবর

ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ক্রমশ শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারসাম্য রক্ষা, চিনকে মোকাবিলা, সাপ্লাই চেন পুনর্গঠন এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় ভারতের ভূমিকা আমেরিকার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে ট্রাম্প পরোক্ষে ভারতের ভূমিকাকেও স্বীকৃতি দিলেন বলে মনে করছেন অনেকে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য শুধুমাত্র সৌজন্যমূলক বক্তব্য নয়, বরং ভবিষ্যতের কূটনৈতিক সমীকরণেরও একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনও রাষ্ট্রনেতার প্রকাশ্য প্রশংসা অনেক সময়ই বড় বার্তা দেয়। বিশেষ করে যখন সেই মন্তব্য আসে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী দেশের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে, তখন তা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। ট্রাম্পের মুখে ফের নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা শোনা যাওয়ায় অনেকেই মনে করছেন, ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক নতুন অধ্যায়ের দিকে এগোতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তি হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দুই দেশের মধ্যে শুল্কনীতি, আমদানি-রফতানি এবং বাজার প্রবেশাধিকারের মতো বিষয়ে কিছু মতভেদ দেখা গেলেও, এখন সেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটছে। উভয় দেশই অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী। আমেরিকার কাছে ভারত একটি বিশাল বাজার, অন্যদিকে ভারতের কাছে আমেরিকা বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ট্রাম্পের ইতিবাচক মন্তব্য ভবিষ্যতের বাণিজ্য আলোচনার ক্ষেত্রকে আরও মসৃণ করতে পারে।

প্রযুক্তি সহযোগিতার ক্ষেত্রেও ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক আগামী দিনে আরও গভীর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, মহাকাশ গবেষণা, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং টেলিযোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুই দেশ ইতিমধ্যেই একসঙ্গে কাজ করছে। ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি বাজার হওয়ায় আমেরিকার বড় বড় সংস্থাগুলির নজর এখন ভারতের দিকে। ফলে রাজনৈতিক স্তরে ইতিবাচক সম্পর্ক প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করতে পারে।

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যৌথ সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়, গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদান এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতা— সব মিলিয়ে ভারত এখন আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার। চিনের বাড়তে থাকা প্রভাব মোকাবিলায় ভারতকে একটি ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি হিসেবে দেখে ওয়াশিংটন। সেই কারণেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদ তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত, জ্বালানি সংকট এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও আমেরিকার মতো দুই বড় শক্তির মধ্যে সুসম্পর্ক গোটা বিশ্বের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্যের মধ্যে সেই বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক বার্তাও রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের মুখে ফের মোদীর প্রশংসা কেবল ব্যক্তিগত সৌহার্দ্যের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের বর্তমান উষ্ণতা, পারস্পরিক স্বার্থ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার প্রতিফলন বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে— আগামী দিনে কি আরও গভীর হবে দিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্ক? বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষায় কি তৈরি হবে নতুন সমীকরণ? ট্রাম্পের মন্তব্য সেই জল্পনাকেই আরও জোরালো করেছে।

 

 

 

 

 

Preview image