ভারতীয় ফুটবলে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। মুম্বই সিটি এফসি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটির মালিকানা সংস্থা সিটি ফুটবল গ্রুপ। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইন্ডিয়ান সুপার লিগ বা আইএসএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তার প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, লিগের কাঠামো এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনার অভাব থাকায় বিনিয়োগ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মত সংশ্লিষ্ট মহলের।২০১৯ সালে মুম্বই সিটি এফসির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল সিটি ফুটবল গ্রুপ। এরপর থেকেই ক্লাবটি আইএসএলে ধারাবাহিক সাফল্য পায় এবং একাধিক ট্রফি জিতে ভারতীয় ফুটবলে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আইএসএলের ভবিষ্যৎ কাঠামো, সম্প্রচার চুক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।সিটি ফুটবল গ্রুপের এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় ফুটবলের পেশাদারিকরণ ও বিদেশি বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে। যদিও মুম্বই সিটি এফসি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে, তবুও এই প্রস্থান আইএসএলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক | কলকাতা ও মুম্বই
ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে আজ এক বিষাদঘন ও ঝোড়ো দিন। দীর্ঘ পাঁচ বছরের সফল যাত্রার অবসান ঘটিয়ে মুম্বই সিটি এফসি (Mumbai City FC) থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ মালিকানা প্রত্যাহার করে নিল বিশ্ব ফুটবলের মহীরুহ ‘সিটি ফুটবল গ্রুপ’ (City Football Group - CFG)। ম্যানচেস্টার সিটির মালিকানাধীন এই বিশ্বখ্যাত সংস্থাটির আকস্মিক বিদায় কেবল একটি ক্লাবের ক্ষতি নয়, বরং ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (ISL) তথা গোটা দেশের ফুটবল কাঠামোর কফিনে শেষ পেরেক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিটি ফুটবল গ্রুপের মতো পেশাদার সংস্থা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী এবং স্থিতিশীল পরিকল্পনায় বিশ্বাসী। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে আইএসএলের ভবিষ্যৎ রোডম্যাপ নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিয়েছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সরাসরি জানানো হয়েছে—লিগের ভবিষ্যৎ কাঠামো, সম্প্রচার স্বত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক পরিকল্পনার অভাবই তাদের এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইএফএফ (AIFF) এবং এফএসডিএল (FSDL)-এর মধ্যে চলমান আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা, লিগ ক্যালেন্ডারের অনিশ্চয়তা এবং বাণিজ্যিক অংশীদার খুঁজে না পাওয়া—সব মিলিয়ে ভারতীয় ফুটবল এখন একটি ‘ডেডলক’ বা অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে মনে করছে ইউরোপীয় এই ফুটবল জায়ান্ট।
২০১৯ সালে যখন সিটি ফুটবল গ্রুপ মুম্বই সিটির ৬৫ শতাংশ শেয়ার কিনেছিল, তখন মনে করা হয়েছিল ভারতীয় ফুটবল এবার বিশ্বমানের পেশাদারিত্বের যুগে প্রবেশ করবে। আদতে ঘটেছিলও তাই। এই পাঁচ বছরে মুম্বই সিটি এফসি যা অর্জন করেছে, তা অনেক ক্লাবের কাছেই স্বপ্ন:
ট্রফি জয়: দুইবার আইএসএল লিগ শিল্ড এবং দুইবার আইএসএল কাপ জয়।
এশিয়ান দাপট: প্রথম ভারতীয় ক্লাব হিসেবে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যাচ জেতা এবং বিদেশের মাটিতে দেশের পতাকা ওড়ানো।
পেশাদার কাঠামো: পেপ গার্দিওলার ঘরানার পাসিং ফুটবল এবং অত্যাধুনিক স্কাউটিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভারতীয় ফুটবলারদের মানোন্নয়ন।
আকাশি-নীল জার্সি পরে মুম্বই যখন একের পর এক সাফল্য পাচ্ছিল, তখন কেউ ভাবেনি মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় ম্যানচেস্টার সিটির মালিকপক্ষ ভারতকে ‘বিদায়’ জানাবে।
সিটি ফুটবল গ্রুপের বিদায় কেবল একটি বিনিয়োগ তুলে নেওয়া নয়, এটি বিশ্ব ফুটবল মানচিত্রে ভারতের ভাবমূর্তিতে বড়সড় ধাক্কা। যদি সিএফজি-র মতো সংস্থা মনে করে যে ভারতে ফুটবল লিগ চালানো নিরাপদ নয়, তবে অন্যান্য বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কেন আসবে?
বর্তমানে আইএসএলে যে সংকটগুলো প্রকট হয়েছে:
সম্প্রচার অনিশ্চয়তা: পরবর্তী মরশুমের জন্য বড় কোনো সম্প্রচারকারী সংস্থা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
স্পনসরশিপ খরা: লিগের প্রধান টাইটেল স্পনসর এবং অন্যান্য পার্টনারদের সাথে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং নতুন বিনিয়োগকারী না পাওয়া।
প্রশাসনিক সংকট: ফেডারেশন ও লিগ আয়োজকদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং এশীয় ক্যালেন্ডারের সাথে তাল মেলাতে না পারা।
সিএফজি সরে যাওয়ায় মুম্বই সিটি এফসির মালিকানা আবার ফিরে যাচ্ছে তাদের পুরনো অংশীদারদের হাতে। বলিউড তারকা রণবীর কাপুর এবং ব্যবসায়ী বিমল পারেখ এখন ক্লাবের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেবেন। যদিও ক্লাব জানিয়েছে যে দৈনন্দিন কাজ বাধাগ্রস্ত হবে না, কিন্তু প্রশ্ন উঠছে ক্লাবের আর্থিক ক্ষমতা নিয়ে। আকাশছোঁয়া বেতন দিয়ে বিদেশি ফুটবলার আনা বা আধুনিক পরিকাঠামো বজায় রাখা কি এখন সম্ভব হবে?
তৃণমূল স্তরের একাডেমি থেকে শুরু করে সিনিয়র দল—সবখানেই এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফুটবলাররা এখন থেকেই তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ভারতীয় ফুটবল প্রশাসন যদি এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে মোহুনবাগান সুপার জায়ান্ট বা ইস্টবেঙ্গলের মতো বড় ক্লাবগুলোর বিনিয়োগকারীরাও একই পথে হাঁটতে পারে। শুধুমাত্র গ্ল্যামার দিয়ে লিগ টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়; প্রয়োজন একটি সুনির্দিষ্ট ১০ বছরের রোডম্যাপ।
সিটি ফুটবল গ্রুপের প্রস্থান প্রমাণ করে দিল যে, ফুটবল কেবল মাঠের খেলা নয়, এর পেছনে একটি সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক ইকোসিস্টেম থাকা জরুরি—যার অভাব এখন ভারতে প্রবল।
আজকের দিনটি ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে এক কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ম্যানচেস্টার সিটির আকাশী-নীল ছায়া মুম্বইয়ের সমুদ্রতট থেকে সরে যাওয়ার সাথে সাথে নিভে গেল এক উজ্জ্বল আশার প্রদীপ। এখন দেখার বিষয়, এআইএফএফ এবং লিগ কর্তৃপক্ষ এই বড় ধাক্কা থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘর গোছাতে পারে কি না। নতুবা, আইএসএল নামক যে রঙিন স্বপ্নের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালে, ২০২৫-এ এসে তা হয়তো এক করুণ পরিণতির দিকে এগোবে।
ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের ইতি ঘটল। মুম্বই সিটি এফসির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিল ম্যানচেস্টার সিটির মালিকানা সংস্থা—সিটি ফুটবল গ্রুপ (City Football Group)। ক্লাব কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, ইন্ডিয়ান সুপার লিগ বা আইএসএলের ভবিষ্যৎ কাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তার প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণার পরই ভারতীয় ফুটবল মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও উদ্বেগ।
২০১৯ সালে সিটি ফুটবল গ্রুপ মুম্বই সিটি এফসির মালিকানায় অংশীদার হয়। ইউরোপের অন্যতম সফল ফুটবল ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির মালিক এই গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই মুম্বই সিটি এফসি এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছয়। পেশাদার পরিচালনা, আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, উন্নত স্কাউটিং এবং আন্তর্জাতিক মানের পরিকল্পনার ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই ক্লাবটি আইএসএলের শক্তিশালী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
এই সময়কালে মুম্বই সিটি এফসি আইএসএল লিগ শিল্ড জয় করে, প্লে-অফে নিয়মিত উপস্থিত থাকে এবং এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে ইতিহাসও গড়ে। ভারতীয় ফুটবলে বিদেশি বিনিয়োগ কীভাবে একটি ক্লাবের কাঠামো ও মান উন্নত করতে পারে, তার বাস্তব উদাহরণ হয়ে ওঠে মুম্বই সিটি।
তবে এই সফলতার মাঝেই আসে বড় ধাক্কা। সিটি ফুটবল গ্রুপ জানিয়েছে, আইএসএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য উদ্বেগজনক। লিগের দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ, সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ কাঠামো এবং প্রতিযোগিতার ভবিষ্যৎ ফরম্যাট নিয়ে এখনও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপীয় ক্লাব মালিকানা গোষ্ঠীগুলি সাধারণত ১০–১৫ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে বিনিয়োগ করে। সেখানে আইএসএলের ক্ষেত্রে লিগ চালু থাকবে কি না, বর্তমান কাঠামো বজায় থাকবে কি না বা এশিয়ান ফুটবল ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকবে কি না—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও পরিষ্কার নয়। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ বলেই মনে করছে সিটি ফুটবল গ্রুপ।
সিটি ফুটবল গ্রুপের এই সিদ্ধান্ত নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে আইএসএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে। কয়েক বছর আগেও যে লিগকে ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখা হচ্ছিল, এখন সেই লিগের স্থায়িত্ব নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। সম্প্রচারকারী সংস্থার সঙ্গে চুক্তি, স্পনসরদের আগ্রহ এবং ক্লাবগুলির আর্থিক ভারসাম্য—সব কিছুই এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে।
বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিতে আইএসএল এখনও একটি “ডেভেলপিং লিগ”। এই লিগকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে হলে স্পষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো, আন্তর্জাতিক মানের ক্যালেন্ডার এবং এশিয়ান ফুটবলের সঙ্গে সামঞ্জস্য জরুরি—যা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।
মুম্বই সিটি এফসি থেকে সিটি ফুটবল গ্রুপের প্রস্থান ভারতীয় ফুটবলের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় সতর্কবার্তা। এত বড় একটি আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী যদি ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কারণে সরে দাঁড়ায়, তাহলে অন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও নতুন করে ভাবতে বাধ্য হবে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ভারতীয় ফুটবল প্রশাসনের জন্য চোখ খুলে দেওয়ার মতো। শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদি সাফল্য নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও স্থায়িত্বই যে আন্তর্জাতিক আস্থা অর্জনের মূল চাবিকাঠি—এই বার্তাই দিচ্ছে সিটি ফুটবল গ্রুপের সিদ্ধান্ত।
যদিও মালিকানা গোষ্ঠী সরে দাঁড়িয়েছে, মুম্বই সিটি এফসি জানিয়েছে যে ক্লাবের দৈনন্দিন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং একাডেমি ব্যবস্থা আপাতত অপরিবর্তিত থাকবে বলেই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে ক্লাবের বিনিয়োগ, ট্রান্সফার নীতি এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় কী প্রভাব পড়বে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
অনেকেই মনে করছেন, নতুন বিনিয়োগকারী খোঁজার চেষ্টা করতে পারে মুম্বই সিটি এফসি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কতটা আগ্রহ দেখাবেন, সেটাই বড় প্রশ্ন।
সিটি ফুটবল গ্রুপের মতো সংস্থার উপস্থিতি ভারতীয় ফুটবলের জন্য শুধু অর্থনৈতিক নয়, মানসিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আন্তর্জাতিক ফুটবল মানচিত্রে ভারতের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে এই ধরনের অংশীদারিত্ব বড় ভূমিকা রাখে। সেই দিক থেকে এই প্রস্থান ভারতীয় ফুটবলের ভাবমূর্তির উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এই সংকট থেকেই নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। যদি প্রশাসন দ্রুত স্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করে এবং লিগের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিষ্কার অবস্থান নেয়, তাহলে ভারতীয় ফুটবল আবারও আন্তর্জাতিক আস্থা ফিরে পেতে পারে।
মুম্বই সিটি এফসি থেকে ম্যানচেস্টার সিটির মালিকানা গোষ্ঠীর প্রস্থান নিঃসন্দেহে ভারতীয় ফুটবলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এটি শুধু একটি ক্লাব বা একটি লিগের বিষয় নয়—বরং পুরো দেশের ফুটবল কাঠামোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এই মুহূর্তে প্রয়োজন দূরদর্শী পরিকল্পনা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি।
আইএসএল যদি সত্যিই ভারতীয় ফুটবলের মেরুদণ্ড হয়ে উঠতে চায়, তাহলে এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্রুত সংস্কার ও স্থায়িত্বের পথে হাঁটতে হবে। নইলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিনিয়োগকারীর বিদায় ভারতীয় ফুটবলকে আরও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি করতে পারে।