Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

অজান্তে শরীরে ঢুকছে প্লাস্টিক, কীভাবে রোজ খাবারের সঙ্গে মিশছে মাইক্রোপ্লাস্টিক

আপনার অজান্তে প্রতিদিন শরীরে প্রবেশ করছে মাইক্রোপ্লাস্টিক, যা শরীরের জন্য বিপজ্জনক। কীভাবে খাবারে মিশছে এই ক্ষতিকর পদার্থ জানুন বিস্তারিত।

এটা জানলে হয়তো অবাক হবেন, কিন্তু আপনি যে খাবার, পানি এবং রান্না তৈরি করছেন, সেই সমস্ত কিছুতেই রয়েছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। দিনে দিনে মাইক্রোপ্লাস্টিক আমাদের জীবনের একটি অংশ হয়ে উঠেছে। পানি, খাবার, রান্নার পাত্র থেকে শুরু করে আমাদের পরিবেশে প্রতিনিয়ত এই ক্ষতিকর কণা প্রবাহিত হচ্ছে। সাধারণত বোতলের জল এবং কলের জল, বিশেষ করে ফিল্টার করা পানি, মাইক্রোপ্লাস্টিকের অন্যতম বড় উৎস হিসেবে পরিচিত। এমনকি যেসব প্লাস্টিকের পাত্রে আমরা খাবার রাখি বা গরম করি, সেখানেও মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকে। নানা ধরণের আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্লাস্টিকের খাদ্য প্যাকেজিং, এমনকি যেসব প্রক্রিয়াজাত খাবার আমরা খাচ্ছি, সেখানে সেগুলি সন্নিবেশিত হয়ে চলে যাচ্ছে আমাদের শরীরে।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বোতলের জল ও কলের জল, দুই ধরনের জলেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণা পাওয়া যায়। তবে বোতলের জলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ বেশি থাকে। মাইক্রোপ্লাস্টিক মানে এমন ছোট ছোট প্লাস্টিক কণা যেগুলি চোখে দেখতে পাওয়া যায় না, কিন্তু সেগুলি আমাদের শরীরে প্রবাহিত হয়ে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হতে পারে। এমনকি আমাদের শরীরে এই কণাগুলি ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগেরও কারণ হতে পারে।

এছাড়া, বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কলের জলকে একটি ভালো মানের ফিল্টার দিয়ে ছেঁকে নেওয়া হয়, তাহলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ অনেকটাই কমানো যায়। আমরা জানি যে, মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণা এত ছোট যে, ফিল্টার সাধারণত এগুলি পুরোপুরি সরাতে সক্ষম নয়, কিন্তু ভালো মানের কার্বন ফিল্টার বা ঘরোয়া ফিল্টারের মাধ্যমে এই সমস্যার কিছুটা সমাধান হতে পারে।

যতটা সম্ভব একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার না করার চেষ্টা করুন। কারণ এই বোতলগুলিতে প্রতিবার ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। যতটা সম্ভব কাঁচ বা স্টিলের বোতল ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। এইসব উপকরণে মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রবাহ কম থাকে এবং একে ব্যবহার করা পরিবেশের জন্যও উপকারী।

প্রক্রিয়াজাত খাবারের ক্ষেত্রে প্লাস্টিক দূষণের ঝুঁকি আরো বেশি। প্রক্রিয়াজাত বা প্লাস্টিক প্যাকেজিংয়ের খাবারগুলোতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে, এবং এসব খাবার দীর্ঘসময়ের জন্য মাইক্রোপ্লাস্টিক জমাতে পারে। তাই তাজা ফল, শাকসবজি, শস্য এবং কম প্রক্রিয়াজাত খাবার বেছে নিন। আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে ছোটখাটো পরিবর্তন আনলে খুব সহজেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রবাহ কমানো সম্ভব।

মাইক্রোপ্লাস্টিকের সমস্যা মোকাবেলা করার জন্য প্রথমত আমাদের খাবার গরম করতে কাচ বা সেরামিকের পাত্র ব্যবহার করতে হবে। সস্তা প্লাস্টিকের পাত্রে গরম খাবার বা পানীয় রাখা একেবারে বিপজ্জনক। তাপের কারণে প্লাস্টিক ভেঙে ছোট ছোট কণায় পরিণত হয় এবং সেগুলি খাবারে মিশে যায়। এছাড়া, মাইক্রোপ্লাস্টিকের বড় উৎস হলো প্লাস্টিকের কন্টেইনার এবং টেকঅ্যাওয়ে বক্স, যেগুলি প্রায় সকলেই প্রতিদিন ব্যবহার করেন। এসব জায়গায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের আঁতুরঘর হয়ে থাকে।

এছাড়া, আঁচড় পড়া নন স্টিক প্যান, খসে পড়া স্প্যাটুলা, দাগ পড়া প্লাস্টিকের চপিং বোর্ড থেকেও খাবারে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণা চলে আসে। রান্নার তাপে এই সমস্যা আরো বাড়ে। তাই, স্টেইনলেস স্টিল, কাস্ট আয়রনের রান্নার বাসন ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ অনেকটাই কমানো সম্ভব। খাবার রাখার সেরা বিকল্প হল কাঠ এবং কাচের পাত্র, যা প্লাস্টিকের চাইতে অনেক বেশি নিরাপদ।

মাইক্রোপ্লাস্টিকের এই যাত্রা প্রতিনিয়ত অব্যাহত থাকে। খাদ্য প্রস্তুত, পানি ব্যবহারের সময় থেকে শুরু করে রান্নার প্রতিটি স্তরে আমরা মাইক্রোপ্লাস্টিকের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি। আমাদের বেঁচে থাকার জন্য এগুলি বিপজ্জনক হতে পারে, বিশেষ করে যদি আমাদের শরীরে এই কণাগুলি নিয়মিত প্রবাহিত হতে থাকে। তাই, এক্ষেত্রে সচেতনতা এবং সাবধানতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।

এতদিন ধরে যে প্লাস্টিকের কন্টেইনার, বোতল, পাত্র আমরা ব্যবহার করে আসছি, তা এখনই পরিবর্তন করা উচিৎ। পরিবেশবান্ধব কাচ, স্টিল এবং কাঠের ব্যবহারই আমাদের সুস্থতা এবং দীর্ঘজীবনের জন্য সহায়ক হতে পারে।

news image
আরও খবর

এতদিন ধরে যে প্লাস্টিকের কন্টেইনার, বোতল, পাত্র আমরা ব্যবহার করে আসছি, তা এখনই পরিবর্তন করা উচিৎ। যদিও প্লাস্টিক আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করেছে, কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব আমাদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। প্লাস্টিক, বিশেষ করে মাইক্রোপ্লাস্টিক, আমাদের খাদ্য, পানীয়, এবং এমনকি পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতি করছে। এর থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমাদেরকে সচেতন হতে হবে এবং পরিবেশবান্ধব উপকরণের দিকে নজর দিতে হবে। কাচ, স্টিল এবং কাঠের ব্যবহারই আমাদের সুস্থতা এবং দীর্ঘজীবনের জন্য সহায়ক হতে পারে।

প্রথমত, কাচের উপকারিতা আলোচনা করা যাক। কাচের পাত্রে খাবার বা পানীয় রাখলে প্লাস্টিকের মতো ক্ষতিকর কণা প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। কাচ একটি প্রাকৃতিক উপাদান যা পরিবেশের জন্য মোটেও ক্ষতিকর নয়। প্লাস্টিকের কন্টেইনারের মতো এটি রাসায়নিকভাবে সক্রিয় নয় এবং এটি খাদ্য বা পানীয়ের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া ঘটায় না। এছাড়া, কাচের পাত্র পুনরায় ব্যবহৃত হতে পারে, যা পরিবেশের জন্যও উপকারী। কাচের বোতল বা পাত্রের সুবিধা হলো এগুলি ১০০ শতাংশ রিসাইকেলযোগ্য এবং দীর্ঘস্থায়ী। যখন আমরা কাচ ব্যবহার করি, তখন আমরা শুধু আমাদের শরীরের জন্য নয়, পরিবেশের জন্যও কিছু ভালো কাজ করি। এটি প্লাস্টিক দূষণ কমাতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘমেয়াদে পৃথিবীকে একটি নিরাপদ স্থান হিসেবে রক্ষা করে।

দ্বিতীয়ত, স্টিলের পাত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি করা উচিত। স্টেইনলেস স্টিলের পাত্র দীর্ঘস্থায়ী এবং নিরাপদ। এটি প্লাস্টিকের পাত্রের তুলনায় অনেক বেশি টেকসই এবং পুনরায় ব্যবহারযোগ্য। স্টিলের পাত্রে খাবার রাখলে এটি মাইক্রোপ্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আমাদের রক্ষা করে। এক্ষেত্রে স্টেইনলেস স্টিলের বোতল বা পাত্র প্লাস্টিকের বোতলের চেয়ে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। স্টিলের পাত্র দ্রুত গরম হয় এবং খাবারের স্বাদ বা গুণগত মান বজায় রাখে। সবচেয়ে বড় কথা, এটি প্লাস্টিকের মতো পরিবেশে ক্ষতিকর কোনো রাসায়নিক উপাদান ছাড়ে না।

কাঠের পাত্রের ব্যবহারও আমাদের জন্য উপকারী। কাঠ একটি প্রাকৃতিক উপাদান এবং এটি প্রকৃতির সঙ্গে খুব সামঞ্জস্যপূর্ণ। কাঠের পাত্রে খাবার বা পানীয় রাখলে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা প্লাস্টিকের কণা প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। কাঠের পাত্র একেবারে পরিবেশবান্ধব এবং এটি সহজেই পুনঃব্যবহারযোগ্য। কাঠের পাত্রে খাবার রেখে আপনি পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করছেন এবং এতে কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান থাকে না, যা আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

এছাড়া, কাচ, স্টিল এবং কাঠের উপকরণগুলি অধিকাংশ সময় প্লাস্টিকের তুলনায় অনেক বেশি স্থায়িত্বশীল। এগুলি অনেক বেশি দিন ধরে ব্যবহার করা যায় এবং পুনঃব্যবহারযোগ্য হওয়ায় পরিবেশের ওপর চাপ কমায়। প্লাস্টিক, যেগুলি একবার ব্যবহার করার পর দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং পরিবেশে দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে, তা একদিকে যেমন পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যও বিপজ্জনক।

প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে প্লাস্টিকের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু এর কারণে আমরা যে পরিবেশগত বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছি, তা আমাদের চিন্তা করতে বাধ্য করছে। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টন প্লাস্টিক আমাদের পরিবেশে জমা হচ্ছে এবং এই প্লাস্টিক অনেক সময় বায়ু, পানি এবং মাটি দূষণ করছে। যখন প্লাস্টিক মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়, তখন এটি আমাদের খাদ্যচক্রে প্রবাহিত হতে শুরু করে। এই ক্ষুদ্র কণাগুলি বাতাসে, পানিতে এবং খাবারে মিশে যায়, যার ফলে আমরা অজান্তেই এটি গ্রহণ করি। এটি আমাদের শরীরে জমা হতে থাকে এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করে।

তবে, এখন আমরা যদি কাচ, স্টিল এবং কাঠের মতো প্রাকৃতিক উপকরণের দিকে মনোযোগ দিতে শুরু করি, তাহলে এই সমস্যা অনেকটাই সমাধান হতে পারে। কাচ, স্টিল এবং কাঠ খুবই সহজে পুনঃব্যবহারযোগ্য এবং এগুলি প্রাকৃতিক উপাদান, যা পরিবেশের উপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। আমরা যদি এই উপকরণগুলি ব্যবহার করি, তাহলে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো সম্ভব এবং এতে আমাদের শরীরও নিরাপদ থাকবে।

প্লাস্টিকের বিপক্ষে একটি শক্তিশালী আন্দোলন প্রয়োজন। আমাদের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার বাড়াতে হবে। আমরা যদি সবাই একযোগে কাজ করি এবং কাচ, স্টিল এবং কাঠের মতো পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার শুরু করি, তাহলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের দূষণ কমানো সম্ভব হবে। সুতরাং, পরবর্তী বার যখন আপনি কোনো পাত্র বা বোতল কিনবেন, তখন একবার চিন্তা করুন এটি আপনার শরীর এবং পরিবেশের জন্য কতটা উপকারী হতে পারে।

Preview image