Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

শান্তিনিকেতনে নন্দলাল বসু, রামকিঙ্কর বেজসহ কিংবদন্তী শিল্পীদের শিল্পকর্মের প্রদর্শনী

লুকিং ব্যাক টু লুক ফরওয়ার্ড  শীর্ষক বিশেষ শিল্প প্রদর্শনী শান্তিনিকেতনের কৃত্তিকা আর্ট স্পেসে এক উজ্জ্বল শিল্প উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

লুকিং ব্যাক টু লুক ফরওয়ার্ড শীর্ষক বিশেষ শিল্প প্রদর্শনী শান্তিনিকেতনের কৃত্তিকা আর্ট স্পেসে অনুষ্ঠিত একটি উজ্জ্বল শিল্প উৎসব যা ঐতিহ্য এবং সমকালীন শিল্পের সেতু রচনা করেছে। এই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতের আধুনিক শিল্প আন্দোলনের তিন প্রজন্মের শিল্পীদের কাজ একত্রিত করে দর্শকদের সামনে তুলে ধরা। এই প্রদর্শনী শুধুমাত্র শিল্পের বিশ্বস্ত দর্শকদের কাছে না, বরং সাধারণ মানুষের কাছে শিল্পের গভীরতা এবং বৈচিত্র্য উপলব্ধি করার এক বিরল সুযোগ তৈরি করেছে।

প্রদর্শনীটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি বিশ্বখ্যাত শিল্পী ও কলাভবনের বিশিষ্ট অধ্যাপক কে জি সুব্রহ্মণ্যনের জন্মদিন এবং কৃত্তিকা আর্ট স্পেসের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছিল। কৃত্তিকা আর্ট স্পেসের নামকরণও করেছিলেন স্বয়ং কে জি সুব্রহ্মণ্যন, তাই তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। প্রদর্শনীটি ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে, এবং এর মাধ্যমে শিল্পপ্রেমীরা এক নজরে উপভোগ করতে পারবেন ভারতীয় আধুনিক শিল্পের বিবর্তন, ঐতিহ্য, এবং সমকালীন ভাবনাকে।

এটি একটি বিশেষ মুহূর্ত কারণ এখানে একত্রিত করা হয়েছে ভারতের শিল্পের তিন প্রজন্মের মহৎ সৃষ্টিকে। প্রথম প্রজন্মের আচার্য নন্দলাল বসু, বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়, রামকিঙ্কর বেজ, এবং রানি চন্দের মতো দিকপাল শিল্পীদের কাজ, যারা আধুনিক ভারতীয় শিল্পের ভিত্তি স্থাপন করেছেন, তাদের ছবি ও ভাস্কর্য এখানে প্রদর্শিত হয়েছে। দ্বিতীয় প্রজন্মের শিল্পী হিসেবে প্রদর্শিত হয়েছে দিনকর কৌশিক ও কে জি সুব্রহ্মণ্যনের কাজ, যাদের শিল্প চিন্তার মধ্য দিয়ে আধুনিক ভারতীয় শিল্প একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এছাড়াও, বর্তমান সময়ের বেশ কিছু বিশিষ্ট শিল্পীও তাদের কাজ এখানে উপস্থাপন করেছেন, যার মধ্যে আছেন তরুণ এবং অগ্রণী শিল্পীরা, যারা সমকালীন শিল্পের নতুন মাত্রা তৈরি করছেন।

প্রদর্শনীটির অন্যতম আকর্ষণ হলো সুরেন দে-এর ভাস্কর্যের প্রথম পূর্ণাঙ্গ প্রদর্শনী, যা দর্শকদের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা। সুরেন দে, যিনি ভাস্কর্যের দুনিয়ায় বিশেষ পরিচিত, তার কাজগুলোকে এই প্রদর্শনীতে একত্রিত করা হয়েছে, যা শিল্পপ্রেমীদের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। তার ভাস্কর্যগুলিতে তিনি মানুষের অনুভূতি, সামাজিক বাস্তবতা এবং আধ্যাত্মিকতার সমন্বয় ঘটিয়েছেন, যা প্রদর্শনীর দর্শকদের মধ্যে গভীর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

কৃত্তিকা আর্ট স্পেসের এই প্রদর্শনী ভারতীয় আধুনিক শিল্পের বিবর্তনকে চিহ্নিত করার পাশাপাশি, তার ঐতিহ্য ও সমকালীন ভাবনা একত্রিত করে একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার সূচনা করেছে। উদ্যোক্তাদের মতে, এই প্রদর্শনী শুধুমাত্র শিল্পীদের কাজকে প্রদর্শন করার জন্য নয়, বরং এটি একটি সাংস্কৃতিক পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে মানুষ শিল্পের মাধ্যমে সমকালীন জীবনের নানান দিক সম্পর্কে অবগত হতে পারছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুর পরিবারের সদস্য সুপ্রিয় ঠাকুর, বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্য সুশান্ত দত্ত গুপ্ত, প্রাক্তন কর্মসচিব মনিমুকুট মিত্র, বিশিষ্ট সাংবাদিক ধ্রুবজ্যোতি নন্দী, কলাভবনের প্রাক্তন অধ্যাপক নন্দদুলাল মুখোপাধ্যায়, এবং প্রবীর বিশ্বাস সহ আরো অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁদের উপস্থিতি প্রদর্শনীর মর্যাদাকে আরো বৃদ্ধি করেছে এবং একে একটি সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত করেছে।

এই প্রদর্শনীটি কলকাতার সাংস্কৃতিক পরিসরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং শান্তিনিকেতনকে কেবলমাত্র সাহিত্য ও শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং এক উজ্জ্বল শিল্পী-ভবন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কৃত্তিকা আর্ট স্পেসের এই উদ্যোগ দর্শকদের মধ্যে শিল্পের প্রতি এক নতুন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সৃষ্টি করেছে, যা আগামী দিনে আরও বেশি সংখ্যক শিল্পী এবং দর্শকদের আকর্ষণ করবে।

এছাড়া, প্রদর্শনীর মাধ্যমে একটি বৃহত্তর দর্শকবর্গের কাছে ভারতীয় আধুনিক শিল্পের ঐতিহ্য এবং বর্তমান কালের শিল্পকর্মের মেলবন্ধন তুলে ধরা হয়েছে, যা আগামী দিনের শিল্পীদের জন্য একটি মূল্যবান শিক্ষা। কৃত্তিকা আর্ট স্পেসের এই প্রদর্শনী শুধুমাত্র শিল্পের প্রদর্শন নয়, বরং এটি শিল্পের প্রতি একটি পূর্ণাঙ্গ সম্মাননা, যা আমাদের ঐতিহ্য এবং আধুনিকতাকে একত্রিত করে ভবিষ্যতের শিল্পপ্রেমীদের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে।

শান্তিনিকেতনের কৃত্তিকা আর্ট স্পেসের এই বিশেষ প্রদর্শনীটি ভারতীয় শিল্পের এক অসাধারণ সন্নিবেশ, যেখানে প্রাচীন ও আধুনিক, ঐতিহ্য ও সমকালীন শিল্পের এক মেলবন্ধন ঘটেছে, যা পৃথিবীজুড়ে শিল্পপ্রেমীদের আকর্ষণ করবে।

news image
আরও খবর

শান্তিনিকেতনে লুকিং ব্যাক টু লুক ফরওয়ার্ড শীর্ষক বিশেষ শিল্প প্রদর্শনীটি শুধুমাত্র একটি শিল্প প্রদর্শনী ছিল না, বরং এটি ছিল এক সাংস্কৃতিক আন্দোলন। যেখানে ভারতীয় আধুনিক শিল্পের ইতিহাস, ঐতিহ্য, এবং সমকালীন দৃষ্টিভঙ্গির সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। প্রদর্শনীটি কৃত্তিকা আর্ট স্পেসে আয়োজিত হয়, এবং এটি শান্তিনিকেতনের শিল্পমহলে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে হাজির হয়। এই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় শিল্পের তিন প্রজন্মের শিল্প ঐতিহ্যকে একত্রিত করে দর্শকদের সামনে তুলে ধরা।

এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ প্রদর্শনীটির আয়োজন করা হয়েছে বিশ্বের খ্যাতনামা শিল্পী এবং কলাভবনের অধ্যাপক কে জি সুব্রহ্মণ্যনের জন্মদিন এবং কৃত্তিকা আর্ট স্পেসের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে। কে জি সুব্রহ্মণ্যন, যিনি ভারতের আধুনিক শিল্পের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং শিক্ষক, তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। প্রদর্শনীর আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত একটি বিশেষ দিক হলো, কৃত্তিকা আর্ট স্পেসের নামকরণও করেছিলেন স্বয়ং কে জি সুব্রহ্মণ্যন, তাই তার প্রতি সম্মান জানাতে এই বিশেষ আয়োজনটি করা হয়।

এই প্রদর্শনীর মধ্যে ভারতের বিশিষ্ট শিল্পীদের ছবির পাশাপাশি ভাস্কর্যও প্রদর্শিত হয়েছে, যা ভারতীয় আধুনিক শিল্পের বিবর্তন এবং তার অগ্রগতির চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে। প্রদর্শনীতে আচার্য নন্দলাল বসু, বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়, রামকিঙ্কর বেজ, রানি চন্দ, দিনকর কৌশিক এবং কে জি সুব্রহ্মণ্যন সহ আরো অনেক বিশিষ্ট শিল্পীদের কাজ স্থান পেয়েছে। এগুলো কেবল শিল্পপ্রেমীদের জন্য নয়, বরং শিক্ষার্থীদের জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, যেহেতু তারা এই শিল্পীদের কাজের মাধ্যমে ভারতীয় আধুনিক শিল্পের ভিত্তি এবং তার গৌরবময় ইতিহাস সম্পর্কে অবগত হতে পারে।

এই প্রদর্শনীর আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো সুরেন দে-এর ভাস্কর্য, যা এই প্রথমবার একত্রে প্রদর্শিত হয়েছে। সুরেন দে, যিনি ভারতীয় ভাস্কর্যের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ স্থান দখল করেছেন, তার কাজ দর্শকদের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করেছে। তার ভাস্কর্যগুলিতে মানবিক অনুভূতি, সংগ্রাম, এবং সমাজের বাস্তবতার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। এই কাজগুলো, যা দর্শকদের কাছে এক নতুন শিল্পমুখী দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছে, তা প্রদর্শনীটির অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে ভারতীয় আধুনিক শিল্পের বিবর্তন এবং ঐতিহ্যের পাশাপাশি, সমকালীন শিল্প ভাবনা এবং শিল্পীর কাজের একটি নতুন দৃষ্টিকোণ দর্শকদের সামনে উন্মোচিত হয়েছে। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, প্রদর্শনীটি ভারতীয় আধুনিক শিল্পের গৌরবময় ঐতিহ্য এবং বর্তমান সময়ের শিল্পী-সমাজের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করেছে, যা ভারতীয় শিল্পের ভবিষ্যতকে আরও সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করবে।

এই প্রদর্শনীটি শুধু শিল্পপ্রেমীদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত নয়, বরং এটি ছিল একটি সম্মাননা, যা ভারতীয় শিল্পের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার প্রকাশ। প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেশ কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, যার মধ্যে ছিলেন ঠাকুর পরিবারের সদস্য সুপ্রিয় ঠাকুর, বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্য সুশান্ত দত্ত গুপ্ত, প্রাক্তন কর্মসচিব মনিমুকুট মিত্র, বিশিষ্ট সাংবাদিক ধ্রুবজ্যোতি নন্দী, কলাভবনের প্রাক্তন অধ্যাপক নন্দদুলাল মুখোপাধ্যায়, প্রবীর বিশ্বাস সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। তাঁদের উপস্থিতি প্রদর্শনীর মর্যাদাকে আরও বৃদ্ধি করেছে এবং এটি একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়ে উঠেছে।

পদার্থবিজ্ঞান, সাহিত্য, দর্শন এবং সমাজবিজ্ঞানসহ শিল্পের নানা শাখার অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের প্রতিটি মন্তব্য এবং পর্যালোচনা প্রদর্শনীটির মূল্যায়নকে আরও গভীর করেছে। ভারতীয় শিল্পের ঐতিহ্য এবং সমকালীন শিল্প ভাবনার মধ্যে এক সেতুবন্ধন রচনা করার এই বিশেষ প্রয়াসে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

অতএব, লুকিং ব্যাক টু লুক ফরওয়ার্ড  শীর্ষক এই বিশেষ শিল্প প্রদর্শনী শান্তিনিকেতনের কৃত্তিকা আর্ট স্পেসে আয়োজিত হয়ে ভারতের শিল্প দুনিয়ায় এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি একটি শ্বাসরুদ্ধকর অভিজ্ঞতা যা ভারতীয় আধুনিক শিল্পের সৃষ্টির ইতিহাস এবং তার ভবিষ্যতের দিকে আলোকপাত করেছে, এবং এটি ভারতীয় শিল্পকলার প্রতি শ্রদ্ধার প্রকাশ হিসাবে ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Preview image