উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্রায় ভয়াবহ খনি ধসে মৃত্যু হয়েছে এক শ্রমিকের, আরও কয়েকজনের আটকে থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উদ্ধারকার্য চলছে, পরিস্থিতি ঘিরে উত্তেজনা ও উদ্বেগ ছড়িয়েছে এলাকায়।
উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্রা জেলার বিখ্যাত “বিলি মার্কুণ্ডি” এলাকায় গত শনিবার ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে; একটি পাথরের খনির দেয়াল অকস্মাৎ ধসে পড়ে, বহু শ্রমিক ধ্বংসস্তুপে আটকে থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই দুর্ঘটনায় অন্তত এক জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, এবং অন্যদের জীবিত উদ্ধার করার জন্য উদ্ধারকারী বাহিনীগুলোর লড়াই এখনও চলছে। ঘটনাটি শুধু একটি খনি দুর্ঘটনা নয়, বরং শ্রমিকদের অধিকার, সরকারি নজরদারি এবং আইনগত গতি-প্রক্রিয়াকে নতুন প্রশ্নের মুখে নিয়ে এসেছে।
প্রথমেই সচেতন করতে হয় যে — এই ধসের ঘটনা ঘটেছে বিলে মার্কুণ্ডি নামক একটি কার্বন পাথরের খনিতে, যা “ক্রিস্টালাইন পাথর” হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় প্রশাসন জানায় যে ধসের সময় শ্রমিকরা গর্ত খুঁড়ছিলেন, বিস্ফোরণ প্রস্তুতির জন্য ড্রিলিং করছিলেন; কিন্তু হঠাৎ এক অংশ ধসে নীচে লোহাপাথরের বিশাল মেঝে গড়িয়ে পড়ে, এবং ধ্বংসস্তুপে বেশ কয়েক জন শ্রমিক আটকে যায়। (The Indian Express)
সোনভদ্রার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (DM) বদ্রীনাথ সিংহ সেই দুর্ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন খবর পাওয়ার পরপরই। তাঁর বয়ান অনুযায়ী দ্রুত উদ্ধারকারী টিম, যার মধ্যে রয়েছে এনডিআরএফ (জাতীয় দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া দল), এসডিআরএফ এবং স্থানীয় পুলিস বাহিনী, খনিটি থেকে ধ্বংসস্তুপ সরানোর কাজ শুরু করেছে। (Hindustan Times) কিন্তু বড় সমস্যা হলো ধ্বংসস্তুপে থাকা পাথরগুলোর আকার অনেক বড়, যা উদ্ধারকারীদের কাজ কঠিন করে তুলেছে। (www.ndtv.com)
স্থানীয় মন্ত্রী সঞ্জীব গন্ড ঘটনাস্থলে এসে বলেন, "আমরা জানতাম যে কিছু কাজ বন্ধ হয়েছিল, কিন্তু আজও সেখানে খনির কার্যক্রম চালছিল — এটা অগorous অপর্যাপ্ত নজর ও দায়িত্বহীনতার প্রতিফলন।" (India Today) তাঁর আরও দাবি, দুর্ঘটনায় যাঁরা দায়ী — খনির মালিক থেকে স্থানীয় প্রশাসন সবাইকে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে হবে। (The New Indian Express)
উপরাজ্য পুলিশ কর্মকর্তা পিউশ মর্ডিয়া বলছেন, ধ্বংসস্তুপ সরানো একদিকে যত্নসহকারে করতে হবে কারণ ভিতরের পাথরগুলি অনেক ভারি এবং বিপজ্জনক। (www.ndtv.com) ধ্বংস হয় নি শুধু মাটি — বেশ কিছু বড় বড় পাথর ভাঙ্গে আছে, যা সরাতে সময় লাগছে এবং উদ্ধারমর্মী দলকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হচ্ছে। (AP7AM)
উজ্জ্বল নদিয়া থেকে এনডিআরএফ-এসডিআরএফ-সহ উদ্ধারকারীরা রাতভর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা থার্মাল স্ক্যানার, বড় মেশিন এবং কুকুর-মুক্তি দল ব্যবহার করছে, যাতে ধ্বংসস্তুপের নিচে কারা এখনও জীবিত আছে সেটা চিহ্নিত করা যায়। (AP7AM) স্থানীয়রা বলছেন যে মোট শ্রমিক সংখ্যা সম্পর্কে এখনও স্পষ্টতা নেই — কেউ বলছেন প্রায় ১২ জন, আবার অন্যরা বলছেন সংখ্যা তার চেয়েও বেশি হতে পারে। (Hindustan Times)
চিন্তার বিষয় হলো, এই ধরণের দুর্ঘটনা সোনভদ্রার জন্য নতুন নয়। এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই শিল্প ও খনির জন্য পরিচিত; স্থানীয় মানুষের কারণ অবৈধ খনকাজ, নিয়ন্ত্রনহীন শ্রমনীতি ও নিরাপত্তাহীনতা। একদিকে যেমন এখানে জীবিকা নির্ভর করে খনির ওপরে, তেমনি বিপদও প্রায় নিয়মিত ভর করে আসে তিন-চারিপাশে। এমনসব ঘটনা গোপনকারার প্রবণতা, দ্রুত তদন্ত না হওয়া এবং ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া ধীরগতি — এগুলো আগে থেকেই জনমতের বিষয় ছিল। এই সর্বশেষ ধস সেই পুরনো সমস্যাগুলোর নতুন প্রতিফলন।
অন্যদিকে, শ্রমিকদের পরিবার এখন চরম উদ্বেগে ভুগছে। ধ্বংসস্তুপের পাশে দাঁড়িয়ে পুরুষ, মহিলারা কাঁদছেন, দমবন্ধ লাগাচ্ছেন — প্রত্যাশা করছেন তাদের পছন্দন-ভাই, স্বামী বা পিতা জীবিত বেরিয়ে আসবে। উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, সময় এখন যুদ্ধের মতো; ধ্বংসস্তুপ যত দ্রুত সরানো যায়, তত দ্রুত জীবন উদ্ধারে সম্ভাবনা বাড়ে।
প্রশাসন ইতিমধ্যেই পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রাথমিক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে — খনির নিরাপত্তামূলক নীতিমালা কি পর্যাপ্ত ছিল? কি কারণে সেই অংশ ধসে পড়ল? স্থানীয় প্রশাসন, খনির মালিক ও ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে যারা কাজ পরিচালনা করছিল নির্দিষ্ট সময়ে। (The Indian Express) বেশ কিছু আইনপ্রয়োগকারী ও রাজনৈতিক নেতার তরফে দাবি উঠেছে — দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পরবর্তী সময়ে শ্রমিকদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে।
এই দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট থেকে উঠে আসছে আরও এক বড় প্রশ্ন: কি পর্যাপ্ত রাজস্ব অর্থ শ্রমিক নিরাপত্তা ও নিয়মিত পরিবীক্ষণে বরাদ্দ করা হচ্ছে? দীর্ঘদিন ধরে কার্যকরী নিরাপত্তা মানদণ্ডকে উপেক্ষা করে কৃষি বা শ্রম-মাইনিং পরিকল্পনায় লাভকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে কি? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর শুধুমাত্র প্রশাসনিক রিপোর্ট থেকে মিলবে, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে যা পরিষ্কার — জীবনের মূল্য তুলনায় অনেক সময় নগণ্য হয়ে যায়, বিশেষ করে দরিদ্র শ্রমিকদের ক্ষেত্রে।
উদ্বাস্ত আর্তনাদ, আকুল আলোচনা এবং প্রশাসনিক প্রতিশ্রুতির মাঝেই চলছে উদ্ধারকার্য। ধ্বংসস্তুপের মাঝখানে আটকে থাকা শ্রমিকদের জন্য এখন সময় এক; স্থানীয় জনগণ, পুলিশ, দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া সংস্থা ও মন্ত্রী—সকলেই একসাথে চেষ্টা করছে, ঝুঁকি নিয়েই প্রতিটি পাথর সরাতে, প্রতিটি দৃষ্টিকোণ পরীক্ষা করতে।
এই দুর্ঘটনা শুধুমাত্র এক কর্মক্ষেত্রে চরম বিপদ নয়; এটি একটি সামাজিক ও নীতি-সংকেত। সোনভদ্রার মতো খনি-নির্ভর এলাকায় দুর্যোগ বোঝাপড়া, শ্রমিক নিরাপত্তা ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতে যাতে এমন অঘটন রুদ্ধ করতে পারে, তার জন্য এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এবং সম্পৃক্ত সকল পক্ষকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
আশা করা যেতে পারে যে উদ্ধারকারী দল সফলভাবে ধ্বংসস্তুপ সরাবে, এবং যারা এখনও আটকে আছেন, তাদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই ঘটনার শিকড় খতিয়ে দেখতে হবে — শুধু দুঃখ বা প্রতিশ্রুতি নয়, কায়েম করতে হবে একটি নিরাপদ কর্মপরিবেশ, যাতে ভবিষ্যতে আর কারো পরিবার এমন দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি না হয়।
উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্রা জেলায় ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক খনি ধস আবারও প্রকাশ্যে এনে দিল শ্রমিক নিরাপত্তার চরম সংকট এবং খনি পরিচালনার নেপথ্যে থাকা অব্যবস্থাপনার সত্যতা। শনিবার বিকেলের দিকে বিলি-মার্কুণ্ডি এলাকার পাথরের খনিতে যখন শ্রমিকরা প্রতিদিনের মতোই পাথর কাটার কাজে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখনই আচমকা বিশাল একটি অংশ ভেঙে পড়তে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে ধুলোয় ঢেকে যায় চারদিক, আর পাথরের বিশাল চাঁই গড়িয়ে ধসে পড়ে বহু শ্রমিকের ওপরে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সবকিছু এত দ্রুত ঘটে যে অনেকে আশপাশের শ্রমিকরা চিৎকার করলেও ভেতরে থাকা শ্রমিকদের কেউই বেরিয়ে আসতে পারেননি।
ঘটনার পরপরই প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত পৌঁছে যায় ঘটনাস্থলে। শুরু হয় উদ্ধারকার্য, যার মূল চ্যালেঞ্জ ছিল ভারী পাথরের স্তূপের নীচে পৌঁছনো। এনডিআরএফ ও এসডিআরএফ-এর টিম বিশেষ যন্ত্রপাতি, থার্মাল সেন্সর এবং কুকুর বাহিনী ব্যবহার করে আটকে পড়া শ্রমিকদের সনাক্ত করার চেষ্টা করছে। এখন পর্যন্ত একজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে, তবে আরও কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ধ্বংসস্তুপের আকার এতটাই বড় যে রাতভর কাজ চালিয়েও সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে স্তূপ সরানো খুব কঠিন হয়ে পড়ছে।
পরিবারের সদস্যদের আর্তনাদই এই দুর্ঘটনার সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক। চারদিকেই শোক আর উৎকণ্ঠা—কে বাঁচল, কে এখনও ভিতরে আটকে আছে, কেউই নিশ্চিত নন। অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে খনি এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই ছিল অত্যন্ত দুর্বল। প্রয়োজনীয় সাপোর্ট ও নিয়মিত পরিদর্শনের অভাব ছিল স্পষ্ট, তবুও দিনের পর দিন একইভাবে কাজ চলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, খনি মালিক ও ঠিকাদারেরা লাভের চাপে নিরাপত্তার বিষয়টিকে বারবার উপেক্ষা করেছেন। অপরদিকে, শ্রমিকরা বাধ্য হয়েই প্রতিদিন সেই বিপজ্জনক অবস্থার মধ্যেই কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন, কারণ দিনমজুরদের কাছে জীবিকা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
ঘটনার পর জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। কেন খনি ভেঙে পড়ল, সেখানে কি অতিরিক্ত ড্রিলিং করা হয়েছিল, নিরাপত্তা মানা হয়েছিল কি না—সব প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও সত্যি কথা হলো, এই ধরনের ঘোষণা অতীতেও বহুবার দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে খুব বেশি পরিবর্তন দেখা যায়নি। তাই এবার মানুষের আশা—এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা যেন অন্তত একটি স্থায়ী পরিবর্তনের সূচনা ঘটায়।
শ্রমিকদের প্রাণভয়ের মধ্যেই চলছে উদ্ধার অভিযান। প্রত্যেকে আশায় আছে—যেন ধ্বংসস্তূপের নিচে যারা এখনও রয়েছেন, তাদের জীবিত অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়। এই দুর্ঘটনা শুধু একটি খনি ধসের ঘটনা নয়, বরং শ্রমিক জীবনের অনুপস্থিত নিরাপত্তা কাঠামোর বিরুদ্ধে একটি তীব্র সতর্কবার্তা। ভারত জুড়ে খনি-নির্ভর এলাকার শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজন কঠোর নিয়ম, আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ—নয়তো ভবিষ্যতে এমন আরও বহু দুর্ঘটনা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে।