Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

তেলুগুমতে বিবাহিত বিজয়-রশ্মিকা, পরিণতি পেল প্রেম! সন্ধ্যায় কোডাভা রীতি মেনে আবার বিয়ে

২৩ ফেব্রুয়ারি দুই পরিবারকে নিয়ে উদয়পুর পৌঁছোন বিজয়-রশ্মিকা। সেখানে গত দু’দিন ধরে বিবাহ-পূর্ববর্তী নানা অনুষ্ঠান চলেছে। ‘সঙ্গীত’, গায়েহলুদ-সহ একাধিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন পরিবারের লোকেরা ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব।দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। চারহাত এক হল বিজয় দেবরকোন্ডা ও রশ্মিকা মন্দানার। দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্ক পেল পরিণতি। বৃহস্পতিবার অরাবলী পাহাড়ে ঘেরা উদয়পুরের রিসর্টে বিয়ে সারলেন তারকাযুগল। সকাল ১০টা নাগাদ বিজয়ের পরিবারের তেলুগু নিয়ম মেনে বিয়ে হয়েছে তাঁদের। এর পরে বিকেলে রশ্মিকার পরিবারের কোডাভামতে বিয়ে সম্পন্ন হবে তাঁদের।

২৩ ফেব্রুয়ারি দুই পরিবারকে নিয়ে উদয়পুর পৌঁছোন বিজয়-রশ্মিকা। সেখানে গত দু’দিন ধরে বিবাহ-পূর্ববর্তী নানা অনুষ্ঠান চলেছে। ‘সঙ্গীত’, গায়েহলুদ-সহ একাধিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন পরিবারের লোকেরা ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব। সেই অনুষ্ঠানের টুকরো কিছু ছবি নিজেদের সমাজমাধ্যমে ভাগও করে নিয়েছিলেন তারকাযুগল। খবর, ‘সঙ্গীত’-এ নাকি বিজয়ের জন্য ‘ইয়েন্তি ইয়েন্তি’ গানে নাচেন অভিনেত্রী। তারকাদম্পতির বিয়েতে হাজির ছিলেন সন্দীপ রেড্ডী বাঙ্গা, জ়াকির খান-সহ কয়েক জন তারকা।

রশ্মিকাকে বিজয়ের মা বিয়ের উপহার হিসাবে দিয়েছেন পারিবারিক বালা। বিজয়কে বরণ করা হয় কলা ও ডাবের জল দিয়ে। নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে কখনও প্রকাশ্যে কিছুই বলেননি রশ্মিকা-বিজয়। তবে গত রবিবার বিয়ের খবরে সিলমোহর দেন তাঁরা। নিজেদের সমাজমাধ্যমে ঘোষণা করেন এই স্বপ্নের বন্ধনের নাম তাঁরা রাখছেন ‘বিরোশের বিয়ে’, কারণ তাঁদের অনুরাগীরাই ভালবেসে এই নাম রেখেছে।


বিজয়–রশ্মিকার স্বপ্নের বন্ধন: উদয়পুরে তারকাখচিত ‘বিরোশের বিয়ে’

২৩ ফেব্রুয়ারি, রাজস্থানের রাজকীয় শহর উদয়পুর সাক্ষী থাকল দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রশ্মিকা মন্দানার জীবনের সবচেয়ে বিশেষ অধ্যায়ের সূচনার। দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের নিয়ে সেদিনই উদয়পুরে পৌঁছন তারকা যুগল। হ্রদনগরীর প্রাসাদোপম পরিবেশ, ঐতিহ্যবাহী রাজস্থানি আতিথেয়তা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার নিখুঁত সমন্বয়ে শুরু হয় তাঁদের বিবাহ-পূর্ববর্তী আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানমালা।

উদয়পুর বরাবরই বলিউড ও দক্ষিণী তারকাদের ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের জন্য প্রথম সারির পছন্দ। লেক পিচোলার ধারে ঐতিহাসিক প্রাসাদ, আলোকসজ্জায় মোড়া রাজকীয় অঙ্গন, আর তার মাঝখানে প্রেমের উৎসব—বিজয় ও রশ্মিকার বিয়ের আবহ যেন রূপকথাকেও হার মানায়। পৌঁছনোর দিন থেকেই শুরু হয়ে যায় অতিথি আপ্যায়ন, ঐতিহ্যবাহী স্বাগত অনুষ্ঠান এবং পারিবারিক মেলামেশা।

গত দু’দিন ধরে চলে একের পর এক বিবাহ-পূর্ববর্তী অনুষ্ঠান—যার মধ্যে ছিল ‘সঙ্গীত’, ‘গায়ে হলুদ’, পারিবারিক আশীর্বাদ সভা এবং ব্যক্তিগত উদযাপন। প্রতিটি অনুষ্ঠানই সাজানো হয়েছিল আলাদা থিমে। পরিবার, ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ইন্ডাস্ট্রির অতি নির্বাচিত কয়েকজন তারকা উপস্থিত ছিলেন এই আয়োজনে। যদিও অনুষ্ঠান ছিল ব্যক্তিগত, তবু তার কিছু ঝলক নিজেরাই সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নেন বিজয় ও রশ্মিকা—আর সেখান থেকেই শুরু হয় ভক্তদের উচ্ছ্বাস।


সঙ্গীত: সুর, নাচ আর প্রেমের প্রকাশ

বিবাহ-পূর্ববর্তী অনুষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল ‘সঙ্গীত’ অনুষ্ঠানটি। সেদিনের সন্ধ্যা ছিল সম্পূর্ণ সঙ্গীত ও নৃত্যের উৎসব। আলোকসজ্জায় সেজে ওঠা প্রাসাদের অঙ্গনে তৈরি হয়েছিল বিশাল মঞ্চ। পরিবার ও বন্ধুদের পরিবেশনার পাশাপাশি ছিল তারকাদের বিশেষ পারফরম্যান্স।

খবর অনুযায়ী, সেই সঙ্গীতের আসরে রশ্মিকা মন্দানা নেচেছিলেন বিজয়ের জন্য তাঁরই জনপ্রিয় গান ‘ইয়েন্তি ইয়েন্তি’-তে। এই নাচ ছিল অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ। উপস্থিত অতিথিরা জানান, রশ্মিকার পারফরম্যান্সে ছিল আবেগ, খুনসুটি আর ভালোবাসার মিশেল—যা দেখে মুগ্ধ হন বিজয় নিজেও। নাচের শেষে দু’জনের চোখাচোখি আর হাসি—সেই মুহূর্তের ভিডিও নাকি ইতিমধ্যেই ভাইরাল ফ্যান পেজগুলিতে।

সঙ্গীত অনুষ্ঠানে বিজয়ও পিছিয়ে থাকেননি। বন্ধুদের সঙ্গে মঞ্চে উঠে তিনি নাচেন তাঁর কয়েকটি সুপারহিট গানের তালে। পুরো অনুষ্ঠানটাই ছিল প্রাণখোলা, অনানুষ্ঠানিক এবং আনন্দে ভরপুর—যেখানে তারকা ইমেজ ছাপিয়ে ধরা পড়ে দুই মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্কের উষ্ণতা।


গায়ে হলুদ: ঐতিহ্য আর পারিবারিক আবেগ

পরের দিন অনুষ্ঠিত হয় গায়ে হলুদ। দক্ষিণী ও উত্তর ভারতীয় রীতির মিশেলে আয়োজন করা হয়েছিল এই অনুষ্ঠান। হলুদ, ফুল, গাঁদার মালা, ঐতিহ্যবাহী পোশাক—সব মিলিয়ে রঙে ও গন্ধে ভরে ওঠে প্রাসাদ প্রাঙ্গণ।

রশ্মিকাকে হলুদ পরানোর সময় উপস্থিত ছিলেন দুই পরিবারের মহিলারা। হাসি, ঠাট্টা, গান—সব মিলিয়ে পরিবেশ হয়ে ওঠে সম্পূর্ণ পারিবারিক। বিজয়ের দিকেও একইভাবে পালিত হয় হলুদের অনুষ্ঠান। পরে দু’জন একসঙ্গে ছবি তোলেন—হলুদে রাঙা মুখে উজ্জ্বল হাসি, যা ভক্তদের কাছে ‘ড্রিম ওয়েডিং ভাইব’ তৈরি করে।


তারকাখচিত উপস্থিতি

যদিও অনুষ্ঠানটি ছিল সীমিত পরিসরে, তবু উপস্থিত ছিলেন কয়েকজন উল্লেখযোগ্য তারকা ও ইন্ডাস্ট্রি ব্যক্তিত্ব। তাঁদের মধ্যে ছিলেন পরিচালক সন্দীপ রেড্ডী বাঙ্গা, যাঁর সঙ্গে বিজয়ের পেশাগত সম্পর্ক বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও হাজির ছিলেন কমেডিয়ান জাকির খান, যিনি বরাবরই বিজয়ের ঘনিষ্ঠ মহলের অংশ হিসেবে পরিচিত।

এই তারকাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে বাড়তি উজ্জ্বলতা যোগ করে। তবে সবকিছুই রাখা হয়েছিল ব্যক্তিগত পরিসরে—কোনও মিডিয়া কাভারেজ বা লাইভ সম্প্রচার ছিল না, যা এই বিয়েকে আরও বিশেষ করে তোলে।


উপহার, রীতি আর পারিবারিক বন্ধন

বিয়ের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত ছিল যখন রশ্মিকাকে বিজয়ের মা পারিবারিক বালা উপহার দেন। এই বালা তাঁদের পরিবারের ঐতিহ্যের অংশ—যা নতুন বউকে গ্রহণ করার প্রতীক হিসেবেই দেওয়া হয়। রশ্মিকার চোখে তখন জল আর মুখে হাসি—এই দৃশ্য উপস্থিত সকলকেই আবেগপ্রবণ করে তোলে।

অন্যদিকে, বিজয়কে বরণ করা হয় কলা ও ডাবের জল দিয়ে—দক্ষিণ ভারতীয় ঐতিহ্য মেনে। এই রীতির মাধ্যমে নবদম্পতির সুস্বাস্থ্য, সমৃদ্ধি ও দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের আশীর্বাদ করা হয়।


সম্পর্কের নীরবতা থেকে প্রকাশ্যে স্বীকৃতি

বিজয় ও রশ্মিকার সম্পর্ক বহুদিন ধরেই গুঞ্জনের কেন্দ্রে ছিল। একাধিক ছবিতে একসঙ্গে কাজ, ব্যক্তিগত সময় কাটানো, ভ্রমণ—সবকিছু নিয়েই ভক্তদের কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। কিন্তু তাঁরা কখনও প্রকাশ্যে নিজেদের সম্পর্ক স্বীকার করেননি।

news image
আরও খবর

মিডিয়ার প্রশ্ন, ভক্তদের জল্পনা—সবকিছুর মাঝেও তাঁরা নীরব থাকেন। এই নীরবতাই তাঁদের সম্পর্ককে আরও রহস্যময় করে তোলে।

অবশেষে গত রবিবার, সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজেদের বিয়ের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন তাঁরা। সমাজমাধ্যমে যৌথ পোস্টে জানান—তাঁরা তাঁদের এই সম্পর্কের নাম দিচ্ছেন ‘বিরোশের বিয়ে’


‘বিরোশের বিয়ে’ নামের গল্প

ভক্তদের দেওয়া নাম থেকেই এসেছে ‘বিরোশ’। ‘বিজয়’ ও ‘রশ্মিকা’—দুই নাম মিলিয়েই তৈরি এই জুটির ফ্যানডম নাম। বহুদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের ভক্তরা এই নামে ডাকতেন।

সেই ভালোবাসাকেই সম্মান জানিয়ে নিজেদের বিয়ের নামও ভক্তদের দেওয়া নামেই রাখেন তারকা যুগল। এই ঘোষণার পরেই সোশ্যাল মিডিয়া ভরে যায় শুভেচ্ছাবার্তায়। #ViroshWedding ট্রেন্ড করতে শুরু করে একাধিক প্ল্যাটফর্মে।


সমাজমাধ্যমে ঝড়

বিয়ের ঝলক সামনে আসতেই ভক্তদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ লিখেছেন—
“রূপকথার বিয়ে কাকে বলে আজ দেখলাম।”
আবার কেউ বলেছেন—
“এটা শুধু বিয়ে নয়, আমাদের ফ্যানডমের উৎসব।”

ফ্যানপেজগুলোতে তাঁদের পুরনো ছবি, সাক্ষাৎকারের ক্লিপ, একসঙ্গে কাটানো মুহূর্ত—সব আবার ভাইরাল হতে থাকে।


ফ্যাশন ও স্টাইল স্টেটমেন্ট

রশ্মিকার প্রতিটি লুক ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সঙ্গীতে ঝলমলে লেহেঙ্গা, হলুদে ফুলের গয়না, প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটে প্যাস্টেল শাড়ি—সব মিলিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন ‘ডেস্টিনেশন ব্রাইড গোল’-এর প্রতীক।

বিজয়ও তাঁর স্বাভাবিক স্টাইল বজায় রেখেছিলেন—কখনও ঐতিহ্যবাহী শেরওয়ানি, কখনও ফিউশন কুর্তা, আবার কখনও সিম্পল কিন্তু এলিগ্যান্ট লুক।


উদয়পুরে পর্যটন উন্মাদনা

তারকা বিয়ের জেরে উদয়পুরের একাধিক বিলাসবহুল হোটেল প্রায় সম্পূর্ণ বুকড ছিল। পর্যটকদের অনেকেই নাকি ঘর পেতে সমস্যায় পড়েন। স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান—এই বিয়েকে কেন্দ্র করে শহরের অর্থনৈতিক কার্যকলাপও বেড়েছে।


ব্যক্তিগত কিন্তু প্রভাবশালী আয়োজন

এই বিয়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক—এর ব্যক্তিগত পরিসর। আজকের সোশ্যাল মিডিয়া যুগে যেখানে তারকা বিয়ে মানেই লাইভ আপডেট, সেখানে বিজয়–রশ্মিকা বেছে নেন গোপনীয়তা। সীমিত ছবি, নির্বাচিত মুহূর্ত—এতেই তৈরি হয় এক ধরনের এক্সক্লুসিভ আবহ।


ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, বিয়ের পর হায়দরাবাদ ও বেঙ্গালুরুতে আলাদা রিসেপশন হতে পারে—যেখানে ইন্ডাস্ট্রির আরও বহু তারকা উপস্থিত থাকবেন। যদিও এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।


উপসংহার

বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রশ্মিকা মন্দানার এই বিয়ে শুধুই দুই তারকার দাম্পত্যসূত্রে আবদ্ধ হওয়া নয়—এটি ছিল দুই পরিবারের মিলন, দুই সংস্কৃতির সংযোগ এবং কোটি ভক্তের আবেগের বাস্তব রূপ।

‘বিরোশের বিয়ে’ তাই শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়—এটি এক ফ্যানডম উদযাপন, এক প্রেমকাহিনির পূর্ণতা, আর এক স্বপ্নের সামাজিক স্বীকৃতি।

উদয়পুরের রাজকীয় প্রাসাদে শুরু হওয়া এই পথচলা এখন পা রাখল নতুন জীবনের দোরগোড়ায়—যেখানে আলো, ক্যামেরা, খ্যাতির বাইরেও থাকবে দু’জন মানুষের ব্যক্তিগত হাসি-কান্না, লড়াই আর ভালোবাসা।

Preview image