Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

জলের জন্য হাহাকার মহারাষ্ট্রে ওয়াটারকার্ফু জারি হল জরিমানা FIR দায়েরের নিদান

তীব্র জলসংকটের মুখে মহারাষ্ট্রের একটি এলাকায় জারি হয়েছে ওয়াটার কার্ফু  জল ব্যবহারে বিধিনিষেধের পাশাপাশি নিয়ম ভাঙলে জরিমানা এবং এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পানীয় জলের সংকট সামাল দিতে এই কড়া পদক্ষেপ কোথায় এই বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে কোন কাজে জল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবং নিয়ম ভাঙলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে নজর রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের

জলের জন্য হাহাকার মহারাষ্ট্রে ওয়াটারকার্ফু জারি হল জরিমানা FIR দায়েরের নিদান
Environment & Nature

বর্ষা শেষ হওয়ার পরেই জলসংকটের আশঙ্কা বাড়ছে মহারাষ্ট্রের একাধিক এলাকায়। কম বৃষ্টিপাত এবং জলাধারে সীমিত মজুতের কারণে পানীয় জল সংরক্ষণে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। জল সরবরাহে কাটছাঁট, পানীয় জলের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার বন্ধ, অপচয়ের জন্য জরিমানা এবং জল চুরি বা মিটারে কারচুপির ঘটনায় এফআইআর দায়েরের ব্যবস্থা এসব নিয়েই আলোচনায় এসেছে ‘ওয়াটার কার্ফু’। নাগপুর, পুণে এবং ছত্রপতি সম্ভাজিনগরসহ বিভিন্ন এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যম। ওয়াটার কার্ফু কথাটি এখানে জল ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বোঝাতে ব্যবহার করা হচ্ছে। গোটা মহারাষ্ট্রে একই ধরনের আনুষ্ঠানিক কার্ফু জারি হয়েছে, এমনভাবে বিষয়টি দেখা ঠিক হবে না। বিভিন্ন শহরে জলাধারের মজুত ও স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোথাও সরবরাহের সময় কমানো হচ্ছে, কোথাও পানীয় জল দিয়ে গাড়ি ধোয়া বা নির্মাণকাজের ওপর বিধিনিষেধ দেওয়া হচ্ছে।

নাগপুরে পানীয় জলের অপচয় নিয়ে কড়া অবস্থান নাগপুরে পানীয় জল দিয়ে গাড়ি ধোয়া, রাস্তা পরিষ্কার, বাগানে জল দেওয়া বা নির্মাণকাজ করলে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে The Times of India। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরে জল সরবরাহকারী জলাধারগুলিতে মজুত রয়েছে মোট ধারণক্ষমতার প্রায় ৫৮ শতাংশ জল। আগামী মাসগুলির প্রয়োজন মাথায় রেখে অপচয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জরিমানার পাশাপাশি অবৈধ জলসংযোগ এবং মিটারে কারচুপি নিয়েও নজরদারি বাড়ানোর কথা রয়েছে। অননুমোদিত সংযোগ নিয়মিত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। যেসব সংযোগ অনুমোদিত হবে না, সেগুলি বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা এবং মিটার খুলে নেওয়া বা কারচুপির ঘটনায় পুলিশি অভিযোগের কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে জল অপচয় এবং জল চুরির ক্ষেত্রে ব্যবস্থা এক নয়; দুটিকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জরিমানার কার্যকর অবস্থা নিয়ে ভাষার পার্থক্য রয়েছে। NDTV এটিকে ঘোষিত ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছে, আর The Times of India পরিকল্পনা বা প্রস্তাব হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে পুরসভার সর্বশেষ নির্দেশই জরিমানার প্রয়োগ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য দেবে। পুণেতে প্রতি বৃহস্পতিবার জল সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত পুণেতে জল সংরক্ষণের জন্য সাপ্তাহিক সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। Indian Express-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার শহরজুড়ে জল সরবরাহ স্থগিত রাখবে পুণে পুরসভা। উপলব্ধ জল আগামী বর্ষা পর্যন্ত ব্যবহার করার লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা। রাজ্য সরকারের জল সরবরাহে ১০ শতাংশ কাটছাঁটের নির্দেশের প্রেক্ষাপটে সিদ্ধান্তটি এসেছে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজে পানীয় জল ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং গাড়ি ধোয়ার কেন্দ্র বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুইমিং পুল, বাগান, গাড়ি ধোয়া ও খোলা জায়গা পরিষ্কারের জন্য পানীয় জল ব্যবহার না করার আবেদনও জানিয়েছে পুরসভা। পাইপলাইনের লিকেজ বা পানীয় জলের অপচয় চোখে পড়লে তা প্রশাসনকে জানানোর কথা বলা হয়েছে।

এই বিধিনিষেধের মূল উদ্দেশ্য হলো, পানযোগ্য জলের মজুত মানুষের প্রয়োজনীয় ব্যবহারের জন্য ধরে রাখা। একটি শহরে একই উৎস থেকে বাড়ি, ব্যবসা এবং অন্য পরিষেবায় জল পৌঁছয়। ফলে অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমানো গেলে সীমিত সরবরাহের ওপর চাপও কমতে পারে। বিডে জলাধার পাহারা ও জল চুরি রোধে নজরদারি মহারাষ্ট্রের বিড জেলাতেও জলসংকটের গুরুতর ছবি সামনে এসেছে। ৭ অক্টোবর প্রকাশিত Indian Express এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলার জলাধারগুলিতে ব্যবহারযোগ্য মজুত প্রায় ১৬.৩৮ শতাংশে নেমেছে। ভূগর্ভস্থ জলের স্তরও কমছে। পানীয় জলের উৎস রক্ষা করতে রাজস্ব দপ্তর, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মী এবং পুলিশকে নিয়ে যৌথ নজরদারির দল গঠন করা হয়েছে। জলাধার থেকে বেআইনিভাবে জল তোলা হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করার জন্য দিনে তিনবার পরিদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু জায়গায় ব্যবস্থা নেওয়ার পরেও পাম্পের সংযোগ আবার জুড়ে দেওয়ার অভিযোগ প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সীমিত জল যাতে অনুমতি ছাড়া সরিয়ে নেওয়া না হয়, সেই বিষয়েই নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি বোঝায়, সংকট শুধু শহরের কলের জল সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। জলাধার এবং ভূগর্ভস্থ উৎসে মজুত কমলে গ্রামীণ পানীয় জল, কৃষিকাজ ও অন্যান্য প্রয়োজনের মধ্যেও চাপ তৈরি হয়। নির্মাণ ও গাড়ি ধোয়ার ব্যবসায় কী প্রভাব পড়তে পারে পানীয় জল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এলে নির্মাণক্ষেত্রে বিকল্প জলের ব্যবস্থা প্রয়োজন হয়। পুণে পুরসভা নির্মাণকাজে গ্রেহওয়াটার ব্যবহারের সুপারিশ করেছে বলে Indian Express জানিয়েছে। তবে কোনও বিকল্প জল ব্যবহার করার আগে তার গুণমান এবং কাজের উপযোগিতা যাচাই করা প্রয়োজন। গাড়ি ধোয়ার কেন্দ্র বন্ধ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও কর্মীদের কাজেও প্রভাব পড়তে পারে। এই ধরনের নিয়ন্ত্রণের ফলে ব্যবসার প্রয়োজন এবং পানীয় জল সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য রাখার প্রশ্ন সামনে আসে। স্থানীয় নির্দেশে কোন ব্যবহার বন্ধ এবং কোন বিকল্প অনুমোদিত, তা স্পষ্ট থাকা জরুরি।

news image
আরও খবর

পরিবারগুলির দৈনন্দিন প্রস্তুতির প্রয়োজন সপ্তাহে একটি দিন জল সরবরাহ বন্ধ থাকলে পরিবারগুলিকে প্রয়োজন অনুযায়ী আগে থেকে পরিকল্পনা করতে হয়। রান্না, পান করা, শৌচাগার এবং পরিচ্ছন্নতার জন্য কতটা জল প্রয়োজন, তা হিসাব করে রাখা সহায়ক হতে পারে। তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জল সংগ্রহ করে অন্যের সরবরাহে চাপ তৈরি করা উচিত নয়। জল সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও ছোট অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। ট্যাঙ্ক উপচে পড়া বন্ধ করা, নষ্ট কল মেরামত করা এবং কাজের মাঝে অযথা কল খোলা না রাখা অপচয় কমাতে সাহায্য করে। জল ধরে রাখার পাত্র পরিষ্কার ও ঢাকা রাখা প্রয়োজন। সীমিত সরবরাহের সময়ে পরিকল্পিত ব্যবহার পরিবারের অসুবিধা কিছুটা কমাতে পারে। জরিমানার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতিও জরুরি জলসংকট মোকাবিলায় নাগরিকদের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ একটি অংশ। পাশাপাশি পাইপলাইনের লিকেজ মেরামত, অনুমোদিত সংযোগ নিশ্চিত করা এবং পানীয় জল প্রয়োজন হয় না এমন কাজে বিকল্প উৎস তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। নাগপুরের পরিকল্পনায় পুরনো কুয়ো পরিষ্কার, সৌরচালিত পাম্প এবং শোধিত বর্জ্যজলের পুনর্ব্যবহারের উদ্যোগ রয়েছে বলে The Times of India জানিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় নেওয়া ব্যবস্থাগুলির মধ্যে সাধারণ লক্ষ্য হলো, সীমিত পানীয় জলকে দীর্ঘ সময়ের জন্য সংরক্ষণ করা। তবে কার্যকর তারিখ, সরবরাহ বন্ধের দিন এবং জরিমানার নিয়ম শহরভেদে আলাদা। তাই ওয়াটার কার্ফু শিরোনামের পাশাপাশি স্থানীয় নির্দেশের বিস্তারিত জানা প্রয়োজন। মহারাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতিতে জল সংরক্ষণ, অপচয় রোধ এবং নির্ভরযোগ্য সরবরাহের পরিকল্পনা তিনটিই সমান গুরুত্ব 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে শহরে জল সরবরাহকারী জলাধারগুলিতে মজুত রয়েছে মোট ধারণক্ষমতার প্রায় ৫৮ শতাংশ জল। আগামী মাসগুলির প্রয়োজন মাথায় রেখে অপচয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জরিমানার পাশাপাশি অবৈধ জলসংযোগ এবং মিটারে কারচুপি নিয়েও নজরদারি বাড়ানোর কথা রয়েছে। অননুমোদিত সংযোগ নিয়মিত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। যেসব সংযোগ অনুমোদিত হবে না, সেগুলি বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা এবং মিটার খুলে নেওয়া বা কারচুপির ঘটনায় পুলিশি অভিযোগের কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে জল অপচয় এবং জল চুরির ক্ষেত্রে ব্যবস্থা এক নয়; দুটিকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জরিমানার কার্যকর অবস্থা নিয়ে ভাষার পার্থক্য রয়েছে। NDTV এটিকে ঘোষিত ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছে, আর The Times of India পরিকল্পনা বা প্রস্তাব হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে পুরসভার সর্বশেষ নির্দেশই জরিমানার প্রয়োগ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য দেবে। পুণেতে প্রতি বৃহস্পতিবার জল সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত পুণেতে জল সংরক্ষণের জন্য সাপ্তাহিক সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। Indian Express-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার শহরজুড়ে জল সরবরাহ স্থগিত রাখবে পুণে পুরসভা। উপলব্ধ জল আগামী বর্ষা পর্যন্ত ব্যবহার করার লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা। রাজ্য সরকারের জল সরবরাহে ১০ শতাংশ কাটছাঁটের নির্দেশের প্রেক্ষাপটে সিদ্ধান্তটি এসেছে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজে পানীয় জল ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং গাড়ি ধোয়ার কেন্দ্র বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুইমিং পুল, বাগান, গাড়ি ধোয়া ও খোলা জায়গা পরিষ্কারের জন্য পানীয় জল ব্যবহার না করার আবেদনও জানিয়েছে পুরসভা। পাইপলাইনের লিকেজ বা পানীয় জলের অপচয় চোখে পড়লে তা প্রশাসনকে জানানোর কথা বলা হয়েছে। এই বিধিনিষেধের মূল উদ্দেশ্য হলো, পানযোগ্য জলের মজুত মানুষের প্রয়োজনীয় ব্যবহারের জন্য ধরে রাখা। একটি শহরে একই উৎস থেকে বাড়ি, ব্যবসা এবং অন্য পরিষেবায় জল পৌঁছয়। ফলে অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমানো গেলে সীমিত সরবরাহের ওপর চাপও কমতে পারে। বিডে জলাধার পাহারা ও জল চুরি রোধে নজরদারি মহারাষ্ট্রের বিড জেলাতেও জলসংকটের গুরুতর ছবি সামনে এসেছে।

Preview image