Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বকরিদে গোমাতার পুজো করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজ হাতে খাওয়ালেন খাবার

বকরিদের দিন সম্প্রীতি ও ভারতীয় সংস্কৃতির বার্তা দিয়ে গোমাতার পুজো করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিজ হাতে গরুকে খাবার খাইয়ে তিনি জানান, গোমাতা ভারতীয় ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের প্রতীক।

বকরিদের সকাল। চারদিকে উৎসবের আবহ, ধর্মীয় আচার পালনে ব্যস্ত মানুষজন। ঠিক সেই সময়েই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে উঠে এল এক অন্য ছবি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গোমাতার পুজো করছেন, নিজ হাতে গরুকে খাবার খাইয়ে আশীর্বাদ নিচ্ছেন—এই দৃশ্য ঘিরেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনা। সামাজিক মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় সেই ছবি ও ভিডিও। কেউ একে ভারতীয় সংস্কৃতি ও সনাতনী ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন এটি একটি রাজনৈতিক বার্তা।

সকাল থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে ছিল কড়া নিরাপত্তা। তবে রাজনৈতিক কর্মসূচির বদলে দিনটির শুরু হয় ধর্মীয় আচার দিয়ে। সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি পরে শুভেন্দু অধিকারী প্রথমে গোমাতার সামনে প্রদীপ জ্বালান, ফুল ও মালা অর্পণ করেন। পরে নিজের হাতে কলা, সবুজ ঘাস, গুড় ও নানা ধরনের খাদ্য গরুকে খাওয়াতে দেখা যায় তাঁকে। উপস্থিত পুরোহিত বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে পুজো সম্পন্ন করেন।

এই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা ব্যাখ্যা। শাসক দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভারতীয় সংস্কৃতিতে গোমাতা শুধুমাত্র একটি প্রাণী নয়, এটি মাতৃত্ব, কৃষি এবং ঐতিহ্যের প্রতীক। বকরিদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে গোমাতার পুজো করে মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির বার্তা দিতে চেয়েছেন। তাঁদের দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি দেখাতে চেয়েছেন যে ভারতবর্ষের সংস্কৃতি বহু ধর্ম ও বহু বিশ্বাসের সহাবস্থানের উপর দাঁড়িয়ে আছে।

অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশ অবশ্য এই ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রচারের অংশ বলেই দাবি করেছে। তাঁদের বক্তব্য, ধর্মীয় আবেগকে সামনে রেখে ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সেই সমালোচনার জবাবে বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, গোমাতার প্রতি শ্রদ্ধা ভারতীয় সংস্কৃতির বহু পুরনো অংশ এবং এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।

ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় তুমুল চর্চা। ফেসবুক, এক্স, ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামে লক্ষাধিক মানুষ ভিডিওটি শেয়ার করতে থাকেন। অনেকেই লেখেন, “বাংলার মাটিতে আবার ফিরছে ভারতীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্য।” কেউ আবার মন্তব্য করেন, “গোমাতা রক্ষা ও সনাতন সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এটি এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।”

গ্রামের সাধারণ মানুষদের মধ্যেও এই ঘটনাকে ঘিরে কৌতূহল দেখা যায়। পূর্ব মেদিনীপুরের এক কৃষক জানান, “গরু আমাদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। চাষবাস থেকে দুধ—সবকিছুতেই গোমাতার ভূমিকা রয়েছে। একজন মুখ্যমন্ত্রী যদি গোমাতার সম্মান করেন, সেটা ভালো বার্তা।” আবার কলকাতার এক কলেজ ছাত্রের মতে, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। বকরিদের দিন এই ধরনের বার্তা সম্প্রীতির দিকটাও তুলে ধরে।”

শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি ছোটবেলা থেকেই গরুর প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধাশীল। গ্রামের পরিবেশে বড় হওয়ার কারণে কৃষি ও পশুপালনের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সময়ে তাঁকে গরুকে খাবার খাওয়াতে বা গোশালায় সময় কাটাতে দেখা গিয়েছে। তাই এবারের ঘটনাকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে ব্যক্তিগত বিশ্বাস হিসেবেও দেখছেন অনেকে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় রাজনীতিতে সাংস্কৃতিক পরিচয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক নেতারা এখন শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতীক নিয়েও বার্তা দিতে চাইছেন। শুভেন্দু অধিকারীর এই কর্মসূচিও সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটের অংশ হতে পারে।

বকরিদ উপলক্ষে এদিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালনের ছবিও দেখা গিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন রাজ্যের মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “বাংলা সম্প্রীতির মাটি। সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে শান্তি ও সৌহার্দ্যের সঙ্গে বসবাস করেন। আমাদের ঐতিহ্যই হল পারস্পরিক সম্মান।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের প্রতীকী পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যে দ্রুত প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমের যুগে একটি ছবি বা ভিডিও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে রাজনৈতিক বার্তাও অনেক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। শুভেন্দু অধিকারীর গোমাতা পুজোর ছবিও সেইভাবেই বাংলার রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

এদিকে গো-রক্ষা সংগঠনগুলিও মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ভারতীয় সংস্কৃতিতে গরুকে মায়ের আসনে বসানো হয়। তাই একজন রাজনৈতিক নেতা প্রকাশ্যে গোমাতার পুজো করায় সমাজে ইতিবাচক বার্তা যাবে। কয়েকটি সংগঠন তো ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীকে সম্মান জানানোর কথাও ঘোষণা করেছে।

তবে রাজনৈতিক উত্তাপও কম নয়। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে, রাজ্যের বেকারত্ব, শিল্প, রাস্তার অবস্থা বা আইনশৃঙ্খলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছেড়ে ধর্মীয় ইস্যুকে সামনে আনা হচ্ছে কেন। যদিও শাসক শিবিরের দাবি, সংস্কৃতি ও প্রশাসন একে অপরের বিরোধী নয়। একজন নেতা একই সঙ্গে প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি নিজের সংস্কৃতি ও বিশ্বাসকেও সম্মান জানাতে পারেন।

সন্ধ্যার পরেও মুখ্যমন্ত্রীর সেই ছবি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা চলতে থাকে। বহু মানুষ তাঁর সরল আচরণের প্রশংসা করেন। কেউ লেখেন, “ক্ষমতার চেয়ারেও মাটির টান ভোলেননি।” আবার কেউ বলেন, “বাংলার সংস্কৃতিতে গ্রাম, কৃষি আর গোমাতা চিরকাল গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতীক আরও বড় ভূমিকা নিতে পারে। কারণ সাধারণ মানুষের আবেগ ও পরিচয়ের সঙ্গে এই বিষয়গুলি গভীরভাবে জড়িত। তাই রাজনৈতিক দলগুলিও এখন সেই আবেগকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

সবমিলিয়ে, বকরিদের দিনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গোমাতা পুজো শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় আচার হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি সামাজিক মাধ্যম, রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের আলোচনার অন্যতম বড় বিষয় হয়ে উঠেছে। কেউ একে ভারতীয় ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবন বলছেন, কেউ রাজনৈতিক কৌশল। তবে এতটুকু নিশ্চিত যে এই ঘটনা বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে দীর্ঘদিন আলোচনা চলবে।

দিনের শেষে মুখ্যমন্ত্রী গোমাতার সামনে প্রণাম করে বলেন, “মানবতা, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির পথেই এগিয়ে যাক বাংলা।” আর সেই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গেই আবারও হাততালিতে ভরে ওঠে চারপাশ।
 

ভোর থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন এবং আশপাশের এলাকায় ছিল কড়া নিরাপত্তা। তবে রাজনৈতিক সভা বা প্রশাসনিক বৈঠকের পরিবর্তে দিনটির শুরু হয় একেবারে ভিন্ন পরিবেশে। বাড়ির উঠোনে বিশেষভাবে সাজানো হয়েছিল একটি ছোট্ট পূজামণ্ডপ। ফুল, ধূপ, প্রদীপ, আমপাতা ও কলাগাছ দিয়ে সাজানো সেই জায়গায় নিয়ে আসা হয় কয়েকটি গোমাতা। পুরোহিত বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ শুরু করেন, আর সেই পরিবেশে সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি পরে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

প্রথমে তিনি গোমাতার কপালে চন্দনের টিকা পরিয়ে দেন। এরপর মালা পরিয়ে আরতি করেন এবং প্রণাম জানান। পরে নিজের হাতে কলা, গুড়, ছোলা, সবুজ ঘাস ও অন্যান্য খাদ্য গরুকে খাওয়াতে দেখা যায় তাঁকে। উপস্থিত অনেকেই মোবাইলে সেই মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করতে শুরু করেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই ভিডিও ও ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

শাসকদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো। তাঁদের বক্তব্য, ভারতীয় সমাজে গোমাতাকে শুধু একটি প্রাণী হিসেবে দেখা হয় না, বরং তাকে মাতৃত্ব, কৃষি, সমৃদ্ধি ও জীবনের প্রতীক হিসেবে সম্মান করা হয়। বকরিদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে গোমাতার পুজো করে মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের বার্তা দিতে চেয়েছেন।

news image
আরও খবর

রাজনৈতিক মহলে অবশ্য এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধীদের একাংশ দাবি করেছে, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মসূচি। তাঁদের অভিযোগ, ধর্মীয় আবেগকে সামনে এনে ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির চেষ্টা চলছে। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, গোমাতার প্রতি শ্রদ্ধা ভারতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এটি কোনও রাজনৈতিক নাটক নয়।

সামাজিক মাধ্যমে এদিন “গোমাতা”, “শুভেন্দু অধিকারী”, “বকরিদ”, “সনাতন সংস্কৃতি” ইত্যাদি হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করতে শুরু করে। লক্ষাধিক মানুষ ভিডিওটি শেয়ার করেন। কেউ লেখেন, “বাংলা আবার নিজের সংস্কৃতির শিকড়ে ফিরছে।” আবার কেউ মন্তব্য করেন, “একজন মুখ্যমন্ত্রী নিজের সংস্কৃতিকে সম্মান জানাচ্ছেন, এতে আপত্তির কী আছে?”

অনেক সাধারণ মানুষও মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। হাওড়ার এক ব্যবসায়ী বলেন, “গরু আমাদের জীবনের অংশ। দুধ থেকে শুরু করে কৃষিকাজ—সব ক্ষেত্রেই গোমাতার অবদান রয়েছে। তাই গোমাতার সম্মান মানে আমাদের সংস্কৃতির সম্মান।” নদিয়ার এক গৃহবধূর মতে, “আজকের দিনে মানুষ সংস্কৃতি ভুলে যাচ্ছে। একজন রাজনৈতিক নেতা যদি সেই ঐতিহ্যকে সামনে আনেন, তাহলে সেটা ইতিবাচক।”

অন্যদিকে কিছু মানুষ আবার এই ঘটনাকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও দেখছেন। কলকাতার এক অধ্যাপক বলেন, “বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক নেতারা সাংস্কৃতিক প্রতীক ব্যবহার করে জনসংযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। এই ঘটনাকেও সেই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখা যেতে পারে।”

শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, ছোটবেলা থেকেই তিনি গরুর প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধাশীল। গ্রামের পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে কৃষি ও পশুপালনের সঙ্গে তাঁর পরিবারের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সময়ে তাঁকে গোশালায় যেতে এবং গরুকে খাবার খাওয়াতে দেখা গিয়েছে। ফলে অনেকের মতে, এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাসেরও প্রকাশ।

বকরিদ উপলক্ষে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এদিন বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালনের জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এদিন রাজ্যের মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “বাংলা সম্প্রীতির মাটি। এখানে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করেন। আমাদের সংস্কৃতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের শিক্ষা দেয়।”

গোমাতা পুজোর অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী কিছুক্ষণ গোশালায় সময় কাটান। তিনি গরুর পরিচর্যা সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন। গোশালার কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে পশুদের স্বাস্থ্য ও খাবারের বিষয়ে জানতে চান। উপস্থিত কর্মীরা জানান, মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত সাধারণভাবে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পশুদের যত্ন নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান।

এই ঘটনার পর গো-রক্ষা সংগঠনগুলিও মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসায় সরব হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, বর্তমান সময়ে ভারতীয় সংস্কৃতি ও গোমাতার গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। তাই একজন মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে গোমাতার পুজো করায় সমাজে ইতিবাচক বার্তা যাবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলার রাজনীতিতে সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রশ্নটি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এখন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতীককে সামনে রেখে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চাইছে। শুভেন্দু অধিকারীর এই কর্মসূচিও সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন অনেকে।

এদিকে বিরোধীরা আবার প্রশ্ন তুলেছে, রাজ্যের বেকারত্ব, শিল্প, রাস্তার অবস্থা, হাসপাতাল, শিক্ষা ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলার মতো গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলি থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই এই ধরনের কর্মসূচি করা হচ্ছে। যদিও শাসকদলের পাল্টা বক্তব্য, সংস্কৃতি ও উন্নয়ন একে অপরের বিরোধী নয়। একজন নেতা প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি নিজের ঐতিহ্য ও বিশ্বাসকেও সম্মান জানাতে পারেন।

বিকেলের দিকে আরও কিছু ভিডিও সামনে আসে যেখানে দেখা যায়, মুখ্যমন্ত্রী ছোট শিশুদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং তাঁদের হাতে প্রসাদ তুলে দিচ্ছেন। অনেক শিশু গোমাতার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলে। সেই দৃশ্যও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

গ্রামের মানুষদের মধ্যে এই ঘটনাকে ঘিরে আলাদা আবেগ দেখা যায়। পূর্ব মেদিনীপুরের এক বৃদ্ধ কৃষক বলেন, “আমাদের সময়ে গরুকে পরিবারের সদস্যের মতো দেখা হত। এখন শহুরে জীবনে মানুষ সেই সম্পর্ক ভুলে যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী যদি আবার সেই ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে দেন, সেটা ভালো উদ্যোগ।”

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ভারতীয় সংস্কৃতিতে গোমাতার গুরুত্ব বহু প্রাচীন। বেদ, পুরাণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থে গোমাতাকে সমৃদ্ধি ও শুভ শক্তির প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই গোমাতার পুজো শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার নয়, বরং কৃষিভিত্তিক ভারতীয় সমাজের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়েরও অংশ।

সন্ধ্যার পরেও মুখ্যমন্ত্রীর সেই ছবি ও ভিডিও নিয়ে আলোচনা থামেনি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশেষ আলোচনা শুরু হয়। রাজনৈতিক নেতা, সমাজবিদ, ইতিহাসবিদ এবং সাধারণ মানুষ—সবাই নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে থাকেন।

অনেকেই মনে করছেন, আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতীক আরও বেশি গুরুত্ব পাবে। কারণ সাধারণ মানুষের আবেগ, পরিচয় ও সংস্কৃতির সঙ্গে এই বিষয়গুলি গভীরভাবে জড়িত। ফলে রাজনৈতিক দলগুলিও সেই আবেগকে গুরুত্ব দিয়ে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “গোমাতা আমাদের সংস্কৃতি, কৃষি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। আমি বিশ্বাস করি, সব ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান দেখিয়েই বাংলা এগিয়ে যাবে। সম্প্রীতি ও মানবতার পথেই আমাদের চলতে হবে।”

তাঁর এই বক্তব্য ঘিরেও শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। সমর্থকদের মতে, এটি বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার বার্তা। বিরোধীদের মতে, এটি রাজনৈতিকভাবে একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ককে আকৃষ্ট করার কৌশল। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ছবি যে গভীর প্রভাব ফেলেছে, তা স্পষ্ট।

 

Preview image