সোনম কপূরের সাধের অনুষ্ঠানে তারকাদের মেলা। এই সময়টা যে তিনি পরতে পরতে উপভোগ করছেন তা নায়িকার ইনস্টাগ্রামে ঢুঁ দিলেই বোঝা যাবে।উন্মুক্ত স্ফীতোদর। গলায় ভারী নেকলেস, কানে বড় টানা দুল। সঙ্গে মানানসই লহেঙ্গা। দ্বিতীয় সন্তান আসার আনন্দে সোনম কপূরের সাধের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই সময়টা যে তিনি পরতে পরতে উপভোগ করছেন তা নায়িকার ইনস্টাগ্রামে ঢুঁ দিলেই বোঝা যায়। রবিবার বাবা অনিল কপূরের বাড়িতে সকাল থেকেই দেখা গেল বলিপাড়ার নায়ক-নায়িকাদের।
এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে পরিবারের ভাই-বোনেদের যেন ছোটখাটো পিকনিকও হয়ে গেল। একে একে দেখা গেল অর্জুন কপূর, অংশুলা কপূর থেকে খুশি কপূরকে। শাড়ি আর গয়নায় নিজেকে সাজিয়েছিলেন খুশি। তবে জাহ্নবী কপূরের ছবি প্রকাশ্যে আসেনি। তা নিয়েও দর্শকের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়। কেন দেখা গেল না অভিনেত্রীকে? তবে সোনম এবং তাঁর স্বামী আনন্দ আহুজার যে ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, তা দর্শকের কাছে খুবই প্রশংসিত হচ্ছে।সোনমের সাধের অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন অভিনেতা অনুপম খেরও। বলা যেতে পারে, সাধের অনুষ্ঠানের সুবাদে বলিপাড়ার সবার একসঙ্গে দেখা ও খাওয়াদাওয়া হয়ে গেল। এখনও পর্যন্ত প্রথম সন্তান বায়ুর মুখ ক্যামেরার সামনে আনেননি সোনম এবং আনন্দ। এখন প্রশ্ন হল তাঁরা দ্বিতীয় সন্তানকেও কি ক্যামেরার আড়ালে রাখবেন? এরই মধ্যে সোনমের উন্মুক্ত স্ফীতোদর নিয়ে দর্শকের একাংশের মনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। কারও প্রশ্ন ছিল, কেন এই ভাবে ছবি সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি? যদিও এ ধরনের মন্তব্যে অভিনেত্রী কোনও দিনই গুরুত্ব দেন না। আপাতত নতুন অতিথি আসার অপেক্ষায় আহুজা এবং কপূর পরিবার।
বলিউডের ফ্যাশন আইকন, স্টাইল স্টেটমেন্ট এবং স্পষ্টভাষী ব্যক্তিত্ব হিসেবে বহুদিন ধরেই পরিচিত Sonam Kapoor। মাতৃত্বের প্রথম পর্ব উপভোগ করার পর আবারও জীবনের এক নতুন অধ্যায়ে পা রাখতে চলেছেন তিনি। তাঁর দ্বিতীয় সন্তানের আগমন ঘিরে ইতিমধ্যেই উচ্ছ্বাস, কৌতূহল এবং জল্পনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। সম্প্রতি আয়োজিত তাঁর সাধের অনুষ্ঠান—অর্থাৎ বেবি শাওয়ার—বলিউডের অন্দরমহলে যেন এক উষ্ণ পারিবারিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল।
ভারতীয় সংস্কৃতিতে সাধের অনুষ্ঠান শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি মাতৃত্বকে ঘিরে আবেগ, আশীর্বাদ ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক। সোনমের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে সাজানো হয়েছিল গোটা অনুষ্ঠান। ফুল, আলো, নরম রঙের সাজসজ্জা—সব মিলিয়ে এক স্বপ্নময় পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য, বন্ধু এবং বলিপাড়ার বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ। তাঁদের মধ্যেই বিশেষভাবে নজর কেড়েছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা Anupam Kher। তাঁর উপস্থিতি যেন অনুষ্ঠানের আবেগঘন আবহকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে। তিনি সোনমকে আশীর্বাদ জানান এবং পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটান।
এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল—দুই পরিবারের মিলন। সোনমের পিতৃপরিবার কপূর পরিবার এবং তাঁর স্বামী Anand Ahuja-র আহুজা পরিবার—দুই পক্ষই আনন্দে মেতে ওঠেন।
বিয়ের পর থেকেই সোনম ও আনন্দ তাঁদের সম্পর্ককে শুধু দাম্পত্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং দুই পরিবারের সাংস্কৃতিক বন্ধনকেও দৃঢ় করেছেন। সাধের অনুষ্ঠান সেই বন্ধনেরই আরেকটি প্রকাশ। পারিবারিক হাসি-আড্ডা, খাওয়াদাওয়া, ছবি তোলা—সব মিলিয়ে অনুষ্ঠান যেন এক প্রাইভেট কিন্তু প্রাণবন্ত উৎসবে পরিণত হয়।
সোনম ও আনন্দের প্রথম সন্তান Vayu Kapoor Ahuja জন্মের পর থেকেই তাঁরা একটি বিষয় খুব সচেতনভাবে বজায় রেখেছেন—গোপনীয়তা। এখনও পর্যন্ত তাঁরা সন্তানের মুখ প্রকাশ্যে আনেননি।
সমাজমাধ্যমে বায়ুর ছবি শেয়ার করলেও সেগুলোতে মুখ আড়াল করা থাকে—কখনও পাশ থেকে, কখনও দূর থেকে, কখনও শুধু ছোট্ট হাত বা পা। তাঁদের এই সিদ্ধান্তকে অনেকে সম্মান জানালেও, কৌতূহলী ভক্তদের মধ্যে প্রশ্ন থেকেছে।
এইবারও সেই একই প্রশ্ন সামনে এসেছে—দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পরও কি তাঁরা তাকে ক্যামেরার আড়ালেই রাখবেন?
বর্তমান সময়ে সেলিব্রিটি সন্তানেরা জন্মের পর থেকেই মিডিয়ার নজরে চলে আসে। অনেক তারকা ইচ্ছাকৃতভাবে সন্তানের ছবি প্রকাশ করেন, আবার অনেকে সচেতনভাবে গোপন রাখেন। সোনম ও আনন্দ দ্বিতীয় দলে পড়েন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সেলিব্রিটি বাবা-মায়েরা এখন সন্তানের মানসিক নিরাপত্তা, ডিজিটাল প্রাইভেসি ও অনলাইন ট্রলিং থেকে দূরে রাখতে সচেতন হচ্ছেন। ফলে দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রেও একই নীতি বজায় রাখার সম্ভাবনাই বেশি।
সাধের অনুষ্ঠানের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে, তা হল—সোনমের বেবি বাম্প বা স্ফীতোদরকে উন্মুক্ত রেখে তোলা ফটোশ্যুট।
তিনি পরেছিলেন এমন একটি পোশাক, যা মাতৃত্বকে লুকিয়ে নয়, বরং উদ্যাপন করে তুলে ধরে। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন দুনিয়ায় এটি নতুন কিছু নয়। বহু হলিউড তারকাও মাতৃত্বকালীন ফটোশ্যুটে বেবি বাম্পকে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।
কিন্তু ভারতীয় সমাজের একাংশ এখনও এই প্রকাশভঙ্গিকে সহজভাবে নিতে পারেনি।
ছবি প্রকাশ্যে আসার পর নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র—
সমর্থনের সুর:
অনেকে বলেছেন, মাতৃত্ব লজ্জার নয়, গর্বের বিষয়। নারীদেহের পরিবর্তনকে স্বাভাবিক ও সুন্দর হিসেবে তুলে ধরা উচিত।
সমালোচনার সুর:
কেউ প্রশ্ন তুলেছেন—“এভাবে ব্যক্তিগত মুহূর্ত প্রকাশ করা কি প্রয়োজন?”
আবার কেউ বলেছেন—“ভারতীয় সংস্কৃতিতে এ ধরনের উন্মুক্ততা মানানসই নয়।”
যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সোনমকে অনুসরণ করেন, তাঁরা জানেন—সমালোচনাকে খুব একটা পাত্তা দেন না তিনি। ফ্যাশন, মতামত, শরীরী ভাষা—সব ক্ষেত্রেই তিনি নিজের অবস্থানে দৃঢ়।
এর আগেও—
বডি শেমিং
ফ্যাশন চয়েস
নারীবাদী মতামত
নিয়ে তাঁকে ট্রলের মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু তিনি বরাবরই বলেছেন—“নিজের শরীর, নিজের সিদ্ধান্ত।”
মাতৃত্বকালীন ফটোশ্যুট নিয়েও তিনি একই অবস্থান বজায় রেখেছেন।
সোনমের এই প্রকাশভঙ্গি শুধু ব্যক্তিগত নয়, সামাজিক বার্তাও বহন করে। দীর্ঘদিন ধরে গর্ভাবস্থাকে ‘ঢেকে রাখার’ সংস্কৃতি ছিল।
কিন্তু এখন—
প্রেগন্যান্সি ফ্যাশন
ম্যাটার্নিটি ফটোশ্যুট
বডি পজিটিভিটি
ধীরে ধীরে সামাজিক স্বীকৃতি পাচ্ছে।
সোনম সেই পরিবর্তনেরই এক দৃশ্যমান মুখ।
বলিউডে গত এক দশকে মাতৃত্ব উদ্যাপনের ধরণ বদলেছে—
বেবি শাওয়ার
ম্যাটার্নিটি ফটোশ্যুট
প্রেগন্যান্সি স্টাইলিং
সবই এখন লাইমলাইটে।
সোনম বরাবরই ফ্যাশন ট্রেন্ডসেটার। ফলে তাঁর মাতৃত্বকালীন স্টাইলও স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় এসেছে।
বর্তমানে আহুজা ও কপূর—দুই পরিবারেই আনন্দের আবহ। নতুন অতিথির আগমন মানে শুধু একটি শিশুর জন্ম নয়, একটি পরিবারের নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
দাদা-দিদা, মামা-খুড়ো—সবাই অপেক্ষায়।
বিশেষত সোনমের বাবা অনিল কপূর (নাম উল্লেখ প্রাসঙ্গিক হলেও এখানে নতুন entity না দিলেও চলে) আগেও নাতিকে নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়েছেন। দ্বিতীয় নাতি বা নাতনিকে ঘিরেও তাঁর উচ্ছ্বাস স্বাভাবিকভাবেই চর্চায়।
প্রথম সন্তানের পর সোনম কিছুটা কাজ থেকে দূরে ছিলেন। তবে তিনি জানিয়েছেন—মাতৃত্ব তাঁর পরিচয়ের একটি অংশ, পুরোটা নয়।
দ্বিতীয় সন্তানের পরও তিনি ধীরে ধীরে কাজে ফিরবেন বলে ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা যায়।
বলিউডে এখন বহু অভিনেত্রীই মাতৃত্বের পর সফলভাবে কামব্যাক করছেন। ফলে সোনমের ক্ষেত্রেও সেই সম্ভাবনা উজ্জ্বল।
সেলিব্রিটি মাতৃত্ব মানেই মিডিয়ার তীব্র নজর। হাসপাতাল থেকে শুরু করে বাড়ি ফেরা—সবই খবর।
কিন্তু সোনম ও আনন্দ চেষ্টা করেন একটি সীমারেখা বজায় রাখতে—
ব্যক্তিগত মুহূর্ত সীমিত রাখা
সন্তানের গোপনীয়তা রক্ষা
নির্বাচিত ছবি শেয়ার করা
এই ভারসাম্য বজায় রাখাই আজকের ডিজিটাল যুগে বড় চ্যালেঞ্জ।
দ্বিতীয় সন্তানের আগমন মানে শুধু শারীরিক নয়, মানসিক প্রস্তুতিও। প্রথম সন্তানের অভিজ্ঞতা থাকলেও প্রতিটি গর্ভাবস্থা আলাদা।
মা হিসেবে—
আবেগের ওঠানামা
শারীরিক পরিবর্তন
দায়িত্ব বৃদ্ধি
সবই নতুন করে অনুভূত হয়।
সোনম এই সময় পরিবারকেই সবচেয়ে বড় সমর্থন হিসেবে পাচ্ছেন।
সোনমের ক্ষেত্রে একটি বিষয় স্পষ্ট—মাতৃত্ব তাঁর স্টাইল আইডেন্টিটিকে মুছে দেয়নি, বরং নতুন মাত্রা দিয়েছে।
তিনি প্রমাণ করেছেন—
মা হওয়া মানেই নিজের ব্যক্তিত্ব বিসর্জন নয়।
বরং নারীজীবনের বহুমাত্রিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর।
সেলিব্রিটি লাইফস্টাইল সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলে। সোনমের মতো তারকারা যখন মাতৃত্বকে উদ্যাপন করেন—
গর্ভাবস্থা নিয়ে ট্যাবু কমে
শরীরী পরিবর্তন স্বাভাবিক হয়
মানসিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে
এটি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনেও ভূমিকা রাখে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কবে আসবে নতুন অতিথি? ছেলে না মেয়ে? কবে প্রথম ছবি দেখা যাবে?
যদিও পরিবার এ বিষয়ে নীরব, তবুও ভক্তদের আগ্রহ তুঙ্গে।
সাধের অনুষ্ঠান ঘিরে যে আনন্দ, আবেগ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা শুধু একটি সেলিব্রিটি বেবি শাওয়ার নয়—বরং আধুনিক মাতৃত্বের বহুমাত্রিক প্রতিচ্ছবি।
এখানে আছে—
পারিবারিক বন্ধন
ফ্যাশন স্টেটমেন্ট
শরীরী স্বাধীনতা
সামাজিক বিতর্ক
গোপনীয়তার প্রশ্ন
সবকিছুর কেন্দ্রে একজন নারী—যিনি মা হতে চলেছেন দ্বিতীয়বার।
নতুন প্রাণের আগমন সবসময়ই আশার প্রতীক। আহুজা ও কপূর পরিবার সেই আশাকেই বুকে নিয়ে অপেক্ষা করছে—আর ভক্তরা অপেক্ষা করছে সেই মুহূর্তের, যখন এই সুখবর আনুষ্ঠানিকভাবে ভাগ করে নেওয়া হবে বিশ্বের সঙ্গে।
চাইলে আমি এটাকে news article / magazine feature / Facebook post series—যে ফরম্যাটে দরকার, সে ভাবে রেডি করে দিতে পারি।