দম্পতির আলাদা জীবন: যিশু–নীলাঞ্জনা দীর্ঘদিন ধরে আলাদা, দুই মেয়ের দায়িত্ব নীলাঞ্জনার কাঁধে।সারার বার্তা: বড় মেয়ে সারা ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেছেন ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট।নতুন অধ্যায়: নীলাঞ্জনা ও সারা নিজের মতো করে জীবন গড়ে নিচ্ছেন।যিশুর নীরবতা: পরিবার নিয়ে যিশু এখন কোনো মন্তব্য করছেন না।
গ্ল্যামার জগতের একসময়ের আদর্শ দম্পতি—যিশু সেনগুপ্ত ও নীলাঞ্জনা শর্মা—সদাইই মিডিয়ার নজর কেড়েছেন তাদের সুন্দর যাত্রা ও ক্যারিয়ারের কারণে। সিনেমা, ফটোশ্যুট এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে একসাথে উপস্থিতি, তাদের মধ্যে যে প্রেম এবং সমঝোতার ছবি ফুটে উঠত, তা সবার নজর কেড়েছে। কিন্তু বাস্তব জীবনের গল্প প্রায়শই সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো সরল নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের সম্পর্কের মধ্যে স্পষ্ট ফাঁক দেখা গেছে, যা কেবল তাদেরই নয়, ভক্ত ও সমালোচকদেরও কৌতূহল বাড়িয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই যিশু ও নীলাঞ্জনা আলাদা থাকছেন। যদিও আইনত তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি, নীলাঞ্জনা ইতিমধ্যেই নিজের নাম থেকে ‘সেনগুপ্ত’ পদবি বাদ দিয়ে বাবার পদবি ‘শর্মা’ ব্যবহার করছেন। এই পরিবর্তন কেবল নামেরই নয়, বরং মানসিক ও সামাজিক স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবেও ধরা হচ্ছে। নীলাঞ্জনার জীবনের এই নতুন অধ্যায়ে দুই মেয়ের—সারা ও জয়ার—দায়িত্বও এখন মূলত তার কাঁধে। উৎসব, জন্মদিন কিংবা বিশেষ অনুষ্ঠানে যিশুর অনুপস্থিতি স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এর মধ্যে বড় মেয়ে সারা সেনগুপ্ত সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি স্টোরি শেয়ার করে নতুন বিতর্ক ও আলোচনা সৃষ্টি করেছেন। একটি কফির মগের ছবির সঙ্গে তিনি লিখেছেন—
“আমি জানি তুমি ম্যানিপুলেশনের মাস্টার আর স্বভাবসিদ্ধ মিথ্যেবাদী। কিন্তু আমার নামে ভুলেও মিথ্যে বলো না, আমিও তোমার নামে সত্যি বলব না।”
স্টোরির পাশে থাকা এক চোখ ঢাকা ইমোজিও এক ধরনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও এই বার্তাটি কাকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়, তবে অনেকেই অনুমান করছেন এটি পরিবারের ব্যক্তিগত টানাপোড়েনের প্রমাণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন বার্তা প্রায়ই অত্যন্ত প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে তখন যখন এটি প্রকাশ্যে আসে এবং ভক্তরা নানা ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা শুরু করেন।
সারা শুধু মেয়ের প্রতিভা নয়, বরং তার নিজের ক্যারিয়ারের দিকেও মনোযোগ দিচ্ছেন। শিশুশিল্পী হিসেবে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘উমা’ ছবিতে তিনি কাজ করেছিলেন যিশুর সঙ্গে। কিন্তু এখন তিনি মডেলিং দুনিয়ায় নিজের নাম ও পরিচিতি গড়ে তুলছেন, দেশি এবং বিদেশি ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করছেন। এই পরিবর্তন একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা, যেখানে তিনি কেবল একজন সন্তান নয়, বরং নিজের ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে স্বাধীন একজন শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেন।
অন্যদিকে, নীলাঞ্জনা শর্মাও নিজের জীবনের নতুন রূপে মানিয়ে নিচ্ছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ২০২৪ সাল তাকে মানুষ চিনতে শিখিয়েছে। যারা একসময় তাঁর জীবনের অংশ ছিলেন, এখন অনেকেই দূরে। তবে এ নিয়ে তিনি কোনো আক্ষেপের কথা বলেননি। বরং তিনি নিজের সময় ও আনন্দের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। তাঁর জীবনের এই ধারা একদিকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতীক, অন্যদিকে মা ও পেশাদার হিসেবে আত্মনির্ভরশীলতার প্রতীক হিসেবেও ধরা হচ্ছে।
যিশু সেনগুপ্তের দিক থেকে পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। তিনি এখন একরকম নীরব। পরিবার, সম্পর্ক এবং এই পরিস্থিতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করছেন না। তার এই নীরবতা অনেকেই তার ব্যক্তিগত অবস্থান এবং মানসিক প্রস্তুতির প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। গ্ল্যামার জগতে এই ধরনের নীরবতা কখনও কখনও প্রয়োজনীয়, কারণ ব্যক্তিগত জীবনের বিষয়গুলো মিডিয়ার আলোচনার বাইরে রাখা যায়।
সম্পর্কের এই পরিবর্তনের প্রভাব শুধু সন্তান বা বাবা-মায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মিডিয়ায়ও তার প্রতিফলন দেখা যায়। সারা সেনগুপ্তের পোস্ট এবং নীলাঞ্জনার নতুন জীবনধারা গ্ল্যামার জগতের ভক্ত ও সাংবাদিকদের জন্য এক নতুন আলাপের বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন, এটা একটি প্রাপ্তবয়স্ক পরিবারের স্বাধীনতার উদাহরণ, যেখানে সন্তান নিজের ব্যক্তিত্ব গড়ে তুলছে, মা নিজের স্বাধীনতা এবং আনন্দ খুঁজে পাচ্ছেন, এবং বাবা নীরবভাবে তার পদক্ষেপ নিয়ে চিন্তা করছেন।
একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এই ধরণের ব্যক্তিগত টানাপোড়েন এবং মিডিয়ায় প্রকাশনার মধ্যেও, পরিবারে সম্পর্কের মৌলিক গঠন বজায় থাকে। সারা এবং জয়া দুজনেই এখন এক ধরণের স্থিতিশীল পরিবেশে বড় হচ্ছে। নীলাঞ্জনা যেভাবে নিজেকে এবং সন্তানের প্রতি দায়িত্বকে পরিচালনা করছেন, তা অনেক মা ও পিতার জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
এখানেই দাঁড়িয়ে গেলে মনে হয়, যিশু–নীলাঞ্জনার সম্পর্ক কেবল বিচ্ছেদের গল্প নয়, বরং এটি একটি নতুন ধরণের পরিবারের উদাহরণ। যেখানে বাবা-মা একে অপরের সঙ্গে একত্রে থাকছেন না, তবু সন্তানের জন্য তাদের দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা অপরিবর্তিত। এছাড়া, সন্তান নিজের স্বকীয়তা এবং স্বাধীনতা গড়ে তুলছে, যা দীর্ঘমেয়াদে তার মানসিক ও পেশাদার বিকাশের জন্য সহায়ক।
সারার পোস্ট এবং নীলাঞ্জনার জীবনধারা প্রমাণ করে যে, আধুনিক পরিবারের ধারণা পরিবর্তিত হচ্ছে। এটি একটি পরিবার যেখানে সরাসরি মিলনের প্রয়োজন নেই, তবে সম্পর্ক এবং দায়িত্বের অনুভূতি বজায় থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মিডিয়ার আলোচনার প্রভাব থাকলেও, মূল বিষয় হল পরিবার এবং আত্মপরিচয় বজায় রাখা।
শেষমেশ, যিশু–নীলাঞ্জনার এই গল্প আমাদের শেখায়, সম্পর্ক এবং পরিবার কেবল বাহ্যিক উপস্থিতি বা সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কখনও কখনও এটি নির্ভর করে ব্যক্তিগত উন্নতি, মানসিক শান্তি, এবং সন্তানের সঙ্গে দায়িত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার উপর। সারা সেনগুপ্তের নিজস্ব পথচলা এবং নীলাঞ্জনার নতুন জীবনধারা একে পরিপূর্ণ করে।
গ্ল্যামার জগতের এই পরিবারিক গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়, যে বাস্তব জীবন সবসময় সিনেমার মতো সরল নয়। সম্পর্কের জটিলতা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং সামাজিক দায়িত্ব—সবকিছুরই সংমিশ্রণ এখানে লক্ষ্য করা যায়। এবং এই সংমিশ্রণই যে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে, তা স্পষ্ট।
যিশু–নীলাঞ্জনা, সারা এবং জয়া—তাদের জীবনের এই পর্ব একটি বাস্তব জীবনের গল্প, যা আধুনিক পরিবারের ধারণাকে নতুন আলোকে উপস্থাপন করছে। এটি শুধু গ্ল্যামার জগতের কৌতূহলপূর্ণ খবর নয়, বরং একটি শিক্ষণীয় গল্পও, যেখানে সম্পর্ক, স্বাধীনতা, এবং দায়িত্বের মধ্যে সমন্বয়ই গুরুত্বপূর্ণ।