৬ বছর বয়সেই কোডিং শেখা শুরু, আর মাত্র ১১ বছর বয়সেই সিইও—এটাই শ্রীলক্ষ্মী সুরেশের অনুপ্রেরণাময় যাত্রা। আজ সারা বিশ্ব তাঁকে চেনে বিশ্বের অন্যতম সবচেয়ে কম বয়সী সিইও হিসেবে। তাঁর গল্প প্রমাণ করে দেয়—সাফল্যের মাপকাঠি বয়স নয়, বরং স্বপ্ন, দক্ষতা আর অদম্য আত্মবিশ্বাস। ছোট বয়সে বড় লক্ষ্য স্থির করে এগিয়ে যাওয়ার সাহসই তাঁকে আলাদা করেছে। প্রযুক্তির প্রতি গভীর আগ্রহ, নতুন কিছু শেখার তৃষ্ণা এবং নেতৃত্বের গুণ—সব মিলিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন ভবিষ্যতের ভারতের প্রতিচ্ছবি। শ্রীলক্ষ্মীর সাফল্য নতুন প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেয়, সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরিশ্রম থাকলে যে কেউ ছোট বয়সেই বড় অর্জন করতে পারে।
৬ বছর বয়সেই কোডিং শুরু, আর মাত্র ১১ বছর বয়সেই সিইও!
আজ সারা বিশ্ব তাঁকে চেনে বিশ্বের অন্যতম সবচেয়ে কম বয়সী সিইও হিসেবে—শ্রীলক্ষ্মী সুরেশ প্রমাণ করে দিয়েছেন, বয়স নয়—স্বপ্ন আর দক্ষতাই সাফল্যের আসল চাবিকাঠি। ছোট বয়স, বড় স্বপ্ন, আর অসাধারণ আত্মবিশ্বাস—এটাই ভবিষ্যতের ভারত।
১৯৯৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি কেরালার কোজিকোডে জন্ম নেয়া শ্রীলক্ষ্মী সুরেশ একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা অ্যাডভোকেট সুরেশ মেনন কালিকট বার কাউন্সিলের একজন আইনজীবী এবং মা বিজু সুরেশ। সাধারণ একটি পরিবারের এই মেয়ে যখন মাত্র তিন বছর বয়সে কম্পিউটারে হাত দেন, তখন হয়তো কেউ ভাবেনি যে এই ছোট্ট শিশুটি একদিন পুরো বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করবে।
ছোট্ট শ্রীলক্ষ্মী যখন তার বয়সীরা খেলনা নিয়ে ব্যস্ত, তখন তিনি কম্পিউটারের স্ক্রিনে রঙিন জগতের খোঁজ করছেন। মাত্র তিন বছর বয়সেই তাঁর কম্পিউটারের প্রতি এই আকর্ষণ পরিবারের সবাইকে অবাক করে দেয়। কিন্তু তাঁর মা-বাবা বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁদের মেয়ের মধ্যে কিছু অন্যরকম প্রতিভা লুকিয়ে আছে। তাঁরা শ্রীলক্ষ্মীকে তাঁর আগ্রহ অনুসরণ করতে উৎসাহিত করেন, বাধা হয়ে দাঁড়ান না।
চার বছর বয়সেই শ্রীলক্ষ্মী ওয়েব ডিজাইনিং শুরু করেন। আর মাত্র ছয় বছর বয়সে তিনি তৈরি করেন তাঁর প্রথম ওয়েবসাইট। এটা ছিল একটি সাধারণ এক পেজের ওয়েবসাইট, যেখানে তিনি তাঁর পরিবারের ছবি প্রদর্শন করেছিলেন। কিন্তু এই সাধারণ কাজটিই ছিল তাঁর অসাধারণ যাত্রার প্রথম পদক্ষেপ। ছয় বছরের একটি শিশু যখন ওয়েবসাইট তৈরি করে, তখন সেটা কেবল একটি কৃতিত্ব নয়, এটা ভবিষ্যতের ইঙ্গিত।
এই বয়সে যখন বেশিরভাগ শিশুরা বর্ণমালা শিখছে, শ্রীলক্ষ্মী তখন HTML কোড লিখছেন। এটাই তাঁর অনন্যতা—তিনি জানতেন তিনি কী চান, এবং সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করতে প্রস্তুত ছিলেন।
আট বছর বয়সে শ্রীলক্ষ্মী যে কাজটি করেন, সেটা তাঁকে রাতারাতি বিখ্যাত করে তোলে। ২০০৭ সালের ১৫ জানুয়ারি কেরালার বন মন্ত্রী বিনয় বিশ্বম তাঁর স্কুল প্রেজেন্টেশন হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের ওয়েবসাইট উদ্বোধন করেন, যেটি ডিজাইন করেছিলেন শ্রীলক্ষ্মী। এটা ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ, পেশাদার মানের ওয়েবসাইট, যা একটি আট বছরের শিশুর কাজ বলে বিশ্বাস করা কঠিন।
এই ওয়েবসাইটটি তৈরির পেছনে একটি সুন্দর গল্প রয়েছে। শ্রীলক্ষ্মী লক্ষ্য করেন যে তাঁর স্কুলের কোনো অনলাইন উপস্থিতি নেই। তিনি ভাবলেন, কেন নয়? তাঁর স্কুলের এতো গৌরবময় ইতিহাস, এতো কৃতিত্ব—সেসব তো মানুষের কাছে পৌঁছানো দরকার। আর তাই তিনি নিজে থেকেই এগিয়ে এলেন এবং তৈরি করলেন একটি চমৎকার ওয়েবসাইট। এই ঘটনা দেশজুড়ে মিডিয়ার নজর কাড়ে এবং শ্রীলক্ষ্মী হয়ে ওঠেন সবার প্রিয় "চাইল্ড প্রডিজি"।
কিন্তু শ্রীলক্ষ্মী এখানেই থেমে থাকেননি। ২০০৯ সালে মাত্র ১১ বছর বয়সে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন তাঁর নিজস্ব ওয়েব ডিজাইন কোম্পানি—eDesign Technologies। এই কোম্পানি ওয়েব ডিজাইন, এসইও, এবং অন্যান্য ওয়েব ডেভেলপমেন্ট সেবা প্রদান করে। ১১ বছর বয়সে সিইও—এটা শুনতে কল্পকাহিনীর মতো মনে হলেও এটাই বাস্তব।
শ্রীলক্ষ্মী শুধু একটি কোম্পানি খুলে বসে থাকেননি। তিনি তাঁর কোম্পানিকে সত্যিকারের একটি ব্যবসা হিসেবে গড়ে তুলেছেন। eDesign Technologies শুধুমাত্র ভারতেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ক্লায়েন্ট পেয়েছে। মাইক্রোসফট, নকিয়া, কোকা-কোলার মতো বড় বড় কোম্পানিরাও তাঁর সেবা নিয়েছে বলে জানা যায়। একটি ছোট্ট মেয়ে, যে কিনা তখনও স্কুলে পড়ছে, সে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সাথে কাজ করছে—এটাই শ্রীলক্ষ্মীর অসাধারণত্ব।
এছাড়াও তিনি আরো দুটি প্রতিষ্ঠান চালু করেছেন—TinyLogo, একটি লোগো-ভিত্তিক সার্চ ইঞ্জিন, এবং Online Pixel, যার মাধ্যমে তিনি অভাবী মানুষদের শিক্ষা প্রদানের কাজ করেন। মাত্র ১১ বছর বয়সে তিনটি কোম্পানি পরিচালনা করা—এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।
শ্রীলক্ষ্মীর অসাধারণ কাজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পায়। ২০০৮ সালে তিনি ভারত সরকারের নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় শিশু পুরস্কার (National Child Award for Exceptional Achievement) লাভ করেন, যা তাঁকে তৎকালীন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ২০০৯ সালে বিজ্ঞান ভবনে হস্তান্তর করেন। এটা ছিল ভারতে শিশুদের জন্য সর্বোচ্চ সম্মান।
এছাড়াও তিনি পেয়েছেন আমেরিকার Association of American Webmasters-এর Gold Web Award। মাত্র ১৮ বছরের কম বয়সে তিনিই একমাত্র সদস্য এই সংস্থায়। কানাডা থেকে Sixty Plus Education Award, যুক্তরাজ্য থেকে Feeblemind's Award of Excellence, এবং আরো ৪০টিরও বেশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার তাঁর ঝুলিতে।
২০০৯ সালে কেরালার বার কাউন্সিলের জন্য তৈরি করা তাঁর ওয়েবসাইট উদ্বোধন করেন সম্মানিত বিচারপতি কুরিয়ান জোসেফ। এই ওয়েবসাইটে কেরালায় প্র্যাকটিস করা ৩৫,০০০-এরও বেশি আইনজীবীর তথ্য ছিল—একটি বিশাল ডেটাবেস, যা একজন প্রাপ্তবয়স্ক পেশাদারের জন্যও চ্যালেঞ্জিং হতো।
শ্রীলক্ষ্মীর সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাঁর কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং গুণমানের প্রতি আপসহীন মনোভাব। তিনি বলেন, "ব্যবসায় আবেগ বা বন্ধুত্ব নেই, শুধুমাত্র কাজের মান গণনা করা হয়। গ্রাহকরা মানের বিষয়ে কোনো আপস করবেন না। তাই কাজের সংখ্যা নয়, কাজের মান গুরুত্বপূর্ণ।"
এই দর্শনই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। তিনি শুধু বেশি বেশি ওয়েবসাইট বানাতে চাননি, তিনি চেয়েছেন প্রতিটি ওয়েবসাইট যেন হয় নিখুঁত, পেশাদার এবং কার্যকর। ২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী, তিনি ২৫০-এরও বেশি ক্লায়েন্টের জন্য ওয়েবসাইট ডিজাইন করেছেন, প্রতিটিতে একই মানের প্রতিশ্রুতি বজায় রেখে।
শ্রীলক্ষ্মীর গল্পের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক দিক হলো, তিনি কখনো তাঁর পড়াশোনাকে অবহেলা করেননি। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পরেই তিনি তাঁর প্রজেক্টে কাজ করতেন। তিনি Presentation Higher Secondary School থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন এবং পরে St. Joseph's College, Devagiri থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
এই ভারসাম্য বজায় রাখা কোনো সহজ কাজ নয়। একদিকে স্কুলের পড়াশোনা, পরীক্ষা, হোমওয়ার্ক—অন্যদিকে একটি পুরোপুরি কোম্পানি চালানোর দায়িত্ব, ক্লায়েন্টদের চাহিদা পূরণ, ডেডলাইন মেনটেন করা। কিন্তু শ্রীলক্ষ্মী প্রমাণ করেছেন যে সঠিক সময় ব্যবস্থাপনা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ থাকলে সবই সম্ভব।
শ্রীলক্ষ্মী নিজেই বলেছেন যে তাঁর পরিবার এবং বন্ধুরা তাঁকে অবিশ্বাস্য সাহায্য করেছে। তাঁর বাবা-মা কখনো বলেননি, "তুমি খুব ছোট, এসব তোমার দ্বারা হবে না।" বরং তাঁরা তাঁকে উৎসাহিত করেছেন, তাঁর স্বপ্নে বিশ্বাস করেছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছেন।
কিন্তু সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাঁর নিজের আত্মবিশ্বাস। শ্রীলক্ষ্মী কখনো ভাবেননি যে তাঁর বয়স কম বলে তিনি কিছু করতে পারবেন না। তিনি জানতেন তিনি কী পারেন, এবং সেই বিশ্বাসেই তিনি এগিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, "যাদের উদ্দেশ্য কঠোর পরিশ্রমের কালি দিয়ে লেখা, তাদের ভাগ্যে কখনো খালি পাতা থাকে না।"
শ্রীলক্ষ্মী তাঁর সাফল্যে থেমে থাকেননি। তাঁর স্বপ্ন আরো বড়। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, "আমি ইতিমধ্যে ২০০৮ সালে একটি ওয়েব ডিজাইনিং ফার্ম, eDesign Technologies শুরু করেছি এবং আমার স্বপ্ন এটিকে এক নম্বর আইটি কোম্পানিতে পরিণত করা।"
এবং এই স্বপ্ন দেখা কোনো খামখেয়ালি নয়। শ্রীলক্ষ্মী শুধু স্বপ্ন দেখেন না, তিনি প্রতিদিন সেই স্বপ্নের দিকে কাজ করেন। তিনি ক্রমাগত তাঁর দক্ষতা উন্নত করছেন, নতুন প্রযুক্তি শিখছেন এবং তাঁর কোম্পানিকে বড় করছেন।
শ্রীলক্ষ্মীর গল্পের আরেকটি সুন্দর দিক হলো তাঁর সামাজিক দায়বদ্ধতা। তিনি Online Pixel-এর মাধ্যমে অভাবী মানুষদের শিক্ষা প্রদানের কাজ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন জ্ঞানের মূল্য অর্থের চেয়ে বেশি। এই কারণেই তিনি প্রায়শই সাশ্রয়ী মূল্যে ওয়েবসাইট ডিজাইন করেন, বিশেষ করে যাদের বাজেট কম বা যারা নতুন উদ্যোক্তা।
তাঁর ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট www.stateofkerala.in কেরালা সম্পর্কে সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ধারণ করে এবং ইতিমধ্যে ১ কোটির বেশি মানুষ এই সাইট ভিজিট করেছেন। এটা শুধু একটি ব্যবসায়িক প্রজেক্ট নয়, এটা তাঁর রাজ্যের প্রতি তাঁর ভালোবাসার প্রকাশ।
শ্রীলক্ষ্মী শুধু একজন তরুণ উদ্যোক্তা নন, তিনি ভারতীয় নারী ক্ষমতায়নের একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে, যিনি কোনো বিশেষ সুবিধা ছাড়াই, শুধুমাত্র নিজের প্রতিভা এবং কঠোর পরিশ্রমের জোরে বিশ্বমঞ্চে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে লিঙ্গ, বয়স বা পারিবারিক পটভূমি সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না যদি আপনার মধ্যে স্বপ্ন দেখার সাহস এবং সেই স্বপ্ন পূরণের দৃঢ়তা থাকে।
শ্রীলক্ষ্মীর জীবন থেকে আমরা কী শিখতে পারি?
১. বয়স শুধু একটি সংখ্যা: শ্রীলক্ষ্মী প্রমাণ করেছেন যে সাফল্যের জন্য বয়স কোনো বাধা নয়। আপনি যদি কিছু করতে চান, আপনার মধ্যে যদি প্রতিভা থাকে এবং আপনি যদি কঠোর পরিশ্রম করতে প্রস্তুত থাকেন, তাহলে আপনার বয়স কোনো ব্যাপার নয়।
২. স্বপ্ন দেখুন বড়: শ্রীলক্ষ্মী ছোট চিন্তা করেননি। তিনি একটি বড় আইটি কোম্পানি গড়ার স্বপ্ন দেখেছেন এবং সেই দিকেই এগিয়ে চলেছেন। আমাদেরও উচিত বড় স্বপ্ন দেখা।
৩. গুণমানে আপস নয়: শ্রীলক্ষ্মীর সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো তাঁর কাজের মান। তিনি কখনো শর্টকাট নেননি, কখনো অসম্পূর্ণ কাজ জমা দেননি। তিনি বিশ্বাস করেন excellence-এ।
৪. পড়াশোনার গুরুত্ব: ব্যবসায় সফল হওয়ার পরেও শ্রীলক্ষ্মী তাঁর পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। এটা আমাদের শেখায় যে শিক্ষা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ।
৫. সামাজিক দায়বদ্ধতা: শুধু নিজের লাভের কথা না ভেবে, সমাজের জন্যও কিছু করা উচিত—এই শিক্ষা শ্রীলক্ষ্মী আমাদের দিয়েছেন।
শ্রীলক্ষ্মী সুরেশের গল্প আমাদের বলে যে ভারতের তরুণ প্রজন্ম কতটা প্রতিভাবান, কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং কতটা সক্ষম। এই মেয়ে, যে কিনা একটি সাধারণ শহরে একটি সাধারণ পরিবারে বড় হয়েছে, সে আজ বিশ্বের কাছে প্রমাণ করেছে যে ভারতীয় তরুণরা যেকোনো ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে পারে।
আজ ২৬ বছর বয়সে শ্রীলক্ষ্মী কেবল eDesign এবং TinyLogo-র প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও হিসেবেই পরিচিত নন, তিনি লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীর অনুপ্রেরণা। তাঁর জীবন আমাদের শেখায় যে স্বপ্ন দেখা যতটা জরুরি, সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য কাজ করা তার চেয়েও বেশি জরুরি।
শ্রীলক্ষ্মী সুরেশ—একটি নাম, একটি অনুপ্রেরণা, একটি বিপ্লব। তাঁর গল্প প্রমাণ করে যে ছোট বয়স, বড় স্বপ্ন, আর অসাধারণ আত্মবিশ্বাস—এটাই ভবিষ্যতের ভারত। এটাই নতুন প্রজন্মের শক্তি। এটাই সেই ভারত যেখানে একজন ১১ বছরের মেয়ে সিইও হতে পারে, যেখানে বয়স, লিঙ্গ, পটভূমি কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না প্রতিভা আর পরিশ্রমের সামনে।
শ্রীলক্ষ্মীর যাত্রা এখনো শেষ হয়নি। তিনি এখনো স্বপ্ন দেখছেন, এখনো লড়ছেন, এখনো এগিয়ে চলেছেন। এবং তাঁর এই যাত্রা অসংখ্য তরুণ-তরুণীকে অনুপ্রাণিত করবে তাদের নিজেদের স্বপ্ন তাড়া করতে, তাদের নিজেদের সাফল্যের গল্প লিখতে।
কারণ মনে রাখবেন—বয়স নয়, স্বপ্ন আর দক্ষতাই সাফল্যের আসল চাবিকাঠি। শ্রীলক্ষ্মী সুরেশ এটা প্রমাণ করে গেছেন, এবং আপনিও পারবেন। শুধু দরকার বিশ্বাস, সাহস আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি।
জয় হোক নতুন ভারতের। জয় হোক স্বপ্নচারীদের।