Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

পাহারাদার থেকে ফিটনেস আইকন ১৮ মাসে ১০৮ কেজি ওজন ঝরিয়ে অনন্তের চমক জানুন ঘণ্টাপিছু ট্রেনারের পারিশ্রমিক

বলিউডের শীর্ষ তারকা অমিতাভ বচ্চন, অভিষেক বচ্চন, শিল্পা শেট্টি ও জন আব্রাহমের মতো তারকাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন ফিটনেস ট্রেনার বিনোদ চন্না। তারকাদের শরীর গঠনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার ফলে দ্রুত বাড়তে থাকে তাঁর খ্যাতি ও পারিশ্রমিক। আজ তিনি বলিউডের অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন ফিটনেস প্রশিক্ষক হিসেবে পরিচিত।

পাহারাদার থেকে ফিটনেস আইকন ১৮ মাসে ১০৮ কেজি ওজন ঝরিয়ে অনন্তের চমক  জানুন ঘণ্টাপিছু ট্রেনারের পারিশ্রমিক
Celebrity News

চরম দারিদ্র্যের মধ্যেই জন্ম হয়েছিল তাঁর। ছোট্ট একটি ঘর, মাথার উপর নড়বড়ে ছাদ, সংসারে অভাবের ছায়া—এই ছিল বিনোদ চন্নার শৈশবের বাস্তবতা। দুধ-ডিম খাওয়ার মতো সামর্থ্য তো দূরের কথা, অনেক সময় দু’বেলা খাবার জোটানোই ছিল পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আশপাশের লোকজন তাঁকে “হাড় জিরজিরে” বলে খেপাত। দুর্বল শরীর, দারিদ্র্য আর অবহেলার মধ্যেই বড় হয়ে ওঠা এক তরুণ যে একদিন বলিউড তারকা ও দেশের ধনকুবেরদের ব্যক্তিগত ফিটনেস প্রশিক্ষক হয়ে উঠবেন, তা হয়তো সেই সময় কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

মুম্বইয়ের দাদারের খেটে খাওয়া মানুষের এলাকায় বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতেন বিনোদ। সংসারের আর্থিক অবস্থা ছিল এতটাই দুর্বল যে নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি প্রায়ই তৈরি হতো। ছোট বয়সেই বুঝে গিয়েছিলেন, পরিবারকে বাঁচাতে হলে তাঁকেই কিছু করতে হবে। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি কম বয়সেই পাহারাদারের চাকরিতে যোগ দেন তিনি। দিনের পর দিন রাত জেগে পাহারা দেওয়া, সামান্য বেতনে কাজ করা—এই ছিল তাঁর জীবনের প্রথম অধ্যায়।

কিন্তু অভাবের মধ্যেও তাঁর মনে ছিল এক অদ্ভুত স্বপ্ন—শরীরচর্চা। ছোট থেকেই শরীরচর্চার প্রতি আগ্রহ ছিল বিনোদের। পাহারাদারের চাকরি পাওয়ার পর নিয়মিত শরীরচর্চা শুরু করেন তিনি। প্রথমদিকে কোনও আধুনিক জিম ছিল না, ছিল না দামি সরঞ্জাম। যা ছিল, তা হলো দৃঢ় সংকল্প আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি। ধীরে ধীরে শরীরের পরিবর্তন হতে থাকে। নিজের শরীর গড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর আত্মবিশ্বাসও বাড়তে শুরু করে।

কিছুদিন পর মুম্বইয়ের বান্দ্রার একটি জিমে ফিটনেস প্রশিক্ষকের চাকরি পান বিনোদ। এখান থেকেই তাঁর জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হয়। প্রথমদিকে অবশ্য পরিস্থিতি খুব একটা সহজ ছিল না। জিমে আলাদা করে কোনও সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুযোগ পাননি তিনি। উদ্দেশ্যহীন ভাবে জিমের ভিতরে ঘুরে বেড়াতেন, নতুনদের সঙ্গে কথা বলতেন, নিজের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ খুঁজতেন। ধীরে ধীরে জিমের সদস্যদের সঙ্গে পরিচিতি বাড়তে থাকে। কেউ তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ নিতে শুরু করেন, কেউ শরীরচর্চার কৌশল জানতে চান। এইভাবেই বিনোদের যাত্রা শুরু।

টানা ১২ বছর বান্দ্রার ওই জিমে ফিটনেস প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন তিনি। কিন্তু তাঁর স্বপ্ন ছিল আরও বড়। সামান্য পারিশ্রমিকে কাজ করে সন্তুষ্ট থাকতে চাননি বিনোদ। ভালো সুযোগের খোঁজে অন্যত্র চাকরির চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকেন। অবশেষে ভাগ্যের দরজা খুলে যায় তাঁর জন্য।

বলি অভিনেতা রীতেশ দেশমুখের এক আত্মীয়ের নজর পড়ে বিনোদের প্রতি। তাঁর শরীরচর্চার দক্ষতা, কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং মানুষের সঙ্গে আচরণ দেখে মুগ্ধ হন তিনি। রীতেশের কাছে বিনোদের প্রশংসা করেন সেই আত্মীয়। এরপর রীতেশ দেশমুখ নিজেই বিনোদের কাছে শরীরচর্চার প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। এখান থেকেই বিনোদের জীবনে আসে সবচেয়ে বড় মোড়।

রীতেশ যখন পেশার খাতিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠান করতে যেতেন, তখন তাঁর সঙ্গী ছিলেন বিনোদ। বিদেশ সফরেও অভিনেতাকে নিয়মিত শরীরচর্চার প্রশিক্ষণ দিতেন তিনি। ধীরে ধীরে বলিউডে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এক অভিনেতার মাধ্যমে অন্য অভিনেতার কাছে পৌঁছে যায় তাঁর পরিচিতি।

এরপর একে একে তাঁর কাছে প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন অমিতাভ বচ্চন, অভিষেক বচ্চন, শিল্পা শেট্টি, জন আব্রাহমের মতো বলিউডের প্রথম সারির তারকারা। রাতারাতি ফিটনেস প্রশিক্ষক হিসেবে তারকামহলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন বিনোদ চন্না। তাঁর কাজের চাহিদা বাড়তে থাকে, সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে পারিশ্রমিকও।

একসময় ঘণ্টাখানেক শরীরচর্চার প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ২৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক নিতে শুরু করেন বিনোদ। বলিউড তারকাদের পাশাপাশি শিল্পপতিদের বাড়িতেও প্রশিক্ষণ দিতে যেতে শুরু করেন তিনি। আদিত্য বিড়লা গ্রুপের চেয়ারম্যান কুমার মঙ্গলম বিড়লার মেয়ে অনন্যা বিড়লাও নাকি শরীরচর্চার জন্য বিনোদের পরামর্শ নিতে শুরু করেন। জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ব্যস্ততাও বেড়ে যায় বহুগুণ।

এক সাক্ষাৎকারে বিনোদ জানিয়েছিলেন, কেরিয়ারের সাফল্যের শিখরে থাকার সময় দিনে টানা ১৬ ঘণ্টা কাজ করতেন তিনি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একের পর এক ক্লায়েন্ট, একের পর এক প্রশিক্ষণ সেশন—এই ছিল তাঁর দৈনন্দিন জীবন। কিন্তু পরিশ্রমের ফলও তিনি পেয়েছেন হাতেনাতে।

অম্বানী পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হওয়াটা ছিল তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন। মুকেশ ও নীতা অম্বানীর পাশাপাশি তাঁদের কনিষ্ঠ পুত্র অনন্ত অম্বানীর ফিটনেস যাত্রার নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বিনোদের। ১৮ মাসে অনন্ত অম্বানীর ১০৮ কেজি ওজন কমানো কোনও সাধারণ কাজ ছিল না। কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কঠিন ডায়েট পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছিলেন বিনোদ চন্না। এই সাফল্যের পরই দেশজুড়ে আলোচনায় চলে আসেন তিনি।

এরপর দেশের ধনী শিল্পপতি ও প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যরা ফিট থাকতে বিনোদকেই ফিটনেস প্রশিক্ষক হিসেবে বেছে নিতে শুরু করেন। তাঁর কাছে প্রশিক্ষণ নেওয়া যেন এক ধরনের মর্যাদার বিষয় হয়ে ওঠে। বলিউড ও কর্পোরেট জগতের মধ্যে তিনি হয়ে ওঠেন সবচেয়ে পরিচিত নামগুলির একটি।

বর্তমানে মুম্বইয়ে নিজের একটি আধুনিক জিম খুলেছেন বিনোদ। পাশাপাশি অনলাইনেও শরীরচর্চার প্রশিক্ষণ দেন তিনি। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাঁর জনপ্রিয়তাও চোখে পড়ার মতো। ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুগামীর সংখ্যা ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। নিয়মিত ফিটনেস টিপস, অনুপ্রেরণামূলক গল্প ও প্রশিক্ষণের ভিডিও শেয়ার করেন তিনি।

একসময় যাঁর মাথার উপর ছিল নড়বড়ে ছাদ, যাঁর জীবনের প্রতিটি দিন কেটেছে অভাব আর সংগ্রামের মধ্যে, আজ তিনি কোটিপতি। পাহারাদারের চাকরি দিয়ে শুরু হওয়া এক সাধারণ জীবনের গল্প আজ পৌঁছেছে বলিউডের তারকাদের ঘরে, ভারতের ধনী শিল্পপতিদের প্রাসাদে এবং ফিটনেস জগতের শীর্ষস্থানে। সেই মানুষটির নাম বিনোদ চন্না।

বিনোদ চন্নার জীবন কোনও সাধারণ সাফল্যের গল্প নয়। এটি এক লড়াইয়ের ইতিহাস, এক অদম্য ইচ্ছাশক্তির উদাহরণ, যা প্রমাণ করে—মানুষ চাইলে নিজের ভাগ্য নিজেই গড়ে নিতে পারে।

দারিদ্র্যের ছায়ায় শৈশব

মুম্বইয়ের দাদার অঞ্চলে খেটে খাওয়া মানুষের এলাকায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা বিনোদ চন্নার। বাবা-মায়ের সঙ্গে ছোট্ট একটি ঘরে থাকতেন তিনি। সংসারের আর্থিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত দুর্বল। দুধ-ডিম খাওয়ার মতো সামর্থ্য তো দূরের কথা, অনেক সময় দু’বেলা খাবার জোটানোই ছিল বড় সমস্যা। চারপাশের লোকজন তাঁকে নিয়ে হাসাহাসি করত, “হাড় জিরজিরে” বলে খেপাত। দুর্বল শরীর আর দারিদ্র্যের কারণে আত্মবিশ্বাস হারাতে বসেছিলেন অনেক সময়।

কিন্তু সেই দুর্বল শরীরের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল এক দৃঢ় সংকল্প। ছোট থেকেই শরীরচর্চার প্রতি অদ্ভুত টান ছিল বিনোদের। অন্য ছেলেরা যখন খেলাধুলোতে ব্যস্ত, তখন বিনোদ ভাবতেন—কীভাবে নিজের শরীরকে শক্তিশালী করা যায়। তবে স্বপ্ন থাকলেও বাস্তবতা ছিল কঠিন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা তাঁকে খুব দ্রুত বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড় করায়।

পাহারাদারের চাকরি দিয়ে জীবনের শুরু

সংসারের খরচ চালাতে কম বয়সেই কাজ খুঁজতে বাধ্য হন বিনোদ। শেষ পর্যন্ত পাহারাদারের চাকরিতে যোগ দেন তিনি। রাত জেগে পাহারা দেওয়া, সামান্য বেতনে কাজ করা—এই ছিল তাঁর জীবনের প্রথম অধ্যায়। অন্যরা যখন ঘুমিয়ে থাকত, তখন বিনোদ দায়িত্ব পালন করতেন। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর এই জীবনযাপন তাঁকে শিখিয়ে দেয় ধৈর্য, সহনশীলতা আর পরিশ্রমের মূল্য।

কিন্তু পাহারাদারের চাকরি তাঁর স্বপ্নকে হত্যা করতে পারেনি। কাজের ফাঁকে ফাঁকে শরীরচর্চা শুরু করেন তিনি। আধুনিক জিম বা দামি যন্ত্রপাতি ছিল না। যা ছিল, তা হলো কঠোর পরিশ্রম আর দৃঢ় মনোবল। ধীরে ধীরে তাঁর শরীরে পরিবর্তন আসতে থাকে। নিজের শরীর বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে থাকে তাঁর চিন্তাভাবনাও।

ফিটনেস জগতের পথে প্রথম পদক্ষেপ

একসময় মুম্বইয়ের বান্দ্রার একটি জিমে ফিটনেস প্রশিক্ষকের চাকরি পান বিনোদ। এখান থেকেই শুরু হয় তাঁর জীবনের নতুন অধ্যায়। কিন্তু শুরুটা মোটেই সহজ ছিল না। জিমে আলাদা করে কাউকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুযোগ পাননি তিনি। অনেক সময় উদ্দেশ্যহীন ভাবে জিমের ভিতরে ঘুরে বেড়াতেন, নতুনদের সঙ্গে কথা বলতেন, নিজের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ খুঁজতেন।

প্রথমদিকে কেউ তাঁকে বিশেষ গুরুত্ব দিত না। কিন্তু ধীরে ধীরে জিমের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর পরিচিতি বাড়তে থাকে। কেউ তাঁর কাছ থেকে শরীরচর্চার পরামর্শ নিতে শুরু করেন, কেউ ডায়েট সম্পর্কে জানতে চান। এইভাবেই ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন বিনোদ।

news image
আরও খবর

টানা ১২ বছর বান্দ্রার ওই জিমে কাজ করেন তিনি। এই সময়টায় তিনি শুধু শরীরচর্চা শেখাননি, শিখেছেন মানুষের মন বুঝতে, তাদের প্রয়োজন বোঝাতে এবং নিজের দক্ষতা উন্নত করতে। কিন্তু বিনোদ জানতেন, সামান্য পারিশ্রমিকে কাজ করে সন্তুষ্ট থাকলে তাঁর স্বপ্ন কখনও পূরণ হবে না। তাই আরও ভালো সুযোগের খোঁজে চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকেন।

ভাগ্যের মোড়: রীতেশ দেশমুখ

বলি অভিনেতা রীতেশ দেশমুখের এক আত্মীয়ের নজর পড়ে বিনোদের প্রতি। তাঁর শরীরচর্চার দক্ষতা, কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং মানুষের সঙ্গে ব্যবহার দেখে মুগ্ধ হন তিনি। রীতেশের কাছে বিনোদের প্রশংসা করেন সেই আত্মীয়। এরপর রীতেশ দেশমুখ নিজেই বিনোদের কাছে শরীরচর্চার প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন।

এখান থেকেই বিনোদের জীবনে আসে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। রীতেশ যখন পেশার খাতিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠান করতে যেতেন, তখন তাঁর সঙ্গী ছিলেন বিনোদ। বিদেশ সফরেও অভিনেতাকে নিয়মিত শরীরচর্চার প্রশিক্ষণ দিতেন তিনি। ধীরে ধীরে বলিউডে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়তে থাকে।

বলিউডে উত্থান

রীতেশ দেশমুখের মাধ্যমে বলিউডে পরিচিতি পাওয়ার পর একে একে তাঁর কাছে প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন অমিতাভ বচ্চন, অভিষেক বচ্চন, শিল্পা শেট্টি, জন আব্রাহমের মতো প্রথম সারির তারকারা। রাতারাতি ফিটনেস প্রশিক্ষক হিসেবে তারকামহলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন বিনোদ চন্না।

বলিউডে তাঁর চাহিদা বাড়তে থাকে দ্রুত গতিতে। সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে পারিশ্রমিকও। একসময় ঘণ্টাখানেক শরীরচর্চার প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ২৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক নিতে শুরু করেন বিনোদ। বলিউড তারকাদের পাশাপাশি শিল্পপতিদের বাড়িতেও প্রশিক্ষণ দিতে যেতে শুরু করেন তিনি।

আদিত্য বিড়লা গ্রুপের চেয়ারম্যান কুমার মঙ্গলম বিড়লার মেয়ে অনন্যা বিড়লাও নাকি শরীরচর্চার জন্য বিনোদের পরামর্শ নিতে শুরু করেন। জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ব্যস্ততাও বেড়ে যায় বহুগুণ।

দিনরাত কাজ, সাফল্যের শিখরে পৌঁছনো

এক সাক্ষাৎকারে বিনোদ জানিয়েছিলেন, কেরিয়ারের সাফল্যের শিখরে থাকার সময় দিনে টানা ১৬ ঘণ্টা কাজ করতেন তিনি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একের পর এক ক্লায়েন্ট, একের পর এক প্রশিক্ষণ সেশন—এই ছিল তাঁর দৈনন্দিন জীবন। কখনও ক্লান্তি, কখনও চাপ—সবকিছু সত্ত্বেও তিনি থামেননি।

কারণ বিনোদ জানতেন, সুযোগ একবার হারালে তা ফিরে পাওয়া কঠিন। তাই নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন সবসময়।

অম্বানী পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হওয়া

বিনোদ চন্নার কেরিয়ারের অন্যতম বড় অধ্যায় শুরু হয় অম্বানী পরিবারের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে। মুকেশ ও নীতা অম্বানীর পাশাপাশি তাঁদের কনিষ্ঠ পুত্র অনন্ত অম্বানীর ফিটনেস যাত্রার নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বিনোদের।

১৮ মাসে অনন্ত অম্বানীর ১০৮ কেজি ওজন কমানো কোনও সাধারণ কাজ ছিল না। কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কঠিন ডায়েট পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছিলেন বিনোদ চন্না। এই সাফল্যের পরই দেশজুড়ে আলোচনায় চলে আসেন তিনি।

অনন্ত অম্বানীর ওজন কমানোর ঘটনা শুধু ফিটনেস জগতের নয়, গোটা দেশের আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। আর সেই সাফল্যের পেছনে যাঁর নাম উঠে আসে, তিনি বিনোদ চন্না।

দেশের ধনকুবেরদের পছন্দের প্রশিক্ষক

অম্বানী পরিবারের সঙ্গে কাজ করার পর দেশের ধনী শিল্পপতি ও প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যরা ফিট থাকতে বিনোদকেই ফিটনেস প্রশিক্ষক হিসেবে বেছে নিতে শুরু করেন। তাঁর কাছে প্রশিক্ষণ নেওয়া যেন এক ধরনের মর্যাদার বিষয় হয়ে ওঠে।

বলিউড ও কর্পোরেট জগতের মধ্যে তিনি হয়ে ওঠেন সবচেয়ে পরিচিত নামগুলির একটি। তাঁর নাম মানেই গুণমান, পেশাদারিত্ব এবং ফলাফল।

নিজের জিম ও ডিজিটাল জনপ্রিয়তা

বর্তমানে মুম্বইয়ে নিজের একটি আধুনিক জিম খুলেছেন বিনোদ চন্না। পাশাপাশি অনলাইনেও শরীরচর্চার প্রশিক্ষণ দেন তিনি। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাঁর জনপ্রিয়তাও চোখে পড়ার মতো।

ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুগামীর সংখ্যা ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। নিয়মিত ফিটনেস টিপস, অনুপ্রেরণামূলক গল্প ও প্রশিক্ষণের ভিডিও শেয়ার করেন তিনি। তাঁর পোস্টগুলি শুধু ফিটনেসপ্রেমীদের নয়, সাধারণ মানুষের কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

কোটিপতি বিনোদ চন্না

সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বর্তমানে বিনোদ চন্নার মালিকানায় রয়েছে ৫-৬টি বাড়ি। সংগ্রহে রয়েছে দামি গাড়িও। সব মিলিয়ে তাঁর সম্পত্তির মূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা।

একসময় যাঁর মাথার উপর ছিল নড়বড়ে ছাদ, আজ তিনি কোটিপতি। পাহারাদার থেকে বলিউডের তারকা প্রশিক্ষক—এই যাত্রা শুধুমাত্র সাফল্যের গল্প নয়, এটি এক অদম্য সংগ্রামের ইতিহাস।

অনুপ্রেরণার গল্প

বিনোদ চন্নার জীবন প্রমাণ করে, পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম থাকলে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। দারিদ্র্য, অবহেলা আর ব্যর্থতার মাঝখান থেকে উঠে এসে আজ তিনি দেশের অন্যতম সফল ফিটনেস প্রশিক্ষক।

তাঁর গল্প শুধু ফিটনেস জগতের নয়, এটি লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা—যাঁরা বিশ্বাস করেন, স্বপ্ন দেখলে একদিন তা বাস্তব হয়।

বিনোদ চন্নার জীবন আমাদের শেখায়, জন্ম নয়, সংগ্রামই মানুষকে বড় করে তোলে। সমাজের সবচেয়ে নিচের স্তর থেকে উঠে এসে কীভাবে শীর্ষে পৌঁছনো যায়, তার জীবন্ত উদাহরণ তিনি। আজ তাঁর নাম বলিউডের তারকাদের সঙ্গে উচ্চারিত হয়, শিল্পপতিদের ঘরে তাঁর উপস্থিতি সম্মানের বিষয়, আর সাধারণ মানুষের কাছে তিনি এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা।

একদিন যাঁকে “হাড় জিরজিরে” বলে খেপানো হত, আজ তাঁর কাছেই প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রভাবশালী মানুষরা। এটাই বিনোদ চন্নার জীবনের সবচেয়ে বড় জয়।

Preview image