Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

তারাতলা ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার ২১ জন, SSKM-এ ভর্তি আহত শ্রমিকরা: জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

তারাতলার ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও পর্যন্ত ২১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আহত শ্রমিকদের দ্রুত SSKM হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, উদ্ধারকাজ ও চিকিৎসা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।

দুর্ঘটনা

কলকাতার তারাতলা এলাকায় নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে উদ্ধারকারী দল। এখনও পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ২১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। আহত শ্রমিকদের দ্রুত SSKM হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এটি তারাতলার একটি নির্মীয়মাণ গুদাম বা কাঠামো ভেঙে পড়ার ঘটনা, যেখানে একাধিক শ্রমিক কাজ করছিলেন।

প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, দুর্ঘটনার সময় ওই নির্মীয়মাণ কাঠামোর ভিতরে বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন। আচমকা কাঠামোর একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ায় মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকা ধুলোয় ঢেকে যায়। ভিতরে থাকা শ্রমিকদের অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যান। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় মানুষজন প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে।

তারাতলার এই দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা শ্রমিকদের নিরাপদে বের করে আনা। ভারী লোহার কাঠামো, কংক্রিটের অংশ এবং নির্মাণসামগ্রীর স্তূপের কারণে উদ্ধারকাজ জটিল হয়ে উঠেছে। উদ্ধারকারী দল ধীরে ধীরে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া শ্রমিকদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে হাসপাতাল সূত্রে তাঁদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে।

SSKM হাসপাতালে আহত শ্রমিকদের ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা দ্রুত তাঁদের শারীরিক অবস্থার পরীক্ষা শুরু করেন। যাঁদের শরীরে আঘাত বেশি, তাঁদের জরুরি বিভাগে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অনেকের মাথা, হাত, পা এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কিছু শ্রমিক শ্বাসকষ্ট ও আতঙ্কজনিত সমস্যাতেও ভুগছেন বলে জানা যাচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে জরুরি পরিষেবা সক্রিয় রেখেছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থলে তৎপরতা জারি থাকবে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে বিশেষ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রয়োজনে গ্যাস কাটার, ক্রেন এবং অন্যান্য ভারী সরঞ্জামও ব্যবহার করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল ঘিরে রাখা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের ভিড় উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি না করে।

এই ঘটনায় তারাতলা ও সংলগ্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা প্রবল শব্দ শুনে ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। তাঁদের দাবি, ধসের শব্দ এতটাই প্রবল ছিল যে আশপাশের অনেকেই প্রথমে ভূমিকম্প বা বিস্ফোরণের মতো কিছু ঘটেছে বলে মনে করেছিলেন। পরে দেখা যায়, নির্মীয়মাণ কাঠামোর একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে এবং তার নিচে বহু শ্রমিক আটকে পড়েছেন।

প্রাথমিক রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ওই নির্মীয়মাণ গুদামটি বেশ কিছুদিন ধরেই তৈরি বা সংস্কারের কাজের মধ্যে ছিল। দুর্ঘটনার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। কাঠামোগত ত্রুটি, নির্মাণসামগ্রীর মান, অনুমোদন, নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না—এই সব বিষয় এখন তদন্তের আওতায় আসতে পারে। বিভিন্ন সূত্রে স্থানীয়দের অভিযোগের কথাও উঠে এসেছে যে এলাকায় নির্মাণকাজ নিয়ে আগেও প্রশ্ন ছিল। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

তারাতলার মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকায় এমন দুর্ঘটনা শুধু শ্রমিকদের জীবনকেই বিপন্ন করে না, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকেও বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। নির্মীয়মাণ ভবন বা গুদামে কাজ করার সময় শ্রমিকদের সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি। হেলমেট, সেফটি বেল্ট, মজবুত সাপোর্টিং স্ট্রাকচার, নিয়মিত ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষা এবং জরুরি বেরোনোর রাস্তা—এই সব ব্যবস্থা না থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

এই ঘটনার পর শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নির্মাণক্ষেত্রে কর্মরত শ্রমিকদের অনেক সময় পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম দেওয়া হয় না। আবার অনেক ক্ষেত্রেই কাজের চাপ, সময়সীমা এবং খরচ বাঁচানোর প্রবণতার কারণে নিরাপত্তা নিয়ম উপেক্ষিত হয়। তারাতলার এই ধসের ঘটনা সেই বড় সমস্যাকেই আবার সামনে নিয়ে এল।

news image
আরও খবর

দুর্ঘটনার পর আহত শ্রমিকদের পরিবারগুলির মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই হাসপাতালে ছুটে গিয়েছেন প্রিয়জনের খোঁজে। কেউ কেউ এখনও নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধান করছেন। প্রশাসন আহত ও উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ করছে। একই সঙ্গে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে সঠিক তথ্য দ্রুত পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গুজব ও বিভ্রান্তি পরিবারগুলির উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

উদ্ধারকাজ চলাকালীন ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত আলো, চিকিৎসা সহায়তা এবং নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাতে কাউকে উদ্ধার করার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যায়। উদ্ধারকারী কর্মীরা ধ্বংসস্তূপের প্রতিটি অংশ সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করছেন। কারণ অযথা তাড়াহুড়ো করলে ধ্বংসস্তূপের ভিতরে আটকে থাকা মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

এই দুর্ঘটনা প্রশাসনের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে। প্রথমত, নির্মীয়মাণ কাঠামোটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি না। দ্বিতীয়ত, নির্মাণকাজে নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না। তৃতীয়ত, কাজ চলাকালীন শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না। চতুর্থত, নির্মাণসামগ্রীর মান এবং কাঠামোর স্থায়িত্ব পরীক্ষা হয়েছিল কি না। তদন্তে এই বিষয়গুলি গুরুত্ব পেতে পারে।

তারাতলা বিপর্যয়ের পর শহরের অন্যান্য নির্মীয়মাণ ভবন ও গুদামগুলির নিরাপত্তা পরীক্ষা করার দাবিও উঠতে পারে। কলকাতার মতো শহরে বহু জায়গায় পুরনো কাঠামো সংস্কার, নতুন গুদাম নির্মাণ এবং বাণিজ্যিক ভবন তৈরির কাজ চলে। এই সব ক্ষেত্রে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই শুধু উদ্ধারকাজ নয়, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা ঠেকাতে প্রশাসনিক নজরদারি আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন।

মানবিক দিক থেকেও এই ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। যারা প্রতিদিন জীবিকার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণক্ষেত্রে কাজ করেন, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু মালিকপক্ষের নয়, প্রশাসনেরও দায়িত্ব। শ্রমিকদের জীবন কোনওভাবেই অবহেলার বিষয় হতে পারে না। তারাতলার ধস যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল—নির্মাণের গতি যতই দ্রুত হোক, নিরাপত্তা নিয়মকে পাশ কাটিয়ে কোনও কাজ করা উচিত নয়।

বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে থাকলে তাঁকে দ্রুত ও নিরাপদে উদ্ধার করা। উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পরেই পুরো ঘটনার প্রকৃত ছবি পরিষ্কার হবে। আহতদের চিকিৎসা, তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করা—এই তিনটি বিষয় এখন প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব।

তারাতলার এই নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনা কলকাতার মানুষের মনে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। শহরের ব্যস্ত এলাকায় এমন দুর্ঘটনা ভবিষ্যতের জন্য বড় সতর্কবার্তা। এখন প্রয়োজন দ্রুত উদ্ধারকাজ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা। একই সঙ্গে প্রয়োজন শ্রমিক নিরাপত্তা ও নির্মাণবিধি কার্যকর করার ক্ষেত্রে আরও কঠোর পদক্ষেপ।

প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ঘটনায় ২১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহতদের SSKM হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিছু সংবাদমাধ্যমে মৃত ও নিখোঁজের আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছে, তবে উদ্ধারকাজ চলতে থাকায় সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই প্রশাসনের সরকারি আপডেটের উপর নজর রাখা জরুরি।

সব মিলিয়ে তারাতলার এই ধস শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি শহরের নির্মাণ নিরাপত্তা, শ্রমিক সুরক্ষা এবং প্রশাসনিক নজরদারির ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে ধরেছে। আহত শ্রমিকদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন সাধারণ মানুষ। উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত উদ্বেগ কাটছে না। এখন সবার নজর ঘটনাস্থল, হাসপাতাল এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

Preview image