Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

২৪৯ রান করেও হার ভারতের হোপের দুরন্ত সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়

সঞ্জু স্যামসনের দুরন্ত প্রত্যাবর্তনও বাঁচাতে পারল না ভারতকে! শাই হোপের অপরাজিত শতরান ও শেরফানে রাদারফোর্ডের ঝোড়ো ইনিংসে ৯ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটে জিতে সিরিজের দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচে ভারতকে হারাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

সঞ্জু স্যামসনের দুরন্ত ব্যাটিংয়েও হার ভারতের, শাই হোপের সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়

ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর ৬ উইকেটে জয় ছিনিয়ে নিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের ব্যাটাররা প্রথম ইনিংসে বড় রান তুললেও সেই রান রক্ষা করতে ব্যর্থ হলেন বোলাররা। অন্যদিকে, ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক শাই হোপের অপরাজিত শতরান এবং শেরফানে রাদারফোর্ডের বিধ্বংসী ব্যাটিং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ফলে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়ে আনল সফরকারী দল।

শুক্রবার মহেন্দ্র সিং ধোনির শহরে আয়োজিত এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত নির্ধারিত ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৪৯ রান সংগ্রহ করে। ভারতীয় ইনিংসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন সঞ্জু স্যামসন। আগের চারটি ইনিংসে প্রত্যাশা অনুযায়ী রান করতে না পারলেও এই ম্যাচে নিজের পরিচিত আক্রমণাত্মক ছন্দে ফিরে আসেন তিনি। মাত্র ৪১ বলে ৮২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন সঞ্জু। তাঁর ব্যাটিংয়ে ছিল ৯টি চার ও ৪টি ছক্কা।

তবে সঞ্জুর এই দুর্দান্ত ইনিংস শেষ পর্যন্ত ভারতকে জয়ের মুখ দেখাতে পারেনি। ২৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা শুরুতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারালেও শাই হোপ ও শেরফানে রাদারফোর্ডের জুটি ভারতীয় বোলিং আক্রমণকে কার্যত দিশেহারা করে দেয়। হোপ অপরাজিত ১০২ রান করেন এবং রাদারফোর্ডের ব্যাট থেকে আসে ৮৪ রান। তাঁদের দুরন্ত ব্যাটিংয়ের সুবাদে ৯ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটে পুরনো ছন্দের প্রত্যাবর্তন

ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকদের কাছে এই ম্যাচের অন্যতম বড় প্রাপ্তি সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটিং ফর্মে প্রত্যাবর্তন। আগের চার ইনিংসে বড় রান করতে না পারায় তাঁর ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। কিন্তু দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী দেখায় তাঁকে। ব্যাট হাতে ক্রিজে নেমে সময় নষ্ট না করে দ্রুত রান তুলতে শুরু করেন তিনি।

ভারতের ইনিংসের শুরুটা অবশ্য খুব একটা খারাপ ছিল না। ওপেনিং জুটিতে চার ওভারের মধ্যে ৪২ রান তুলে নেয় ভারত। অভিষেক শর্মা ১২ বলে ২০ রান করে আউট হয়ে গেলেও দলের রান তোলার গতি কমতে দেননি সঞ্জু। এরপর ঈশান কিষানের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তিনি।

সঞ্জু ও ঈশান মিলে মাত্র ৪৩ বলে ৯৭ রান যোগ করেন। এই জুটিতে ঈশান কিষানের অবদান ছিল ২২ বলে ৪৩ রান। অন্যদিকে, সঞ্জু নিজের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের বিরুদ্ধে তাঁর শট নির্বাচন, টাইমিং এবং দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা নজর কেড়ে নেয়।

মাত্র ২১ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন সঞ্জু। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি তাঁর নবম অর্ধশতরান। শুরু থেকেই বড় শট খেলতে থাকায় তাঁর স্ট্রাইক রেট দ্রুত বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ২০০ স্ট্রাইক রেটে ৪১ বলে ৮২ রান করে আউট হন তিনি।

সঞ্জুর ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ৪টি ছক্কা। তাঁর ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে ভারতীয় দল বড় স্কোরের ভিত পেয়ে যায়। একটা সময় মনে হচ্ছিল, এদিন হয়তো শতরানও করে ফেলবেন সঞ্জু। কিন্তু সেই সম্ভাবনা পূরণ হওয়ার আগেই তাঁর ইনিংস শেষ হয়।

সঞ্জুর এই প্রত্যাবর্তন ভারতীয় দলের কাছে ইতিবাচক দিক হলেও ম্যাচের ফলাফল সেই আনন্দকে অনেকটাই ম্লান করে দেয়। বড় রান করেও ম্যাচ হারায় ভারতীয় বোলিংয়ের দুর্বলতা সামনে চলে আসে। তবুও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে এই ইনিংস সঞ্জুর আত্মবিশ্বাস ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

ঈশান কিষানের কার্যকর ইনিংস

সঞ্জু স্যামসনের পাশাপাশি ভারতের ব্যাটিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ঈশান কিষান। ক্রিজে এসে দ্রুত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন তিনি। মাত্র ২২ বলে ৪৩ রান করে দলের রান বাড়াতে সাহায্য করেন ঈশান।

সঞ্জুর সঙ্গে তাঁর জুটি ভারতকে বড় স্কোরের দিকে এগিয়ে দেয়। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মাঝের ওভারগুলিতে দ্রুত রান তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঈশান সেই কাজটিই করেন। তাঁর ইনিংসের ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি হয় এবং ভারতীয় ব্যাটাররা বড় শট খেলার সুযোগ পান।

দ্বিতীয় উইকেটে ৪৩ বলে ৯৭ রানের জুটি ভারতীয় ইনিংসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এই জুটি ভেঙে দেওয়ার পরও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের সামনে ভারতকে থামানো সহজ ছিল না। কারণ পরবর্তী ব্যাটাররাও রান তোলার গতি বজায় রাখেন।

শ্রেয়স আয়ার ও তিলক ভার্মার ঝোড়ো ব্যাটিং

সঞ্জু ও ঈশান আউট হওয়ার পর ভারতের ইনিংসকে আরও শক্তিশালী করেন অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার এবং তিলক ভার্মা। ইনিংসের শেষ দিকে তাঁদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ভারতকে ২৪৯ রানের বড় স্কোরে পৌঁছে দেয়।

শ্রেয়স আয়ার করেন ৪০ রান। অন্যদিকে, তিলক ভার্মা ৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন। দু’জন মিলে মাত্র ৩২ বলে ৮৩ রান যোগ করেন। বিশেষ করে স্লগ ওভারে তাঁদের ব্যাটিং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে।

টি-টোয়েন্টি ম্যাচে শেষ কয়েকটি ওভার প্রায়ই ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণ করে। ভারতীয় দলের ব্যাটাররা সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত রান তোলেন। বড় শট, বাউন্ডারি এবং কার্যকর স্ট্রাইক রোটেশনের মাধ্যমে স্কোরবোর্ডে দ্রুত রান যোগ হতে থাকে।

শিবম দুবে অবশ্য এই ম্যাচে নিজের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। মাত্র ৭ রান করে আউট হন তিনি। তবে অন্য ব্যাটারদের কার্যকর অবদানে ভারতীয় ইনিংসে বড় কোনও ধাক্কা লাগেনি।

ভারত শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটে ২৪৯ রান সংগ্রহ করে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি ভারতের উল্লেখযোগ্য বড় স্কোরগুলির মধ্যে একটি। এত বড় রান করার পর ভারতীয় সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল, বোলাররা ম্যাচটি সহজেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। কিন্তু ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে শুধু বড় রান করলেই জয় নিশ্চিত হয় না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস সেই কথাই আরও একবার প্রমাণ করে।

রোস্টন চেজের কার্যকর বোলিং

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন রোস্টন চেজ। ভারতের ব্যাটাররা যখন দ্রুত রান তুলছিলেন, তখন উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের অগ্রগতি কিছুটা থামানোর চেষ্টা করেন তিনি।

চেজ ২৪ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন। ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিরুদ্ধে তাঁর এই পারফরম্যান্স ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ম্যাচে টিকে থাকতে সাহায্য করে। যদিও ভারত শেষ পর্যন্ত ২৪৯ রান তুলতে সক্ষম হয়, তবুও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নেওয়ায় চেজের অবদান উল্লেখযোগ্য।

ভারতের ব্যাটিংয়ের গভীরতা এবং একাধিক ব্যাটারের আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্সের কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের জন্য কাজটি সহজ ছিল না। তবে চেজের নিয়ন্ত্রিত বোলিং প্রতিপক্ষকে কিছুটা হলেও চাপে রাখে।

লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই ধাক্কা ওয়েস্ট ইন্ডিজের

২৫০ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা একেবারেই মসৃণ ছিল না। ভারতের তরুণ পেসার মায়াঙ্ক যাদব নতুন বল হাতে দুর্দান্ত শুরু করেন। তাঁর গতির সামনে সমস্যায় পড়েন ক্যারিবিয়ান ব্যাটাররা।

প্রথম ওভারেই জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে ভারতকে স্বপ্নের সূচনা এনে দেন মায়াঙ্ক। তিনি কামিল পুরান ও শিমরন হেটমায়ারকে ফিরিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধাক্কা দেন।

এরপর ষষ্ঠ ওভারে রভম্যান পাওয়েলের স্টাম্প ভেঙে দেন তিনি। ফলে মাত্র ৫৮ রানে তিনটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এমন পরিস্থিতিতে ২৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয় পাওয়া যে কোনও দলের পক্ষেই কঠিন। কারণ শুরুতেই একাধিক উইকেট হারালে পরবর্তী ব্যাটারদের ওপর রান তোলার চাপ বাড়তে থাকে। উইকেট হাতে রেখে রান তোলার গতি বজায় রাখাও তখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

ভারতীয় দলও সেই সময় ম্যাচে এগিয়ে ছিল। মায়াঙ্ক যাদবের গতি এবং নতুন বলে তাঁর সাফল্য ভারতীয় সমর্থকদের মধ্যে জয়ের আশা বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু ক্রিকেটে একটি ভালো শুরুকে জয় পর্যন্ত নিয়ে যেতে হলে পুরো ইনিংস জুড়ে একই রকম নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হয়।

শাই হোপের শতরানে ম্যাচের মোড় ঘুরল

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল অধিনায়ক শাই হোপের ব্যাটিং। শুরুতে একাধিক উইকেট পড়ে যাওয়ার পর তিনি দায়িত্ব নিয়ে দলের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান। শুধু উইকেটে টিকে থাকাই নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত রান তোলার দিকেও নজর দেন তিনি।

ভারতীয় বোলাররা যখন শুরুতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছিলেন, তখন হোপ ধীরে ধীরে সেই পরিস্থিতি বদলে দিতে থাকেন। তাঁর ব্যাটিংয়ে ছিল ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস এবং আক্রমণাত্মক শটের সঠিক মিশ্রণ।

মাত্র ২৪ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন হোপ। এরপরও তাঁর রান তোলার গতি কমেনি। একদিকে তিনি নিজের উইকেট বাঁচিয়ে রাখেন, অন্যদিকে খারাপ বল পেলেই বাউন্ডারির বাইরে পাঠাতে থাকেন।

শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ১০২ রান করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক। তাঁর এই শতরান শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, দলের জয়ের ভিতও গড়ে দেয়। কঠিন পরিস্থিতিতে অধিনায়কের এমন ইনিংস পুরো দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।

হোপের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের খেলার ধরন বদলে নেওয়া। শুরুতে উইকেট পড়ার পর তিনি দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন। এরপর যখন রাদারফোর্ডের সঙ্গে জুটি জমে ওঠে, তখন রান তোলার গতি আরও বাড়িয়ে দেন।

শেরফানে রাদারফোর্ডের বিধ্বংসী ৮৪ রান

শাই হোপের পাশাপাশি ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের অন্যতম নায়ক শেরফানে রাদারফোর্ড। ভারতের বিরুদ্ধে তাঁর ৮৪ রানের ইনিংস ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়। শুরুতে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে লড়াইয়ে ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।

রাদারফোর্ডও মাত্র ২৪ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। হোপের সঙ্গে তাঁর ব্যাটিংয়ের সমন্বয় ভারতীয় বোলারদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। দুই ব্যাটারই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে থাকায় ভারতীয় দল দ্রুত উইকেট পাওয়ার সুযোগ হারাতে থাকে।

news image
আরও খবর

চতুর্থ উইকেটে হোপ ও রাদারফোর্ড ৫৪ বলে ১২০ রান যোগ করেন। এই জুটি ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলির মধ্যে একটি। মাত্র তিন উইকেট হারিয়ে ৫৮ রানে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই জুটির সুবাদে জয়ের পথে এগিয়ে যায়।

ভারতের বোলাররা শুরুতে যে চাপ তৈরি করেছিলেন, এই জুটি সেই চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেয়। রাদারফোর্ডের বড় শট এবং হোপের ধারাবাহিক রান সংগ্রহ ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেয়।

শেষদিকে রোমারিও শেফার্ডের সঙ্গে হোপের জুটি

রাদারফোর্ড আউট হওয়ার পরও ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়নি। কারণ ক্রিজে তখনও ছিলেন দুরন্ত ফর্মে থাকা শাই হোপ। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন রোমারিও শেফার্ড।

দু’জনে মিলে পঞ্চম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ২৬ বলে ৭৪ রান যোগ করেন। এই জুটি ভারতের ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা কার্যত শেষ করে দেয়। শেষ কয়েকটি ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা ভারতীয় বোলারদের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেয়।

২৫০ রানের মতো বড় লক্ষ্য তাড়া করার সময় শেষের দিকে এমন একটি জুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে রান তোলার গতি বজায় থাকে এবং উইকেট পড়ার ঝুঁকিও কমে। হোপ ও শেফার্ড ঠিক সেই কাজটিই করেন।

শেষ পর্যন্ত ৯ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের ২৪৯ রানের জবাবে তাদের এই জয় প্রমাণ করে, আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বড় জুটি গড়ে তোলার ক্ষমতা থাকলে বড় লক্ষ্যও তাড়া করা সম্ভব।

ভারতের বোলিং নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

এই ম্যাচে ভারতের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল বোলিং। প্রথম দিকে মায়াঙ্ক যাদবের দুরন্ত পারফরম্যান্স ভারতকে ম্যাচে এগিয়ে দিলেও পরবর্তী সময়ে সেই সুবিধা ধরে রাখা যায়নি।

২৫০ রানের লক্ষ্য দেওয়ার পর ভারতীয় বোলারদের প্রত্যাশা ছিল দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চাপে রাখা। শুরুতে সেই পরিকল্পনা সফলও হয়েছিল। কিন্তু হোপ ও রাদারফোর্ডের জুটি ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে দেয়।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বড় স্কোর রক্ষা করার জন্য শুধু গতি বা আক্রমণাত্মক বোলিং যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সঠিক লাইন ও লেংথ, বাউন্ডারি আটকানোর পরিকল্পনা, ব্যাটারের দুর্বলতা বুঝে বল করা এবং চাপের মুহূর্তে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া।

হোপ ও রাদারফোর্ড যখন দ্রুত রান তুলছিলেন, তখন ভারতীয় বোলারদের পক্ষে তাঁদের থামানো কঠিন হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে শেফার্ডের সঙ্গে হোপের জুটিও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে রেখে দেয়।

এই হার ভারতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। ব্যাটিং বিভাগ বড় রান তুললেও বোলিংয়ে ধারাবাহিকতা না থাকলে সিরিজ জেতার পথে সমস্যা তৈরি হতে পারে। পরবর্তী ম্যাচে ভারতীয় দল কীভাবে এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠে, সেদিকেই নজর থাকবে সমর্থকদের।

সিরিজে ১-১ সমতা, পরের ম্যাচে নজর

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়ে আনল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে পরবর্তী ম্যাচ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই দলই এখন সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে।

ভারতের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে বোলিংয়ের উন্নতি এবং বড় রান করার পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা। অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই জয় থেকে আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরের ম্যাচে নামতে পারবে।

ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে সঞ্জু স্যামসনের ফর্মে ফেরা অবশ্য দলের জন্য বড় ইতিবাচক দিক। ঈশান কিষান, শ্রেয়স আয়ার ও তিলক ভার্মার অবদানও দেখিয়েছে যে ভারতের ব্যাটিং বিভাগে দ্রুত রান তোলার যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে।

তবে শুধু ব্যাটিংয়ের ওপর নির্ভর করে সিরিজ জেতা সম্ভব নয়। বোলারদেরও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিতে হবে এবং প্রতিপক্ষের বড় জুটি ভাঙার উপায় খুঁজতে হবে।

সূচি অনুযায়ী, সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি রবিবার ইন্দোরে হওয়ার কথা। সেই ম্যাচে ভারত কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায় এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের জয়ের ছন্দ বজায় রাখতে পারে কি না, তা দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা।

ম্যাচের প্রধান পরিসংখ্যান

  • ভারত: ২৪৯/৫

  • ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২৫২/৪

  • ম্যাচের ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৬ উইকেটে জয়ী

  • সঞ্জু স্যামসন: ৪১ বলে ৮২ রান

  • ঈশান কিষান: ২২ বলে ৪৩ রান

  • শ্রেয়স আয়ার: ৪০ রান

  • তিলক ভার্মা: অপরাজিত ৪৪ রান

  • শাই হোপ: অপরাজিত ১০২ রান

  • শেরফানে রাদারফোর্ড: ৮৪ রান

  • রোস্টন চেজ: ২৪ রানে ৩ উইকেট

  • সিরিজের অবস্থা: ১-১

  • পরবর্তী ম্যাচ: রবিবার, ইন্দোর

উপসংহার

ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সঞ্জু স্যামসনের দুরন্ত ব্যাটিং এবং ভারতের ২৪৯ রানের বড় স্কোর শেষ পর্যন্ত কাজে এল না। শাই হোপের অপরাজিত শতরান, শেরফানে রাদারফোর্ডের ৮৪ রান এবং শেষদিকে রোমারিও শেফার্ডের সঙ্গে হোপের বিধ্বংসী জুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে স্মরণীয় জয় এনে দেয়।

এই ম্যাচে ভারতীয় দলের ব্যাটিং শক্তি যেমন সামনে এসেছে, তেমনই বোলিংয়ের কিছু দুর্বলতাও প্রকাশ পেয়েছে। সিরিজে ১-১ সমতা ফেরায় পরবর্তী ম্যাচের গুরুত্ব আরও বেড়ে গেল। এখন দেখার, ইন্দোরে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারতীয় দল ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না।

ক্রিকেটের সর্বশেষ খবর, ভারতীয় দলের পারফরম্যান্স, টি-টোয়েন্টি সিরিজের আপডেট এবং ম্যাচের বিশ্লেষণ জানতে Lenspedia Bangla-র সঙ্গে থাকুন।

Preview image