Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মরুরাজ্যে নতুন সূর্যোদয়: ভারতের হাত ধরে বিশ্ব দেখল আগামীর শক্তি, রাজস্থানে উদ্বোধন হলো বিশ্বের বৃহত্তম ‘সূর্য শক্তি প্রকল্প’

৩১ জানুয়ারি ২০২৬—তারিখটি ইতিহাসের পাতায় খোদাই হয়ে গেল। রাজস্থানের জয়সালমিরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করলেন বিশ্বের বৃহত্তম ১০ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ‘সূর্য শক্তি প্রকল্প’। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘হেক্সা-সোলার’ প্যানেল দিয়ে মোড়া এই প্রকল্প কেবল ভারতের বিদ্যুৎ সমস্যাই মেটাবে না, বরং বিশ্বকে দেখাবে জীবাশ্ম জ্বালানিবিহীন এক নতুন ভবিষ্যতের স্বপ্ন।

মরুরাজ্যে নতুন সূর্যোদয়: ভারতের হাত ধরে বিশ্ব দেখল আগামীর শক্তি, রাজস্থানে উদ্বোধন হলো বিশ্বের বৃহত্তম ‘সূর্য শক্তি প্রকল্প’
Environment & Geoscience

থর মরুভূমির দিগন্তজোড়া সোনালী বালি আজ আর কেবল রোদের তাপে উত্তপ্ত বালুকণা নয়, তা আজ আক্ষরিক অর্থেই শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে। মাইলের পর মাইল জুড়ে বিছিয়ে থাকা নীলচে-কালো প্যানেলগুলো আকাশের সূর্যের দিকে তাকিয়ে আছে, যেন তারা মহাকাশ থেকে আসা অফুরন্ত শক্তিকে শুষে নিয়ে পৃথিবীর শিরা-উপশিরায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছে। আজ, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ভারতের মুকুটে যুক্ত হলো এক নতুন পালক, যা কেবল দেশ নয়, গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। রাজস্থানের জয়সালমিরে উদ্বোধন হলো বিশ্বের বৃহত্তম এবং প্রযুক্তিগতভাবে সর্বাধুনিক সোলার পার্ক—‘সূর্য শক্তি প্রকল্প’।

ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রী, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী এবং বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশ থেকে আগত বিজ্ঞানী, পরিবেশবিদ ও রাষ্ট্রনেতাদের উপস্থিতিতে আজ সকালে এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। যখন প্রধানমন্ত্রী সুইচ টিপে এই বিশাল পাওয়ার গ্রিডটি চালু করলেন, তখন জায়ান্ট স্ক্রিনে ভেসে উঠল ১০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লাইভ মিটার। করতালিতে ফেটে পড়ল পুরো সভাস্থল। এই মুহূর্তটি কেবল একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্বোধন ছিল না, এটি ছিল ভারতের ‘বিশ্বগুরু’ হয়ে ওঠার পথে এক বিশাল পদক্ষেপ।

মরুভূমির বুকে এক প্রযুক্তিগত বিস্ময়

‘সূর্য শক্তি প্রকল্প’ বা ‘প্রজেক্ট সান পাওয়ার’-এর বিশালতা সম্পর্কে ধারণা করা সাধারণ মানুষের পক্ষে কঠিন। প্রায় ৫০,০০০ একর জমি জুড়ে বিস্তৃত এই প্রকল্পটি মহাকাশ থেকেও স্পষ্টভাবে দেখা যায়। স্যাটেলাইট ইমেজে মনে হয়, থর মরুভূমির বুকে কেউ যেন এক বিশাল নীল হীরে বসিয়ে দিয়েছে। এই প্রকল্পের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১০ গিগাওয়াট (GW), যা বিশ্বের যেকোনো একক স্থানে অবস্থিত সৌর প্রকল্পের চেয়ে অনেক বেশি। তুলনা করলে বলা যায়, এই একটি প্রজেক্ট থেকে যে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে, তা দিয়ে সুইজারল্যান্ড বা সিঙ্গাপুরের মতো একটি পুরো দেশের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো সম্ভব।

তবে কেবল আকার বা আয়তন নয়, ‘সূর্য শক্তি প্রকল্প’ সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে তার প্রযুক্তির জন্য। এতদিন চীন বা আমেরিকা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে এগিয়ে থাকলেও, ভারত আজ প্রযুক্তির লড়াইয়ে তাদের পেছনে ফেলে দিয়েছে। এই প্রকল্পে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে ‘হেক্সা-সোলার’ (Hexa-Solar) প্যানেল প্রযুক্তি।

হেক্সা-সোলার: ভারতীয় বিজ্ঞানীদের মস্তিষ্কপ্রসূত বিপ্লব

প্রচলিত সোলার প্যানেলগুলো সাধারণত চারকোণা বা আয়তাকার হয়। কিন্তু ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘ন্যাশনাল সোলার এনার্জি ইনস্টিটিউট’-এর বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ ৭ বছরের গবেষণায় তৈরি করেছেন ষড়ভুজাকৃতি বা মৌচাকের মতো দেখতে এই হেক্সা-সোলার প্যানেল।

প্রকল্পের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা এবং হেক্সা-সোলার প্রযুক্তির উদ্ভাবক ডঃ আর.কে. শর্মা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই প্রযুক্তির খুঁটিনাটি ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “প্রকৃতি আমাদের সেরা শিক্ষক। মৌচাকের গঠন লক্ষ্য করলে দেখবেন, সেখানে কোনো জায়গা অপচয় হয় না। আমরা সেই জ্যামিতিক নকশাকেই সোলার প্যানেলে নিয়ে এসেছি। হেক্সাডেকাগনাল বা ষড়ভুজাকৃতির কারণে আমরা কম জমিতে অনেক বেশি প্যানেল বসাতে পেরেছি, যাকে বলা হয় ‘হাই ডেনসিটি প্যাকিং’। এর ফলে প্রচলিত সোলার ফার্মের তুলনায় আমরা একই জমিতে ২৫% বেশি প্যানেল স্থাপন করতে পেরেছি।”

ডঃ শর্মা আরও জানান, এই প্যানেল তৈরিতে সিলিকনের সাথে গ্রাফিন এবং পেরোভস্কাইট (Perovskite) নামক বিশেষ উপাদানের সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। এর ফলে প্যানেলগুলোর কর্মদক্ষতা বা এফিসিয়েন্সি সাধারণ প্যানেলের (২২%) তুলনায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫%-এ। অর্থাৎ, এটি ৩০% বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই প্যানেলগুলো ‘লো-লাইট সেন্সিটিভিটি’ প্রযুক্তিতে তৈরি। অর্থাৎ, ভোরবেলা, গোধূলি বা এমনকি মেঘলা আকাশেও এগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারে। মরুভূমির ধূলিঝড় বা ‘আঁধি’ সোলার প্যানেলের বড় শত্রু। ধুলো জমলে উৎপাদন কমে যায়। কিন্তু হেক্সা-সোলার প্যানেলে ব্যবহার করা হয়েছে ন্যানো-কোটিং প্রযুক্তি, যা ধুলোবালিকে প্যানেলের গায়ে জমতে দেয় না। এটি অনেকটা পদ্মপাতার মতো, যার ওপর জল বা ধুলো দাঁড়ালে তা গড়িয়ে পড়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ: নতুন ভারতের জয়গান

উদ্বোধনী মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর স্বভাবসুলভ ওজস্বী ভাষায় এই দিনটিকে ভারতের ইতিহাসের এক ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আজকের দিনটি প্রমাণ করে যে ভারত আর কেবল প্রযুক্তি আমদানিকারক দেশ নয়। আমরা এখন প্রযুক্তির উদ্ভাবক। আমাদের বিজ্ঞানীরা যা করে দেখিয়েছেন, তা উন্নত বিশ্বের কাছেও এক বিস্ময়। বেদের যুগে আমাদের ঋষিরা সূর্যের উপাসনা করতেন শক্তির উৎস হিসেবে। আজ একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আমরা সেই সূর্যকে ব্যবহার করছি আত্মনির্ভর ভারত গড়ার কাজে।”

তিনি আরও বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন বা ক্লাইমেট চেঞ্জ আজ বিশ্বের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। উন্নত দেশগুলো যখন কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েও পিছিয়ে আসছে, তখন ভারত বুক চিতিয়ে লড়াই করছে। ‘সূর্য শক্তি প্রকল্প’ আমাদের ‘সবুজ ভারত’ (Green India) স্বপ্নের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমাদের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের মোট শক্তির চাহিদার ৫০% পুনর্নবীকরণযোগ্য উৎস থেকে পূরণ করা। আজকের এই প্রকল্প সেই লক্ষ্যের পথে আমাদের এক বিশাল উল্লম্ফন।”

প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, এই প্রকল্প থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ রাজস্থান, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ এবং দিল্লির প্রায় ২ কোটি পরিবারে আলো জ্বালাবে। এর ফলে বার্ষিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড বাতাসে মেশা বন্ধ হবে, যা প্রায় ৩ কোটি গাড়ি রাস্তা থেকে সরিয়ে নেওয়ার সমান।

অর্থনৈতিক প্রভাব: মরুভূমিতে কর্মসংস্থানের জোয়ার

জয়সালমির এবং বারমের জেলার মতো এলাকাগুলো এতদিন পর্যটন ছাড়া আর বিশেষ কোনো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ছিল না। কিন্তু ‘সূর্য শক্তি প্রকল্প’ এই অঞ্চলের অর্থনীতিকে আমূল বদলে দিয়েছে। গত তিন বছর ধরে এই প্রকল্প নির্মাণের সময় প্রায় ৫০,০০০ শ্রমিক এবং ইঞ্জিনিয়ার এখানে কাজ করেছেন। এখন প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর রক্ষণাবেক্ষণ, গ্রিড ম্যানেজমেন্ট এবং নিরাপত্তার জন্য স্থায়ীভাবে প্রায় ৫,০০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

news image
আরও খবর

স্থানীয় বাসিন্দা ভৈরব সিং রাঠোর, যিনি একসময় সামান্য উট চালক ছিলেন, এখন এই প্রকল্পে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করছেন। তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমাদের জমিতে আগে শুধু বাবলা গাছ আর বালি ছিল। আমরা ভাবতাম এই জমি অভিশপ্ত। কিন্তু মোদীজি এবং বিজ্ঞানীরা আমাদের এই বালিকে সোনায় বদলে দিয়েছেন। আমার ছেলে এখন পলিটেকনিকে পড়ছে, সে বলেছে পাস করে সেও এই সোলার প্ল্যান্টে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেবে। আমাদের ভবিষ্যৎ পাল্টে গেছে।”

কেবল প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান নয়, পরোক্ষভাবেও বিশাল লাভ হয়েছে। প্রকল্পের আশেপাশে হোটেল, রেস্তোরাঁ, এবং পরিবহন ব্যবসার রমরমা শুরু হয়েছে। রাজস্থান সরকার এই এলাকাটিকে ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ট্যুরিজম জোন’ হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনা করছে, যেখানে ছাত্রছাত্রীরা এবং পর্যটকরা এসে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই বিস্ময় নিজের চোখে দেখতে পারবে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভূ-রাজনীতি

‘সূর্য শক্তি প্রকল্প’-এর উদ্বোধন আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP)-এর প্রধান এরিক সোলহেইম এক ভিডিও বার্তায় ভারতকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, “ভারতের এই উদ্যোগ বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য একটি অনুপ্রেরণা। গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলো যে চাইলেই পরিবেশ রক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন একসাথে করতে পারে, ভারত তা করে দেখাল। এটি প্যারিস জলবায়ু চুক্তির লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও এগিয়ে।”

আমেরিকার বিখ্যাত ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকা আজ তাদের প্রচ্ছদ নিবন্ধে শিরোনাম করেছে, “The Sleeping Giant Awakes in Green Energy: India Leads the Way.” চীনের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা, কারণ এতদিন সোলার প্যানেল উৎপাদন এবং প্রযুক্তিতে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তির এই উত্থান বিশ্ববাজারে চীনের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাবে। ইতিমধ্যেই ফ্রান্স, ব্রাজিল এবং আফ্রিকার একাধিক দেশ ভারতের এই ‘হেক্সা-সোলার’ প্রযুক্তি ব্যবহারের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স’ (ISA)-এর নেতৃত্ব আজ আরও সুদৃঢ় হলো।

পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য

এত বিশাল একটি প্রকল্প পরিবেশের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে পরিবেশবিদদের মনে কিছু প্রশ্ন ছিল। বিশেষ করে রাজস্থানের মরুভূমি ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান বাস্টার্ড’ (Great Indian Bustard) নামক বিপন্ন পাখির আবাসস্থল। তবে প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন, পরিবেশের কথা মাথায় রেখেই এর নকশা করা হয়েছে।

প্রকল্পের সীমানা এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে বন্যপ্রাণীদের করিডর বা চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত না হয়। এছাড়া হাই-ভোল্টেজ তারগুলো মাটির নিচ দিয়ে (Underground cabling) নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যাতে পাখিরা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট না হয়। এমনকি প্যানেলের নিচে ছায়াযুক্ত স্থানে বিশেষ ধরনের মরু-ঘাস চাষ করা হচ্ছে, যা ছোট ছোট প্রাণীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করবে। বৃষ্টির জল ধরে রাখার জন্য (Rainwater Harvesting) বিশাল জলাধার তৈরি করা হয়েছে, যা প্যানেল পরিষ্কারের কাজে ব্যবহৃত হবে, ফলে ভূগর্ভস্থ জলের অপচয় হবে না।

আগামীর চ্যালেঞ্জ ও সমাধান

অবশ্য ১০ গিগাওয়াটের এই বিশাল প্ল্যান্ট পরিচালনা করা কম চ্যালেঞ্জের নয়। প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো মরুভূমির চরম আবহাওয়া। গরমে তাপমাত্রা এখানে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। যদিও হেক্সা-সোলার প্যানেল উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীল, তবুও ইনভার্টার এবং ট্রান্সফরমারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ একটি বড় কাজ। এছাড়া বালুঝড় হলে প্যানেল পরিষ্কার করা এক বিশাল কর্মযজ্ঞ।

এই সমস্যার সমাধানে ব্যবহার করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)। পুরো প্ল্যান্টটি রোবোটিক ক্লিনিং সিস্টেমের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিষ্কার হবে। হাজার হাজার ছোট রোবট প্রতিদিন রাতে প্যানেলের ওপর দিয়ে চলবে এবং জল ছাড়াই (Dry cleaning technology) হাওয়ার চাপে ধুলো পরিষ্কার করবে। এছাড়া ড্রোন এবং আইওটি (IoT) সেন্সর ব্যবহার করে প্রতিটি প্যানেলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। কোথাও কোনো ত্রুটি দেখা দিলে কন্ট্রোল রুমে বসে থাকা ইঞ্জিনিয়াররা নিমেষেই তা জানতে পারবেন।

উপসংহার

সূর্য, যা কোটি কোটি বছর ধরে পৃথিবীকে আলো ও তাপ দিয়ে আসছে, আজ সেই সূর্যই হয়ে উঠল মানব সভ্যতার টিকে থাকার চাবিকাঠি। জীবাশ্ম জ্বালানির ভাণ্ডার যখন ফুরিয়ে আসছে, পৃথিবী যখন উষ্ণায়নের জ্বরে পুড়ছে, তখন রাজস্থানের এই ‘সূর্য শক্তি প্রকল্প’ এক সুশীতল বাতাসের মতো স্বস্তি বয়ে নিয়ে এল।

৩১ জানুয়ারি ২০২৬—দিনটি কেবল একটি ফিতে কাটার অনুষ্ঠান ছিল না, এটি ছিল একটি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। ভারতের ১.৫ বিলিয়ন মানুষের স্বপ্ন আজ ডানা মেলল। এই প্রকল্প আমাদের শেখাল যে, বিজ্ঞান ও প্রকৃতির মেলবন্ধন ঘটাতে পারলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। আগামী প্রজন্ম যখন ইতিহাসের বইতে এই দিনটির কথা পড়বে, তখন তারা জানবে যে তাদের পূর্বপুরুষরা তাদের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ এবং নিরাপদ পৃথিবী রেখে যাওয়ার জন্য লড়াই করেছিল।

আজ জয়সালমিরের বালিয়াড়িতে যে সূর্য অস্ত যাবে, তা আগামীকাল ভোরে আবার উদিত হবে নতুন তেজ নিয়ে। কিন্তু সেই তেজ আর মরুভূমিকে দগ্ধ করবে না, বরং তা আলোকিত করবে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন। ভারতের সৌর বিপ্লব আজ পূর্ণতা পেল, আর সেই আলোর দ্যুতি ছড়িয়ে পড়ল সারা বিশ্বে।

Preview image