ভারতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী সঞ্জীব গুপ্ত এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।
ভারতীয় ক্রিকেটে ফের সামনে এল স্বার্থের সংঘাত বা Conflict of Interest-এর বিতর্ক। আর এবার অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের (CAB) প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। আগামী বছরের আইপিএলের জন্য দিল্লি ক্যাপিটালস তাঁকে হেড কোচ হিসেবে ঘোষণা করার পরই তাঁর বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী সঞ্জীব গুপ্ত। তাঁর দাবি, একই সময়ে একটি রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার প্রশাসনিক পদে থাকা এবং আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে দিল্লি ক্যাপিটালসের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও তিনি এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দিল্লি ক্যাপিটালসের ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। ফলে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের পেশাগত সম্পর্ক রয়েছে। এবার সেই দলেরই কোচ হিসেবে নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সঞ্জীব গুপ্ত।
অভিযোগের গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ সঞ্জীব গুপ্ত শুধু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল বা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি ই-মেল মারফত তাঁর অভিযোগের কথা জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট, বিচারপতি লোঢা, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট প্রশাসনের বিভিন্ন মহলকে। এমনকি অভিযোগের প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের কাছেও। ফলে বিষয়টি এখন ক্রিকেট প্রশাসনের অন্দরমহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সঞ্জীব গুপ্তের মূল বক্তব্য হল, সৌরভ একই সময়ে CAB-এর প্রেসিডেন্ট এবং Delhi Capitals-এর হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন কি না, সেটিই প্রশ্নের বিষয়। তাঁর দাবি, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের গঠনতন্ত্র এবং সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদিত লোঢা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ক্রিকেট প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কোনও ব্যক্তি ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক আইপিএল দলের সঙ্গে একই সময়ে যুক্ত থাকতে পারেন না, যদি সেই সম্পর্ক থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ স্বার্থের সংঘাত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সঞ্জীব গুপ্ত তাঁর অভিযোগে বিশেষভাবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের গঠনতন্ত্রের ৩৮ (১) ধারা-র উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, ওই নিয়ম অনুযায়ী বোর্ড বা বোর্ড অনুমোদিত কোনও ক্রিকেট সংস্থার প্রশাসনিক পদে থাকা ব্যক্তি কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক আইপিএল দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকতে পারেন না। সেই যুক্তিতেই সৌরভের নতুন দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
অভিযোগকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, CAB-এর মতো একটি রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার শীর্ষ পদে থাকা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় যখন একই সময়ে একটি আইপিএল দলের হেড কোচ হচ্ছেন, তখন তাঁর প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের দায়িত্বের মধ্যে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের অনুমোদিত একটি রাজ্য সংস্থার প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে তাঁর পেশাগত সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে বলে দাবি সঞ্জীবের।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ উঠেছে মানেই নিয়ম ভঙ্গ প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট প্রশাসন বা এথিক্স সংস্থার। অতীতেও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল এবং সেই অভিযোগের ক্ষেত্রে তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল।
এই পুরনো ঘটনাটিকেই সৌরভ-ঘনিষ্ঠ মহল এবার সামনে এনেছে। তাঁদের বক্তব্য, সঞ্জীব গুপ্ত এর আগেও সৌরভের বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ করেছিলেন। সেই সময় সৌরভ দক্ষিণ আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি লিগের দল প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের কোচ হিসেবে কাজ করছিলেন। পাশাপাশি তিনি দিল্লি ক্যাপিটালসের অন্যতম অংশীদার JSW-এর ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট পদেও যুক্ত ছিলেন। সেই পরিস্থিতিতেও সঞ্জীব গুপ্ত স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ তুলেছিলেন।
অভিযোগের সেই ঘটনায় বিষয়টি গিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এথিক্স অফিসারের কাছে। তৎকালীন এথিক্স অফিসার ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অরুণ মিশ্র। অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর সৌরভের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খারিজ করা হয়েছিল। সৌরভ-ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, আগের সেই সিদ্ধান্ত থেকেই স্পষ্ট যে শুধু কোনও ক্রিকেট প্রশাসনিক পদ এবং ক্রিকেট-সংক্রান্ত পেশাগত দায়িত্ব একসঙ্গে থাকলেই স্বার্থের সংঘাত প্রমাণিত হয় না।
আগের সেই সিদ্ধান্তের যুক্তি ছিল, অভিযোগে স্পষ্টভাবে দেখানো হয়নি যে প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের কোচ হিসেবে সৌরভের দায়িত্ব তাঁর ক্রিকেট প্রশাসনিক পদকে কীভাবে প্রভাবিত করছে। একইসঙ্গে এই দুই দায়িত্বের কারণে ক্রিকেটের স্বার্থ কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অথবা সৌরভ কোনও অন্যায্য সুবিধা পাচ্ছেন কি না, সেটিও অভিযোগে যথেষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। ফলে সেই অভিযোগ গ্রহণযোগ্য হয়নি।
বর্তমান ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রশ্ন উঠছে। সঞ্জীব গুপ্তের অভিযোগ মূলত নিয়মের ব্যাখ্যা এবং একই ব্যক্তির দুই ধরনের দায়িত্বকে কেন্দ্র করে। অন্যদিকে সৌরভ-ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, CAB প্রেসিডেন্ট হিসেবে সৌরভের প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং দিল্লি ক্যাপিটালসের কোচ হিসেবে তাঁর ক্রিকেটীয় দায়িত্বের মধ্যে সরাসরি কোনও সংঘাত নেই।
এই বিতর্কের মধ্যে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নিজের অবস্থান এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি বলে জানা গিয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পাঠানো হলেও তাঁর তরফে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগ নিয়ে সৌরভের নিজস্ব বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি।
তবে ঘটনাটি ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনে Conflict of Interest বা স্বার্থের সংঘাতের পুরনো বিতর্ককে ফের সামনে নিয়ে এসেছে। ভারতীয় ক্রিকেটে লোঢা কমিটির সুপারিশ কার্যকর হওয়ার পর থেকে প্রশাসক, ক্রিকেটার, ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
স্বার্থের সংঘাতের নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হল, কোনও ক্রিকেট প্রশাসক যেন নিজের প্রশাসনিক অবস্থান ব্যবহার করে এমন কোনও সিদ্ধান্ত বা সুবিধা গ্রহণ করতে না পারেন, যার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত, পেশাগত বা আর্থিক স্বার্থ জড়িত। ক্রিকেটের মতো জনপ্রিয় এবং বিপুল আর্থিক পরিসরের খেলায় এই নিয়মের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। কারণ বোর্ড, রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা এবং আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে বিভিন্ন স্তরে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সম্পর্ক রয়েছে।
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ তিনি শুধু একজন প্রাক্তন ক্রিকেটার নন। ভারতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে তাঁর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার রয়েছে। ক্রিকেটার হিসেবে অবসর নেওয়ার পর তিনি প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বও পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি CAB-এর প্রেসিডেন্ট। ফলে ক্রিকেট প্রশাসনের ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে দিল্লি ক্যাপিটালস আইপিএলের অন্যতম পরিচিত ফ্র্যাঞ্চাইজি। দলের সঙ্গে সৌরভের সম্পর্ক বহুদিনের। এর আগে ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট হিসেবে তিনি দিল্লি ক্যাপিটালসের ক্রিকেটীয় কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন। এবার হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ফলে তাঁর সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সম্পর্ক আরও প্রত্যক্ষ হয়েছে।
এই জায়গাতেই সঞ্জীব গুপ্ত প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল কেন্দ্র হল—একজন ব্যক্তি একই সময়ে ক্রিকেট প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে আইপিএলের একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির সরাসরি ক্রিকেটীয় দায়িত্ব সামলাতে পারেন কি না। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, বিষয়টি শুধু সৌরভের ব্যক্তিগত পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে বোর্ডের নিয়ম এবং ক্রিকেট প্রশাসনের স্বচ্ছতার প্রশ্নও জড়িত।
এখন নজর থাকবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট এথিক্স সংস্থা এই অভিযোগের বিষয়ে কী অবস্থান নেয় তার দিকে। অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও তদন্ত হবে কি না, অথবা সৌরভের কাছ থেকে কোনও ব্যাখ্যা চাওয়া হবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এর আগে সৌরভের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ উঠলেও এথিক্স অফিসারের সিদ্ধান্ত তাঁর পক্ষে গিয়েছিল। ফলে এবারও অভিযোগের নির্দিষ্ট তথ্য, দায়িত্বের প্রকৃতি এবং বোর্ডের গঠনতন্ত্রের সংশ্লিষ্ট ধারার ব্যাখ্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
এই ঘটনায় আরও একটি বিষয় নজরে রাখার মতো। ক্রিকেট প্রশাসনে কোনও ব্যক্তির একাধিক দায়িত্ব থাকলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বার্থের সংঘাত হয়ে যায় না। আসল প্রশ্ন হল, ওই দুটি দায়িত্বের মধ্যে এমন কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, যার ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজের প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজের সঙ্গে যুক্ত কোনও দল বা প্রতিষ্ঠানের সুবিধা করে দিচ্ছেন কি না, সেটিও বিবেচনা করা হয়।
সৌরভ-ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্যও মূলত সেই জায়গাতেই। তাঁদের দাবি, আগের ঘটনায় অভিযোগের মধ্যে এমন কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যাতে সৌরভের প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং কোচের দায়িত্বের মধ্যে বাস্তব স্বার্থের সংঘাত প্রমাণিত হয়। তাই এবারও শুধু একই ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয় বলে তাঁদের বক্তব্য।
অন্যদিকে অভিযোগকারী সঞ্জীব গুপ্তের অবস্থানও স্পষ্ট। তাঁর মতে, নিয়মের উদ্দেশ্য শুধু কোনও ব্যক্তি বাস্তবে সুবিধা নিয়েছেন কি না তা দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রশাসনিক পদে থাকা এবং কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার মধ্যেই সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে। তাই নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে CAB বনাম IPL দায়িত্বের সংঘাতের প্রশ্ন। একদিকে তিনি বাংলার ক্রিকেট প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন, অন্যদিকে দিল্লি ক্যাপিটালসের মতো একটি আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির হেড কোচ হিসেবে নতুন দায়িত্ব নিতে চলেছেন। এই দুই ভূমিকার মধ্যে আইনগত ও প্রশাসনিক সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
বর্তমানে অভিযোগটি উঠেছে এবং সৌরভের তরফে কোনও প্রত্যক্ষ প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাই বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে সংশ্লিষ্ট নিয়ম, অভিযোগের নির্দিষ্ট ভিত্তি এবং এথিক্স সংস্থার সম্ভাব্য ব্যাখ্যা সামনে আসা জরুরি।
ভারতীয় ক্রিকেটে স্বার্থের সংঘাত নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। এর আগে বহু ক্রিকেট প্রশাসক, প্রাক্তন ক্রিকেটার এবং বিভিন্ন ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এই ধরনের অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে অভিযোগের প্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দায়িত্ব আলাদা হওয়ায় সিদ্ধান্তও আলাদা হতে পারে।
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বর্তমান ঘটনাতেও তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের গঠনতন্ত্রের সংশ্লিষ্ট ধারা কীভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে এবং CAB প্রেসিডেন্ট ও দিল্লি ক্যাপিটালসের হেড কোচ—এই দুই ভূমিকার মধ্যে বাস্তবে কোনও সাংঘর্ষিক দায়িত্ব রয়েছে কি না।
এখন দেখার, সঞ্জীব গুপ্তের অভিযোগের পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা অন্য কোনও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বিবেচনা করে কি না। যদি তদন্ত হয়, তাহলে সৌরভের কাছ থেকে ব্যাখ্যাও চাওয়া হতে পারে। আর যদি তদন্ত না হয়, তাহলেও বোর্ডের নিয়মের ব্যাখ্যা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।
অর্থাৎ, দিল্লি ক্যাপিটালসের নতুন কোচ হিসেবে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নিয়োগ শুধু আইপিএলের ক্রিকেটীয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে গেল ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনের বহু পুরনো এবং সংবেদনশীল Conflict of Interest বিতর্কও। এখন সবার নজর থাকবে, এই অভিযোগ কতদূর গড়ায় এবং সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়।