Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

হোপের সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়, ২৪ রানে হার ভারতের, সিরিজের ফয়সালা শনিবার

রাঁচিতে সহজ জয় পেলেও নিজামের শহরে ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে ব্যর্থ ভারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ২৪ রানে হেরে সিরিজে সমতা ফেরাল টিম ইন্ডিয়া।

ভারতকে ২৪ রানে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শাই হোপের দুরন্ত সেঞ্চুরি

India vs West Indies 4th T20: শাই হোপের বিধ্বংসী ব্যাটিং এবং কিমো পলের দুরন্ত বোলিংয়ের সামনে হেরে গেল ভারত। বুধবারের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২২৩ রানেই থেমে যায় ভারতীয় ইনিংস। ফলে ২৪ রানে ম্যাচ জিতে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-২ সমতা ফিরিয়ে আনল ক্যারিবিয়ানরা। ভারতের হয়ে সঞ্জু স্যামসন ঝোড়ো হাফ-সেঞ্চুরি করলেও দলকে জেতাতে পারেননি। অন্যদিকে, শাই হোপের অপরাজিত শতরান এবং কিমো পলের পাঁচ উইকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের প্রধান কারিগর হয়ে উঠল।

শাই হোপের দুরন্ত শতরানে বড় রান ওয়েস্ট ইন্ডিজের

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ভারতীয় বোলারদের উপর আক্রমণ চালায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবিয়ান ব্যাটাররা নিয়মিত বাউন্ডারি হাঁকিয়ে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন। দলের ইনিংসের মূল আকর্ষণ ছিলেন অধিনায়ক শাই হোপ। চলতি সফরে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই ব্যাটার আবারও নিজের দক্ষতার পরিচয় দিলেন।

৫০ বলে অপরাজিত ১০২ রান করেন হোপ। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি ছক্কা ও ৪টি চার। ইনিংসের শেষ বলে ছক্কা মেরে তিনি নিজের শতরান পূর্ণ করেন। তাঁর ব্যাটিংয়ে যেমন ছিল ধৈর্য, তেমনই ছিল সুযোগ বুঝে বড় শট খেলার ক্ষমতা। ভারতীয় বোলারদের বিরুদ্ধে তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বড় স্কোরের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

এই শতরানের মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজের তৃতীয় শতরান পূর্ণ করেন হোপ। একই সঙ্গে ২০০০ রানের মাইলফলকও অতিক্রম করেন তিনি। ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের হয়ে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তাঁর এই পারফরম্যান্স বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। অধিনায়ক হিসেবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে শক্তিশালী জায়গায় পৌঁছে দেন তিনি।

রাদারফোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস

শাই হোপের পাশাপাশি ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন শেরফানে রাদারফোর্ড। ২৬ বলে অপরাজিত ৪৯ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ৩টি ছক্কা। শেষ দিকে হোপের সঙ্গে তাঁর জুটি ভারতের বোলারদের আরও চাপে ফেলে দেয়।

চতুর্থ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন জুটিতে মাত্র ৪৩ বলে ৯১ রান যোগ করেন হোপ ও রাদারফোর্ড। এই জুটিই ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোরকে ২৪৭ রানে পৌঁছে দেয়। শেষ দিকে দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি উইকেট ধরে রাখার কৌশলও কাজে লাগান দুই ব্যাটার।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে শিমরন হেটমায়ার ১২ বলে ৩৩ রান করেন। রভম্যান পাওয়েল ১৭ বলে ২৪ এবং জেয়েল অ্যান্ড্রু ১৬ বলে ২১ রান যোগ করেন। একাধিক ব্যাটারের অবদানে ক্যারিবিয়ান দল তিন উইকেট হারিয়ে ২৪৭ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে তোলে।

ভারতীয় বোলিং নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বড় স্কোরের পিছনে ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রণের অভাবও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট নিতে না পারায় ক্যারিবিয়ান ব্যাটাররা নিজেদের মতো করে রান তুলতে পেরেছেন। বিশেষ করে ইনিংসের শেষ দিকে হোপ ও রাদারফোর্ডের আক্রমণ সামলাতে ব্যর্থ হন ভারতীয় বোলাররা।

প্রিন্স যাদব একটি উইকেট নেন। অক্ষর প্যাটেল এবং অর্শদীপ সিংও একটি করে উইকেট পান। তবে মায়াঙ্ক যাদব, নীতীশ রেড্ডি এবং নমন ধীর উইকেটের দেখা পাননি। ভারতীয় বোলিং আক্রমণে কার্যকর স্ট্রাইক বোলারের অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বড় ম্যাচে প্রতিপক্ষের রান আটকাতে শুধু উইকেট নেওয়াই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সঠিক লাইন-লেন্থ বজায় রাখা এবং চাপের মুহূর্তে পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করা। এই ম্যাচে সেই জায়গাতেই ভারত পিছিয়ে ছিল।

রান তাড়ায় সঞ্জু স্যামসনের ঝোড়ো শুরু

২৪৮ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতীয় দল অবশ্য শুরুটা করেছিল দুর্দান্তভাবে। প্রথম কয়েক ওভারেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ক্যারিবিয়ান বোলারদের চাপে ফেলে দেন সঞ্জু স্যামসন। মাত্র তিন ওভারের মধ্যে ভারতের স্কোর ৫০-এ পৌঁছে যায়। এর মধ্যে সঞ্জুর অবদান ছিল ৪৭ রান।

অন্য প্রান্তে অভিষেক শর্মা শুরুতে রান তুলতে পারেননি। কিন্তু সঞ্জু নিজের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ব্যাট করে দ্রুত রান তুলতে থাকেন। মাত্র ২০ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। তাঁর ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল, ভারত খুব সহজেই বড় লক্ষ্য তাড়া করে ফেলতে পারে।

সঞ্জু শেষ পর্যন্ত ২৩ বলে ৫৬ রান করে আউট হন। তাঁর ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৪টি ছক্কা। কিমো পলের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় তাঁকে। সঞ্জুর উইকেট হারানোই ভারতের ইনিংসে প্রথম বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়।

এর ঠিক পরেই আউট হন ঈশান কিষান। মাত্র ৬ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। পাওয়ার প্লের ছয় ওভার শেষে ভারতের স্কোর ছিল ৮০ রান, কিন্তু দুই উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল দল।

মাঝের ওভারেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ভারত

দ্রুত রান ওঠার পর ভারতের সামনে প্রয়োজন ছিল উইকেট ধরে রেখে রান তোলার গতি বজায় রাখা। কিন্তু সঞ্জু ও ঈশানের আউটের পর সেই পরিকল্পনা ভেঙে পড়ে। শ্রেয়স আয়ার ১৬ রান করে আউট হন। অভিষেক শর্মাও নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাট করতে পারেননি। তিনি করেন ২৯ রান।

এরপর ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার গুদাকেশ মোতি। তাঁর বলে আউট হন অভিষেক শর্মা। পরের বলেই স্টাম্পড হয়ে ফেরেন নমন ধীর। পরপর দুই উইকেট হারিয়ে ভারতীয় ইনিংস চাপে পড়ে যায়।

নীতীশ রেড্ডি ক্রিজে এসে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা আটকান। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে চলে গিয়েছে। ভারতীয় ব্যাটাররা নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকায় প্রয়োজনীয় রান তোলার চাপ বাড়তে থাকে।

তিলক ভার্মা ও নীতীশ রেড্ডির লড়াই ব্যর্থ

মাঝের ওভারে তিলক ভার্মা ভারতকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে তিনি ২৫ বলে ৪৩ রান করেন। তাঁর ইনিংসে আশা দেখেছিল ভারতীয় সমর্থকেরা। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিলক আউট হয়ে যাওয়ায় জয়ের সম্ভাবনা আরও কমে যায়।

news image
আরও খবর

শেষ দিকে নীতীশ রেড্ডি চেষ্টা চালান। ২০ বলে ৪১ রান করেন তিনি। কিন্তু বড় লক্ষ্য এবং হাতে কম বল থাকায় তাঁর পক্ষে ম্যাচ জেতানো সম্ভব হয়নি। শেষ দুই ওভারে ভারতের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৪৩ রান। সেই কঠিন সমীকরণ মেলাতে পারেননি ভারতীয় ব্যাটাররা।

শেষ পর্যন্ত ২২৩ রানে শেষ হয় ভারতের ইনিংস। নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে ২৪ রান দূরে থেমে যায় দল। কিমো পল পাঁচ উইকেট নিয়ে ভারতের রান তাড়ায় সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে ওঠেন।

কিমো পলের পাঁচ উইকেটে বড় ধাক্কা ভারতের

ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ে শাই হোপের শতরানের পাশাপাশি কিমো পলের বোলিং ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় ব্যাটাররা যখন দ্রুত রান তুলে ম্যাচ নিজেদের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন সঞ্জু স্যামসনকে আউট করে পরিস্থিতি বদলে দেন পল। এরপর গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপে চাপ বাড়ান তিনি।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গেলে দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি উইকেট ধরে রাখা জরুরি। ভারতীয় দল শুরুতে রান তুললেও মাঝের ওভারে ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারিয়ে সেই ভারসাম্য ধরে রাখতে পারেনি। কিমো পলের পাঁচ উইকেটের স্পেল সেই দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে দেয়।

সিরিজের শেষ ম্যাচে নজর ভারতের বোলিংয়ে

এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-২ সমতা ফিরিয়ে আনল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে সিরিজের শেষ ম্যাচটি কার্যত ফাইনালের গুরুত্ব পেতে চলেছে। শনিবার বেঙ্গালুরুতে হবে নির্ণায়ক ম্যাচ। দুই দলই চাইবে শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের নামে করতে।

ভারতের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন বোলিং বিভাগকে নিয়ে। বড় রান আটকানো এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট নেওয়ার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা দেখাতে হবে ভারতীয় বোলারদের। একই সঙ্গে ব্যাটিং বিভাগকেও মাঝের ওভারে উইকেট ধরে রাখার দিকে নজর দিতে হবে।

সঞ্জু স্যামসনের ঝোড়ো ইনিংস এবং নীতীশ রেড্ডির শেষ দিকের লড়াই ইতিবাচক দিক হলেও দলগতভাবে ভারতকে আরও উন্নতি করতে হবে। অন্যদিকে, শাই হোপের নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আত্মবিশ্বাস নিয়ে শেষ ম্যাচে নামবে।

সব মিলিয়ে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ভারতের জন্য বড় সতর্কবার্তা। হোপের অপরাজিত শতরান, রাদারফোর্ডের কার্যকর ইনিংস এবং কিমো পলের পাঁচ উইকেট ম্যাচের ফল নির্ধারণ করেছে। এবার দেখার, বেঙ্গালুরুতে সিরিজের নির্ণায়ক ম্যাচে ভারত ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না।

ম্যাচের মূল তথ্য:

  • ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২৪৭/৩

  • ভারত: ২২৩

  • ফলাফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৪ রানে জয়ী

  • শাই হোপ: অপরাজিত ১০২ রান

  • সঞ্জু স্যামসন: ৫৬ রান

  • কিমো পল: ৫ উইকেট

  • সিরিজের অবস্থা: ২-২

  • পরের ম্যাচ: শনিবার, বেঙ্গালুরু

ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে কোন দল জয় পাবে, সেটাই এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Preview image