Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

দিল্লির বিরুদ্ধে ৬ পয়েন্টের লক্ষ্যে বাংলা, রনজিতে আয়ুষের চোটে ধাক্কা মুম্বইয়ের! বিকল্প নাইট তারকা কে?

রনজি ট্রফিতে দুই ইনিংসেই ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন কর্নাটকের তারকা ক্রিকেটার কেএল রাহুল। ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর এই পারফরম্যান্স ঘিরে বাড়ছে চর্চা।

রনজি ট্রফিতে ৬ পয়েন্টের লক্ষ্যে বাংলা, চোটে বড় ধাক্কা মুম্বইয়ের, নজরে কেকেআরের অঙ্গকৃষ রঘুবংশী

রনজি ট্রফির প্রথম ম্যাচেই দুরন্ত পারফরম্যান্স করে ছয় পয়েন্ট পাওয়ার স্বপ্ন দেখছে বাংলা ক্রিকেট দল। ব্যাটিং এবং বোলিং—দুই বিভাগেই দিল্লিকে চাপে রেখে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে রাখার চেষ্টা করছেন বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টে বড় ধাক্কা খেল মুম্বই। চোটের কারণে মাঠের বাইরে চলে যেতে হয়েছে তরুণ ক্রিকেটার আয়ুষ মাত্রেকে। তাঁর পরিবর্তে কলকাতা নাইট রাইডার্সের তরুণ তারকা অঙ্গকৃষ রঘুবংশীকে দলে নেওয়ার সম্ভাবনা ঘিরে তৈরি হয়েছে আলোচনা। পাশাপাশি কর্নাটকের হয়ে দুই ইনিংসেই ব্যর্থ হয়েছেন কেএল রাহুল।

বাংলা বনাম দিল্লি: জয়ের লক্ষ্যে বাংলার দাপট

কল্যাণীতে দিল্লির বিরুদ্ধে রনজি ট্রফির ম্যাচে শুরু থেকেই নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে বাংলা। টসে জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়ে দিল্লির ব্যাটিং লাইনআপকে ২৪০ রানের মধ্যে আটকে দেয় বাংলার বোলাররা। মহম্মদ শামি এবং আমির গনির কার্যকর বোলিংয়ে শুরু থেকেই চাপে পড়ে দিল্লি।

শামি তুলে নেন চারটি উইকেট। অন্যদিকে, স্পিনার আমির গনি তিনটি উইকেট নিয়ে দিল্লির ব্যাটিংয়ের ভিত নড়িয়ে দেন। প্রতিপক্ষকে কম রানে আটকে দেওয়ার পর বাংলার ব্যাটারদের সামনে বড় রান করার সুযোগ তৈরি হয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথম ইনিংসে উল্লেখযোগ্য লিড সংগ্রহ করে বাংলা।

ব্যাট হাতে দুরন্ত সুদীপ, বড় ইনিংস অভিষেক পোড়েলের

দিল্লির ২৪০ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলার ব্যাটাররা শুরু থেকেই রান তোলার দিকে মন দেন। দলের সহ-অধিনায়ক সুদীপ কুমার ঘরামি অসাধারণ ব্যাটিং করে ১৩৩ রান করেন। তাঁর ইনিংস বাংলাকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করাতে সাহায্য করে।

অন্যদিকে, অভিষেক পোড়েলও ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি ১৪৯ রান করে আউট হন। দুই ব্যাটারের বড় ইনিংসে ভর করে দিল্লির বিরুদ্ধে বড় রানের জায়গায় পৌঁছে যায় বাংলা। প্রতিপক্ষের বোলারদের উপর চাপ তৈরি হয় এবং ম্যাচে বাংলার অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

তবে তৃতীয় দিনের শেষদিকে বাংলার ব্যাটিংয়ে কিছুটা ছন্দপতন ঘটে। দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে ফেলে দল। মাত্র ৩৯ রানের মধ্যে পাঁচটি উইকেট পড়ে যাওয়ায় বড় লিড আরও বাড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া হয়। শেষ পর্যন্ত বাংলার প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৪২৯ রানে। দিল্লির প্রথম ইনিংসের ২৪০ রানের তুলনায় বাংলার লিড দাঁড়ায় ১৮৯ রানে।

দ্বিতীয় ইনিংসেও বাংলার পেসারদের দাপট

প্রথম ইনিংসে বড় লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও দিল্লির ব্যাটারদের স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি বাংলার বোলিং বিভাগ। আকাশ দীপ এবং মুকেশ কুমার গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের উপর চাপ বজায় রাখেন।

আকাশ দীপের বাউন্সারে যশ ধুলের হেলমেটে বল লাগে। এরপর তিনি রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠের বাইরে চলে যান। তাঁর শারীরিক অবস্থা এবং পরবর্তী দিনে ব্যাট করতে নামতে পারবেন কি না, তা ম্যাচের পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তৃতীয় দিনের শেষে দিল্লির সংগ্রহ তিন উইকেটে ১০১ রান। প্রথম ইনিংসের ঘাটতি ধরলে এখনও বাংলার থেকে ৮৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে তারা। ফলে চতুর্থ দিনে দিল্লির বাকি সাতটি উইকেট দ্রুত তুলে নেওয়াই বাংলার প্রধান লক্ষ্য হতে চলেছে।

ছয় পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগ কতটা?

রনজি ট্রফির ম্যাচে জয় এবং প্রথম ইনিংসে লিডের ভিত্তিতে পয়েন্টের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ। বাংলার সামনে এখন ম্যাচ জিতে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে তার জন্য দিল্লির দ্বিতীয় ইনিংস দ্রুত শেষ করতে হবে এবং বাকি রান সফলভাবে তাড়া করতে হবে।

বাংলার পেস বিভাগে রয়েছেন মহম্মদ শামি, আকাশ দীপ এবং মুকেশ কুমারের মতো অভিজ্ঞ ও কার্যকর বোলার। প্রথম ইনিংসে তাঁদের পারফরম্যান্স দলকে বড় সুবিধা দিয়েছে। দ্বিতীয় ইনিংসেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দিল্লিকে কম রানে আটকে দেওয়া সম্ভব হতে পারে।

তবে ক্রিকেটে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না। উইকেটের পরিস্থিতি, ব্যাটারদের প্রতিরোধ এবং চতুর্থ দিনের খেলার গতিপ্রকৃতির উপর ফল নির্ভর করবে। বাংলার লক্ষ্য থাকবে দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে দিল্লিকে চাপে রাখা এবং জয়ের সুযোগ কাজে লাগানো।

মুম্বইয়ের বড় ধাক্কা: চোটে মাঠের বাইরে আয়ুষ মাত্রে

বাংলার ম্যাচের পাশাপাশি রনজি ট্রফিতে আলোচনায় উঠে এসেছে মুম্বইয়ের শিবির। তরুণ ক্রিকেটার আয়ুষ মাত্রের চোট দলকে বড় সমস্যায় ফেলেছে। তাঁর ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে গ্রেড-৪ টিয়ার ধরা পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ধরনের চোট থেকে সেরে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে এবং আপাতত অন্তত এক মাস মাঠের বাইরে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

news image
আরও খবর

আয়ুষ মাত্রে ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম আলোচিত তরুণ প্রতিভা। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক হিসেবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে। চোট কাটিয়ে আইপিএলের পর ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরার পর আবার চোট পাওয়ায় তাঁর ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

একজন তরুণ ক্রিকেটারের জন্য বারবার চোট পাওয়া যেমন হতাশাজনক, তেমনই দলের পরিকল্পনাতেও তার প্রভাব পড়ে। মুম্বইয়ের মতো শক্তিশালী দলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারকে হারানো মানে ব্যাটিংয়ের বিকল্প এবং দলের ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে হওয়া।

আয়ুষের পরিবর্তে কি সুযোগ পাবেন কেকেআরের অঙ্গকৃষ রঘুবংশী?

আয়ুষ মাত্রের সম্ভাব্য পরিবর্ত হিসেবে কলকাতা নাইট রাইডার্সের তরুণ ক্রিকেটার অঙ্গকৃষ রঘুবংশীর নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি সুযোগ পেলে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করার নতুন মঞ্চ পেতে পারেন। তবে তাঁকে দলে নেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত কি না, তা সরকারি ঘোষণা ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

অঙ্গকৃষ রঘুবংশী তরুণ ব্যাটার হিসেবে পরিচিত এবং আইপিএলে কেকেআরের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত সুযোগ পেলে নিজের ব্যাটিংয়ের ধার আরও বাড়ানোর সুযোগ থাকবে তাঁর সামনে। আয়ুষের অনুপস্থিতিতে মুম্বই যদি তাঁকে বেছে নেয়, তবে সেটি তাঁর কেরিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে।

তবে দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু পরিচিতি নয়, বর্তমান ফর্ম, ফিটনেস, দলের প্রয়োজন এবং প্রতিযোগিতার নিয়মও গুরুত্বপূর্ণ। তাই সম্ভাব্য পরিবর্তের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য মুম্বই ক্রিকেট দলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নজরে রাখা প্রয়োজন।

সূর্যকুমার যাদবের সুযোগ অধরাই

এই ম্যাচের দল নির্বাচন ঘিরে সূর্যকুমার যাদবের নামও আলোচনায় এসেছে। তবে এবারও তাঁর দলে সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেটের পরিচিত মুখ হলেও ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় কে সুযোগ পাবেন, তা নির্ভর করে দলের প্রয়োজন এবং নির্বাচকদের সিদ্ধান্তের উপর।

রনজি ট্রফি ক্রিকেটারদের জন্য নিজেদের প্রমাণ করার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। এখানে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ভবিষ্যতে আরও বড় সুযোগ এনে দিতে পারে। তাই দল নির্বাচনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ক্রিকেটারদের কেরিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

কর্নাটকের হয়ে দুই ইনিংসেই ব্যর্থ কেএল রাহুল

অন্যদিকে, কর্নাটকের ম্যাচে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি কেএল রাহুল। দুই ইনিংসেই ব্যর্থ হওয়ায় তাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে তাঁর কাছ থেকে বড় ইনিংসের প্রত্যাশা থাকে। তবে ক্রিকেটে প্রতিটি ম্যাচে রান পাওয়া সম্ভব নয়।

ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাটারদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নিয়মিত রান করে ফর্ম ধরে রাখা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি রনজি ট্রফির মতো প্রতিযোগিতায় পারফরম্যান্সও ক্রিকেটারদের প্রস্তুতি এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে পরবর্তী ম্যাচে কেএল রাহুল কীভাবে ঘুরে দাঁড়ান, সেদিকেও নজর থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের।

রনজি ট্রফিতে নজর থাকবে চতুর্থ দিনের লড়াইয়ে

সব মিলিয়ে রনজি ট্রফির এই ম্যাচে বাংলা জয়ের ভালো সুযোগ তৈরি করেছে। প্রথম ইনিংসে ১৮৯ রানের লিড এবং দ্বিতীয় ইনিংসে দিল্লির তিনটি উইকেট তুলে নেওয়া বাংলাকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। চতুর্থ দিনে দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ শেষ করাই হবে লক্ষ্মীরতন শুক্লার দলের প্রধান লক্ষ্য।

অন্যদিকে, আয়ুষ মাত্রের চোট মুম্বইয়ের দল গঠনে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাঁর পরিবর্তে অঙ্গকৃষ রঘুবংশী সুযোগ পান কি না, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে। কর্নাটকের হয়ে কেএল রাহুলের ব্যর্থতাও ঘরোয়া ক্রিকেটের আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে।

বাংলার জয়, মুম্বইয়ের চোটের সমস্যা এবং কেকেআরের তরুণ তারকার সম্ভাব্য সুযোগ—সব মিলিয়ে রনজি ট্রফির এই পর্বে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নজর কাড়ছে। এখন দেখার, চতুর্থ দিনে দিল্লিকে দ্রুত অলআউট করে বাংলা ছয় পয়েন্টের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে কি না এবং মুম্বইয়ের দল নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত কোন ক্রিকেটার সুযোগ পান।

 

Preview image