পাঁচ বোলারের তিন জনের বয়স ৩৫। এক জনের ৩২। এক জন ২৫ বছরের। আগামী দু’বছরে সাদা বলের তিনটি বড় প্রতিযোগিতা রয়েছে। তাই এ বারের আইপিএল তাঁদের প্রত্যাবর্তনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।আগামী দু’বছরে সাদা বলের ক্রিকেটের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা। ২০২৭ সালে এক দিনের বিশ্বকাপ। ২০২৮ সালে অলিম্পিক্স এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ক্রিকেটারদের জন্য এ বারের আইপিএলের পারফরম্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইপিএলের পর এক দিনের বিশ্বকাপের সম্ভাব্য ক্রিকেটারদের বেছে নেবেন ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর।
দেশের হয়ে যাঁরা সাদা বলের ক্রিকেটে নিয়মিত, তাঁদের জন্য আইপিএল গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জাতীয় দলে জায়গা ধরে রাখার ক্ষেত্রে টি-টোয়েন্টি লিগের পারফরম্যান্স বিবেচ্য হবে। যাঁরা জাতীয় দলে জায়গা হারিয়েছেন, তাঁদের জন্য আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের জন্য জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ হতে পারে আইপিএল। এক সময় নিয়মিত ছিলেন, অথচ এখন জাতীয় দলের কাছাকাছিও নেই, এমন ক্রিকেটারের সংখ্যা কম নয়। অন্তত পাঁচ জন বোলারের নাম রয়েছে এই তালিকায়। তাঁরা হলেন মহম্মদ শামি, যুজবেন্দ্র চহাল, মুকেশ কুমার, রবি বিশ্নোই, হর্ষল পটেল।
মহম্মদ শামি
গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর ভারতীয় দলে আর জায়গা হয়নি শামির। একটা সময় ভারতীয় বোলিং আক্রমণের অন্যতম ভরসা ছিলেন। বিশেষ করে টেস্ট এবং এক দিনের ক্রিকেটে শামিকে ছাড়া ভারতীয় দল ভাবাই যেত না। গত এক দিনের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছিলেন। ২০২৩ সালেই আইপিএলে বেগনি টুপি জেতেন। সে বছর ক্রিকেটজীবনের সম্ভবত সেরা ফর্মে ছিলেন তিনি। তার পর ধীরে ধীরে ভারতীয় দল থেকে দূরে চলে গিয়েছেন। যদিও তাঁর দক্ষতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই।
জসপ্রীত বুমরাহ চোটের জন্য গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে পারেননি। শামি হতাশ করেননি। বাংলার হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলছেন। সাফল্য পাচ্ছেন। তা-ও জাতীয় নির্বাচকদের খুশি করতে পারছেন না। প্রাক্তন ক্রিকেটারদের একাংশ শামিকে টেস্ট দলে ফেরানোর দাবি তুলেছেন। তাতেও কান দেননি প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর।
শামি এ বার আইপিএল খেলবেন লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে। নতুন দলের হয়ে নিজেকে আবার প্রমাণ করতে হবে ৩৫ বছরের জোরে বোলারকে। আইপিএলে খেলেন বিশ্বের সেরা ক্রিকেটারেরা। নজর কাড়তে পারলে শামিকে উপেক্ষা করা কঠিন হতে পারে। ঢুকে পড়তে পারেন আগামী বছরের এক দিনের বিশ্বকাপের পরিকল্পনায়। গত বিশ্বকাপের সেরা বোলারের জন্য এ বারের আইপিএল তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হতে পারে প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ।
যুজবেন্দ্র চহাল
মহেন্দ্র সিংহ ধোনির নেতৃত্বাধীন টি-টোয়েন্টি দলের অন্যতম ভরসা ছিল ‘কুলচা’ জুটি। কুলদীপ যাদব এবং চহালকে একসঙ্গে এই নামে ডাকা হত। দেশের হয়ে ১৫০টির বেশি সাদা বলের ম্যাচ খেলেছেন ৩৫ বছরের লেগ স্পিনার। বছর তিনেক আগেও ভারতীয় দলে নিয়মিত ছিলেন। তার পর কয়েক বার ডাক পেলেও খেলার সুযোগ পাননি।
দেশের অন্যতম সেরা স্পিনার হিসাবে বিবেচনা করা হয় চহালকে। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করছেন। আইপিএলেও চহালের চাহিদা বেশ ভাল। গত বারের মতো এ বারও খেলবেন পঞ্জাব কিংসের হয়ে। ভারতীয় শিবিরে তাঁকে আবার পাকা জায়গা ফিরিয়ে দিতে পারে আইপিএলের পারফরম্যান্স।
মুকেশ কুমার
গম্ভীর-আগরকর জমানায় শামির মতোই ভারতীয় দলে ব্রাত্য হয়ে রয়েছেন মুকেশ। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় সফরে তিন ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল মুকেশের। সব মিলিয়ে এক বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটজীবন। খেলেছেন ৩টি টেস্ট, ৬টি এক দিনের ম্যাচ এবং ১৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। প্রায় নিয়মিত হয়ে গিয়েছিলেন ভারতীয় শিবিরে। ধারাবাহিকতার অভাব এবং চোট সমস্যায় পিছিয়ে পড়েছেন মুকেশ।
এ বারের আইপিএল ৩২ বছরের মুকেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। খেলবেন দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে। দলের জোরে বোলিং আক্রমণের অন্যতম মুখ বাংলার ক্রিকেটার। প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারলে ভারতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করতে পারেন। না-হলে আরও পিছিয়ে পড়তে হবে মুকেশকে।
রবি বিশ্নোই
২৫ বছরের লেগ স্পিনারও ভারতীয় দলে নিয়মিত সুযোগ পাচ্ছেন না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে একাধিক ক্রিকেটারের চোটের কারণে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ়ে সুযোগ পান। দু’টি ম্যাচ খেলেন। বিশাখাত্তনমে ৪ ওভারে খরচ করেন ৪৯ রান। বল হাতে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি, বলাই যায়। ১৫ জনের দলের একাধিক সদস্য চোট পেলে ডাক পড়ে বিশ্নোইয়ের। অর্থাৎ কোচ-নির্বাচকদের প্রথম পছন্দের তালিকায় তিনি নেই। বিশ্বকাপের দলেও ছিলেন না।
দেশের হয়ে একটি এক দিনের ম্যাচ এবং ৪৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলা বিশ্নোই এক সময় ভারতীয় দলে নিয়মিত ছিলেন। চহালের আগে তাঁর কথা ভাবা হত। পরে ধারাবাহিকতার অভাবে পিছিয়ে পড়েছেন। বিশ্নোই আইপিএল খেলবেন রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে। ভাল পারফরম্যান্স করলে বিশ্নোইয়ের নামও উঠে যেতে পারে নির্বাচকদের খাতায়।
হর্ষল পটেল
আইপিএলে দু’বার বেগনি টুপি জিতেছেন হর্ষল। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বিশেষজ্ঞ হিসাবে পরিচিত ৩৫ বছরের জোরে বোলার। ১৩-১৪ মাস ভারতের টি-টোয়েন্টি দলেও নিয়মিত ছিলেন। ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর আর সুযোগ পাননি। হর্ষলও ফর্ম ধরে রাখতে পারেননি। ছিটকে গিয়েছেন ভারতীয় দল থেকে। তিন বছরের বেশি ভারতীয় দলের বাইরে গুজরাতের ক্রিকেটার।
অলিম্পিক্স এবং আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ভারতীয় দলে জায়গা ফিরে পেতে আইপিএলকে পাখির চোখ করতে পারেন হর্ষলও। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে তাঁর পারফরম্যান্সের দিকে নজর থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের।
শামি, চহাল, হর্ষলের বয়স ৩৫। মুকেশের ৩২। বিশ্নোইয়ের ২৫। বিশ্নোইয়ের ক্রিকেটজীবনে দীর্ঘ সময় বাকি। বাকিরা প্রায় সকলেই শেষ দিকে। ভারতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে এ বারের আইপিএলে গুরুত্ব তাঁদের কাছে আরও বেশি। আগামী দু’বছরে সাদা বলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার কথা ধরলে এটাই হয়তো তাঁদের সামনে প্রত্যাবর্তনের শেষ বড় সুযোগ। আইপিএলে নজর থাকে অসংখ্য ক্রিকেটপ্রেমীর। এই প্রতিযোগিতায় ভাল পারফর্ম করলে চাপ বাড়বে কোচ, নির্বাচকদের উপর।
ভারতীয় ক্রিকেটে আইপিএল শুধুমাত্র একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট নয়, বরং এটি প্রতিভা যাচাইয়ের অন্যতম বড় প্ল্যাটফর্ম। বিশেষ করে সাদা বলের ক্রিকেটে (ওডিআই এবং টি-টোয়েন্টি), আইপিএলের পারফরম্যান্স অনেক সময় জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। প্রতি বছর এই টুর্নামেন্টে বিশ্বের সেরা ক্রিকেটাররা অংশগ্রহণ করেন, ফলে প্রতিযোগিতার মান অত্যন্ত উচ্চ। তাই এখানে ভালো পারফরম্যান্স করলে নির্বাচকদের নজরে আসা সহজ হয়, আর খারাপ পারফরম্যান্স মানেই তালিকা থেকে পিছিয়ে পড়া।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমন অনেক ভারতীয় ক্রিকেটার রয়েছেন, যারা একসময় জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য ছিলেন, কিন্তু এখন দল থেকে অনেকটাই দূরে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পাঁচজন বোলার হলেন—মহম্মদ শামি, যুজবেন্দ্র চহাল, মুকেশ কুমার, রবি বিশ্নোই এবং হর্ষল পটেল। এঁদের প্রত্যেকের কাছেই আসন্ন আইপিএল শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং জাতীয় দলে ফিরে আসার সম্ভাব্য শেষ বড় সুযোগ।
মহম্মদ শামি দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় বোলিং আক্রমণের অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন। বিশেষ করে টেস্ট এবং একদিনের ক্রিকেটে তাঁর অবদান অসামান্য। ২০২৩ সালের একদিনের বিশ্বকাপে তিনি সর্বাধিক উইকেট শিকার করে নিজেকে আবারও প্রমাণ করেছিলেন। সেই বছর আইপিএলেও বেগনি টুপি জিতে তিনি দেখিয়েছিলেন, তাঁর ধার এখনো কমেনি।
কিন্তু তারপর থেকেই ধীরে ধীরে জাতীয় দল থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করেন শামি। বয়স এখন ৩৫, যা একজন ফাস্ট বোলারের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জিং। যদিও তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করছেন, তবুও নির্বাচকদের আস্থা ফিরে পাচ্ছেন না।
এই অবস্থায় আইপিএল শামির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে খেলতে নামবেন তিনি। এখানে যদি তিনি আবার আগের মতো ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করতে পারেন, তাহলে নির্বাচকদের তাঁকে উপেক্ষা করা কঠিন হবে। বিশেষ করে আগামী একদিনের বিশ্বকাপের কথা মাথায় রাখলে অভিজ্ঞ বোলার হিসেবে তাঁর প্রয়োজনীয়তা আবার সামনে আসতে পারে।
যুজবেন্দ্র চহাল একসময় ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের অন্যতম প্রধান স্পিনার ছিলেন। কুলদীপ যাদবের সঙ্গে তাঁর ‘কুলচা’ জুটি প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিল। ১৫০টির বেশি আন্তর্জাতিক সাদা বলের ম্যাচ খেলা এই লেগ স্পিনার বর্তমানে জাতীয় দলে জায়গা হারিয়েছেন।
চহালের সমস্যার মূল কারণ ধারাবাহিকতার অভাব এবং নতুন প্রতিভাদের আগমন। তবে ঘরোয়া ক্রিকেট এবং আইপিএলে তাঁর পারফরম্যান্স এখনো প্রশংসনীয়। পঞ্জাব কিংসের হয়ে এবারের আইপিএলে তিনি খেলবেন।
চহালের জন্য আইপিএল একটি সোনালী সুযোগ। এখানে যদি তিনি উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা এবং ম্যাচ ঘোরানোর দক্ষতা আবার প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে জাতীয় দলে তাঁর প্রত্যাবর্তন সম্ভব। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে একজন অভিজ্ঞ লেগ স্পিনার হিসেবে তাঁর গুরুত্ব আবার বাড়তে পারে।
মুকেশ কুমার তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের ছাপ ফেলেছেন। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তাঁর অভিষেক হয় এবং খুব দ্রুতই তিনি ভারতীয় দলে জায়গা করে নেন। তিন ফরম্যাটেই খেলার সুযোগ পাওয়া তাঁর প্রতিভার প্রমাণ।
তবে চোট এবং ধারাবাহিকতার অভাবে তিনি এখন দলের বাইরে। ৩২ বছর বয়সী এই পেসার জানেন, সামনে সুযোগ খুব বেশি নেই। দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে এবারের আইপিএলে তাঁর পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে তাঁর ভবিষ্যৎ।
যদি তিনি নতুন বল এবং ডেথ ওভারে কার্যকর বোলিং করতে পারেন, তাহলে জাতীয় দলের দরজা আবার খুলে যেতে পারে। না হলে তিনি হয়তো ধীরে ধীরে নির্বাচকদের তালিকা থেকে হারিয়ে যাবেন।
২৫ বছর বয়সী রবি বিশ্নোই এখনো তরুণ, কিন্তু ইতিমধ্যেই তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিজ্ঞ। একসময় তাঁকে ভারতের ভবিষ্যৎ লেগ স্পিনার হিসেবে দেখা হত। কিন্তু ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের অভাবে তিনি এখন প্রথম পছন্দের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।
নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সুযোগ পেলেও তিনি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। ফলে নির্বাচকদের আস্থা কিছুটা কমেছে। এবারের আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলবেন তিনি।
বিশ্নোইয়ের জন্য এটি নিজেকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ। তাঁর কাছে সময় আছে, কিন্তু প্রতিযোগিতা খুবই কঠিন। যদি তিনি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি রান কম দিতে পারেন, তাহলে আবার জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
হর্ষল পটেল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাঁর বৈচিত্র্যময় বোলিংয়ের জন্য পরিচিত। আইপিএলে দু’বার বেগনি টুপি জেতা তাঁর দক্ষতার প্রমাণ। একসময় তিনি ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের নিয়মিত সদস্য ছিলেন।
কিন্তু ২০২৩ সালের পর থেকে তিনি আর জাতীয় দলে সুযোগ পাননি। ফর্মের ওঠানামা এবং নতুন পেসারদের আগমনের ফলে তিনি পিছিয়ে পড়েছেন। এখন তিনি সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলবেন।
হর্ষলের জন্য আইপিএল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর স্লোয়ার বল এবং ডেথ ওভারের দক্ষতা যদি আবার কার্যকর হয়, তাহলে তিনি জাতীয় দলে ফিরে আসার দাবি জানাতে পারবেন।
এই পাঁচজন বোলারের মধ্যে তিনজন—শামি, চহাল এবং হর্ষল—৩৫ বছরের কাছাকাছি। মুকেশ ৩২, আর বিশ্নোই ২৫। অর্থাৎ বিশ্নোই ছাড়া বাকিদের ক্ষেত্রে সময় খুব বেশি নেই।
ক্রিকেট এখন অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক। প্রতি বছর নতুন প্রতিভা উঠে আসছে। ফলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জায়গা ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় আইপিএলই একমাত্র মঞ্চ, যেখানে অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা নিজেদের আবার প্রমাণ করতে পারেন।
বর্তমান ভারতীয় নির্বাচকরা তরুণদের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। তবে অভিজ্ঞতার মূল্যও পুরোপুরি অস্বীকার করা যায় না। বড় টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের উপস্থিতি দলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
আইপিএলে ভালো পারফরম্যান্স করলে নির্বাচকদের উপর চাপ তৈরি হয়। কারণ এই টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচ লক্ষ লক্ষ দর্শক দেখেন। তাই কোনো খেলোয়াড় ধারাবাহিকভাবে ভালো করলে তাঁকে উপেক্ষা করা কঠিন।
এই পাঁচজন বোলারের জন্য আইপিএল শুধুমাত্র একটি সুযোগ নয়, বরং এটি এক ধরনের শেষ পরীক্ষা। এখানে ভালো করলে জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন সম্ভব, আর খারাপ করলে হয়তো সেই দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।
বিশেষ করে আগামী দুই বছরে একাধিক বড় টুর্নামেন্ট রয়েছে—ওডিআই বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সিরিজ। এই টুর্নামেন্টগুলির আগে দল গঠনের কাজ শুরু হয়ে গেছে। তাই এখনই নিজেদের প্রমাণ করতে না পারলে সুযোগ পাওয়া কঠিন হবে।
আইপিএল ভারতীয় ক্রিকেটারদের জন্য শুধু অর্থ বা জনপ্রিয়তার উৎস নয়, বরং এটি ক্যারিয়ার গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। যারা জাতীয় দল থেকে ছিটকে গেছেন, তাঁদের জন্য এটি ফিরে আসার সেরা মঞ্চ।
মহম্মদ শামি, যুজবেন্দ্র চহাল, মুকেশ কুমার, রবি বিশ্নোই এবং হর্ষল পটেলের মতো ক্রিকেটারদের কাছে এবারের আইপিএল তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের প্রত্যেকের সামনে রয়েছে নিজেকে আবার প্রমাণ করার সুযোগ।
শেষ পর্যন্ত বলা যায়, আইপিএল শুধুমাত্র একটি লিগ নয়—এটি স্বপ্ন, প্রত্যাশা এবং প্রত্যাবর্তনের গল্প। যারা নিজেদের দক্ষতা এবং মানসিক শক্তি দিয়ে এই মঞ্চে উজ্জ্বল হতে পারবেন, তাঁরাই আবার জাতীয় দলের জার্সি পরার সুযোগ পাবেন। আর যারা পারবেন না, তাঁদের জন্য হয়তো এটি হবে এক অধ্যায়ের সমাপ্তি।