লিভারের সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় হাত-পায়েই প্রকাশ পেতে পারে। ত্বকের রং পরিবর্তন, চুলকানি, পা ফুলে যাওয়া-সহ কোন কোন উপসর্গ লিভারের রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে? জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলি এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
লিভার বা যকৃত আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। খাবার হজমে সাহায্য করা, শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্রোটিন তৈরি, পুষ্টি উপাদান প্রক্রিয়াকরণ এবং ক্ষতিকর পদার্থ নিষ্কাশনের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে লিভার। তাই লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ব্যাহত হলে তার প্রভাব শরীরের বিভিন্ন অংশে পড়তে পারে। কিন্তু সমস্যা হল, লিভারের রোগ সব সময় প্রাথমিক পর্যায়ে স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। অনেক ক্ষেত্রেই রোগের লক্ষণ বুঝতে দেরি হয়। এর ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে জটিলতা।
সাধারণত জন্ডিস, পেট ফুলে যাওয়া, ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব এবং হজমের সমস্যাকে লিভারের অসুখের পরিচিত লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু শুধু এই উপসর্গগুলিই নয়, হাত ও পায়ের কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তনও কখনও কখনও লিভারের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। হাতের তালু লাল হয়ে যাওয়া, নখের রং বা গঠনে পরিবর্তন, গোড়ালি ও পা ফুলে যাওয়া, ত্বকে জালের মতো রক্তনালি দেখা দেওয়া এবং হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অসাড়তা অনুভব করার মতো লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
তবে মনে রাখতে হবে, হাত-পায়ে এই পরিবর্তনগুলি দেখা দিলেই লিভারের রোগ হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়। কারণ, একই ধরনের উপসর্গের পিছনে রক্তস্বল্পতা, পুষ্টির ঘাটতি, ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা, হৃদ্যন্ত্রের অসুখ কিংবা স্নায়ুর বিভিন্ন সমস্যাও থাকতে পারে। তাই লক্ষণগুলির কারণ বুঝতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
হাতের তালু স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি লালচে হয়ে গেলে বিষয়টি নজরে রাখা প্রয়োজন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে পালমার এরিথেমা (Palmar Erythema) বলা হয়। সাধারণত দুই হাতের তালুর নির্দিষ্ট অংশে লালচে ভাব দেখা যায়। কখনও হাতের তালু গরম অনুভূত হতে পারে, যদিও সব ক্ষেত্রে ব্যথা বা চুলকানি থাকে না।
কিছু দীর্ঘস্থায়ী লিভারের রোগে হরমোনের ভারসাম্য এবং রক্তনালির পরিবর্তনের কারণে হাতের তালু লাল হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে লিভারের দীর্ঘস্থায়ী অসুখ বা সিরোসিসের সঙ্গে এই লক্ষণের সম্পর্ক পাওয়া যায়। তবে গর্ভাবস্থা, হরমোনের পরিবর্তন এবং অন্যান্য শারীরিক অবস্থাতেও হাতের তালু লাল হতে পারে।
তাই হাতের তালু লাল দেখালেই লিভারের রোগ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিবর্তন থাকলে, বিশেষ করে অন্য উপসর্গের সঙ্গে দেখা দিলে, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
নখের রং, আকার বা গঠনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কখনও কখনও শরীরের অভ্যন্তরীণ সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী লিভারের রোগে কিছু মানুষের নখ ফ্যাকাশে বা সাদাটে হয়ে যেতে পারে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে নখের বেশির ভাগ অংশ সাদা দেখায় এবং নখের প্রান্তে তুলনামূলক গাঢ় রং দেখা যায়।
লিভারের রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু নখের পরিবর্তনকে টেরির নেলস (Terry’s Nails) বা লিন্ডসে নেলসের (Lindsay’s Nails) মতো চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় বর্ণনা করা হয়। তবে নখের এই পরিবর্তনগুলির ধরন এক নয় এবং সব পরিবর্তন একই রোগের ইঙ্গিত দেয় না।
অন্যদিকে, আয়রনের ঘাটতি, রক্তস্বল্পতা, ভিটামিন বা অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের অভাব, ছত্রাকের সংক্রমণ এবং নখে আঘাত লাগার কারণেও নখের রং বা গঠন বদলে যেতে পারে। নখ দীর্ঘদিন অস্বাভাবিক দেখালে অথবা একই সঙ্গে দুর্বলতা, ক্লান্তি কিংবা অন্য উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
গোড়ালি বা পা ফুলে যাওয়া লিভারের গুরুতর সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে। লিভার শরীরে অ্যালবুমিন নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন তৈরি করে। লিভারের কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে রক্তে অ্যালবুমিনের মাত্রা কমে যেতে পারে। এর ফলে রক্তনালির মধ্যে তরল ধরে রাখার ক্ষমতা কমে শরীরের বিভিন্ন টিস্যুতে তরল জমতে পারে।
এছাড়াও লিভারের গুরুতর রোগে শরীরে লবণ ও জলের ভারসাম্য এবং রক্তসঞ্চালনের পরিবর্তনের কারণে পা, গোড়ালি ও পেট ফুলে যেতে পারে। পেটে তরল জমে ফুলে যাওয়ার অবস্থাকে অ্যাসাইটিস (Ascites) বলা হয়।
বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী লিভারের রোগ বা সিরোসিসের অগ্রসর পর্যায়ে এই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে পা ফোলার কারণ শুধুই লিভারের অসুখ নয়। হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা, কিডনির রোগ, শিরায় রক্ত চলাচলের সমস্যা এবং নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের কারণেও পা ফুলতে পারে।
হঠাৎ এক পা ফুলে গেলে, বিশেষ করে ব্যথা, লালচে ভাব বা গরম অনুভূতির সঙ্গে এমনটা হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। পা ফোলার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা হলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
ত্বকের উপর ছোট লাল বিন্দু থেকে মাকড়সার জালের মতো সূক্ষ্ম রক্তনালি চারদিকে ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেলে তাকে স্পাইডার অ্যাঞ্জিওমা (Spider Angioma) বলা হয়। সাধারণত মুখ, ঘাড়, বুক এবং শরীরের উপরের অংশে এই ধরনের পরিবর্তন বেশি দেখা যায়। কিছু ক্ষেত্রে হাতেও তা নজরে আসতে পারে।
লিভারের দীর্ঘস্থায়ী রোগ, বিশেষ করে সিরোসিসের ক্ষেত্রে, হরমোনের ভারসাম্য ও রক্তনালির পরিবর্তনের সঙ্গে এই লক্ষণের সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে সুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যেও, বিশেষ করে নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থায়, স্পাইডার অ্যাঞ্জিওমা দেখা যেতে পারে। তাই এই লক্ষণ একা লিভারের রোগ নির্ণয়ের জন্য যথেষ্ট নয়।
এখানে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার, ত্বকের উপর দৃশ্যমান সব রক্তনালি স্পাইডার অ্যাঞ্জিওমা নয়। নীলচে বা সবুজ শিরা, ভ্যারিকোজ ভেইন এবং অন্যান্য রক্তনালির পরিবর্তন আলাদা সমস্যা হতে পারে। ত্বকে নতুন করে অনেকগুলি এমন দাগ দেখা দিলে অথবা তার সঙ্গে জন্ডিস, পেট ফোলা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
হাত-পায়ে বারবার ঝিনঝিনি অনুভব করা, অসাড় হয়ে যাওয়া, জ্বালাপোড়া বা ব্যথা হওয়া স্নায়ুর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। কিছু লিভারের রোগের সঙ্গে স্নায়ুর ক্ষতির সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ করলে লিভারের পাশাপাশি পেরিফেরাল নার্ভ বা প্রান্তীয় স্নায়ুও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
হেপাটাইটিস সি-র মতো কিছু সংক্রমণের সঙ্গেও নির্দিষ্ট ধরনের স্নায়ুজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার দীর্ঘস্থায়ী লিভারের রোগে পুষ্টির ঘাটতি কিংবা অন্যান্য শারীরিক জটিলতা স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
তবে হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অসাড়তা হওয়ার আরও অনেক কারণ রয়েছে। ডায়াবেটিস, ভিটামিন বি১২-র ঘাটতি, স্নায়ুর উপর চাপ, দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকা এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও এমন সমস্যা হতে পারে।
তাই এই লক্ষণ বারবার দেখা দিলে নিজের ইচ্ছায় ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। হঠাৎ শরীরের এক পাশ অসাড় হয়ে যাওয়া, হাত-পায়ে দুর্বলতা, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা মুখ বেঁকে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
লিভারের রোগের ধরন ও পর্যায় অনুযায়ী উপসর্গ আলাদা হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের কোনও স্পষ্ট লক্ষণ নাও থাকতে পারে। তবে রোগের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
১. চোখের সাদা অংশ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া, যা জন্ডিসের লক্ষণ হতে পারে।
২. প্রস্রাবের রং স্বাভাবিকের তুলনায় গাঢ় হয়ে যাওয়া।
৩. মলের রং অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া।
৪. দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভব করা।
৫. ক্ষুধা কমে যাওয়া, বমি বমি ভাব কিংবা খাবারে অনীহা।
৬. পেটের ডান দিকের উপরের অংশে অস্বস্তি বা ব্যথা অনুভব করা।
৭. পেট ফুলে যাওয়া বা পেটে তরল জমা।
৮. ত্বকে অস্বাভাবিক চুলকানি।
৯. সহজে কালশিটে পড়া বা রক্তপাত হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাওয়া।
১০. গুরুতর ক্ষেত্রে ঘুমের ধরন বদলে যাওয়া, বিভ্রান্তি বা অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দেওয়া।
এই উপসর্গগুলির কোনও একটি দেখা দিলেই লিভারের রোগ হয়েছে, এমন নয়। তবে একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দিলে বা সমস্যা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ফ্যাটি লিভার বলতে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমাকে বোঝায়। অনেকের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনও উপসর্গ থাকে না। বিপাকীয় সমস্যা, অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস, উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইড এবং অ্যালকোহল গ্রহণসহ বিভিন্ন কারণের সঙ্গে লিভারে চর্বি জমার সম্পর্ক থাকতে পারে।
হেপাটাইটিস বলতে লিভারের প্রদাহকে বোঝায়। ভাইরাসের সংক্রমণ, অ্যালকোহল, নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ এবং অন্যান্য কারণেও লিভারে প্রদাহ হতে পারে। রোগের কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়।
অন্যদিকে, সিরোসিস হল লিভারে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত ও দাগ তৈরি হওয়ার একটি গুরুতর অবস্থা। এর ফলে লিভারের স্বাভাবিক গঠন ও কার্যক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে। সিরোসিসের অগ্রসর পর্যায়ে পেটে তরল জমা, পা ফোলা, জন্ডিস এবং অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।
এই তিনটি অবস্থার লক্ষণ সব সময় এক রকম নয়। শুধু হাত-পায়ের পরিবর্তন দেখে রোগের ধরন বা পর্যায় বোঝা সম্ভব নয়। সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ, শারীরিক অবস্থা, পূর্বের রোগের ইতিহাস এবং ঝুঁকির কারণ বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্ধারণ করেন। সম্ভাব্য পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে:
লিভার ফাংশন টেস্ট (LFT): রক্তে লিভারের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন এনজাইম, বিলিরুবিন ও অন্যান্য উপাদানের মাত্রা মূল্যায়ন করতে সাহায্য করে।
রক্তের অ্যালবুমিন ও অন্যান্য পরীক্ষা: লিভারের প্রোটিন তৈরির ক্ষমতা এবং সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে।
হেপাটাইটিস পরীক্ষা: প্রয়োজন অনুযায়ী হেপাটাইটিস বি বা সি-র মতো সংক্রমণ শনাক্ত করতে করা হতে পারে।
আলট্রাসনোগ্রাম: লিভারের গঠন, চর্বি জমার সম্ভাবনা এবং পেটে তরল জমার মতো বিষয় মূল্যায়নে সাহায্য করতে পারে।
অন্যান্য পরীক্ষা: উপসর্গ ও প্রাথমিক পরীক্ষার ফল অনুযায়ী আরও পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।
কোনও একটি পরীক্ষার ফল দেখেই সব ক্ষেত্রে লিভারের রোগের সম্পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না। চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষার ফল একসঙ্গে বিচার করে সিদ্ধান্ত নেন।
লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন উপকারী হতে পারে।
প্রথমত, সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। শাকসবজি, ফল, ডাল, সম্পূর্ণ শস্য এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন। অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি পানীয় এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া ভালো।
দ্বিতীয়ত, শরীরের ওজন ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিন। অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস এবং রক্তে চর্বির মাত্রা বেশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তা নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমও গুরুত্বপূর্ণ।
তৃতীয়ত, অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন, বিশেষ করে লিভারের রোগ থাকলে। কোনও ওষুধ বা হার্বাল সাপ্লিমেন্ট নিজে থেকে শুরু করবেন না, কারণ কিছু উপাদান লিভারের ক্ষতি করতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করুন।
চতুর্থত, হেপাটাইটিস বি-র টিকা নেওয়ার বিষয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। সংক্রমণের ঝুঁকি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
সবশেষে, লিভারের রোগের ঝুঁকি থাকলে অথবা অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে নিয়মিত চিকিৎসা মূল্যায়ন করান। কোনও লক্ষণ না থাকলেও নির্দিষ্ট ঝুঁকির কারণে পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।
হাত-পায়ের পরিবর্তনের সঙ্গে চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া, পেট দ্রুত ফুলে যাওয়া, প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া কিংবা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। রক্তবমি, কালো পায়খানা, নতুন করে বিভ্রান্তি বা অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
হঠাৎ এক পা ফুলে যাওয়া এবং তার সঙ্গে ব্যথা, অথবা পা ফোলার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা হলেও দেরি করা উচিত নয়।
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। তাই হাতের তালু লাল হয়ে যাওয়া, নখের রং বদলে যাওয়া, পা ফোলা, ত্বকে জালের মতো রক্তনালি দেখা দেওয়া কিংবা হাত-পায়ে ঝিনঝিনি অনুভব করার মতো পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন। তবে এই লক্ষণগুলি লিভারের রোগের নিশ্চিত প্রমাণ নয়। অন্য রোগেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তন দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বা একাধিক উপসর্গ একসঙ্গে দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করিয়ে রোগের কারণ শনাক্ত করা এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু করাই লিভারের জটিলতা কমানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সতর্কতা: এই প্রতিবেদনটি সাধারণ স্বাস্থ্যসচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা। এটি চিকিৎসকের পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়।