Jio Platforms IPO-তে তৈরি হল বিশ্বরেকর্ড। শুক্রবার সাবস্ক্রিপশন বন্ধ হওয়ার আগে এক কোটির গণ্ডি পেরিয়ে যায় আবেদন সংখ্যা। শেষ পর্যন্ত প্রায় ১.৩ কোটির বেশি আবেদন এবং বিপুল অঙ্কের বিডে ইতিহাস তৈরি করল ভারতের সবচেয়ে বড় IPO।
ভারতের শেয়ার বাজার এবং প্রাইমারি মার্কেটে নতুন ইতিহাস তৈরি করল Jio Platforms-এর Initial Public Offering বা IPO। দেশের সবচেয়ে বড় পাবলিক ইস্যু হিসেবে বাজারে আসা জিও প্ল্যাটফর্মসের শেয়ার কেনার জন্য বিনিয়োগকারীদের যে বিপুল উৎসাহ দেখা গেল, তা শুধু ভারতীয় বাজারেই নয়, বিশ্বস্তরেও নজির তৈরি করেছে। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, তিন দিনের সাবস্ক্রিপশন পর্ব শেষ হওয়ার সময় পর্যন্ত এই IPO-তে আবেদনকারীর সংখ্যা এক কোটির গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। ফলে কোনও পাবলিক ইস্যুতে এক কোটির বেশি আবেদন পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বরেকর্ড তৈরি হয়েছে।
₹৩০,২১৩ কোটি টাকার এই IPO শুরু থেকেই বিনিয়োগকারীদের নজরের কেন্দ্রে ছিল। ইস্যু খোলার পর থেকেই বিভিন্ন শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জিওর শেয়ার কেনার আগ্রহ দ্রুত বাড়তে থাকে। প্রথম দিনেই ইস্যুটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে সাবস্ক্রাইব হয়ে যায়। পরবর্তী দুই দিনে সেই চাহিদা আরও বেড়ে যায়। শুক্রবার বাজার বন্ধ হওয়ার আগে পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, IPO-টি মোটামুটি ২২ গুণেরও বেশি সাবস্ক্রাইব হয়েছে এবং আবেদন সংখ্যা পৌঁছেছে এক কোটির অনেক ওপরে।
জিও প্ল্যাটফর্মসের IPO-র সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক অবশ্য শুধু ইস্যুর আকার নয়। বিনিয়োগকারীদের আবেদনের সংখ্যাই এই পাবলিক অফারকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলাদা জায়গা দিয়েছে। এর আগে Waaree Energies-এর IPO-তে প্রায় ৯৭ লক্ষের বেশি আবেদন পড়েছিল, যা দীর্ঘদিন ধরে সর্বোচ্চ আবেদন সংখ্যার রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। জিও সেই সংখ্যাকে পেরিয়ে এক কোটির সীমা অতিক্রম করে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।
শুক্রবার দুপুরের আগেই জিও প্ল্যাটফর্মসের IPO এক কোটি আবেদন অতিক্রম করে। তখনও সাবস্ক্রিপশন বন্ধ হতে কয়েক ঘণ্টা বাকি ছিল। ফলে শেষ পর্যন্ত আবেদন সংখ্যা আরও বাড়বে বলে বাজারে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। দিনের শেষে বিভিন্ন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আবেদন সংখ্যা প্রায় ১.৩ কোটির বেশি হয়েছে। Moneycontrol-এর রিপোর্টে ১.৩৪ কোটি আবেদন এবং প্রায় ₹৭ লক্ষ কোটি মূল্যের সম্মিলিত বিডের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে কিছু রিপোর্টে আবেদন সংখ্যা প্রায় ১.৩৫ কোটি পর্যন্ত পৌঁছনোর কথা জানানো হয়েছে।
এই বিপুল আবেদন সংখ্যা দেখিয়ে দিয়েছে যে বড় মাপের একটি প্রযুক্তি ও ডিজিটাল পরিষেবা সংস্থার শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কতটা তীব্র হতে পারে। Jio Platforms-এর ব্যবসার পরিধি, Reliance Industries-এর সঙ্গে সম্পর্ক, ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতিতে Jio-র ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে IPO-টি সাধারণ বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, সকলের কাছেই বিশেষ আকর্ষণের বিষয় হয়ে উঠেছিল।
Jio Platforms-এর IPO-র ইস্যু সাইজ ছিল ₹৩০,২১৩ কোটি। এই আকারের কারণে শুরু থেকেই এটি ভারতের সবচেয়ে বড় পাবলিক ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত হয়। কিন্তু ইস্যু যত এগিয়েছে, ততই বোঝা যায় যে জিওর IPO-র গুরুত্ব শুধুমাত্র অর্থ সংগ্রহের পরিমাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বিনিয়োগকারীদের আবেদনের সংখ্যা, মোট বিডের মূল্য এবং বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে সাবস্ক্রিপশন—একাধিক ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে।
Economic Times-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, জিওর IPO-তে ₹৪.৫ লক্ষ কোটিরও বেশি পাবলিক সাবস্ক্রিপশন বিড জমা পড়েছে। এই অঙ্ক ভারতের প্রাইমারি মার্কেটে চাহিদার একটি নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। Anchor investor-দের অংশও ধরলে মোট চাহিদা প্রায় ₹৭ লক্ষ কোটি বা তারও বেশি হয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে Times of India জানিয়েছে, পুরো অফারে—অর্থাৎ anchor book-সহ—মোট চাহিদা প্রায় ₹৭.৫ লক্ষ কোটি পর্যন্ত পৌঁছেছে। একই সঙ্গে প্রায় ১.৩ কোটি বিনিয়োগকারী আবেদন করেছেন। এর ফলে জিওর IPO আবেদন সংখ্যা এবং মোট চাহিদা—দুই ক্ষেত্রেই আগের বড় রেকর্ডগুলিকে ছাপিয়ে যায়।
Jio Platforms-এর IPO-র চাহিদার সবচেয়ে বড় ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল প্রথম দিনেই। ইস্যু খোলার পর মাত্র প্রায় ১০০ মিনিটের মধ্যে পুরো IPO সাবস্ক্রাইব হয়ে যায়। এর ফলে ভারতের বড় মাপের IPO-গুলির মধ্যে এটি দ্রুততম সাবস্ক্রাইব হওয়া ইস্যুগুলির একটি হয়ে ওঠে।
সাধারণত কয়েক হাজার কোটি টাকার বড় IPO-তে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বোঝার জন্য প্রথম দিনের শেষে সাবস্ক্রিপশন ডেটা দেখা হয়। কিন্তু জিওর ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চাহিদার ছবি পরিষ্কার হয়ে যায়। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, উচ্চ সম্পদশালী বিনিয়োগকারী, খুচরো বিনিয়োগকারী এবং Reliance Industries-এর বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডার—সব শ্রেণিতেই আগ্রহ দেখা যায়।
জিও প্ল্যাটফর্মসের IPO-তে Qualified Institutional Buyers বা QIB শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। চূড়ান্ত পর্যায়ে QIB অংশে কয়েক ডজন গুণ সাবস্ক্রিপশন দেখা যায়। Economic Times-এর তথ্য অনুযায়ী, QIB-দের বিডের মূল্য প্রায় ₹৩.৮৭ লক্ষ কোটি পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
এই তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বড় IPO-তে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের চাহিদা বাজারের সামগ্রিক আস্থার একটি বড় সূচক হিসেবে দেখা হয়। জিওর ক্ষেত্রে QIB-দের বিপুল চাহিদা দেখিয়েছে যে দেশের পাশাপাশি বড় আন্তর্জাতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও সংস্থাটির ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহী।
Reuters-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, শুক্রবারের শেষে institutional category-তে চাহিদা বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ৭০ গুণেরও বেশি ছিল। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য ছিল।
শুধু বড় প্রতিষ্ঠান নয়, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও জিওর IPO নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। IPO-তে retail category-তেও শক্তিশালী সাবস্ক্রিপশন হয়েছে। অর্থাৎ জিওর বাজারে প্রবেশকে ঘিরে আগ্রহটি কেবলমাত্র বড় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।
একটি বড় IPO-তে বিপুল সংখ্যক আবেদন পাওয়া সাধারণত বোঝায় যে কোম্পানির ব্র্যান্ড এবং ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে ব্যাপক প্রত্যাশা রয়েছে। জিওর ক্ষেত্রে সেই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ Reliance-এর ডিজিটাল ব্যবসার সঙ্গে Jio Platforms-এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
জিওর আগে IPO-তে সর্বোচ্চ আবেদন সংখ্যার অন্যতম বড় রেকর্ড ছিল Waaree Energies-এর। সেই IPO-তে প্রায় ৯৭.৩৩ লক্ষ আবেদন এসেছিল বলে বিভিন্ন বাজার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। জিও সেই সংখ্যাকে পেরিয়ে যায় এবং প্রথম পাবলিক অফার হিসেবে এক কোটির বেশি আবেদন পাওয়ার নজির তৈরি করে।
এর আগে Bajaj Housing Finance এবং Bharat Coking Coal-এর IPO-তেও বিপুল আবেদন দেখা গিয়েছিল। কিন্তু জিওর ক্ষেত্রে সেই সংখ্যাও অনেকটাই ছাপিয়ে যায়। শুক্রবার দুপুরেই এক কোটির সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় এটি বিশ্বজুড়ে IPO-র ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হয়ে ওঠে।
জিওর IPO-র সাফল্যের আরেকটি বড় দিক হল মোট বিডের মূল্য। বিভিন্ন রিপোর্টে পাবলিক সাবস্ক্রিপশন পর্বে ₹৪.৫ লক্ষ কোটি থেকে প্রায় ₹৪.৯ লক্ষ কোটি পর্যন্ত বিডের কথা উঠে এসেছে।
Moneycontrol-এর হিসাবে, পাবলিক সাবস্ক্রিপশন থেকে জিওর IPO-তে প্রায় ₹৪.৫ লক্ষ কোটি মূল্যের বিড আসে। Anchor investors-দের অংশ যোগ করলে মোট চাহিদা প্রায় ₹৭ লক্ষ কোটি পর্যন্ত পৌঁছায়।
অন্যদিকে Business Today-এর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত IPO-তে ₹৪.৯০ লক্ষ কোটি মূল্যের বিড জমা পড়েছিল এবং মোট সাবস্ক্রিপশন ছিল ২২.১৯ গুণ।
এই সংখ্যাগুলি থেকে স্পষ্ট, বিনিয়োগকারীরা জিওর শেয়ার পাওয়ার জন্য ইস্যুর আকারের তুলনায় বহুগুণ বেশি অর্থের বিড করেছেন।
ভারতের IPO বাজারের ইতিহাসে Reliance Power-এর ২০০৮ সালের IPO একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল। সেই ইস্যুতে মোট চাহিদা প্রায় ₹৭.১ লক্ষ কোটি হয়েছিল বলে রিপোর্ট রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সেই অঙ্ক ছিল ভারতীয় প্রাইমারি মার্কেটের অন্যতম বড় চাহিদার রেকর্ড। জিওর IPO-তে anchor book-সহ মোট চাহিদা প্রায় ₹৭.৫ লক্ষ কোটি পর্যন্ত পৌঁছনোয় সেই পুরনো রেকর্ডও পিছনে পড়ে যায়।
ফলে Jio Platforms-এর IPO-কে শুধুমাত্র দেশের সবচেয়ে বড় IPO হিসেবে নয়, ভারতীয় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের চাহিদার দিক থেকেও একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Jio Platforms ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম। Reliance Industries-এর ডিজিটাল ও টেলিকম ব্যবসার সঙ্গে Jio ব্র্যান্ডের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। গত কয়েক বছরে Jio দেশের টেলিকম, ডিজিটাল পরিষেবা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এনেছে।
Jio-র মোবাইল পরিষেবা দেশের কোটি কোটি গ্রাহকের কাছে পৌঁছেছে। Reuters-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, Jio-র মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫০ কোটিরও বেশি। সংস্থাটির ব্যবসার সঙ্গে Meta Platforms এবং Google-এর মতো বড় প্রযুক্তি সংস্থারও সম্পর্ক রয়েছে।
এই বিশাল গ্রাহকভিত্তি, ডিজিটাল পরিষেবা এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তি-কেন্দ্রিক ব্যবসার সম্ভাবনাই IPO-কে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে বলে বাজার পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন।
Jio Platforms-এর IPO Reliance Industries-এর ডিজিটাল ব্যবসার জন্যও একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ২০২০ সালে Jio Platforms-এর প্রাইভেট ফান্ডরাইজিং পর্বে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগকারী সংস্থা অংশ নিয়েছিল। সেই সময় সংস্থাটি প্রায় $২০ বিলিয়ন মূলধন সংগ্রহ করেছিল।
এবার পাবলিক মার্কেটে প্রবেশের মাধ্যমে Jio Platforms আরও বিস্তৃত বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে গেল। IPO-র মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও Jio Platforms-এর ব্যবসায় অংশীদার হওয়ার সুযোগ পেলেন।
এটি ভারতের কর্পোরেট বাজারের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কারণ একটি বৃহৎ প্রযুক্তি ও ডিজিটাল পরিষেবা সংস্থা যখন এত বড় আকারে পাবলিক মার্কেটে আসে, তখন তার মূল্যায়ন, ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির পরিকল্পনা এবং ব্যবসার স্থায়িত্ব নিয়ে বাজারে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
Jio Platforms-এর IPO-তে শেয়ারের প্রাইস ব্যান্ড ছিল ₹১,০৬৫ থেকে ₹১,১১৯। Anchor investors-দের জন্যও শেয়ার উপরের প্রাইস ব্যান্ডে বরাদ্দ করা হয়েছিল। Reuters-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, IPO-র মাধ্যমে সংস্থাটির মূল্যায়ন প্রায় $১০৮.৩ বিলিয়ন পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
এই মূল্যায়ন Jio Platforms-কে ভারতের বৃহত্তম তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মধ্যে জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তাই IPO-র পর শেয়ার বাজারে Jio Platforms-এর প্রথম দিনের পারফরম্যান্সও বিনিয়োগকারীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
IPO-র সাবস্ক্রিপশন পর্ব শেষ হওয়ার পর এখন বাজারের নজর পরবর্তী ধাপে—অ্যালটমেন্ট এবং স্টক মার্কেট লিস্টিংয়ের দিকে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, অ্যালটমেন্ট প্রক্রিয়া ২৬ অক্টোবরের দিকে এবং লিস্টিং ২৮ অক্টোবর হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
তবে IPO-তে বিপুল সাবস্ক্রিপশন হয়েছে মানেই লিস্টিংয়ের দিন শেয়ার অবশ্যই নির্দিষ্ট হারে বাড়বে—এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। বাজার পরিস্থিতি, কোম্পানির মূল্যায়ন, বিনিয়োগকারীদের মনোভাব এবং সামগ্রিক শেয়ার বাজারের গতিপ্রকৃতি লিস্টিং পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করতে পারে।
Jio Platforms-এর IPO-তে বিপুল আবেদন বাজারে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা এবং বড় ব্র্যান্ডের প্রতি আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। তবে IPO-তে আবেদন করার আগে শুধুমাত্র কোম্পানির জনপ্রিয়তা বা অতীত সাফল্যের দিকে তাকানো যথেষ্ট নয়।
একজন বিনিয়োগকারীর উচিত কোম্পানির ব্যবসায়িক মডেল, আয়, মুনাফা, ঋণ, মূল্যায়ন, প্রতিযোগিতা, ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং IPO থেকে সংগৃহীত অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হবে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা।
বিশেষ করে অত্যন্ত বেশি সাবস্ক্রাইব হওয়া IPO-তে allotment পাওয়ার সম্ভাবনা খুচরো বিনিয়োগকারীদের জন্য কমে যেতে পারে। আবেদনকারীর সংখ্যা যত বেশি হয়, নির্দিষ্ট পরিমাণ শেয়ারের জন্য প্রতিযোগিতাও তত বাড়ে।
ভারতের পুঁজিবাজার গত কয়েক বছরে খুচরো বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে বড় পরিবর্তন দেখেছে। Demat account বৃদ্ধি, অনলাইন ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মের বিস্তার এবং IPO সম্পর্কে সাধারণ মানুষের আগ্রহ—সব মিলিয়ে প্রাইমারি মার্কেটের পরিধি অনেক বেড়েছে।
Jio Platforms-এর IPO সেই পরিবর্তনের একটি বড় প্রতিফলন। এক কোটির বেশি আবেদন পাওয়া দেখিয়ে দিয়েছে যে ভারতের IPO বাজার এখন শুধু বড় শহরের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বাজার নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষও বড় কোম্পানির IPO-তে অংশ নিতে আগ্রহী।
অবশ্য আবেদন সংখ্যা এবং প্রকৃত বিনিয়োগকারীর সংখ্যা এক জিনিস নয়। একজন বিনিয়োগকারী একাধিক PAN বা বৈধ বিনিয়োগ কাঠামোর মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন না হলেও বিভিন্ন শ্রেণির আবেদন এবং শেয়ার বরাদ্দের নিয়মের কারণে আবেদন সংখ্যা দিয়ে সরাসরি অনন্য ব্যক্তির সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না। তাই রেকর্ড আবেদনকে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের একটি সূচক হিসেবে দেখা উচিত, সরাসরি মানুষের সংখ্যা হিসেবে নয়।
Jio Platforms-এর IPO একাধিক ক্ষেত্রে নতুন বেঞ্চমার্ক তৈরি করেছে। প্রথমত, ₹৩০,২১৩ কোটি ইস্যু সাইজের কারণে এটি দেশের সবচেয়ে বড় IPO। দ্বিতীয়ত, পাবলিক সাবস্ক্রিপশনে ₹৪.৫ লক্ষ কোটি বা তার বেশি মূল্যের বিড একটি নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। তৃতীয়ত, এক কোটির বেশি আবেদন পাওয়ায় বিশ্বস্তরে একটি নতুন মাইলফলক তৈরি হয়েছে।
এই রেকর্ডগুলি ভারতের প্রাইমারি মার্কেটের গভীরতা এবং বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের নতুন মাত্রা তুলে ধরছে।
এখন বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে। প্রথমত, শেয়ার অ্যালটমেন্ট কতটা হয় এবং retail investors-দের allotment ratio কেমন থাকে। দ্বিতীয়ত, লিস্টিংয়ের দিন Jio Platforms-এর শেয়ারের পারফরম্যান্স কেমন হয়। তৃতীয়ত, IPO-র পরে বাজার সংস্থাটির মূল্যায়নকে কীভাবে গ্রহণ করে।
এর পাশাপাশি কোম্পানির ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক ফলাফলও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। IPO-র সময়কার বিপুল চাহিদা দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির আর্থিক পারফরম্যান্সে প্রতিফলিত হয় কি না, সেটিই শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠবে।
কোনও IPO-তে এক কোটির বেশি আবেদন পাওয়া শুধুমাত্র একটি সংখ্যা নয়। এটি একটি দেশের পুঁজিবাজারে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের মাত্রা বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। Jio Platforms-এর ক্ষেত্রে এই রেকর্ড ভারতের বাজারের ক্রমবর্ধমান পরিসরকে আন্তর্জাতিক আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
এর আগে Waaree Energies-এর প্রায় ৯৭ লক্ষ আবেদনের রেকর্ড ছিল। জিও সেই সংখ্যাকে দ্রুত ছাপিয়ে যায়। ফলে Jio Platforms প্রথম IPO হিসেবে এক কোটির বেশি আবেদন পাওয়ার রেকর্ড তৈরি করেছে।
Jio Platforms-এর IPO-কে ঘিরে তৈরি হওয়া আগ্রহকে শুধুমাত্র একটি কোম্পানির সাফল্য হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটা ধরা পড়বে না। এটি ভারতের ক্রমবর্ধমান পুঁজিবাজারেরও প্রতিফলন।
একদিকে রয়েছে ভারতের দ্রুত বাড়তে থাকা ডিজিটাল অর্থনীতি, অন্যদিকে রয়েছে নতুন প্রজন্মের বিনিয়োগকারীদের বাজারে প্রবেশ। IPO-র মতো প্রাইমারি মার্কেটের সুযোগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।
Jio Platforms-এর মতো পরিচিত ব্র্যান্ডের IPO সেই আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ভবিষ্যতে অন্যান্য বড় কোম্পানিও পাবলিক মার্কেটে আসার সময় এই রেকর্ডকে একটি benchmark হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।
সব মিলিয়ে Jio Platforms-এর IPO ভারতীয় শেয়ার বাজারের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হয়ে থাকল। ₹৩০,২১৩ কোটি টাকার এই ইস্যু দেশের সবচেয়ে বড় পাবলিক অফার হিসেবে বাজারে এসেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইস্যুর আকারের থেকেও বড় হয়ে উঠল বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ।
এক কোটির বেশি আবেদন, ₹৪.৫ লক্ষ কোটি বা তার বেশি পাবলিক বিড এবং anchor investors-সহ প্রায় ₹৭–৭.৫ লক্ষ কোটি পর্যন্ত মোট চাহিদা—সব মিলিয়ে Jio Platforms-এর IPO ভারতের প্রাইমারি মার্কেটে নতুন মাপকাঠি তৈরি করেছে। The
বিশ্বরেকর্ড গড়ে IPO-র সাবস্ক্রিপশন পর্ব শেষ হওয়ার পর এখন জিওর সামনে নতুন পরীক্ষা—শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তির পর বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে সংস্থা। বিপুল IPO চাহিদার পরে এখন বাজারের নজর থাকবে Jio Platforms-এর লিস্টিং, মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পারফরম্যান্সের দিকে।
অর্থাৎ, IPO-র আবেদন সংখ্যার দিক থেকে ইতিহাস তৈরি হয়ে গিয়েছে। এবার অপেক্ষা Jio Platforms-এর listed-company journey কেমন হয়, তা দেখার।