Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বাণিজ্যিক গ্যাসে বড় ধাক্কা! এক ধাক্কায় দাম বাড়ল ৭০ টাকা??

? বাণিজ্যিক গ্যাসের দামে বড় পরিবর্তন! ১ অক্টোবর থেকে ১৯ কেজি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বেড়ে ₹২,৯৫৪ হয়েছে। ফলে রেস্তোরাঁ, হোটেল ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে গ্যাসের খরচ আরও বাড়ল।

বাণিজ্যিক LPG সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বাড়ল, কলকাতায় নতুন দর ₹২,৯৫৪; গৃহস্থের গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত

১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কলকাতায় ১৯ কেজি বাণিজ্যিক LPG সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দরে কলকাতায় একটি ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম হয়েছে ₹২,৯৫৪। সেপ্টেম্বর মাসে এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ₹২,৮৮৪। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে সরাসরি ₹৭০ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে গৃহস্থালির জন্য ব্যবহৃত ১৪.২ কেজির LPG সিলিন্ডারের দাম কলকাতায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে—₹৯৬৮।

অক্টোবরের শুরুতেই এই দামবৃদ্ধি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উৎসবের মরশুম সামনে। রেস্তোরাঁ, হোটেল, ক্যাফে, ক্যাটারিং ব্যবসা, মিষ্টির দোকান এবং বিভিন্ন ছোট-বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ১৯ কেজির LPG সিলিন্ডার ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। ফলে বাণিজ্যিক LPG-এর দাম বাড়লে তাদের রান্না ও পরিচালন খরচের উপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।

কলকাতায় নতুন LPG-এর দাম কত?

১ অক্টোবর থেকে কলকাতায় LPG-এর ক্ষেত্রে মূল পরিবর্তন হয়েছে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারে। বর্তমানে দামগুলি হল—

  • ১৯ কেজি বাণিজ্যিক LPG: ₹২,৯৫৪
  • আগের দাম: ₹২,৮৮৪
  • দাম বেড়েছে: ₹৭০
  • ১৪.২ কেজি গৃহস্থালি LPG: ₹৯৬৮
  • গৃহস্থালি সিলিন্ডারে পরিবর্তন: নেই

অর্থাৎ, এই দফায় মূলত বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীরাই দামবৃদ্ধির মুখে পড়েছেন। গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের কলকাতা মূল্য আপাতত আগের জায়গাতেই রয়েছে।

কেন বাড়ল বাণিজ্যিক LPG-এর দাম?

LPG-এর দাম মাসে মাসে পরিবর্তিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে LPG ও অপরিশোধিত তেলের দামের গতিবিধি, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং অন্যান্য বাজার পরিস্থিতি ভারতীয় বাজারে জ্বালানির দামের উপর প্রভাব ফেলে। ১ অক্টোবরের সংশোধনও সেই বৃহত্তর বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এটি ২০২৬ সালে বাণিজ্যিক LPG-এর দামের ওঠানামার ধারাবাহিকতারও অংশ। কলকাতার ক্ষেত্রে সেপ্টেম্বর মাসে ১৯ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল ₹২,৮৮৪, আগস্টে ছিল ₹২,৮৭২.৫০ এবং জুলাইয়ে ₹৩,০৮১.৫০। অর্থাৎ বছরের বিভিন্ন সময়ে বাণিজ্যিক LPG-এর দামে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা গিয়েছে।

এই কারণে শুধুমাত্র একটি মাসের দাম দেখে বাজারের দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা নির্ধারণ করা ঠিক নয়। মাসিক সংশোধনের ফলে কখনও দাম বাড়ে, আবার কখনও কমেও।

গৃহস্থের রান্নার গ্যাসে কী পরিবর্তন হয়েছে?

এই দফায় কলকাতায় গৃহস্থালির ১৪.২ কেজির LPG সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়নি। ₹৯৬৮-তেই দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এর ফলে সাধারণ পরিবারের রান্নার গ্যাসের ক্ষেত্রে ১ অক্টোবরের এই বাণিজ্যিক LPG মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ছে না। তবে বাণিজ্যিক LPG ব্যবহারকারী রেস্তোরাঁ, হোটেল ও খাদ্য ব্যবসাগুলির জ্বালানি খরচ বাড়তে পারে।

রেস্তোরাঁ ও ছোট ব্যবসায় কী প্রভাব পড়তে পারে?

১৯ কেজির বাণিজ্যিক LPG সিলিন্ডার সাধারণত বিভিন্ন ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে রেস্তোরাঁ, হোটেল, ক্যাফে, খাবারের দোকান, ক্যাটারিং পরিষেবা এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক রান্নাঘরে LPG একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি।

একটি সিলিন্ডারে ₹৭০ বৃদ্ধি শুনতে খুব বড় অঙ্ক মনে না হলেও, যে ব্যবসাগুলিকে মাসে একাধিক সিলিন্ডার কিনতে হয়, তাদের ক্ষেত্রে মোট মাসিক ব্যয় বাড়তে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কোনও প্রতিষ্ঠান যদি মাসে ৫০টি সিলিন্ডার ব্যবহার করে, তাহলে শুধুমাত্র এই ₹৭০ বৃদ্ধির কারণে মাসিক অতিরিক্ত খরচ হবে ₹৩,৫০০। আবার ১০০টি সিলিন্ডার ব্যবহার করলে অতিরিক্ত খরচ দাঁড়াবে ₹৭,০০০—অন্যান্য খরচ অপরিবর্তিত থাকলে।

উৎসবের মরশুমে খাবারের চাহিদা বাড়লে অনেক ব্যবসায় LPG ব্যবহারের পরিমাণও বাড়তে পারে। ফলে ব্যবসার মোট জ্বালানি ব্যয়ের উপর মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ব্যবহারভেদে আলাদা হতে পারে। কলকাতার বাণিজ্যিক LPG মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে রেস্তোরাঁ, ক্যাফে ও অন্যান্য খাদ্য ব্যবসার পরিচালন ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্য শহরে LPG-এর দাম কত?

১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুধু কলকাতাতেই নয়, বিভিন্ন শহরে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক LPG-এর দাম পরিবর্তিত হয়েছে। শহরভেদে বৃদ্ধির পরিমাণও আলাদা।

উদাহরণ হিসেবে, দিল্লিতে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ₹২,৮১০, মুম্বইয়ে ₹২,৭৬৪.৫০ এবং চেন্নাইয়ে ₹২,৯৮৩ হয়েছে। পাটনায় দাম বেড়ে হয়েছে ₹৩,১০০.৫০।

অর্থাৎ LPG-এর দাম সারা দেশে এক নয়। সংশ্লিষ্ট শহরের বাজারমূল্য অনুযায়ী দাম নির্ধারিত হয়।

e-KYC নিয়ে কী জানা দরকার?

LPG গ্রাহকদের জন্য e-KYC এবং Aadhaar-based biometric authentication-এর বিষয়টিও অক্টোবর থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে LPG সুবিধার ক্ষেত্রে biometric Aadhaar authentication-এর নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

news image
আরও খবর

তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি। e-KYC না করলে সব ক্ষেত্রেই “গ্যাস সম্পূর্ণভাবে পাওয়া যাবে না”—এমন সরলীকৃত দাবি না করে গ্রাহকদের নিজেদের LPG সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট distributor-এর সর্বশেষ নির্দেশিকা যাচাই করা উচিত। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, biometric authentication সম্পন্ন না করা গ্রাহকদের subsidy সুবিধা প্রভাবিত হতে পারে এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে LPG বাজারদরে পাওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে।

তাই যাঁদের e-KYC এখনও সম্পূর্ণ হয়নি, তাঁদের জন্য দ্রুত নিজেদের সংযোগের status পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

e-KYC কেন গুরুত্বপূর্ণ?

e-KYC-এর মাধ্যমে গ্রাহকের পরিচয় ও LPG connection-এর তথ্য যাচাই করা হয়। এর অন্যতম উদ্দেশ্য হল প্রকৃত গ্রাহকের কাছে LPG পরিষেবা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সুবিধা পৌঁছানো এবং connection-এর তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করা।

বিশেষ করে যাঁরা সরকারি subsidy বা PMUY/Ujjwala-র মতো targeted LPG subsidy-এর আওতায় রয়েছেন, তাঁদের জন্য eligibility ও authentication status জানা আরও গুরুত্বপূর্ণ। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, PMUY গ্রাহকদের জন্য targeted subsidy ব্যবস্থাও চালু রয়েছে এবং eligible beneficiaries-এর ক্ষেত্রে subsidy সরাসরি bank account-এ credit করা হয়।

তাই subsidy পাওয়ার যোগ্য গ্রাহকদের e-KYC/biometric authentication-এর status সম্পর্কে সচেতন থাকা উচিত।

বুকিং করার আগে কী করবেন?

LPG cylinder বুক করার আগে গ্রাহকদের কয়েকটি বিষয় দেখে নেওয়া ভালো—

১. LPG connection-এর KYC status পরীক্ষা করুন।
আপনার connection-এ e-KYC বা biometric authentication সম্পূর্ণ হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট LPG সংস্থার official channel বা distributor-এর মাধ্যমে যাচাই করুন।

২. Cylinder-এর category দেখুন।
১৪.২ কেজির domestic cylinder এবং ১৯ কেজির commercial cylinder-এর দাম এক নয়। ব্যবসায়িক কাজে domestic cylinder ব্যবহার না করে সংশ্লিষ্ট নিয়ম মেনে commercial LPG ব্যবহার করা উচিত।

৩. Booking status যাচাই করুন।
অনলাইনে বা অ্যাপের মাধ্যমে booking করার পরে booking confirmation পাওয়া গিয়েছে কি না দেখে নিন।

৪. Subsidy eligibility বুঝে নিন।
সব LPG customer একই subsidy পান না। eligibility scheme অনুযায়ী আলাদা হতে পারে।

৫. বিল ও booking details সংরক্ষণ করুন।
Cylinder delivery-এর সময় invoice বা digital receipt রেখে দিলে পরবর্তীতে কোনও সমস্যা হলে তা কাজে লাগতে পারে।

অক্টোবরের LPG দামবৃদ্ধির সারাংশ

১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কলকাতায় বাণিজ্যিক LPG-এর নতুন দাম ₹২,৯৫৪। আগের ₹২,৮৮৪-এর তুলনায় বৃদ্ধি ₹৭০। অন্যদিকে, ১৪.২ কেজির domestic LPG-এর দাম ₹৯৬৮-এই অপরিবর্তিত রয়েছে।

এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব মূলত commercial LPG ব্যবহারকারী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর পড়বে। বিশেষ করে যেসব ব্যবসায় রান্নার জন্য প্রতিদিন প্রচুর LPG লাগে, তাদের মাসিক operating cost কিছুটা বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, সাধারণ গৃহস্থের ক্ষেত্রে কলকাতায় ১৪.২ কেজির LPG-এর দামে এই দফায় কোনও পরিবর্তন হয়নি। ফলে domestic cooking gas-এর ক্ষেত্রে অক্টোবরের এই সংশোধন থেকে তাৎক্ষণিক কোনও মূল্যবৃদ্ধি হয়নি।

সার্বিকভাবে, অক্টোবরের LPG price revision-এর দুটি আলাদা দিক রয়েছে—একদিকে commercial cylinder-এর দাম বৃদ্ধি, অন্যদিকে domestic cylinder-এর দাম অপরিবর্তিত থাকা। পাশাপাশি e-KYC ও biometric authentication সংক্রান্ত নিয়মও গ্রাহকদের নজরে রাখা প্রয়োজন।

নোট: LPG-এর দাম মাসে মাসে পরিবর্তিত হতে পারে এবং শহর ও cylinder category অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। তাই cylinder বুক করার আগে সংশ্লিষ্ট LPG সংস্থার official channel বা authorised distributor-এর কাছ থেকে সর্বশেষ দাম ও customer-status সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা সবচেয়ে নিরাপদ। IndianOil-এর LPG services portal-এ LPG পরিষেবা ও customer support-এর তথ্য পাওয়া যায়।

Preview image