ভারতের শেয়ারবাজারে ধাক্কা: শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে ৭টির মূল্য কমল ₹৮৮,৬৩৫ কোটি মুম্বই, ৯ নভেম্বর ২০২৫ — গত সপ্তাহে ভারতের শেয়ারবাজারে বড় ধরণের অস্থিরতা দেখা গেছে। দেশের শীর্ষ ১০টি সর্বাধিক মূলধনধারী কোম্পানির মধ্যে ৭টি সংস্থা একসাথে ₹৮৮,৬৩৫ কোটি টাকার বাজারমূল্য হারিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে Bharti Airtel ও Tata Consultancy Services (TCS)। Bharti Airtel-এর বাজারমূল্য প্রায় ₹৩০,৫০৬ কোটি কমে দাঁড়িয়েছে ₹১১.৪১ লক্ষ কোটি টাকায়। টেলিকম খাতে প্রতিযোগিতা ও 5G বিনিয়োগের বাড়তি চাপ এই পতনের অন্যতম কারণ। TCS-এর বাজারমূল্যও কমেছে ₹২৩,৬৮০ কোটি, যার ফলে তাদের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ₹১০.৮২ লক্ষ কোটি। মার্কিন বাজারে মন্দা এবং আইটি রপ্তানির অনিশ্চয়তা এর প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া Hindustan Unilever-এর মূল্য কমেছে ₹১২,২৫৩ কোটি, Reliance Industries-এর ₹১১,১৬৪ কোটি এবং HDFC Bank-এর প্রায় ₹৭,৩০৩ কোটি। অন্যদিকে Infosys ও ICICI Bank সামান্য পতনের মুখে পড়েছে। বিএসই সেনসেক্স এক সপ্তাহে ৭২২ পয়েন্ট (০.৮৬%) এবং নিফটি ৫০ সূচক ২২৯ পয়েন্ট (০.৮৯%) কমেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, তেলের দামের ওঠানামা, এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তোলার প্রবণতাই এই পতনের মূল কারণ। তবে সব কোম্পানি ক্ষতির মুখে পড়েনি। State Bank of India (SBI), LIC, ও ITC Ltd. স্থিতিশীল অবস্থান বজায় রেখেছে, কারণ এদের সেক্টরাল বৈচিত্র্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পতন সাময়িক। বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হয়ে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিতে বাজার পর্যবেক্ষণ করা উচিত। Kotak Securities-এর রুচি শাহ বলেন, “এই অস্থিরতা আসলে বাজারে পুনঃপ্রবেশের সুযোগ তৈরি করছে।” সারাংশে, Airtel ও TCS-এর নেতৃত্বে বাজারের সাময়িক পতন ভারতের অর্থনৈতিক শক্তি নিয়ে কোনও বড় প্রশ্ন তোলে না, বরং বিনিয়োগকারীদের জন্য ভবিষ্যতের কৌশল পুনর্গঠনের সংকেত দেয়।
ভারতের শেয়ারবাজারে ধাক্কা: শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে ৭টির বাজারমূল্য কমল ₹৮৮,৬৩৫ কোটি — সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে Airtel ও TCS
মুম্বই, ৯ নভেম্বর ২০২৫ — ভারতের শেয়ারবাজারে এক সপ্তাহের অস্থিরতার ফলে দেশের শীর্ষ ১০টি সর্বাধিক মূলধনধারী কোম্পানির মধ্যে ৭টি সংস্থার বাজারমূল্য কমে গেছে। সামগ্রিকভাবে এই পতনের পরিমাণ প্রায় ₹৮৮,৬৩৫.২৮ কোটি, যা বাজারের স্থিতিশীলতার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে। সর্বাধিক ক্ষতির মুখে পড়েছে Bharti Airtel ও Tata Consultancy Services (TCS)।
Bharti Airtel
সপ্তাহের শেষে Airtel-এর বাজারমূল্য প্রায় ₹৩০,৫০৬.২৬ কোটি কমে দাঁড়িয়েছে ₹১১,৪১,০৪৮.৩০ কোটি। কোম্পানির শেয়ার মূল্যে পতনের কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন — টেলিকম খাতে প্রতিযোগিতা ও 5G বিনিয়োগের চাপ এর অন্যতম কারণ।
Tata Consultancy Services (TCS)
TCS-এর বাজারমূল্য প্রায় ₹২৩,৬৮০.৩৮ কোটি কমেছে, বর্তমানে কোম্পানিটির মোট মার্কেট ক্যাপ দাঁড়িয়েছে ₹১০,৮২,৬৫৮.৪২ কোটি। আইটি সার্ভিস রপ্তানিতে অনিশ্চয়তা এবং মার্কিন মন্দার আশঙ্কা এর পেছনে কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
Hindustan Unilever (HUL)
এই FMCG জায়ান্টের বাজারমূল্য এক সপ্তাহে কমেছে ₹১২,২৫৩.১২ কোটি, যা নিয়ে তাদের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ₹৫,৬৭,৩০৮.৮১ কোটি। বিশ্লেষকদের মতে, পণ্যের বিক্রয় বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া এবং ভোক্তা চাহিদার ধীরগতি এর মূল কারণ।
Reliance Industries (RIL)
ভারতের সবচেয়ে বড় কোম্পানি RIL-এরও বাজারমূল্য কমেছে ₹১১,১৬৪.২৯ কোটি, মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ₹২০,০০,৪৩৭.৭৭ কোটি। পেট্রোকেমিক্যাল এবং রিটেল সেগমেন্টে সামান্য দুর্বলতা বাজারের আস্থাকে প্রভাবিত করেছে।
HDFC Bank
HDFC Bank-এর বাজারমূল্য ₹৭,৩০৩.৯৩ কোটি কমে হয়েছে ₹১৫,১১,৩৭৫.২১ কোটি। ব্যাংকিং খাতে ঋণপুনর্গঠন ও মুনাফার চাপ এই পতনের অন্যতম কারণ।
Infosys ও ICICI Bank
দুই সংস্থাই সামান্য পতনের মুখে পড়েছে, তবে প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত। Infosys-এর স্টক আইটি খাতের সার্বিক দুর্বলতার কারণে নিচে নেমেছে।
বিএসই সেনসেক্স (BSE Sensex) গত সপ্তাহে ৭২২.৪৩ পয়েন্ট বা প্রায় ০.৮৬ % কমে গিয়েছে। একই সময়ে নিফটি ৫০ (Nifty 50) সূচকও প্রায় ২২৯.৮ পয়েন্ট বা ০.৮৯ % হ্রাস পেয়েছে।
এই পতনের পেছনে কয়েকটি বড় কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে —
বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা: মার্কিন অর্থনীতি, তেলমূল্যের ওঠানামা ও ভূরাজনৈতিক চাপ বিনিয়োগকারীদের মনোভাবকে প্রভাবিত করেছে।
কোম্পানির ফলাফল ও প্রক্ষেপণ: দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের আয় ফলাফল কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যাশার নিচে ছিল।
বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তোলা (profit booking): সূচকের উচ্চ অবস্থান থেকে অনেকেই লাভ তুলেছেন, ফলে চাপ বেড়েছে।
সবচেয়ে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে State Bank of India (SBI), Life Insurance Corporation (LIC) এবং ITC Ltd. — এই তিন কোম্পানির বাজারমূল্য তুলনামূলকভাবে অপরিবর্তিত থেকেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তিনটি কোম্পানি মূলত সেক্টরাল বৈচিত্র্যের কারণে (ব্যাংকিং, বীমা ও FMCG) বড় পতন এড়াতে পেরেছে।
বাজার বিশেষজ্ঞ রুচি শাহ (Kotak Securities) বলেন,
“বাজারে বর্তমানে অনিশ্চয়তা বাড়ছে, বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রা ও সুদের হারে ওঠানামা। তবে দীর্ঘমেয়াদে ভারতের ইকুইটি বাজার এখনও শক্ত ভিত্তিতে রয়েছে।”
অন্যদিকে, অমিত গোয়েল (Motilal Oswal) বলেন,
“এই ধরনের সাময়িক পতন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি পুনঃপ্রবেশের সুযোগ হতে পারে। বড় কোম্পানির শেয়ারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এখনো লাভজনক।”
বৈচিত্র্য বজায় রাখা জরুরি: শুধুমাত্র শীর্ষ কোম্পানির ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন সেক্টরে বিনিয়োগ করা উচিত।
অস্থিরতাকে ভয় না পেয়ে, সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত।
মূল্য পতনের সময় উচ্চমানের কোম্পানির শেয়ার কেনা বিনিয়োগকারীর পক্ষে লাভজনক হতে পারে।
আগামী সপ্তাহে বাজার নজর রাখবে কয়েকটি মূল উপাদানের দিকে —
বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত তথ্য
মার্কিন ও ইউরোপীয় বাজারের প্রবণতা
ভারতীয় কোম্পানিগুলির তৃতীয় ত্রৈমাসিক পূর্বাভাস
বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের (FPI) কার্যক্রম
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি এসব উপাদান ইতিবাচক থাকে, তবে বাজারে পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে।