Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

অক্ষয়ের কনভয়ের ধাক্কায় আহত অটোচালক, ক্ষতিপূরণের দাবিতে সরব পরিবার

বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অটোচালক। দুর্ঘটনার পর অভিনেতা অক্ষয়ের কাছে ক্ষতিপূরণ ও আর্থিক সহায়তার দাবি তুলেছে আহত চালকের পরিবার। অটোচালকের ভাই মহম্মদ সমীর জানান, দাদার দীর্ঘ চিকিৎসার খরচ চালানো তাঁদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে, তাই মানবিক সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে।

সোমবার রাতে একটি মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকে শহর। জনপ্রিয় অভিনেতা অক্ষয় কুমারের গাড়ির কনভয় চলাকালীন এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে। সেই সময় অক্ষয় কুমারের গাড়িতে তাঁর স্ত্রী ট্যুইঙ্কল খান্নাও উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ করেই কনভয়ের নিরাপত্তাবলয়ের একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উলটে যায়। সেই গাড়ির ধাক্কায় সামনে চলতে থাকা একটি অটো রিকশা সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং বড় গাড়ির নীচে চাপা পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই রাস্তায় চরম আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় অটোচালককে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় অটোচালকের পরিবার চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। পরিবারের দাবি, দুর্ঘটনার পর তাঁদের জীবনে নেমে এসেছে গভীর অনিশ্চয়তা, কারণ অটোচালকই ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী।

আহত অটোচালকের ভাই মহম্মদ সমীর সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে পুরো ঘটনার বিবরণ দেন। তিনি জানান, সোমবার রাত আনুমানিক ৮টা থেকে ৮টা ৩০ মিনিটের মধ্যে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। সেই সময় তাঁর ভাই রিকশা চালাচ্ছিলেন। অটো রিকশার ঠিক পিছনেই ছিল অক্ষয় কুমারের ইনোভা গাড়ি এবং তার পিছনে একটি মার্সিডিজ গাড়ি। হঠাৎ করে মার্সিডিজ গাড়িটি ইনোভাকে ধাক্কা দেয়। সেই ধাক্কার জেরে ইনোভা গাড়িটি সামনের দিকে সজোরে এগিয়ে গিয়ে অটো রিকশাটিকে আঘাত করে। এর ফলেই অটোটি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বড় গাড়ির নীচে আটকে যায়।

এই ভয়াবহ ধাক্কায় অটো রিকশার ভিতরে থাকা অটোচালক এবং আরও একজন যাত্রী গুরুতরভাবে আহত হন। দুজনেই অটোর ভিতরে আটকে পড়েন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় মানুষজন এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। অনেক কষ্টে অটোচালক ও যাত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় অটো রিকশাটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়।

মহম্মদ সমীর আরও জানান, তাঁর ভাইয়ের শারীরিক অবস্থা খুবই গুরুতর। মাথা ও শরীরের একাধিক অংশে আঘাত লেগেছে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিনের চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। এই অবস্থায় চিকিৎসার বিপুল খরচ নিয়ে চিন্তায় পড়েছে পরিবার। তাই তাঁরা আর্থিক সাহায্যের জন্য আবেদন জানিয়েছেন।

আহত অটোচালকের পরিবারের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে তাঁরা কোনও অযৌক্তিক দাবি করছেন না। তাঁদের একমাত্র চাওয়া, আহত ব্যক্তির যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হোক এবং দুর্ঘটনায় সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অটো রিকশার জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। পরিবারের দাবি, এই দুর্ঘটনা তাঁদের জীবনে বড় আঘাত এনে দিয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ ছাড়া এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া তাঁদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন।

এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে তারকাদের নিরাপত্তাবলয়ের গাড়িগুলির গতিবিধি এবং সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেরই মত, ব্যস্ত রাস্তায় দ্রুতগতির কনভয় সাধারণ মানুষের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে, অক্ষয় কুমার বা তাঁর পরিবারের তরফে এখনও পর্যন্ত এই দুর্ঘটনা নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তবে গোটা ঘটনাটি ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে এবং সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সকলেই এখন আহত অটোচালকের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন এবং আশা করছেন যে মানবিক দিকটি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দ্রুত পৌঁছবে।

বর্তমানে হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন আহত অটোচালক। চিকিৎসকদের নজরদারিতে চলছে তাঁর চিকিৎসা। পরিবার এবং আত্মীয়স্বজনেরা হাসপাতালের বাইরে উৎকণ্ঠার মধ্যে অপেক্ষা করছেন। তাঁদের একটাই আশা, দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন তিনি। এই ঘটনায় শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিষয়ে কী পদক্ষেপ করা হয়, সেদিকেই এখন নজর সকলের।

এই ঘটনায় শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিষয়ে কী পদক্ষেপ করা হয়, সেদিকেই এখন নজর সকলের। দুর্ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট মহলের তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার সময় কোন গাড়ি কত গতিতে চলছিল, কার গাফিলতিতে এই দুর্ঘটনা ঘটল এবং নিরাপত্তাবলয়ের গাড়িগুলির মধ্যে আদৌ কোনও নিয়মভঙ্গ হয়েছিল কি না, সেই সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ট্রাফিক পুলিশ ও স্থানীয় থানার পুলিশ। রাস্তা পরিষ্কার করার পাশাপাশি আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। ঘটনার পর ওই এলাকায় সাময়িক যানজট তৈরি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে অক্ষয় কুমারের কনভয়ে থাকা ইনোভা ও মার্সিডিজ গাড়ির চালকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁদের লাইসেন্স, গাড়ির কাগজপত্র এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনুমতিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

news image
আরও খবর

এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনি দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি প্রমাণিত হয় যে কনভয়ের কোনও গাড়ির চালকের গাফিলতির কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাহলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া বাধ্যতামূলক হতে পারে। ভারতীয় দণ্ডবিধি ও মোটর যান আইনের অধীনে এই ধরনের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে আহত ব্যক্তি বা তাঁর পরিবার ক্ষতিপূরণের দাবিদার হতে পারেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বিমা সংস্থা, গাড়ির মালিক অথবা সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে।

আহত অটোচালকের পরিবার ইতিমধ্যেই আইনি পরামর্শ নেওয়া শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাঁরা কোনও সংঘাত চান না। তাঁরা শুধুমাত্র ন্যায়বিচার এবং মানবিক সহায়তা প্রত্যাশা করছেন। পরিবারের বক্তব্য, দুর্ঘটনার ফলে শুধু একজন মানুষ আহত হননি, গোটা পরিবারটি আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা চললে কাজ করতে পারবেন না অটোচালক, ফলে পরিবারের আয়ের পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে।

এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিপূরণ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সমাজকর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলিও। তাঁদের মতে, তারকা বা সাধারণ মানুষ সকলের ক্ষেত্রেই আইনের চোখে সমান বিচার হওয়া উচিত। দুর্ঘটনার শিকার সাধারণ মানুষ যাতে যথাযথ ক্ষতিপূরণ পান, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইতিমধ্যেই আহত অটোচালকের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছে। কেউ কেউ চিকিৎসার খরচে সাহায্য করার উদ্যোগও নিয়েছেন।

অন্যদিকে, এই দুর্ঘটনা তারকাদের নিরাপত্তাবলয় এবং কনভয় ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, অনেক সময় তারকাদের কনভয় রাস্তায় অতিরিক্ত গতি ও প্রভাব খাটিয়ে চলে, যা সাধারণ যানবাহনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। যদিও নিরাপত্তার খাতিরে এই কনভয় প্রয়োজন, তবুও ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দুর্ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ অক্ষয় কুমারের মানবিক দিকের কথা তুলে ধরে আশা প্রকাশ করছেন যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আহত অটোচালকের পাশে দাঁড়াবেন। আবার কেউ কেউ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও মন্তব্য না করার পক্ষপাতী। তবে অধিকাংশ মানুষই চান, দ্রুত এই ঘটনার নিষ্পত্তি হোক এবং আহত ব্যক্তি উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাক।

চিকিৎসকদের বক্তব্য অনুযায়ী, আহত অটোচালকের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। শারীরিক আঘাতের পাশাপাশি মানসিক ধাক্কাও বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই ধরনের দুর্ঘটনার পর অনেক ক্ষেত্রেই রোগী মানসিক অবসাদে ভোগেন। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক সাপোর্টও প্রয়োজন। পরিবারের সদস্যরা দিনরাত হাসপাতালে থেকে তাঁর সেবা করছেন। তাঁদের চোখেমুখে উদ্বেগ স্পষ্ট।

এই ঘটনায় বিমা সংস্থার ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। যদি দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িগুলি বিমার আওতায় থাকে, তাহলে বিমা সংস্থার তরফে ক্ষতিপূরণের একটি অংশ দেওয়া হতে পারে। তবে তার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অনেক সময় এই প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি করে, যা আহত পরিবারের জন্য আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে। তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবিতে সরব হয়েছেন অনেকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে এড়াতে হলে তারকাদের কনভয় চলাচলের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নিয়ম প্রণয়ন করা দরকার। কনভয়ের প্রতিটি গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ, প্রশিক্ষিত চালক নিয়োগ এবং ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয় আরও জোরদার করা উচিত। তাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা অনেকটাই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এদিকে, আহত অটোচালকের ভাই মহম্মদ সমীর বারবার একটাই কথা বলছেন, তাঁরা কোনও বিতর্ক চান না। তাঁদের একমাত্র চাওয়া দাদার সুস্থতা এবং ন্যায্য ক্ষতিপূরণ। তিনি জানিয়েছেন, দাদা সুস্থ হয়ে উঠলে আবার কাজ করে নিজের সংসার চালাতে পারবেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে চিকিৎসার খরচ চালানো তাঁদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই ঘটনার ফলে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে, তা হল শহরের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ জীবিকার তাগিদে রাস্তায় বের হন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। এই দুর্ঘটনা যেন শুধুমাত্র একটি খবর হয়েই না থেকে যায়, বরং ভবিষ্যতে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আরও সচেতনতা তৈরি করে, এমনটাই আশা করছেন অনেকেই।

সব মিলিয়ে বলা যায়, এই দুর্ঘটনা শুধু একজন তারকার কনভয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি ঘটনা নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্ত শেষে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং আহত অটোচালকের পরিবার আদৌ ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ পান কি না। প্রশাসন, আইন ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সকলের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির উপরেই নির্ভর করছে এই ঘটনার চূড়ান্ত পরিণতি। সকলেরই কামনা, আহত অটোচালক দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন এবং এই কঠিন সময় থেকে তাঁর পরিবার মুক্তি পাক।

Preview image