Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

Anil Ambani-র কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বড় আইনানুগ পদক্ষেপ

ED-র বড় পদক্ষেপ: অনীল আম্বানি গ্রুপের ‘নলেজ সিটি’ সহ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ দেশজুড়ে ব্যবসায়িক মহলে আলোড়ন ফেলেছে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা Enforcement Directorate (ED)-এর নতুন পদক্ষেপ। সংস্থাটি অনীল আম্বানির নেতৃত্বাধীন Reliance ADA Group (Anil Dhirubhai Ambani Group)-এর বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালিয়ে নবি মুম্বইয়ের Dhirubhai Ambani Knowledge City (DAKC)-র প্রায় ১৩২ একর জমি, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ₹৪,৪৬২ কোটি, জব্দ করেছে। এই পদক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি ব্যাংক ঋণ প্রতারণা মামলা (Bank Loan Fraud Case), যেখানে Reliance Communications (RCOM) এবং গ্রুপের অন্যান্য সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তারা ২০১০–২০১২ সালের মধ্যে ব্যাংক থেকে নেওয়া কয়েক হাজার কোটি টাকার ঋণ অনিয়মিতভাবে ব্যবহার করেছে। ED-এর হিসাব অনুযায়ী, গ্রুপের বিরুদ্ধে মোট ₹৭,৫০০ কোটিরও বেশি সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, গ্রুপের সংস্থাগুলি Yes Bank, ICICI Bank, IDBI Bank সহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রাপ্ত ঋণকে অন্য সংস্থায় স্থানান্তর করেছে, যা মানি লন্ডারিংয়ের আওতায় পড়ে। এছাড়াও কিছু ঋণ “এভারগ্রিনিং” প্রক্রিয়ায় একাধিক কোম্পানির মাধ্যমে ঘোরানো হয়েছে। ED জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ Prevention of Money Laundering Act (PMLA)-এর অধীনে নেওয়া হয়েছে। সংস্থার দাবি, “এই সম্পত্তিগুলি বেআইনিভাবে অর্জিত অর্থের মাধ্যমে সংরক্ষিত হয়েছিল।” জব্দ হওয়া সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে মুম্বইয়ের পলি হিলে একটি আবাসিক ভবন, দিল্লির Reliance Centre, এবং ভারতের বিভিন্ন শহরে অবস্থিত অফিস প্রপার্টি। অনীল আম্বানি গ্রুপ জানিয়েছে, “এই সম্পদগুলি আইনত বৈধ এবং কোম্পানির কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। আমরা ED-এর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার নেব।” অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি শুধু অনীল আম্বানির ব্যবসার জন্য নয়, বরং পুরো কর্পোরেট ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। ED-এর এই কঠোর পদক্ষেপ দেখাচ্ছে — বড় শিল্পপতিদের ক্ষেত্রেও আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থেকে রেহাই নেই। সব মিলিয়ে, অনীল আম্বানি গ্রুপের বিরুদ্ধে ED-এর এই অভিযান ভারতের ব্যবসা জগতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল, যেখানে বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলির আর্থিক আচরণ এখন থেকে আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের আওতায় আসবে।

অনীল আম্বানির কোম্পানির বিরুদ্ধে ED-র বড় পদক্ষেপ – নবি মুম্বইয়ের ‘Knowledge City’ সহ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি জব্দ

ভারতের ব্যবসা দুনিয়ায় ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অনীল ধীরুভাই আম্বানি (Anil Dhirubhai Ambani) ও তাঁর গ্রুপ কোম্পানিগুলি। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা Enforcement Directorate (ED) সম্প্রতি Reliance ADA Group-এর বিরুদ্ধে বড়সড় পদক্ষেপ নিয়েছে। সংস্থাটি নবি মুম্বইয়ের ধীরুভাই আম্বানি নলেজ সিটি (Dhirubhai Ambani Knowledge City)-র প্রায় ১৩২ একর জমি, যার আনুমানিক মূল্য ₹৪,৪৬২.৮১ কোটি, জব্দ করেছে।

এই পদক্ষেপটি একটি বৃহৎ ব্যাংক ঋণ প্রতারণা মামলার (Bank Loan Fraud Case) অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে, যেখানে Reliance Communications (RCOM) ও অন্যান্য সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। ED সূত্রে জানা গেছে, এই সম্পত্তি জব্দের পাশাপাশি গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সংস্থার ₹৭,৫০০ কোটিরও বেশি মূল্যের সম্পদ ইতিমধ্যেই হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।


কেন এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো?

ED জানিয়েছে, ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে Reliance Communications এবং তার সহযোগী সংস্থাগুলি একাধিক ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছিল, যার মোট মূল্য প্রায় ₹৪০,০০০ কোটি। কিন্তু পরবর্তীতে এই ঋণগুলো “Non-Performing Asset (NPA)” হিসাবে ঘোষণা করা হয়। তদন্তে জানা গেছে, ঋণের একটি বড় অংশ ভুলভাবে স্থানান্তর বা পুনর্গঠিত করা হয়েছিল, যা মানি লন্ডারিং ও আর্থিক অনিয়মের আওতায় পড়ে।

এই মামলাটি Prevention of Money Laundering Act (PMLA)-এর অধীনে চলছে। ED জানিয়েছে, গ্রুপের একাধিক সংস্থা “loan evergreening” ও fund diversion-এর মাধ্যমে ঋণের ব্যবহার গোপন করেছে।


যে সম্পদগুলি জব্দ হয়েছে

তদন্তে প্রকাশ, Anil Ambani Group-এর অধীনে থাকা যে সম্পত্তিগুলি জব্দ করা হয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

  • Dhirubhai Ambani Knowledge City (DAKC), নবি মুম্বই – ১৩২ একর জমি, মূল্য ₹৪,৪৬২.৮১ কোটি

  • পলি হিল, মুম্বইয়ের একটি অভিজাত আবাসিক সম্পত্তি

  • দিল্লির রিলায়েন্স সেন্টার, এবং

  • দেশের আরও ৮টি শহরে অবস্থিত বিভিন্ন অফিস ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি

এই সম্পত্তিগুলি মূলত Reliance Communications, Reliance Infrastructure, Reliance Capital ও অন্যান্য সহযোগী সংস্থার নামে নিবন্ধিত ছিল।


ED-এর তদন্তের মূল দিক

ED-এর মতে, অনীল আম্বানির গ্রুপ সংস্থাগুলি বিভিন্ন ব্যাংক, বিশেষ করে Yes Bank, ICICI Bank এবং IDBI Bank থেকে নেওয়া ঋণগুলি ভুলভাবে ব্যবহার করেছে। কিছু অর্থ বিদেশি সংস্থার অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

news image
আরও খবর

একজন ED কর্মকর্তা জানান —

“এই সম্পদগুলি বেআইনিভাবে অর্জিত অর্থের মাধ্যমে তৈরি বা রক্ষিত হয়েছে বলে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই আমরা সম্পত্তি জব্দ করেছি।”

তদন্তে আরও জানা যাচ্ছে যে, গ্রুপের একাধিক প্রাক্তন পরিচালক ও আর্থিক উপদেষ্টাকে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং পরবর্তী ধাপে সমন পাঠানো হবে।


গ্রুপের প্রতিক্রিয়া

অনীল আম্বানি গ্রুপের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে,

“ED-এর এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আমরা আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি। এই সম্পদগুলি আইন অনুযায়ী রেজিস্টার করা হয়েছে, এবং কোনও অনিয়ম করা হয়নি। কোম্পানির কার্যক্রম চালু রয়েছে, এবং কর্মচারীদের উপর কোনও প্রভাব পড়বে না।”

গ্রুপের আরও দাবি, ED যে সম্পদগুলি জব্দ করেছে, তার মধ্যে কিছু ইতিমধ্যেই ব্যাংক ও NBFC সংস্থার কাছে বন্ধক রাখা ছিল।


বিশেষজ্ঞদের মত

আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধুমাত্র অনীল আম্বানির ব্যবসা সাম্রাজ্যের জন্য নয়, পুরো কর্পোরেট ভারতের জন্য একটি “বড় সতর্কবার্তা”।
বড় ঋণ নেওয়া কর্পোরেট হাউসগুলির আর্থিক আচরণ এখন থেকে আরও গভীরভাবে নজরে রাখা হবে।

অর্থনীতিবিদ রমেশ দেশমুখ বলেন,

“DAKC জমি জব্দ হওয়া প্রতীকীভাবে বিশাল বার্তা বহন করে। এটি দেখাচ্ছে, এখন এমনকি ভারতের বড় কর্পোরেট হাউসগুলিও আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”


বাজার ও বিনিয়োগকারীদের প্রভাব

এই পদক্ষেপের পর Reliance Communications ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলির শেয়ারদরে সাময়িক প্রভাব পড়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন এই মামলার ভবিষ্যৎ রায়ের দিকে তাকিয়ে আছেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

Preview image