Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

কাজে ফেরা ডেইজ়ি শাহ মাতৃত্ব ও ডিম্বাণু সংরক্ষণ প্রসঙ্গে স্পষ্ট মত নায়িকার

কয়েক বছর পর বড়পর্দায় ফিরছেন ডেইজ়ি শাহ  পলাশ মুচ্ছলের ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি ডিম্বাণু সংরক্ষণ নিয়ে স্পষ্ট মত জানালেন তিনি।

বলিপাড়ায় ডিম্বাণু সংরক্ষণ বা এগ ফ্রিজ়িং নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। মাতৃত্বের সময়সীমা, কেরিয়ারের চাপ, ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওঠাপড়া—সব মিলিয়ে অনেক অভিনেত্রীই এখন নিজের শর্তে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে চাইছেন। সেই তালিকায় আগেই নাম লিখিয়েছেন প্রিয়ঙ্কা চোপড়া, এষা গুপ্ত এবং মোনা সিংহ। এ বার একই পথে হাঁটলেন ডেইজ়ি শাহ।

মাঝে কয়েক বছর বড়পর্দায় অনুপস্থিত থাকার পর তিনি ফের অভিনয়ে ফিরছেন পলাশ মুচ্ছল–এর পরিচালিত ছবির মাধ্যমে। কামব্যাকের এই মুহূর্তেই ব্যক্তিজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত—ডিম্বাণু সংরক্ষণ—নিয়ে খোলাখুলি কথা বললেন নায়িকা।


ব্যক্তিগত লড়াই থেকে আত্মনির্ভরতার পথে

ডেইজ়ির কেরিয়ারে যেমন উত্থান ছিল, তেমনই ছিল দীর্ঘ বিরতি। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, জীবনে একাধিক খারাপ সম্পর্কের অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। এমনও সময় এসেছে, যখন প্রাক্তন সঙ্গীর চাপে কাজ ছাড়তে হয়েছিল। ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন যে কেরিয়ারে প্রভাব ফেলেছিল, সে কথা স্বীকার করতে দ্বিধা করেননি তিনি।

এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে আরও দৃঢ় করেছে। এখন বিয়ে নিয়ে তাঁর তেমন আগ্রহ নেই। তবে মা হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। ৪১ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে তিনি বুঝেছেন—মাতৃত্বের সিদ্ধান্ত সমাজের চাপে নয়, নিজের প্রস্তুতি ও ইচ্ছার উপর নির্ভর করাই উচিত।

তাঁর কথায়, পরিবার গড়তে বিয়ের প্রয়োজন নেই। তিনি ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেছেন যাতে ভবিষ্যতে সুবিধাজনক সময়ে মা হতে পারেন। এটি তাঁর কাছে কেবল চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি প্রক্রিয়া নয়, বরং আত্মনির্ভরতার প্রতীক।


বলিউডে এগ ফ্রিজ়িং: সচেতনতার বার্তা

বলিউডে ডিম্বাণু সংরক্ষণ নিয়ে আলোচনা প্রথম সারির অভিনেত্রীদের বক্তব্যের পর থেকেই মূলধারায় আসে। প্রিয়ঙ্কা চোপড়া মাত্র ৩০ বছর বয়সে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন—কেরিয়ারের শীর্ষ সময়ে মাতৃত্ব পিছিয়ে রাখার পরিকল্পনা হিসেবে। এষা গুপ্ত ২০১৭ সাল থেকে ডিম্বাণু সংরক্ষণ করছেন বলে জানান। মোনা সিংহও একই পথে হেঁটেছেন।

এই প্রবণতা নিছক ‘ট্রেন্ড’ নয়; বরং আধুনিক নারীর নিজস্ব জীবনের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এক উপায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নত প্রযুক্তি এখন নারীদের এমন সুযোগ দিচ্ছে, যাতে বয়সজনিত সীমাবদ্ধতা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

ডেইজ়ির বক্তব্যে স্পষ্ট—তিনি সামাজিক প্রত্যাশার বদলে নিজের আর্থিক, মানসিক ও পেশাগত প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।


আর্থিক স্বাচ্ছল্য ও প্রস্তুতির কথা

ডেইজ়ি জানিয়েছেন, জীবনে যা চেয়েছেন তার অনেকটাই অর্জন করেছেন। একটি বাড়ি, পরিবারের জন্য নিরাপদ জীবন, দু’টি পোষ্য—সব মিলিয়ে স্থিতিশীল পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে তাঁর। আর্থিক দিক থেকেও তিনি প্রস্তুত, যাতে ভবিষ্যতে সন্তান মানুষ করতে পারেন।

এই আত্মবিশ্বাস থেকেই এসেছে ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত। তাঁর কাছে মাতৃত্ব মানে কেবল আবেগ নয়; দায়িত্বও। সেই দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা তৈরি করেই তিনি ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করছেন।


 

মাঝে দীর্ঘ বিরতির পর ফের বড়পর্দায় ফিরছেন ডেইজ়ি শাহ। এক সময় বাণিজ্যিক ছবিতে নিয়মিত মুখ হলেও, ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন ও পেশাগত অনিশ্চয়তার কারণে তাঁকে কিছুটা আড়ালেই থাকতে হয়েছে। সেই বিরতির পর এখন তিনি আবার ক্যামেরার সামনে—আর এই প্রত্যাবর্তন নিছক আরেকটি ছবি সই করার ঘটনা নয়, বরং এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

এই নতুন যাত্রায় তাঁর সঙ্গী পরিচালক পলাশ মুচ্ছল। সংগীতজগত থেকে পরিচালনায় আসা পলাশের ছবিতে ডেইজ়ির উপস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে অনেকে বলছেন, এই ছবি ডেইজ়ির কেরিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আনতে পারে। কারণ, দীর্ঘ বিরতির পর যে কোনও শিল্পীর জন্য সঠিক প্রকল্প বেছে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি—আর ডেইজ়ি সেই বাছাইয়ে সচেতন ছিলেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

বিরতির সময়টা তাঁর জন্য সহজ ছিল না। ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভাঙন, মানসিক চাপে কাজ থেকে সরে আসা—সব মিলিয়ে তিনি যেন এক অদৃশ্য লড়াই লড়ছিলেন। বহু সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রাক্তন সম্পর্কের কারণে তাঁকে কাজ কমিয়ে দিতে হয়েছিল। একজন অভিনেত্রীর জন্য কাজই যখন পরিচয়ের বড় অংশ, তখন সেই জায়গা থেকে সরে আসা মানে আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছেন। আত্মসম্মান, স্বাধীনতা ও মানসিক সুস্থতার গুরুত্ব বুঝেছেন। আজ তাঁর কথাবার্তায় যে স্থিরতা ও আত্মবিশ্বাস শোনা যায়, তা সেই অভিজ্ঞতারই ফসল। তিনি আর তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেন না; বরং ভেবেচিন্তে নিজের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করছেন।

এই কারণেই তাঁর কামব্যাককে অনেকেই ‘সেকেন্ড ইনিংস’ বলছেন। প্রথম ইনিংসে হয়তো তিনি ছিলেন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার জায়গায়; দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি অনেক বেশি পরিণত, বাস্তববাদী এবং আত্মনির্ভর। ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে গেলে শুধু প্রতিভা নয়, মানসিক দৃঢ়তাও প্রয়োজন—ডেইজ়ির বর্তমান অবস্থান সেই দৃঢ়তারই প্রমাণ।

নতুন ছবির মাধ্যমে তিনি যে কেবল অভিনয়ে ফিরছেন তা নয়; বরং নিজের জায়গা পুনরুদ্ধারের বার্তাও দিচ্ছেন। বিরতির পর দর্শক কতটা সাড়া দেবেন, তা সময় বলবে। তবে তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘিরে কৌতূহল যে তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট।


ব্যক্তিগত অস্থিরতা থেকে স্থিতির পথে

ডেইজ়ির জীবনকথায় একাধিক ওঠাপড়া রয়েছে। সম্পর্কের টানাপোড়েন তাঁকে অনেক সময়েই ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু সেই ভাঙনই তাঁকে নতুনভাবে গড়েছে। তিনি উপলব্ধি করেছেন—নিজের সুখ, নিজের ভবিষ্যৎ এবং নিজের সিদ্ধান্তের দায়ভার শেষ পর্যন্ত নিজেকেই নিতে হয়।

news image
আরও খবর

আজ তিনি আর সম্পর্কের উপর ভবিষ্যৎ নির্ভর করে রাখছেন না। বিয়ে নিয়ে তাঁর তেমন পরিকল্পনা নেই। তবে মা হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। এই ইচ্ছাকে বাস্তবের মাটিতে দাঁড় করাতেই তিনি ডিম্বাণু সংরক্ষণের পথ বেছে নিয়েছেন।

৪১ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে তিনি জানেন, জীববৈজ্ঞানিক ঘড়ি থেমে থাকে না। কিন্তু প্রযুক্তি আজ এমন সুযোগ দিয়েছে, যেখানে সময়কে কিছুটা হলেও নিজের নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। ডিম্বাণু সংরক্ষণ তাঁর কাছে ভবিষ্যতের একটি ‘সেফটি নেট’।

তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন—পরিবার গড়তে বিয়ের প্রয়োজন নেই। এই বক্তব্য নিছক ব্যক্তিগত মত নয়; বরং সামাজিক প্রথার প্রতি এক প্রশ্নচিহ্ন। আমাদের সমাজে এখনও মাতৃত্বকে বিয়ের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে দেখা হয়। কিন্তু সময় বদলাচ্ছে, ধারণাও বদলাচ্ছে।


সামাজিক বার্তা: মাতৃত্বের নতুন সংজ্ঞা

ডেইজ়ির বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল—মাতৃত্ব মানেই বিয়ে নয়। এই কথাটি উচ্চারণ করা সহজ নয়, বিশেষত জনসমক্ষে। কারণ, ভারতীয় সমাজে পরিবার ও বিবাহ এখনও গভীরভাবে প্রথানির্ভর।

ডিম্বাণু সংরক্ষণ নিয়ে এখনও নানা ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, এটি কেবল ধনী বা সেলিব্রিটিদের বিলাসিতা। কেউ কেউ ভাবেন, এটি প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে যাওয়া। কিন্তু বাস্তবে এটি একটি স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া, যা ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে সংরক্ষণ করে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে নারীরা এখন নিজের শরীর ও সময় সম্পর্কে আরও সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন। কর্মজীবনের চাপ, সঠিক সঙ্গী না পাওয়া, মানসিক প্রস্তুতির অভাব—এই সব কারণেই অনেকেই মাতৃত্ব পিছিয়ে দিতে চান। ডিম্বাণু সংরক্ষণ সেই সুযোগ তৈরি করে।

ডেইজ়ির খোলামেলা স্বীকারোক্তি হয়তো অনেক নারীকে সাহস দেবে। বিশেষ করে যাঁরা বয়সের চাপে মানসিক দুশ্চিন্তায় ভোগেন, তাঁদের কাছে এটি আশ্বাসের বার্তা হতে পারে—মাতৃত্বের পথ একটিই নয়।


আত্মনির্ভরতার প্রতীক

ডেইজ়ি জানিয়েছেন, জীবনে তিনি অনেক কিছু অর্জন করেছেন—নিজের বাড়ি, পরিবারের নিরাপত্তা, আর্থিক স্থিতি। এই আর্থিক স্বাচ্ছল্য তাঁকে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে।

মাতৃত্ব তাঁর কাছে কেবল আবেগের বিষয় নয়; দায়িত্বেরও। সন্তান লালনপালনের জন্য মানসিক ও আর্থিক প্রস্তুতি প্রয়োজন—এই বাস্তবতাকে তিনি অস্বীকার করেন না। বরং সেই প্রস্তুতি নিয়েই তিনি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করছেন।

ডিম্বাণু সংরক্ষণ তাঁর কাছে ভবিষ্যতের দরজা খোলা রাখার উপায়। এখনই মা হতে হবে—এই চাপ তিনি নিতে চান না। আবার ভবিষ্যতে সুযোগ হারাতেও চান না। এই ভারসাম্য বজায় রাখার সিদ্ধান্তই তাঁর আত্মনির্ভরতার পরিচয়।


ইন্ডাস্ট্রিতে পরিবর্তনের হাওয়া

বলিউডে এর আগেও কয়েকজন অভিনেত্রী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্যে যেমন ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সুর ছিল, তেমনই ছিল সচেতনতার বার্তা। ডেইজ়ির সিদ্ধান্ত সেই ধারাকেই আরও দৃঢ় করল।

ইন্ডাস্ট্রি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি খোলামেলা। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলা আর ট্যাবু নয়। বরং এই আলোচনাই অন্যদের সচেতন করে।

ডেইজ়ির কামব্যাক ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত—দুই মিলিয়ে তিনি যেন এক নতুন প্রজন্মের প্রতীক হয়ে উঠছেন, যারা নিজের শর্তে জীবন বেছে নিতে চায়।


উপসংহার: নতুন অধ্যায়ের শুরু

ডেইজ়ি শাহর এই পর্যায়কে শুধু কেরিয়ারের প্রত্যাবর্তন বলে দেখলে ভুল হবে। এটি এক নারীর আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার গল্প। সম্পর্কের ভাঙন, পেশাগত বিরতি, সামাজিক চাপ—সব কিছুর মধ্য দিয়ে এগিয়ে এসে তিনি আজ নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই গড়ে নিচ্ছেন।

পলাশ মুচ্ছলের ছবিতে তাঁর অভিনয় কেমন হবে, দর্শক কতটা গ্রহণ করবেন—তা সময় বলবে। কিন্তু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের সাহসিকতায় তিনি ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে।

মাতৃত্ব, বিয়ে, কেরিয়ার—এই তিনের সমীকরণ নতুনভাবে ভাবতে শেখাচ্ছেন তিনি। জীবনের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের ইচ্ছা, প্রস্তুতি ও সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়াই সবচেয়ে জরুরি—ডেইজ়ির বক্তব্যে সেই বার্তাই স্পষ্ট।


 

Preview image