একবার নয়, একাধিক বার তিনি মুক্তকণ্ঠে তাঁর মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন। তিনি অবসরে বা কাজের ফাঁকে অরিজিৎ সিংহের গানই শোনেন। ছবির গানের দুনিয়া থেকে শিল্পীর অবসরের কথা ঘোষণার পরে, তাঁকে ঘিরে তারকা ক্রিকেটার বিরাট কোহলির ভাললাগার রেশ ছড়িয়ে পড়ল এ ভাবেই।
বলিউডের সুরের জগৎ ও ভারতীয় ক্রীড়াজগত—এই দুই ভিন্ন মেরুর দুই উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম এক সুতোয় গাঁথা পড়ল আবারও। একদিকে সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় গায়ক অরিজিৎ সিংহ, অন্যদিকে বিশ্ব ক্রিকেটের তারকা বিরাট কোহলি। তবে এ বার সেই সংযোগ কোনও বিজ্ঞাপন বা মঞ্চ ভাগ করে নেওয়ার কারণে নয়, বরং এক অনুরাগীর নিখাদ ভালবাসা আর এক শিল্পীর জীবনের কঠিন সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে।
একবার নয়, একাধিক বার প্রকাশ্যে নিজের মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন বিরাট কোহলি। অবসর হোক বা ব্যস্ত ম্যাচের ফাঁকে—বিরাটের হেডফোনে বারবারই ধরা পড়েছে অরিজিৎ সিংহের কণ্ঠ। এতদিন বিষয়টি ছিল নেহাতই অনুরাগের প্রকাশ, কিন্তু মঙ্গলবার রাত থেকে সেই ভাললাগার রেশ নতুন তাৎপর্য পেল, যখন অরিজিৎ সিংহ নিজেই ঘোষণা করলেন—তিনি আর ছবির গানে কণ্ঠ দেবেন না।
এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সমাজমাধ্যমে নেমে আসে আবেগের ঢেউ। বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো খবরটি আছড়ে পড়ে শিল্পীর কোটি কোটি অনুরাগীর মনে। দীর্ঘ দিন ধরে যাঁর কণ্ঠে প্রেম, বিরহ, অপেক্ষা আর না-পাওয়ার অনুভূতি খুঁজে পেয়েছেন শ্রোতারা, সেই কণ্ঠ হঠাৎই ছবির গান থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল—এ যেন বিশ্বাস করতেই কষ্ট হচ্ছিল অনেকের।
ঠিক এই আবহেই ফের ভাইরাল হতে শুরু করে বিরাট কোহলির পুরনো কিছু ভিডিয়ো ও ছবি। কোথাও দেখা যায়, অরিজিতের সঙ্গে তোলা একটি ছবি তিনি নিজেই ভাগ করে নিয়েছেন সমাজমাধ্যমে। ছবির বিবরণীতে লেখা—
“এত বড় তারকা হয়েও এত মাটির কাছাকাছি থাকা মানুষ খুব কমই দেখা যায়। ওঁর কণ্ঠ আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনি। অরিজিতের গান আমার প্লে-লিস্টে সবার আগে থাকে।”
এই কয়েকটি বাক্যেই যেন ধরা পড়ে এক বিশ্বতারকার আর এক বিশ্বতারকার প্রতি নিখাদ শ্রদ্ধা। আবার কোনও ভিডিয়োতে দেখা যায়, বিমান ধরতে যাওয়ার সময়ও বিরাট পুরোপুরি ডুবে আছেন গানে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে হাসতে হাসতে জানিয়েছেন, হেডফোনে তখন বেজে চলেছে অরিজিতের কণ্ঠ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এর আগে বিরাট কোহলিকে খুব একটা কোনও গায়কের প্রশংসা এ ভাবে প্রকাশ্যে করতে দেখা যায়নি। সেই কারণেই পুরনো এই ঝলকগুলো নতুন করে ভাইরাল হয়ে ওঠে।
অন্য দিকে, অরিজিৎ সিংহের ঘোষণাটি ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু তার অভিঘাত ছিল গভীর। সমাজমাধ্যমে নিজের পোস্টে তিনি জানান, অনেক দিন ধরেই তাঁর মনে এই ভাবনা চলছিল। ছবির গানের জগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি হঠাৎ নেননি। কিন্তু সাহস করে প্রকাশ্যে বলার মতো মানসিক প্রস্তুতি হচ্ছিল না। কেন এই সিদ্ধান্ত, ভবিষ্যতে তিনি কী করবেন—এই সব প্রশ্নের উত্তর তিনি ইচ্ছে করেই খোলা রাখেননি। তাঁর পরিবারের তরফ থেকেও কোনও মন্তব্য করা হয়নি। অরিজিতের বোন অমৃতা সিংহ কিংবা বাবা সুরিন্দর সিংহ বগ্গা—কেউই মুখ খোলেননি এই বিষয়ে।
এই নীরবতাই যেন আরও বেশি প্রশ্নের জন্ম দেয়। অনুরাগীদের একাংশ ভাবতে শুরু করেন, তবে কি সৃজনশীল ক্লান্তি? কেউ কেউ বলেন, হয়তো গানের বাজারের বাণিজ্যিক চাপ থেকে মুক্তি চান শিল্পী। আবার কারও মতে, অরিজিৎ বরাবরই আলো-ঝলমলে তারকাখ্যাতির চেয়ে গানকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই হয়তো নিজের মতো করে সুরের পথ খুঁজতেই এই সরে দাঁড়ানো।
অরিজিৎ সিংহ মানেই শুধু চার্টবাস্টার গান নয়। তাঁর কণ্ঠ বহু মানুষের জীবনের নানা অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। প্রেমে পড়া, বিচ্ছেদ, একাকিত্ব কিংবা নিঃশব্দ লড়াই—সব কিছুর সঙ্গেই কোথাও না কোথাও মিশে আছে তাঁর গান। তাই তাঁর সিদ্ধান্ত শুধুই একটি পেশাগত ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; তা হয়ে উঠেছে এক প্রজন্মের আবেগের বিষয়।
এই জায়গাতেই বিরাট কোহলির প্রসঙ্গ আলাদা করে নজর কাড়ে। মাঠে আগ্রাসী, আত্মবিশ্বাসী, লড়াকু বিরাট—গানের জগতে এসে যেন একেবারে অন্য মানুষ। অরিজিতের গানে তিনি খুঁজে পান শান্তি, মনোসংযোগ আর হয়তো নিজেকেও। ক্রিকেটারের এই ভাললাগা তাই আর পাঁচটা অনুরাগীর অনুভূতির সঙ্গেই মিশে যায়। কোথাও যেন বিরাট আর ‘তারকা’ থাকেন না, হয়ে ওঠেন সাধারণ শ্রোতা—যাঁর প্লে-লিস্টেও অরিজিত সবার আগে।
বর্তমানে সমাজমাধ্যম জুড়ে তাই এক অদ্ভুত সহাবস্থান। এক দিকে অরিজিৎ সিংহের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ, অন্য দিকে তাঁর অতীতের গানের স্মৃতিচারণা। কেউ শেয়ার করছেন প্রিয় গান, কেউ লিখছেন ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। তারই মাঝে ঘুরে ফিরে আসছে বিরাট কোহলির সেই উক্তি, সেই ভিডিয়ো—যা যেন আরও এক বার মনে করিয়ে দিচ্ছে, শিল্পীর প্রভাব কতটা গভীরে পৌঁছতে পারে।
শেষ পর্যন্ত, অরিজিৎ সিংহ ছবির গানে ফিরবেন কি না, বা অন্য কোনও মাধ্যমে তাঁকে নতুন ভাবে পাওয়া যাবে কি না—তা সময়ই বলবে। তবে এই মুহূর্তে একটাই সত্য স্পষ্ট: তাঁর কণ্ঠের শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। আর সেই শূন্যতার কথা বলতে গিয়েই এক তারকা ক্রিকেটারের অনুরাগ নতুন করে আলোয় উঠে এল, যা প্রমাণ করে—সুর আর আবেগের সামনে সবাই সমান, সে সে ক্রিকেট মাঠের রাজাই হোক বা কোটি অনুরাগীর হৃদয়ের গায়ক।
ভারতীয় জনপ্রিয় সংস্কৃতির ইতিহাসে কিছু মুহূর্ত থাকে, যা নিছক খবরের গণ্ডি পেরিয়ে আবেগ, স্মৃতি ও প্রশ্নের জন্ম দেয়। মঙ্গলবার রাত থেকে ঠিক তেমনই এক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। বলিউডের গানের দুনিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা করলেন সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী অরিজিৎ সিংহ। এই সংক্ষিপ্ত ঘোষণাই যেন মুহূর্তে তোলপাড় ফেলে দিল সমাজমাধ্যম, সংগীতপ্রেমী মহল এবং তারকাদের মধ্যেও। ঠিক এই আবহেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এল ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক বিরাট কোহলির অরিজিৎ-অনুরাগ।
একবার নয়, একাধিক বার বিরাট কোহলি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, অরিজিৎ সিংহ তাঁর প্রিয় গায়ক। মাঠের বাইরের বিরাটকে যাঁরা কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁরা জানেন—ব্যস্ত অনুশীলনের ফাঁকে হোক বা সফরের ক্লান্ত মুহূর্তে, গানে ডুবে থাকাই তাঁর স্বভাব। আর সেই গানের তালিকায় অরিজিৎ বরাবরই প্রথম সারিতে। বহু আগেই সমাজমাধ্যমে অরিজিতের সঙ্গে তোলা একটি ছবি ভাগ করে নিয়েছিলেন বিরাট। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, “এত বড় তারকা হয়েও কী অসাধারণ সরলতা। ওঁর কণ্ঠ আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনি। আমার প্লে-লিস্টে অরিজিতের গানই সবার আগে থাকে।” এই কথাগুলি শুধু প্রশংসা নয়, বরং এক শিল্পীর প্রতি আর এক তারকার গভীর শ্রদ্ধার প্রকাশ।
এর পর একাধিক ভিডিয়ো ভাইরাল হয়, যেখানে বিরাটকে দেখা গিয়েছে একেবারে সাধারণ শ্রোতার মতো গানে ডুবে থাকতে। কখনও বিমানবন্দরে, কখনও টিম বাসে—হেডফোন কানে, চোখে আলাদা এক শান্তি। সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি অকপটে জানিয়েছেন, তখন অরিজিৎ সিংহের গানই শুনছিলেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বিরাট কোহলি তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ে খুব বেশি কথা বলেন না। কোনও গায়ক বা শিল্পীকে এ ভাবে বারবার প্রকাশ্যে প্রশংসা করার নজিরও খুব কম। সেই কারণেই এই ভিডিয়োগুলি নতুন করে ছড়িয়ে পড়তেই তা আলাদা মাত্রা পায়।
ঠিক এই সময়েই আসে অরিজিৎ সিংহের সেই ঘোষণা। সমাজমাধ্যমে নিজের পোস্টে শিল্পী জানান, তিনি আর ছবির গানে কণ্ঠ দেবেন না। তাঁর বক্তব্য ছিল সংযত, কিন্তু স্পষ্ট। তিনি লেখেন, এই সিদ্ধান্ত তাঁর মনে অনেক দিন ধরেই ঘুরছিল। কিন্তু সাহস করে প্রকাশ্যে বলার মতো মানসিক প্রস্তুতি হচ্ছিল না। কেন এই সিদ্ধান্ত, এর নেপথ্যে ঠিক কী কারণ—তা নিয়ে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই কিছু বলেননি। এই সংক্ষিপ্ততাই যেন আরও বেশি প্রশ্নের জন্ম দেয়।
খবরটি প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই অনুরাগীমহলে নেমে আসে শোকের ছায়া। অনেকের কাছে অরিজিৎ সিংহ শুধুই একজন গায়ক নন, বরং জীবনের নানা অধ্যায়ের সঙ্গী। কলেজ জীবনের প্রথম প্রেম থেকে শুরু করে কঠিন বিচ্ছেদ, একাকিত্বের রাত কিংবা নিঃশব্দ লড়াই—সব জায়গাতেই তাঁর গান যেন পাশে থেকেছে। তাই তাঁর কণ্ঠ আর ছবির পর্দায় শোনা যাবে না—এই ভাবনাই বহু শ্রোতার কাছে মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে ওঠে।
সমাজমাধ্যমে কেউ লিখলেন, “আমাদের জীবনের সাউন্ডট্র্যাকটাই যেন থেমে গেল।” কেউ আবার পুরনো গান শেয়ার করে স্মৃতিচারণা শুরু করলেন। “তুম হি হো”, “চন্না মেরেয়া”, “আগার তুম সাথ হো”, “ফির লে আয়া দিল”—এমন অসংখ্য গানের কথা ফিরে ফিরে আসতে লাগল। অরিজিতের কণ্ঠ যে শুধু সুর নয়, অনুভূতির ভাষা—তা আরও এক বার প্রমাণিত হল।
এই আবেগের স্রোতেই ফের সামনে এল বিরাট কোহলির নাম। অনেক অনুরাগীই লিখতে শুরু করেন, বিরাটের মতো একজন আত্মবিশ্বাসী, সফল ক্রীড়াবিদ যদি অরিজিতের গানে শান্তি খুঁজে পান, তবে সেই কণ্ঠের প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে। কোথাও যেন বিরাট কোহলি আর ক্রিকেট তারকা হয়ে থাকলেন না, তিনি মিশে গেলেন সাধারণ অরিজিৎ-অনুরাগীদের ভিড়ে। তাঁর ভাললাগা হয়ে উঠল সমষ্টিগত অনুভূতির প্রতীক।
অন্য দিকে, অরিজিৎ সিংহের পরিবার থেকেও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাঁর বোন অমৃতা সিংহ কিংবা বাবা সুরিন্দর সিংহ বগ্গা—কেউই মুখ খোলেননি এই বিষয়ে। এই নীরবতাও নানা জল্পনার জন্ম দেয়। কেউ বলেন, হয়তো শিল্পী এখন নিজেকে নতুন করে খুঁজতে চান। কেউ মনে করেন, বাণিজ্যিক ছবির গানের চাপ ও প্রত্যাশা থেকে মুক্তি পেতেই এই সিদ্ধান্ত। আবার কারও মতে, অরিজিৎ বরাবরই আলো-ঝলমলে তারকাখ্যাতি এড়িয়ে চলেন। গানই তাঁর কাছে মুখ্য, প্রচার নয়।
সঙ্গীত বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, অরিজিৎ সিংহ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছেন, যেখানে তাঁর প্রতিটি গান নিয়ে প্রত্যাশার পাহাড় তৈরি হয়। হয়তো সেই চাপ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে তিনি অন্য কোনও সৃজনশীল পথে হাঁটতে চান—লাইভ কনসার্ট, স্বাধীন সঙ্গীত বা একেবারে নীরব অবসর। তবে নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাচ্ছে না।
যা নিশ্চিত, তা হল—অরিজিতের এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় সংগীত জগতে এক বড় শূন্যতা তৈরি করবে। তাঁর কণ্ঠের জায়গা নেওয়া সহজ নয়। আর এই শূন্যতার কথাই যেন প্রতিফলিত হয় বিরাট কোহলির পুরনো সেই কথাগুলিতে—“মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনি।” একজন ক্রীড়াবিদের মুখে এই শব্দবন্ধ শুধু প্রশংসা নয়, বরং শিল্পীর প্রভাবের স্বীকৃতি।
শেষ পর্যন্ত সময়ই বলবে, অরিজিৎ সিংহ এই সিদ্ধান্তে অটল থাকবেন কি না, কিংবা নতুন কোনও রূপে ফিরে আসবেন। কিন্তু এই মুহূর্তে তাঁর ঘোষণার অভিঘাত স্পষ্ট। একদিকে অনুরাগীদের মনখারাপ, অন্যদিকে স্মৃতির ভিড়। আর তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে এক ক্রিকেট তারকার নিঃশব্দ ভালবাসা, যা প্রমাণ করে—গান, সুর আর অনুভূতির সামনে সবাই সমান। মাঠের রাজা হোক বা মঞ্চের সম্রাট—মানুষ হিসেবে সবাই কোনও না কোনও কণ্ঠের কাছে নত হয়।