১৭ই মে ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী শহর কলকাতার প্রাণকেন্দ্র পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিং আজ এক ভয়াবহ এবং রক্তক্ষয়ী খণ্ডযুদ্ধের সাক্ষী থাকল নিজেদের ন্যায্য নিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত হাজার হাজার বেকার চাকরিপ্রার্থীর ওপর কলকাতা পুলিশ অত্যন্ত নির্মমভাবে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে কাঁদানে গ্যাস এবং জলকামান ব্যবহার করে এই বর্বরোচিত পুলিশি হামলায় বহু তরুণ তরুণী গুরুতর আহত হয়ে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন যা সমগ্র রাজ্যের নাগরিক সমাজকে চরম ক্ষোভ এবং হতাশার মধ্যে ফেলে দিয়েছে
কলকাতা ১৭ই মে ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী শহর কলকাতার বুকে আজ এমন এক অত্যন্ত লজ্জাজনক মর্মান্তিক এবং গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হলো যা সমগ্র রাজ্যের বিবেককে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে দক্ষিণ এবং মধ্য কলকাতার অন্যতম প্রধান এবং ব্যস্ততম সংযোগস্থল পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিং আজ আক্ষরিক অর্থেই এক রক্তাক্ত রণক্ষেত্রে পরিণত হয় যেখানে নিজেদের দীর্ঘদিনের বকেয়া নিয়োগ কর্মসংস্থান এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত হাজার হাজার বেকার শিক্ষিত তরুণ তরুণী এবং চাকরিপ্রার্থীদের ওপর কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী অত্যন্ত নির্মম নিষ্ঠুর এবং বর্বরোচিতভাবে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে একটি গণতান্ত্রিক এবং স্বাধীন দেশে যেখানে নিজেদের ন্যায্য অধিকারের জন্য রাজপথে নেমে প্রতিবাদ করা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক এবং সাংবিধানিক অধিকার সেখানে রাষ্ট্রের পুলিশ বাহিনীর এহেন অমানবিক এবং হিংস্র আচরণ সমগ্র নাগরিক সমাজকে তীব্রভাবে হতবাক করেছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা ও সদিচ্ছা নিয়ে এক বিশাল বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে আজকের এই ভয়াবহ ঘটনা প্রমাণ করে দিল যে বাংলার শিক্ষিত বেকার যুবসমাজ যারা নিজেদের মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি সরকারি চাকরির স্বপ্ন দেখে তারা আজ কতটা অসহায় এবং প্রশাসনের কাছে কতটা অবহেলিত
পার্ক সার্কাসের এই বিশাল জমায়েত এবং আন্দোলনের পেছনের প্রেক্ষাপটটি অত্যন্ত দীর্ঘ যন্ত্রণাদায়ক এবং হতাশার ইতিহাস বহন করে গত কয়েক বছর ধরে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রায় সম্পূর্ণভাবে থমকে আছে এবং যেটুকু নিয়োগ হয়েছে তা নিয়েও পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে হাজার হাজার যোগ্য এবং মেধাবী প্রার্থী যারা দিনরাত এক করে পড়াশোনা করে সমস্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তারা আজ বছরের পর বছর ধরে কেবল একটি নিয়োগপত্রের অপেক্ষায় রাস্তায় বসে রোদ বৃষ্টিতে পুড়ছেন এবং নিজেদের জীবনের মহামূল্যবান যৌবনকাল নষ্ট করছেন এই তরুণ তরুণীরা বাংলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রাম এবং জেলা থেকে অনেক আশা নিয়ে শহরে এসেছিলেন কেউ নদীয়া কেউ মুর্শিদাবাদ আবার কেউ বাঁকুড়া বা পুরুলিয়া থেকে নিজেদের বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরণ করার জন্য কলকাতায় এসে মেসে বা ভাড়াবাড়িতে থেকে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে পরিবারের বোঝা না হয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর এক অদম্য জেদ ছিল তাদের মনে কিন্তু প্রশাসনের চরম উদাসীনতা দীর্ঘসূত্রিতা এবং দুর্নীতির কারণে তাদের সেই স্বপ্ন আজ দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে এই বঞ্চনা এবং হতাশার শেষ সীমায় পৌঁছে আজ তারা পার্ক সার্কাস ময়দানে এক বিশাল এবং অরাজনৈতিক মহামিছিলের ডাক দিয়েছিলেন যার মূল উদ্দেশ্য ছিল নবান্ন বা মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের দিকে শান্তিপূর্ণভাবে পদযাত্রা করে নিজেদের দাবিগুলো সরকারের শীর্ষ মহলের কাছে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া
আজ সকাল থেকেই হাওড়া এবং শিয়ালদহ স্টেশন হয়ে রাজ্যের প্রতিটি কোণ থেকে দলে দলে তরুণ তরুণী পার্ক সার্কাস ময়দানে এসে জড়ো হতে শুরু করেন তাদের চোখে মুখে ছিল এক চরম হতাশা এবং বঞ্চনার ছাপ কিন্তু সেই সাথে ছিল নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার এক অদম্য জেদ এবং আগুন বেলা বারোটা বাজতে না বাজতেই পার্ক সার্কাস ময়দান এবং সংলগ্ন সেভেন পয়েন্ট ক্রসিং এই হাজার হাজার শিক্ষিত বেকারের ভিড়ে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে তারা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে নিজেদের ব্যানার এবং প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মিছিল করতে শুরু করেন তাদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল আমাদের নিয়োগ চাই দুর্নীতির বিচার চাই এবং আমরা মেধার মূল্যায়ন চাই এই মিছিলে কেবল তরুণ চাকরিপ্রার্থীরাই ছিলেন না তাদের সাথে অনেক বৃদ্ধ বাবা মাও এসেছিলেন যারা নিজেদের সর্বস্ব বিক্রি করে সন্তানদের পড়াশোনা শিখিয়েছিলেন এবং আজ তাদের এই রাস্তায় বসে থাকা দেখে চোখের জল ফেলছিলেন মিছিল যখন পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিং থেকে পার্ক স্ট্রিট বা মল্লিক বাজারের দিকে এগোতে চায় তখন সেখানে আগে থেকেই মোতায়েন থাকা কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী তাদের পথ আটকায়
কলকাতা পুলিশের প্রস্তুতি আজ সকাল থেকেই ছিল অত্যন্ত চোখে পড়ার মতো যেন তারা কোনো ভয়ংকর সন্ত্রাসী হামলা মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছেন পার্ক সার্কাস চত্বরকে কার্যত একটি দুর্গে পরিণত করা হয়েছিল মোড়ে মোড়ে বিশাল এবং মজবুত লোহার ব্যারিকেড বসানো হয়েছিল এবং তার পেছনে মোতায়েন ছিল কলকাতা পুলিশের কমব্যাট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা র্যাফ এবং বিশাল সংখ্যক সশস্ত্র পুলিশ কর্মী এছাড়া আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য আগে থেকেই জলকামান বা ওয়াটার ক্যানন এবং কাঁদানে গ্যাসের গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছিল কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ আইপিএস আধিকারিকরা ব্যারিকেড তৈরি করে আন্দোলনকারীদের এগোতে নিষেধ করেন এবং জানান যে এই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে তাই এখানে কোনো রকম জমায়েত করা বেআইনি এবং তাদের অবিলম্বে এই জায়গা খালি করে দিতে হবে কিন্তু আন্দোলনকারী চাকরিপ্রার্থীরা পিছু হটতে রাজি ছিলেন না তারা অত্যন্ত বিনীতভাবে পুলিশ আধিকারিকদের জানান যে তারা কোনো অশান্তি করতে আসেননি তারা কেবল নিজেদের দাবিগুলো জানাতে এসেছেন এবং তাদের একটি প্রতিনিধি দলকে যেন সরকারের সাথে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়
এই কথোপকথন এবং বাদানুবাদ চলাকালীনই পরিস্থিতি হঠাৎ করে অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মে মাসের এই চরম রোদ এবং ভ্যাপসা গরমের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা ক্ষুব্ধ এবং হতাশ চাকরিপ্রার্থীরা যখন দেখেন যে পুলিশ তাদের কোনো কথাই শুনতে চাইছে না তখন সামনের সারিতে থাকা কিছু তরুণ ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন পুলিশের সাথে তাদের ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় পুলিশ প্রথমে তাদের ভয় দেখিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু আন্দোলনকারীরা যখন নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকেন তখন পুলিশ বিনা প্ররোচনায় এবং কোনো রকম পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই অত্যন্ত হিংস্রভাবে আন্দোলনকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং ব্যাপক লাঠিচার্জ শুরু করে মুহূর্তের মধ্যে পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিং এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুলিশের লাঠির ঘায়ে অনেক আন্দোলনকারী যারা শান্তিপূর্ণভাবে বসেছিলেন তারা রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন এবং যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন পুলিশ কর্মীরা অত্যন্ত নির্মমভাবে তাদের বুট দিয়ে লাথি মারেন এবং বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকেন যারা পালানোর চেষ্টা করছিলেন পুলিশ তাদের তাড়া করে ধরে পিঠে এবং মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকে
এই ভয়াবহ পুলিশি হামলায় সবচেয়ে মর্মান্তিক এবং হৃদয়বিদারক দৃশ্য ছিল মহিলা চাকরিপ্রার্থীদের ওপর পুলিশের অমানবিক অত্যাচার মিছিলে অংশগ্রহণকারী অসংখ্য মহিলা যারা নিজেদের ন্যায্য অধিকার চাইতে এসেছিলেন তাদের ওপর পুরুষ এবং মহিলা পুলিশ কর্মীরা নির্বিচারে লাঠি চালান পুলিশের লাঠির আঘাতে অনেক মহিলার মাথা ফেটে গলগল করে রক্ত বেরোতে থাকে তাদের জামাকাপড় ছিঁড়ে যায় এবং তারা রাজপথের পিচ ঢালা গরম রাস্তায় পড়ে গিয়ে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন অনেক গর্ভবতী মহিলা এবং বৃদ্ধ যারা এই মিছিলে ছিলেন তারাও পুলিশের এই নির্মমতা থেকে রেহাই পাননি রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকে আন্দোলনকারীদের জুতো ভাঙা চশমা জলের বোতল এবং রক্তমাখা প্ল্যাকার্ড এই ভয়ানক দৃশ্য দেখে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চরম আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠেন অনেকেই পুলিশকে অনুরোধ করেন এই নির্মম লাঠিচার্জ বন্ধ করার জন্য কারণ এই ছেলেমেয়েগুলো কোনো অপরাধী নয় এরা শিক্ষিত এবং ভদ্র পরিবারের সন্তান কিন্তু পুলিশের ওপর হয়তো ওপরমহলের কড়া নির্দেশ ছিল যে যেকোনো মূল্যে এই জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে হবে তাই তারা কারো কোনো কথা শোনেননি
আন্দোলনকারীদের সম্পূর্ণভাবে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কেবল লাঠিচার্জ করেই থেমে থাকেনি তারা আন্দোলনকারীদের ওপর অত্যন্ত শক্তিশালী জলকামান থেকে রঙিন এবং রাসায়নিক মিশ্রিত জল স্প্রে করতে শুরু করে জলের তীব্র তোড়ে অনেক আন্দোলনকারী ছিটকে পড়েন এবং গুরুতর আহত হন এর পাশাপাশি পুলিশ মুহুর্মুহু কাঁদানে গ্যাসের শেল বা টিয়ার গ্যাস ফাটায় যার ফলে সমগ্র পার্ক সার্কাস চত্বর সাদা এবং বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এই কাঁদানে গ্যাসের কারণে অনেক আন্দোলনকারী এবং স্থানীয় পথচারীরা শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করেন এবং তাদের চোখ মুখ জ্বলতে থাকে ধোঁয়ার মধ্যে পথ দেখতে না পেয়ে অনেকে একে অপরের ওপর আছড়ে পড়েন এবং এক বিশাল পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় পার্ক সার্কাসের মতো একটি অত্যন্ত জনবহুল এবং আবাসিক এলাকায় পুলিশের এই ধরনের কাঁদানে গ্যাস এবং লাঠিচার্জের ব্যবহার স্থানীয় বাসিন্দাদেরও চরম বিপদের মধ্যে ফেলে দেয় অনেক শিশু এবং বয়স্ক মানুষ যারা নিজেদের বাড়িতে ছিলেন তারাও এই গ্যাসের প্রভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন
এই রণক্ষেত্রের ছবি এবং আহতদের আর্তনাদ যখন একটু শান্ত হয় তখন উদ্ধারকাজ শুরু হয় আহত চাকরিপ্রার্থীদের রক্তাক্ত এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে পাশেই অবস্থিত ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তখন এক অভূতপূর্ব এবং ভয়াবহ পরিস্থিতি কারো মাথা ফেটে গেছে কারো হাত ভেঙেছে আবার কারো বা পাঁজরের হাড়ে গুরুতর চোট লেগেছে হাসপাতালের মেঝে রক্তে ভেসে যাচ্ছে এবং আহত তরুণ তরুণীদের বন্ধুদের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতালের আকাশ চিকিৎসকরা এত বিপুল সংখ্যক আহত মানুষকে একসাথে সামলাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন অনেককে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও বেশ কয়েকজন চাকরিপ্রার্থীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের আইসিইউতে ভর্তি করতে হয়েছে এক আহত তরুণীর মা যিনি খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে এসেছিলেন তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে সাংবাদিকদের বলেন আমার মেয়ে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে চাকরির জন্য অপেক্ষা করছে আজ সে নিজের অধিকার চাইতে গিয়ে পুলিশের লাঠি খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলো এই কি আমাদের স্বাধীন দেশ এই কি আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার এই মায়েদের আর্তনাদ এবং চোখের জল প্রশাসনের কর্তাদের বিবেককে কতটা নাড়া দেবে তা জানা নেই তবে এই ঘটনা শিক্ষিত সমাজের মনে এক চিরস্থায়ী ক্ষতের সৃষ্টি করেছে যা সহজে মুছে যাওয়ার নয়
এই চরম গোলমাল এবং লাঠিচার্জের কারণে পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিং এবং সংলগ্ন এলাকাগুলোতে এক বিশাল এবং মারাত্মক যানজটের সৃষ্টি হয় যা সমগ্র দক্ষিণ এবং মধ্য কলকাতার ট্রাফিক ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে স্তব্ধ করে দেয় পার্ক সার্কাস হলো এমন একটি জায়গা যেখান থেকে মা ফ্লাইওভার এজেসি বোস রোড সৈয়দ আমির আলি অ্যাভিনিউ এবং সুহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউর মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে গেছে এই ক্রসিং অবরুদ্ধ হওয়ার ফলে মা ফ্লাইওভারের ওপর কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ গাড়ির লাইন দাঁড়িয়ে যায় ইএম বাইপাস থেকে পার্ক সার্কাস হয়ে ধর্মতলা বা গড়িয়াহাট যাওয়ার সমস্ত রাস্তা বন্ধ হয়ে যায় অফিস যাত্রীরা যারা বিকেল বেলা বাড়ি ফিরছিলেন তারা এই যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চরম দুর্ভোগের শিকার হন সবথেকে ভয়াবহ পরিস্থিতি হয় অ্যাম্বুলেন্সগুলোর যেগুলো পার্ক সার্কাসের আশেপাশে থাকা বিভিন্ন হাসপাতালে মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে যাচ্ছিল যানজটে আটকে পড়ে অনেক রোগীর জীবনের চরম ঝুঁকি তৈরি হয় ট্রাফিক পুলিশ কর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা করেও এই বিশাল যানজট ছাড়াতে ব্যর্থ হন এবং শহরের জীবনযাত্রা আক্ষরিক অর্থেই পঙ্গু হয়ে পড়ে
ডিজিটাল মিডিয়া এবং সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে এই বর্বরোচিত পুলিশি হামলার ছবি এবং ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ব্যাপক ভাইরাল হয়ে যায় এবং সমগ্র রাজ্য জুড়ে এক বিশাল আলোড়ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে লেন্সপাদিয়া এর মতো আধুনিক ডিজিটাল নিউজ প্ল্যাটফর্মগুলো পার্ক সার্কাস চত্বর থেকে সরাসরি লাইভ ব্রডকাস্ট করে সাধারণ মানুষের সামনে এই ভয়াবহ বাস্তব তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনরা পুলিশের এই অমানবিক আচরণের তীব্র ধিক্কার জানিয়ে এক বিশাল ডিজিটাল আন্দোলন শুরু করেন তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এবং সাধারণ মানুষ আহত চাকরিপ্রার্থীদের ছবি শেয়ার করে প্রশ্ন তোলেন যে রাজ্যের প্রশাসন কি সম্পূর্ণভাবে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করে দিতে চাইছে একটি গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করা মানুষের ওপর কেন এই ধরনের স্বৈরাচারী আক্রমণ করা হলো তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কের ঝড় বয়ে যায় এই ডিজিটাল প্রচারের ফলে প্রশাসনের ওপর এক বিশাল নৈতিক চাপ সৃষ্টি হয় এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো পুলিশের এই ভূমিকার তীব্র নিন্দা করে
রাজনৈতিক ময়দানেও এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে এক বিশাল রাজনৈতিক তরজা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই লাঠিচার্জের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে এবং বর্তমান রাজ্য সরকারকে স্বৈরাচারী ও পুলিশি রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছে বিরোধী দলের নেতারা আহত চাকরিপ্রার্থীদের দেখতে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে গেছেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তারা দাবি করেছেন যে অবিলম্বে এই লাঠিচার্জের জন্য দায়ী পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং চাকরিপ্রার্থীদের সমস্ত ন্যায্য দাবি বিনা শর্তে মেনে নিতে হবে অন্যদিকে শাসক দলের নেতারা এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করলেও তারা দাবি করেছেন যে আন্দোলনকারীরা প্রথমে পুলিশের ওপর আক্রমণ করেছিল এবং ব্যারিকেড ভেঙে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করেছিল তাই বাধ্য হয়েই পুলিশকে বৃহত্তর শান্তির স্বার্থে বলপ্রয়োগ করতে হয়েছে শাসক দলের এই যুক্তিতে সাধারণ মানুষ একেবারেই সন্তুষ্ট নন তারা মনে করছেন যে সরকার নিজেদের চরম ব্যর্থতা এবং নিয়োগ দুর্নীতি ঢাকার জন্য এই ধরনের অমানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং বেকার যুবসমাজের ন্যায়সঙ্গত দাবিগুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে
এই ঘটনার ফলে আগামী দিনে রাজ্যের যুবসমাজের মনে প্রশাসন এবং সরকারের প্রতি এক গভীর অনাস্থা এবং ক্ষোভের জন্ম হলো যে শিক্ষিত তরুণ তরুণীরা আগামী দিনে রাজ্যের ভবিষ্যৎ গঠন করবে তাদের ওপর পুলিশের এই লাঠিচার্জ প্রমাণ করে যে আমাদের সিস্টেম কতটা অমানবিক এবং নিষ্ঠুর হয়ে উঠেছে এই ছেলেমেয়েগুলো কোনো রাজনৈতিক দলের ক্যাডার নয় এরা সমাজের অত্যন্ত সাধারণ পরিবারের সন্তান যারা নিজেদের মেধা এবং পরিশ্রমের ওপর ভরসা করে একটি সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখেছিল আজ তাদের সেই স্বপ্নকে রাজপথে পিষে মারা হলো এই ক্ষোভ এবং হতাশা যদি সঠিক পথে পরিচালিত না হয় তবে তা আগামী দিনে সমাজের জন্য এক অত্যন্ত ভয়ানক এবং ধ্বংসাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে প্রশাসনকে মনে রাখতে হবে যে লাঠি দিয়ে কখনো বেকারত্বের জ্বালা বা ক্ষুধার জ্বালা মেটানো যায় না তরুণ সমাজ যখন একবার কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠে তখন কোনো পুলিশি শক্তি তাদের চিরকাল দাবিয়ে রাখতে পারে না
পরিশেষে এটা অত্যন্ত বেদনার সাথে বলতে হচ্ছে যে আজকের এই ১৭ই মে তারিখটি কলকাতার ইতিহাসে এক অত্যন্ত কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে পার্ক সার্কাসের রাজপথে ঝরে পড়া রক্ত প্রমাণ করে যে আমাদের সমাজে আজও শিক্ষিত এবং যোগ্য মানুষের অধিকার আদায়ের পথ কতটা দুর্গম এবং কণ্টকাকীর্ণ যারা আমাদের ভবিষ্যৎ তাদের নিজেদের জীবনের কোনো সুরক্ষা বা সম্মান নেই এই চরম বৈষম্য এবং অমানবিকতা কোনো সুস্থ এবং সভ্য সমাজের লক্ষণ হতে পারে না আমরা লেন্সপাদিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে রাজ্য পুলিশের এই নির্মম লাঠিচার্জের তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি এবং আহত সমস্ত চাকরিপ্রার্থীদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি আমরা আশা করব রাজ্য সরকার তাদের পুলিশি আস্ফালন দূরে সরিয়ে রেখে অবিলম্বে এই বেকার তরুণ তরুণীদের দিকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তাকাবে এবং তাদের দীর্ঘদিনের বকেয়া নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে তাদের প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দেবে কারণ একটি দেশের আসল উন্নয়ন কেবল বড় বড় ফ্লাইওভার তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং সেই দেশের যুবসমাজ কতটা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে এবং কতটা সম্মানের সাথে বাঁচতে পারছে তার ওপরই একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন নির্ভর করে আজকের এই আন্দোলনের আগুন হয়তো পুলিশের লাঠির ঘায়ে সাময়িকভাবে নিভে গেছে কিন্তু এই আগুন বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে জ্বলতে থাকবে যতদিন না তারা তাদের ন্যায্য নিয়োগপত্র হাতে পান বিস্তারিত খবরের জন্য এবং পার্ক সার্কাস চত্বরের এই ভয়াবহ লাঠিচার্জের সম্পূর্ণ ভিডিও দেখতে কমেন্ট বক্সে থাকা লিঙ্কে এখনই ক্লিক করুন এবং সর্বদা চোখ রাখুন লেন্সপাদিয়া এর পর্দায়