অভাবী কৃষকদের পাশে বারবার দাঁড়িয়েছেন নানা পাটেকর অভিনয়ের বাইরেও কৃষকদের দুঃখকষ্ট ও তাঁদের জীবনসংগ্রামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর নাম জীবনের শেষ পর্বে চাষবাস নিয়েই সময় কাটাতে চেয়েছিলেন তিনি মাটির প্রতি টান এবং কৃষকদের জন্য তাঁর কাজ তুলে ধরে পর্দার পরিচিত মুখের অন্য এক দিক
পর্দায় তাঁর উপস্থিতি মানেই দৃঢ় কণ্ঠ তীক্ষ্ণ অভিব্যক্তি এবং চরিত্রের গভীরে পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা। কিন্তু অভিনয়ের বাইরে নানা পাটেকরের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জড়িয়ে ছিল কৃষক, গ্রাম এবং মাটির সঙ্গে। কৃষকদের দুর্দশা তাঁকে ভাবিয়েছিল, বিপন্ন পরিবারের অভিজ্ঞতা তাঁকে সাহায্যের কাজে এগিয়ে দিয়েছিল। গ্রামের সাধারণ জীবন এবং কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার মধ্যে তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন ব্যক্তিগত তৃপ্তি। ইকনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে তাঁর সেই গ্রামমুখী জীবন ও সামাজিক কাজের কথা উঠে এসেছে। নানা পাটেকরের কৃষকসেবার কথা বলতে গেলে ‘নাম ফাউন্ডেশন’-এর উল্লেখ অপরিহার্য। সংস্থার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে নানা পাটেকর ও অভিনেতা মকরন্দ আনাসপুরের উদ্যোগে এই সংগঠনের পথচলা শুরু হয়। মহারাষ্ট্রের ভয়াবহ খরা এবং কৃষকদের দুর্দশার প্রতিক্রিয়া থেকেই উদ্যোগটি গড়ে উঠেছিল। কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি গ্রামের উন্নয়ন এবং জলসংকট মোকাবিলা ছিল এর কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কৃষক পরিবারের কষ্ট বদলে দিয়েছিল তাঁর ভাবনা কৃষকদের সমস্যার সঙ্গে নানা পাটেকরের গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ার পিছনে ছিল একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে তাঁর পুরনো সাক্ষাৎকারের সূত্রে জানানো হয়েছে, বিলাসবহুল গাড়ি কেনার জন্য তিনি অর্থ জমিয়েছিলেন। কিন্তু টেলিভিশনে আত্মহত্যায় মৃত এক কৃষকের পরিবারের দুর্দশা দেখে নিজের পরিকল্পনা নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেন। ব্যক্তিগত বিলাসের বদলে সেই অর্থ বিপন্ন মানুষের কাজে লাগানোর ইচ্ছা তৈরি হয়। পরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অভিজ্ঞতা তাঁর এই সিদ্ধান্তকে আরও দৃঢ় করে। এই অভিজ্ঞতার তাৎপর্য ছিল মানুষের সমস্যাকে কাছ থেকে দেখা। দূর থেকে কৃষিসংকটকে একটি খবর হিসেবে জানা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁদের বাস্তবতা বোঝা আলাদা বিষয়। নানা পাটেকরের ক্ষেত্রে সেই সরাসরি যোগাযোগই সামাজিক কাজের পরিসর বাড়ানোর প্রেরণা হয়ে উঠেছিল। একটি পরিবারে উপার্জনকারী মানুষকে হারানোর প্রভাব শুধু তাৎক্ষণিক শোকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। সংসার চালানো, সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং জীবিকা ধরে রাখার প্রশ্নও সামনে আসে। তাঁর কাজ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, এককালীন আর্থিক সাহায্যের সীমাবদ্ধতা বুঝে তিনি আরও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন। নাম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সেই প্রচেষ্টা সংগঠিত রূপ পায়।
নাম ফাউন্ডেশন সাহায্যের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কাজ নাম ফাউন্ডেশনের ঘোষিত কাজের মধ্যে রয়েছে কৃষকদের সচেতন করা সঞ্চিত জল ও ভূগর্ভস্থ জলের ব্যবহারে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা এবং পুরনো খাল ও অব্যবহৃত জলপ্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করা। সংস্থাটি খরা গ্রামের অবক্ষয় ও কৃষকদের সংকটকে পরস্পর সম্পর্কিত সমস্যা হিসেবে তুলে ধরে। তাদের লক্ষ্য, পিছিয়ে থাকা গ্রামের মানুষকে মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপনের সুযোগ তৈরিতে সাহায্য করা। এই কাজের ধরন থেকে বোঝা যায়, কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোকে শুধু অনুদান দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। জরুরি সাহায্যের সঙ্গে এমন পরিকাঠামো তৈরির চেষ্টা রয়েছে, যা পরবর্তী সময়েও কাজে আসতে পারে। বিশেষ করে জলসংরক্ষণের উদ্যোগ কৃষির প্রয়োজনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তবে কোনও সংস্থার উদ্যোগকে মূল্যায়ন করার সময় তার ঘোষিত লক্ষ্য এবং প্রকল্পের ফলাফল আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। কোথায় কাজ হয়েছে, কতটা কাজ হয়েছে এবং তার সুফল কীভাবে পরিমাপ করা হয়েছে এসব তথ্যের গুরুত্ব রয়েছে। নানা পাটেকরের সামাজিক অবদান তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এই তথ্যভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি। জলসংরক্ষণে গুরুত্ব নাম ফাউন্ডেশনের জলসংরক্ষণসংক্রান্ত বিবরণ অনুযায়ী, নদী ও নালায় খনন এবং প্রশস্তকরণের মাধ্যমে জলধারণক্ষমতা বাড়ানোর কাজ করা হয়েছে। সংস্থার বক্তব্য, এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য জল মাটির ভিতরে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো এবং আশপাশের ভূগর্ভস্থ জল ও কুয়োর জলস্তর উন্নত করতে সাহায্য করা। তাদের প্রকাশিত হিসাবে, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ২,২৪৬টি জলস পুনরুদ্ধার এবং ১৭৮টি নদী পুনরুজ্জীবনের কাজ হয়েছে। এই পরিসংখ্যান সংস্থার নিজস্ব প্রকাশিত তথ্য। জলসংকটের মোকাবিলায় স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। টাটা মোটরসের একটি প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালে মহারাষ্ট্রে ৩৫৬টি জলাশয় পুনরুদ্ধারের কাজে রাজ্যের মাটি ও জলসংরক্ষণ বিভাগ, নাম ফাউন্ডেশন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী একসঙ্গে অংশ নিয়েছিল। এই তথ্য সংগঠনটির সহযোগিতাভিত্তিক কাজের একটি উদাহরণ তুলে ধরে। এসব উদ্যোগের আলোচনায় নানা পাটেকরের ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই সহযোগী, কর্মী এবং স্থানীয় মানুষের অবদানও মনে রাখতে হবে। গ্রামের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সাধারণত সম্মিলিত কাজের ফল। একজন পরিচিত মানুষের উদ্যোগ সেই কাজে মনোযোগ ও সহযোগিতা আনতে পারে কিন্তু বাস্তব প্রয়োগের জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক শ্রম।
গ্রামের জীবন ও চাষবাসের প্রতি টান নানা পাটেকরের গ্রামমুখী জীবন শুধু সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল না; সেটি ছিল তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দেরও অংশ। ইকনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে তিনি গ্রামের পরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন এবং পাহাড়ঘেরা অঞ্চলে গ্রামীণ মানুষের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাজ করতে চেয়েছিলেন। জলসংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের কাজে সরাসরি যুক্ত থাকার আগ্রহও প্রকাশ করেছিলেন। চাষবাসের প্রতি তাঁর আগ্রহের কথাও সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। বাংলা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে পুণের কাছে তাঁর ফার্মহাউসে ধান, গম, পেঁয়াজ ও রসুন চাষের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে তাঁর সাধারণ জীবনযাপন এবং গৃহপালিত পশুদের সঙ্গে সময় কাটানোর বিবরণও রয়েছে। এই তথ্যগুলি তাঁর জীবনের একটি আলাদা দিক প্রকাশ করে। চলচ্চিত্রের কাজের পাশাপাশি কৃষি ও গ্রামের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ইচ্ছা ছিল তাঁর। জীবনের পরবর্তী পর্বে মাটির কাছাকাছি থাকার আকাঙ্ক্ষাকে সেই দীর্ঘদিনের টানের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা যায়। তবে চাষবাসে ব্যক্তিগত আগ্রহ এবং জীবিকার জন্য কৃষির উপর নির্ভর করা এক অভিজ্ঞতা নয়। নানা পাটেকরের কাজের গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল কৃষকদের বাস্তব সমস্যার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং সাহায্যের উদ্যোগে অংশ নেওয়া। তাঁর কৃষিপ্রীতির আলোচনা সেই সামাজিক দায়িত্বের প্রসঙ্গেই আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে। সম্মান ও সহযোগিতার সম্পর্ক কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে নানা পাটেকরের অবস্থানকে শুধু দানশীলতার গল্প হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টি ধরা পড়ে না। তাঁর কাজ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কৃষক পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তাঁদের সমস্যার কথা বলা এবং অন্যদের সহযোগিতার আহ্বান জানানোর বিষয় উঠে এসেছে। এখানে সাহায্যের পাশাপাশি সম্মানের প্রশ্নও রয়েছে। বিপন্ন মানুষকে কেবল সাহায্যগ্রহীতা হিসেবে দেখার বদলে তাঁদের প্রয়োজন ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া দীর্ঘমেয়াদি কাজের জন্য প্রয়োজন। নাম ফাউন্ডেশনের ঘোষিত লক্ষ্যেও গ্রামের মানুষের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের কথা রয়েছে। পর্দার পরিচিত নানা পাটেকরের পাশে তাই আরেকটি পরিচয়ও জায়গা করে নেয় কৃষকদের দুর্দশায় সাড়া দেওয়া এবং গ্রামীণ উন্নয়নের কাজে যুক্ত থাকা একজন মানুষ। তাঁর চাষবাসের আগ্রহ, গ্রামের প্রতি টান এবং সংগঠিত সামাজিক উদ্যোগকে একসঙ্গে দেখলে এই পরিচয় স্পষ্ট হয়।
সংস্থাটি খরা গ্রামের অবক্ষয় ও কৃষকদের সংকটকে পরস্পর সম্পর্কিত সমস্যা হিসেবে তুলে ধরে। তাদের লক্ষ্য, পিছিয়ে থাকা গ্রামের মানুষকে মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপনের সুযোগ তৈরিতে সাহায্য করা। এই কাজের ধরন থেকে বোঝা যায়, কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোকে শুধু অনুদান দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। জরুরি সাহায্যের সঙ্গে এমন পরিকাঠামো তৈরির চেষ্টা রয়েছে, যা পরবর্তী সময়েও কাজে আসতে পারে। বিশেষ করে জলসংরক্ষণের উদ্যোগ কৃষির প্রয়োজনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তবে কোনও সংস্থার উদ্যোগকে মূল্যায়ন করার সময় তার ঘোষিত লক্ষ্য এবং প্রকল্পের ফলাফল আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। কোথায় কাজ হয়েছে, কতটা কাজ হয়েছে এবং তার সুফল কীভাবে পরিমাপ করা হয়েছে এসব তথ্যের গুরুত্ব রয়েছে। নানা পাটেকরের সামাজিক অবদান তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এই তথ্যভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি। জলসংরক্ষণে গুরুত্ব নাম ফাউন্ডেশনের জলসংরক্ষণসংক্রান্ত বিবরণ অনুযায়ী, নদী ও নালায় খনন এবং প্রশস্তকরণের মাধ্যমে জলধারণক্ষমতা বাড়ানোর কাজ করা হয়েছে। সংস্থার বক্তব্য, এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য জল মাটির ভিতরে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো এবং আশপাশের ভূগর্ভস্থ জল ও কুয়োর জলস্তর উন্নত করতে সাহায্য করা। তাদের প্রকাশিত হিসাবে, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ২,২৪৬টি জলস পুনরুদ্ধার এবং ১৭৮টি নদী পুনরুজ্জীবনের কাজ হয়েছে। এই পরিসংখ্যান সংস্থার নিজস্ব প্রকাশিত তথ্য। জলসংকটের মোকাবিলায় স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। টাটা মোটরসের একটি প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালে মহারাষ্ট্রে ৩৫৬টি জলাশয় পুনরুদ্ধারের কাজে রাজ্যের মাটি ও জলসংরক্ষণ বিভাগ, নাম ফাউন্ডেশন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী একসঙ্গে অংশ নিয়েছিল। এই তথ্য সংগঠনটির সহযোগিতাভিত্তিক কাজের একটি উদাহরণ তুলে ধরে।