কলকাতা, ২৩ অক্টোবর: দীপাবলির আলো নিভে যাওয়ার আগেই আবার উৎসবের রঙে রাঙিয়ে উঠল বাংলা। আজ বাঙালির অন্যতম ঐতিহ্যবাহী উৎসব ভাই ফোঁটা। সকাল থেকেই শহর ও গ্রামাঞ্চলে উৎসবের আমেজ। বোনেরা ভাইয়ের দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনায় কপালে ফোঁটা দিলেন, আর ভাইয়েরা বোনদের উপহার দিয়ে সিক্ত করলেন ভালোবাসার বন্ধন।
আজ ভোর থেকেই মন্দিরে ও বাড়িতে শুরু হয় পূজা ও আচার অনুষ্ঠান। দই, চন্দন, ঘি, দুব, প্রদীপ ও ফল-মিষ্টি দিয়ে সাজানো থালায় ফোঁটা দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে সর্বত্র। বোনেরা ঐতিহ্যবাহী শাড়ি পরে ভাইদের কপালে ফোঁটা দিয়ে বলেন—
“ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ুক কাঁটা।”
কলকাতার বালিগঞ্জ, বেহালা, নিউ টাউন থেকে শুরু করে মফস্বল শহর বর্ধমান, কৃষ্ণনগর, হাওড়া — সর্বত্রই আজকের দিনটি পারিবারিক মিলনের দিন হয়ে উঠেছে। অনেক পরিবারে আজ একত্রে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়েছে — মেনুতে পায়েস, লুচি, চোলার ডাল, মাছের ঝোল, মিষ্টি ও ফল।
শুধু শহরেই নয়, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও আজ ভাই ফোঁটা উদযাপন করেছে। কলকাতার পার্ক সার্কাসে এক এনজিও আজ অনাথালয়ের শিশুদের সঙ্গে ভাই ফোঁটার অনুষ্ঠান করে নজর কেড়েছে। সেখানে ছোট ছোট বাচ্চারা একে অপরকে ফোঁটা দিয়ে মিষ্টি বিনিময় করেছে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও আজ ভাই ফোঁটার শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়ে বলেছেন, “ভাই ফোঁটা হল ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের প্রতীক। এই উৎসব আমাদের সমাজে সম্প্রীতির বার্তা দেয়।”
বাজারেও আজ রেকর্ড বিক্রি হয়েছে মিষ্টি ও উপহারের। কলকাতার বিখ্যাত মিষ্টির দোকানগুলিতে সকাল থেকেই লাইন পড়ে গেছে ছানার রসগোল্লা ও সন্দেশ কিনতে। ফোঁটা সামগ্রী ও পোশাকের দোকানেও ছিল ভিড়।
যদিও আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে সামান্য বৃষ্টি হলেও উৎসবের আনন্দে বিন্দুমাত্র ভাঁটা পড়েনি। সবাই আজ ভাই-বোনের ভালোবাসার এই পবিত্র বন্ধন উদযাপন করেছেন হাসি ও খুশির আবহে।