Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বাবার জন্মদিনের আগেই বাগ্‌দান সারলেন মিঠুন কন্যা দিশানী কে অভিনেতার হবু জামাই?

নিউ ইয়র্ক ফিল্ম অ্যাকাডেমিতে অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা করা মিঠুন চক্রবর্তীর কন্যা দিশানী জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখলেন আমেরিকাতেই দীর্ঘদিনের সঙ্গীর সঙ্গে বাগ্‌দান সেরেছেন তিনি যা ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে নেটমাধ্যমে।

বাবার জন্মদিনের আগেই বাগ্‌দান সারলেন মিঠুন কন্যা দিশানী  কে অভিনেতার হবু জামাই?
Bollywood News

বলিউডের প্রবীণ অভিনেতা ও পদ্মভূষণ সম্মানপ্রাপ্ত মিঠুন চক্রবর্তীর পরিবারে এখন খুশির আবহ। ১৬ জুন অভিনেতার জন্মদিনের ঠিক এক দিন আগে প্রকাশ্যে এল তাঁর কন্যা দিশানী চক্রবর্তীর বাগ্‌দানের খবর। দীর্ঘদিনের প্রেমিক মাঈল্স মৈন্টজ়ারিসের সঙ্গে আংটি বদল করেছেন দিশানী। সামাজিক মাধ্যমে বাগ্‌দানের একাধিক ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই অনুরাগীদের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

দিশানী চক্রবর্তী বরাবরই আলোচনায় থেকেছেন তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ এবং মিঠুন চক্রবর্তীর দত্তক কন্যা হিসেবে অনুপ্রেরণামূলক জীবনকাহিনির কারণে। এবার তাঁর বাগ্‌দানের খবর সেই আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দিল।

আমেরিকাতেই বাগ্‌দান সারলেন দিশানী

বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলসে থাকেন ২৫ বছরের দিশানী। অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে প্রস্তুত করে চলেছেন। সম্প্রতি আমেরিকার এক মনোরম সমুদ্রসৈকতের ধারে প্রেমিক মাঈল্স মৈন্টজ়ারিস তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।

বাগ্‌দানের ছবিতে দেখা যায়, পাহাড়ি ঢালু জায়গার উপর মোমবাতির আলোয় সাজানো এক রোম্যান্টিক পরিবেশ। সাদা পোশাকে দাঁড়িয়ে রয়েছেন দিশানী। তাঁর সামনে হাঁটু গেড়ে বসে হাতে আংটি নিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেন মাঈল্স। সেই বিশেষ মুহূর্তের ছবি নিজের সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্টে ভাগ করে নিয়ে দিশানী লেখেন, “My easiest yes ever” অর্থাৎ “আমার জীবনের সবচেয়ে সহজ ‘হ্যাঁ’।”

জানা গিয়েছে, গত ১২ জুন তাঁদের বাগ্‌দান সম্পন্ন হয়েছে। ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই অনুরাগী, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছাবার্তায় ভরে উঠেছে সামাজিক মাধ্যম।

কে এই মাঈল্স মৈন্টজ়ারিস?

দিশানীর হবু স্বামী মাঈল্স মৈন্টজ়ারিস হলিউডের সঙ্গে যুক্ত একজন পেশাদার চলচ্চিত্রকর্মী। তিনি মূলত সিনেমার কালারিস্ট হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি চিত্রগ্রহণ এবং পোস্ট-প্রোডাকশন সংক্রান্ত কাজেও তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে।

চলচ্চিত্র নির্মাণের নেপথ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কাজ করলেও মাঈল্সের পরিচিতি ধীরে ধীরে বাড়ছে। বিভিন্ন স্বাধীন চলচ্চিত্র এবং ভিজ্যুয়াল প্রজেক্টে তাঁর কাজ প্রশংসিত হয়েছে। বিনোদন জগতের সঙ্গেই যুক্ত হওয়ায় দিশানী ও মাঈল্সের পরিচয় এবং সম্পর্কের গভীরতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

যদিও তাঁরা নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি প্রকাশ্যে কথা বলেন না, তবে সামাজিক মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের ছবি মাঝেমধ্যেই ভাগ করে নিতেন। ফলে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে অনেক দিন ধরেই জল্পনা ছিল। সেই জল্পনাতেই এবার আনুষ্ঠানিক সিলমোহর পড়ল।

অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে নিউ ইয়র্ক ফিল্ম অ্যাকাডেমিতে পড়াশোনা

ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল দিশানীর। বাবার মতো বড় অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই তিনি নিজেকে তৈরি করেছেন। সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য নিউ ইয়র্ক ফিল্ম অ্যাকাডেমিতে অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা করেন তিনি।

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় চলচ্চিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত নিউ ইয়র্ক ফিল্ম অ্যাকাডেমি। এখান থেকে অভিনয়, পরিচালনা, চিত্রনাট্য রচনা এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে বহু তারকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

দিশানীও সেখানে অভিনয়ের নানা খুঁটিনাটি শিখেছেন। পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে তিনি লস অ্যাঞ্জেলসে থেকে অভিনয়জীবন গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতিমধ্যেই কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র ও প্রজেক্টে কাজ করেছেন বলে জানা যায়।

দিশানীর জীবনকাহিনি এক অনুপ্রেরণা

দিশানীর পরিচয়ের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায় তাঁর দত্তক কন্যা হিসেবে বেড়ে ওঠার গল্প। বহু বছর আগে কলকাতার রাস্তায় পরিত্যক্ত অবস্থায় এক নবজাতক কন্যাশিশুকে দেখতে পান কয়েকজন পথচারী। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তত্ত্বাবধানে রাখা হয়।

ঘটনাটি জানতে পেরে গভীরভাবে নাড়া খেয়েছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। তিনি এবং তাঁর স্ত্রী যোগিতা বালি সেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নানা আইনি জটিলতা ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁরা শিশুটিকে নিজেদের পরিবারে নিয়ে আসেন।

সেই শিশুই আজকের দিশানী চক্রবর্তী।

মিঠুন বহু সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, দিশানী তাঁদের জীবনে আশীর্বাদ হয়ে এসেছিলেন। পরিবারের অন্য সদস্যদের মতোই ভালোবাসা, যত্ন এবং সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাঁকে বড় করে তোলা হয়েছে।

news image
আরও খবর

মিঠুন-যোগিতার বড় পরিবার

১৯৭৯ সালে অভিনেত্রী যোগিতা বালিকে বিয়ে করেন মিঠুন চক্রবর্তী। তাঁদের তিন পুত্রসন্তান রয়েছেন— মিমো চক্রবর্তী (মহাক্ষয়), উষ্মে চক্রবর্তী এবং নমশি চক্রবর্তী।

তিন ছেলের পর দিশানী পরিবারে আসেন। ছোট থেকেই পরিবারের সকলের অত্যন্ত স্নেহের পাত্রী তিনি। বিশেষ করে বাবার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে জানা যায়।

সামাজিক মাধ্যমেও বাবার সঙ্গে দিশানীর একাধিক ছবি দেখা যায়। বিভিন্ন বিশেষ দিনে বাবাকে নিয়ে আবেগঘন পোস্টও করেছেন তিনি।

বলিউডে কবে আত্মপ্রকাশ?

দীর্ঘদিন ধরেই বলিউডে দিশানীর অভিষেক নিয়ে আলোচনা চলছে। অভিনয়ের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর তিনি চলচ্চিত্র জগতে কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এখনও পর্যন্ত কোন ছবি বা ওয়েব সিরিজের মাধ্যমে তাঁর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত ঘোষণা করা হয়নি।

তবে অনেকের ধারণা, মিঠুন-কন্যা হিসেবে নয়, নিজের যোগ্যতায় পরিচিতি গড়ে তুলতেই সময় নিয়ে এগোচ্ছেন দিশানী। অভিনয়ের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা এবং দীর্ঘ প্রস্তুতির কারণে ভবিষ্যতে তাঁকে বড় পর্দায় দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল বলেই মনে করছেন অনেকে।

জীবনের কিছু মুহূর্ত শুধু ব্যক্তিগত সুখের নয়, বরং নতুন স্বপ্ন, নতুন দায়িত্ব এবং ভবিষ্যতের নতুন পথচলারও সূচনা করে। দিশানী চক্রবর্তীর জীবনে বর্তমানে ঠিক তেমনই এক সময় এসেছে। একদিকে অভিনয়জগতে নিজের পরিচয় গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে প্রস্তুত করে চলেছেন, অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনেও দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়ে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করলেন। ফলে বর্তমান সময়টি দিশানীর কাছে নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বিশেষ এবং স্মরণীয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী দিশানী বহু বছর ধরেই অভিনয়কে নিজের ভবিষ্যৎ পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি নিউ ইয়র্ক ফিল্ম অ্যাকাডেমিতে অভিনয় বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। শুধু তারকাসন্তান হওয়ার পরিচয়ের উপর নির্ভর না করে নিজের দক্ষতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে বিনোদন জগতে জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণ ও ক্যামেরার সামনে কাজের বিভিন্ন দিক নিয়েও নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন দিশানী।

এই ব্যস্ত প্রস্তুতির মাঝেই জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। দীর্ঘদিনের সঙ্গী মাঈল্স মৈন্টজ়ারিসের সঙ্গে বাগ্‌দানের মাধ্যমে সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিলেন দিশানী। সমুদ্রসৈকতের ধারে প্রকৃতির মনোরম পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বাগ্‌দানের মুহূর্ত যেন কোনও রোম্যান্টিক সিনেমার দৃশ্যকেও হার মানায়। মোমবাতির আলো, পাহাড়ি টিলার মনোরম পরিবেশ এবং দুই মানুষের একে অপরকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি— সব মিলিয়ে মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বাগ্‌দানের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শুভেচ্ছার বন্যা বয়ে যায়। অনুরাগী, বন্ধু এবং পরিচিত মহলের বহু মানুষ তাঁদের নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। বিশেষ করে দিশানীর পোস্টে লেখা “My easiest yes” বাক্যটি অনেকের মন ছুঁয়ে যায়। এই ছোট্ট বার্তাই যেন তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের প্রতিফলন।

এই সুখবরের আরও একটি বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কারণ ১৬ জুন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর জন্মদিনের ঠিক আগে এই বাগ্‌দানের খবর সামনে এসেছে। ফলে চক্রবর্তী পরিবারে আনন্দের আবহ আরও বেড়ে গিয়েছে। একজন বাবার কাছে সন্তানের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী হওয়ার অনুভূতি সবসময়ই বিশেষ। সেই দিক থেকে দেখলে জন্মদিনের আগে কন্যার বাগ্‌দানের খবর মিঠুনের জন্যও নিঃসন্দেহে বড় আনন্দের কারণ।

দিশানীর জীবনযাত্রা বরাবরই অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার। পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এক শিশুকন্যা থেকে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতার পরিবারের সদস্য হয়ে ওঠা, তারপর বিদেশে গিয়ে নিজের স্বপ্নপূরণের জন্য কঠোর পরিশ্রম— তাঁর জীবনের প্রতিটি ধাপই সংগ্রাম ও সাফল্যের এক অনন্য গল্প। সেই গল্পে এবার যুক্ত হল নতুন একটি অধ্যায়, যেখানে ব্যক্তিগত সম্পর্কও পেল স্থায়িত্বের নতুন প্রতিশ্রুতি।

এখন স্বাভাবিকভাবেই সকলের আগ্রহ, কবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন দিশানী ও মাঈল্স। যদিও সেই বিষয়ে এখনও কোনও ঘোষণা আসেনি, তবে বাগ্‌দানের পর তাঁদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। অনুরাগীরা আশা করছেন, খুব শীঘ্রই বিয়ের সুখবরও সামনে আসবে।

তবে ব্যক্তিগত জীবনের এই আনন্দঘন মুহূর্তের পাশাপাশি দিশানীর পেশাগত ভবিষ্যৎ নিয়েও কৌতূহল কম নয়। বহুদিন ধরেই তাঁর বলিউড অভিষেক নিয়ে আলোচনা চলছে। চলচ্চিত্রপ্রেমীদের একাংশ মনে করেন, অভিনয়ের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতে তাঁকে বড় সুযোগ এনে দিতে পারে। সেই কারণে আগামী দিনে বড় পর্দায় তাঁর আত্মপ্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকেই।

সব মিলিয়ে বলা যায়, দিশানী চক্রবর্তীর জীবনে এখন পরিবর্তনের সময়। একদিকে ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে নতুন ভবিষ্যতের স্বপ্ন, অন্যদিকে অভিনয়জগতে নিজের পরিচয় গড়ে তোলার লক্ষ্য— দুই পথই সমান গুরুত্ব নিয়ে এগিয়ে চলেছে। মিঠুন চক্রবর্তীর কন্যা হিসেবে নয়, বরং নিজের মেধা, পরিশ্রম এবং ব্যক্তিত্বের জোরে তিনি কতটা সফল হতে পারেন, সেটাই এখন দেখার। আর সেই পথচলার সূচনালগ্নে বাগ্‌দানের এই সুখবর নিঃসন্দেহে তাঁর জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

 

Preview image