Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ভারতের কপার চাহিদায় উল্লেখযোগ্য বাড়তি — FY২৫-এ বেড়েছে ৯.৩%

ভারতের কপার চাহিদায় রেকর্ড বৃদ্ধি — FY25-এ ৯.৩% লাফ, মোট ব্যবহার ১,৮৭৮ কিলো টন ভারতের শিল্প, বিদ্যুৎ এবং অবকাঠামো খাতে দ্রুত অগ্রগতির ফলে দেশের তামা (Copper) চাহিদা FY25 অর্থবছরে ৯.৩% বৃদ্ধি পেয়ে ১,৮৭৮ কিলো টনে পৌঁছেছে। এই তথ্য উঠে এসেছে ইন্টারন্যাশনাল কপার অ্যাসোসিয়েশন (ICA)-এর এক প্রতিবেদনে, যা দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের তামা চাহিদা বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে অবকাঠামো উন্নয়ন, রিনিউয়েবল এনার্জি প্রকল্প, এবং ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV) খাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ। মেট্রো রেল, রেলওয়ে ইলেকট্রিফিকেশন, স্মার্ট সিটি প্রকল্প ও বিদ্যুৎ গ্রিড সম্প্রসারণে তামার ব্যবহার আগের তুলনায় অনেকগুণ বেড়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ, ট্রান্সফরমার, কেবল, ওয়ারিং এবং নির্মাণ শিল্পেও কপার অপরিহার্য উপাদান হয়ে উঠছে। ইলেকট্রিক যানবাহন খাতে প্রতিটি গাড়িতে সাধারণ গাড়ির তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি তামা প্রয়োজন হয়। তাই ভারতের EV বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় তামার চাহিদা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। একইভাবে, সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তি প্রকল্পেও তামার ব্যবহার বাড়ছে — কারণ এটি বিদ্যুৎ পরিবহন ও সংযোগে সর্বাধিক কার্যকর ধাতু। বর্তমানে ভারতের মোট কপার চাহিদার প্রায় ৪০% আমদানি নির্ভর, মূলত চিলি, পেরু ও ইন্দোনেশিয়া থেকে। তবে দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য হিন্দালকো, বেদান্তা ও আদানী গোষ্ঠী নতুন রিফাইনারি ও খনি প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কপার চাহিদার এই বৃদ্ধিই ভারতের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের ইঙ্গিত বহন করছে। এটি শুধু শিল্পায়নের প্রতিফলন নয়, বরং দেশের প্রযুক্তিনির্ভর প্রবৃদ্ধিরও প্রমাণ। তবে সতর্কবার্তাও রয়েছে — কপার দামের ওঠানামা, আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক মুদ্রার অস্থিরতা এই বৃদ্ধির ধারাকে প্রভাবিত করতে পারে। সব মিলিয়ে FY25-এ ভারতের কপার ব্যবহারের এই রেকর্ড বৃদ্ধি দেশকে ‘Green Metal Economy’-র যুগে প্রবেশের পথে এক ধাপ এগিয়ে দিল।

FY25-এ ভারতের তামার চাহিদায় রেকর্ড বৃদ্ধি — ৯.৩% বেড়ে ১,৮৭৮ কিলো টনে, বলছে প্রতিবেদন

ভারতের শিল্প, নির্মাণ ও বিদ্যুৎ খাতে দ্রুত উন্নতির জেরে দেশের তামা (Copper) চাহিদা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৮৭৮ কিলো টনে (kilo tonnes), যা আগের বছরের তুলনায় ৯.৩ শতাংশ বেশি। এই তথ্য উঠে এসেছে ইন্টারন্যাশনাল কপার অ্যাসোসিয়েশন (International Copper Association – ICA)-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে।

এই বৃদ্ধি শুধু একটি ধাতব চাহিদার পরিসংখ্যান নয়, বরং ভারতের অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের প্রতিফলন — যেখানে অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য শক্তি, ইলেকট্রিক যানবাহন এবং রপ্তানি বাজার মিলিতভাবে দেশের শিল্পশক্তিকে এগিয়ে নিচ্ছে।


⚙️ অবকাঠামো উন্নয়নই তামা চাহিদা বৃদ্ধির মূল চালক

তামা বা কপার এমন এক ধাতু, যা বিদ্যুৎ পরিবহণ, ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ এবং নির্মাণ খাতে অপরিহার্য উপাদান। FY25 অর্থবছরে ভারতের কপার চাহিদা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো দেশের চলমান অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিল্পায়ন প্রকল্পগুলো।

  • রেলওয়ে ইলেকট্রিফিকেশন, মেট্রো রেল প্রকল্প, জাতীয় সড়ক উন্নয়ন, এবং স্মার্ট সিটি মিশনের মতো প্রকল্পগুলিতে কপার কেবল ও সংযোগ ব্যবহারের পরিমাণ দ্রুত বেড়েছে।

  • বিদ্যুৎ সংযোগ সম্প্রসারণ, ট্রান্সফরমার স্থাপন, এবং নতুন বিদ্যুৎ গ্রিড নির্মাণে কপার তারের চাহিদা আগের তুলনায় ২০–২৫% বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • নির্মাণ ও আবাসন খাতেও কপার ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে — ইলেকট্রিক্যাল ফিটিং, ওয়্যারিং, এয়ার কন্ডিশনিং এবং স্মার্ট হোম সিস্টেমে তামা এখন একটি অপরিহার্য উপাদান।

এই প্রবণতা ভারতীয় নির্মাণ শিল্পে নতুন দিশা দিয়েছে, যা সরাসরি কর্মসংস্থান এবং শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলছে।


ইলেকট্রিক ভেহিকল ও নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্পে বিপুল কপার ব্যবহার

কপার চাহিদা বৃদ্ধির আরেকটি বড় কারণ হলো ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV) এবং রিনিউয়েবল এনার্জি (Renewable Energy) খাতের বিস্তার।

প্রতিটি ইলেকট্রিক গাড়িতে সাধারণ গাড়ির তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি তামা ব্যবহৃত হয় — ব্যাটারি, মোটর, চার্জিং স্টেশন, এবং তার সংযোগে। সরকারী প্রণোদনা এবং EV নীতির ফলে এই খাতে দ্রুত বৃদ্ধি ঘটায় FY25-এ তামা ব্যবহারে ব্যাপক লাফ দেখা গেছে।

একইভাবে, সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তি প্রকল্পেও তামা অপরিহার্য উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সৌর প্যানেল, ইনভার্টার ইউনিট, ট্রান্সফরমার এবং গ্রিড সংযোগে তামা ছাড়া কার্যত উৎপাদন সম্ভব নয়।

ICA-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে —

news image
আরও খবর

“২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে তামার ব্যবহার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে।”


দেশীয় উৎপাদন বনাম আমদানি নির্ভরতা

বর্তমানে ভারতের কপার উৎপাদন এখনও সীমিত। দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৪০% পূরণ হয় আমদানি থেকে।
ভারত মূলত চিলি, পেরু, ইন্দোনেশিয়া ও কঙ্গো থেকে তামা আমদানি করে।

এই আমদানি নির্ভরতা ভারতের শিল্পের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, কারণ বৈশ্বিক কপার বাজারে দামের ওঠানামা, পরিবহন বিলম্ব এবং বৈদেশিক মুদ্রার অস্থিরতা দেশীয় উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তবে ইতিমধ্যেই কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠী যেমন হিন্দালকো (Hindalco Industries), বেদান্ত (Vedanta Limited) ও আদানী এন্টারপ্রাইজেস (Adani Enterprises) দেশীয় রিফাইনারি ক্ষমতা বৃদ্ধি ও নতুন খনি প্রকল্পে বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।


বিশ্ববাজারে কপার এবং ভারতের অবস্থান

বিশ্বব্যাপী কপার এখন “সবুজ ধাতু” বা Green Metal নামে পরিচিত, কারণ নবায়নযোগ্য শক্তি ও ইলেকট্রিক ভেহিকল প্রযুক্তির সঙ্গে এটি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
বিশ্ব কপার বাজার বছরে গড়ে ৩% হারে বাড়ছে, তবে উৎপাদন সেই হারে বাড়ছে না।

FY25-এ আন্তর্জাতিক বাজারে কপার গড়ে প্রতি টন $৯,৫০০ ডলারে লেনদেন হয়েছে। ভারতের বাজারেও কপার দামের বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, যা দেশীয় শিল্পের জন্য কিছুটা চাপ তৈরি করছে।

তবে এই পরিস্থিতি ভারতের জন্য সুযোগও তৈরি করছে — দেশটি বর্তমানে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম কপার ভোক্তা, এবং ICA অনুমান করছে যে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত তৃতীয় বৃহত্তম বাজারে পরিণত হতে পারে।


সরবরাহ ও নীতি-পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভারতের এই কপার নির্ভর প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে হলে সরকারের উচিত কপার শিল্পে কৌশলগত রিজার্ভ (Strategic Copper Reserve) তৈরি করা এবং দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো।

এছাড়া খনিজ খাতের সংস্কার, পরিবেশবান্ধব খনি উন্নয়ন এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য তামার ব্যবহারে জোর দেওয়া প্রয়োজন।


উপসংহার

সব মিলিয়ে, FY25-এ ভারতের তামার চাহিদা ৯.৩% বৃদ্ধি পেয়ে ১,৮৭৮ কিলো টনে পৌঁছানো দেশের অর্থনৈতিক গতির স্পষ্ট প্রতিফলন। অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য শক্তি, ইলেকট্রিক ভেহিকল এবং স্মার্ট সিটি প্রকল্প — এই চার ক্ষেত্রই আগামী দশকে ভারতের কপার ব্যবহারের মুখ্য চালিকা শক্তি হবে।

যদি সরকার দেশীয় উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী করতে পারে, তবে ভারত কেবল কপার আমদানিকারক নয়, বরং রপ্তানিকারক দেশ হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।

Preview image