ভারত বাড়াচ্ছে বৈশ্বিক বাণিজ্যের জাল: অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও বাহরিনের সঙ্গে নতুন চুক্তি আসছে নয়াদিল্লি, ৯ নভেম্বর ২০২৫ — ভারতের বাণিজ্য সম্প্রসারণের পথে আরও এক বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়াল জানিয়েছেন, ভারত এখন অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও বাহরিনের সঙ্গে নতুন ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (FTA) বা অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরের পথে। এই তিন দেশের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য সম্পর্ক ভারতের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থানকে আরও মজবুত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে ভারত ১৮টিরও বেশি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে যুক্ত, তবে এই নতুন তিন দেশ ভারতের কৌশলগত বাজার সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য মূল্য প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগামী পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে কৃষি, ফার্মাসিউটিক্যালস ও যন্ত্রপাতি খাতে চুক্তি ভারতের রপ্তানিকে বাড়াবে। অন্যদিকে বাহরিনের সঙ্গে চুক্তি ভারতের উপসাগরীয় বাজারে প্রবেশ সহজ করবে। নতুন চুক্তিগুলি কার্যকর হলে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা উন্নত দেশের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবেন। কৃষি, টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিং, ওষুধ, পরিষেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত সরাসরি উপকৃত হবে। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও ভারতে নতুন উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করতে উৎসাহিত হবেন। তবে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে— যেমন স্থানীয় শিল্পে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, কৃষিপণ্যের সুরক্ষা নীতি, এবং শুল্ক কাঠামোর সমন্বয়। এই কারণে সরকার বলেছে, চুক্তিগুলি হবে “ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ”, যাতে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের স্বার্থও রক্ষা হয়। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ভারতের “Make in India” ও “Aatmanirbhar Bharat” নীতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়া, ওশেনিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের উপস্থিতি বাড়িয়ে দেবে। সারাংশে, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও বাহরিনের সঙ্গে এই নতুন বাণিজ্য চুক্তিগুলি শুধু অর্থনৈতিক নয়, কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও ভারতের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হতে চলেছে।
ভারতের নতুন বাণিজ্য অধ্যায়: অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও বাহরিনের সঙ্গে ২০২৫-এর ফ্রি ট্রেড চুক্তির পথে ভারত
নয়াদিল্লি, ৯ নভেম্বর ২০২৫ — ভারতের বাণিজ্য ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়াল ঘোষণা করেছেন, ভারত এখন দ্রুততার সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও বাহরিনের সঙ্গে নতুন ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (FTA) বা কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (CEPA) স্বাক্ষরের পথে এগোচ্ছে। এই পদক্ষেপ ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করে তুলবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বর্তমানে ভারত ১৮টিরও বেশি দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি করেছে এবং আরও ৬টি দেশের সঙ্গে নতুন আলোচনা চলছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও বাহরিন — তিনটি দেশই ভারতীয় বাজারের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ভারতের বর্তমান বাণিজ্য মূল্য প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগামী পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হতে পারে। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে নতুন ট্রেড চুক্তি ভারতের কৃষি-পণ্য, ওষুধ, যন্ত্রপাতি ও খনিজ খাতে প্রবেশের নতুন দরজা খুলবে। বাহরিনের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি পারস্য উপসাগর অঞ্চলে ভারতের রপ্তানি বাজারকে শক্তিশালী করবে।
মন্ত্রী পীযূষ গয়াল বলেছেন — “আমরা এমন ট্রেড চুক্তি চাই যা ন্যায্য, ভারসাম্যপূর্ণ এবং পারস্পরিক লাভজনক। ভারতের শিল্পপতিদের জন্য নতুন বাজার খোলা ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এই চুক্তিগুলির মূল উদ্দেশ্য।”
এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতের রপ্তানি-উৎপাদকরা উন্নত দেশের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবেন। কৃষি, টেক্সটাইল, স্টিল, ফার্মাসিউটিক্যালস, ইলেকট্রনিক্স, গাড়ি-উপকরণ এবং পরিষেবা খাত বিশেষভাবে উপকৃত হবে।
ভারত ইতিমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের GDP বৃদ্ধির হার ৬.৭% হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন FTA-গুলি কার্যকর হলে রপ্তানি খাতের প্রবৃদ্ধি আরও বাড়বে, যা পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াবে।
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তিগুলি ভারতের “Make in India” ও “Aatmanirbhar Bharat” উদ্যোগকে আরও গতি দেবে। বিদেশি কোম্পানিগুলি ভারতেই উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করবে, যাতে স্থানীয় উৎপাদন ও রপ্তানি উভয়ই বাড়বে।
কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ: নিউজিল্যান্ড-ভারত চুক্তি কৃষি-পণ্য বিনিময়ে শুল্ক ছাড় দেবে, যা ভারতীয় ফল-সবজি, দুধ ও মশলার বাজার খুলে দেবে।
ফার্মাসিউটিক্যালস: ভারতীয় জেনেরিক ওষুধ নির্মাতারা অস্ট্রেলিয়া ও বাহরিনের বাজারে সহজে প্রবেশ করতে পারবে।
মেশিনারি ও খনিজ খাত: ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য ও খনিজ রপ্তানিতে ব্যাপক বৃদ্ধি হবে।
পরিষেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত: ভারতীয় সফটওয়্যার, ফিনটেক ও কনসালটেন্সি কোম্পানিগুলির জন্য অস্ট্রেলিয়ার বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
যদিও নতুন চুক্তিগুলি ভারতের জন্য আশাব্যঞ্জক, তবু কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
স্থানীয় কৃষক ও ছোট শিল্পের উদ্বেগ রয়েছে যে বিদেশি প্রতিযোগিতা বাজার দখল করতে পারে।
পণ্যের মান, শুল্ক নীতি ও সার্টিফিকেশন নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সমন্বয় প্রয়োজন।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার দীর্ঘতা এই চুক্তিগুলিকে কিছুটা ধীরগতি দিতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতকে এই চুক্তিগুলি বাস্তবায়নের আগে স্থানীয় শিল্পকে রক্ষা করার জন্য কিছু অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নিতে হবে।
এই উদ্যোগ শুধু অর্থনৈতিক নয়, কূটনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের “ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক ফ্রেমওয়ার্ক (IPEF)”-এ অংশগ্রহণ ও নতুন বাণিজ্য অংশীদারিত্ব দেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। দক্ষিণ এশিয়া, ওশেনিয়া ও উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে মজবুত বাণিজ্য সম্পর্ক তৈরি করে ভারত বৈশ্বিক অর্থনীতির কেন্দ্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে।