ভারতের শেয়ারবাজারে আজ ইতিবাচক সূচনার সম্ভাবনা, বৈশ্বিক বাজারে আশার সুর আজ বুধবার ভারতের শেয়ারবাজারে সূচনার আগে থেকেই স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে বাজার সবুজে খোলার পথে। বৈশ্বিক বাজারের ইতিবাচক প্রবণতা, মার্কিন অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদ কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ—সব মিলিয়ে ভারতীয় বাজারকে দিচ্ছে ইতিবাচক গতি। সকালের গিফট নিফটি সূচকে (GIFT Nifty) দেখা গেছে প্রায় ২৩০ পয়েন্ট বা ০.৮৯ শতাংশ বৃদ্ধি, যা নিফটি সূচককে ২৬,১৪৫ পয়েন্টের উপরে নিয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার নিফটি বন্ধ হয়েছিল ২৫,৯৩৬ পয়েন্টে, এবং সেনসেক্স দাঁড়ায় ৮৫,৬১২ পয়েন্টে। অর্থাৎ বাজারে আজ এক নতুন র্যালি শুরু হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। বৈশ্বিক বাজারেও ইতিবাচক হাওয়া বইছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক সবুজে খোলা, আর মার্কিন ডাও জোন্স ও ন্যাসডাকেও দেখা গেছে উত্থান। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৮৫ ডলারের নিচে নামায় ভারতের আমদানি খাতে স্বস্তি এসেছে। ডলারের তুলনায় রুপির মান কিছুটা শক্ত হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরারও সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের বাজারে মেটাল, ব্যাংকিং ও অটো খাতেতে ক্রয়চাপ দেখা যেতে পারে, কারণ আন্তর্জাতিকভাবে এসব সেক্টরে চাহিদা বেড়েছে। অপরদিকে, রিয়েলটি, আইটি ও এফএমসিজি খাতে বিনিয়োগকারীরা কিছুটা সতর্ক থাকতে পারেন। টেকনিক্যাল বিশ্লেষকরা বলছেন, নিফটির জন্য সমর্থন স্তর ২৫,৭০০–২৫,৭৫০ পয়েন্ট, আর রোধ স্তর ২৬,০৫০–২৬,১০০ পয়েন্টে রয়েছে। যদি নিফটি ২৬,১০০ অতিক্রম করতে পারে, তবে আরও নতুন উচ্চতায় যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বাজারে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিশ্চিত লাভের জন্য বাছাই করা ব্লু-চিপ শেয়ারে ধীরে ধীরে বিনিয়োগ করা। সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, বৈশ্বিক বাজারে ইতিবাচক সিগন্যাল, তেলের দাম হ্রাস, এবং দেশীয় অর্থনৈতিক সূচকের স্থিতিশীলতা—সবই ভারতের শেয়ারবাজারকে আজ এক আশাব্যঞ্জক সূচনার পথে নিয়ে যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা যদি ধৈর্য ও বিচক্ষণতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেন, তবে এই সপ্তাহের বাজার ভারতীয় অর্থনীতির জন্য নতুন উচ্চতার দিকনির্দেশ করতে পারে।
ভারতের শেয়ারবাজার আজ বুধবার ইতিবাচক সূচনার পথে এগোচ্ছে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। বৈশ্বিক বাজার থেকে পাওয়া ইতিবাচক ইঙ্গিত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নীতি নিয়ে আশাবাদ, এবং এশিয়ার বাজারে উল্লম্ফন—সব মিলিয়ে ভারতের শেয়ারবাজার আজকের দিনে ভালোভাবে খোলার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
সকালের প্রি-মার্কেট ট্রেডিং সূচক ‘গিফট নিফটি’ (GIFT Nifty)-তে ইতিমধ্যেই প্রায় ২৩০ পয়েন্ট বা ০.৮৯ শতাংশ উত্থান দেখা গেছে, যা নিফটি সূচককে ২৬,১৪৫ পয়েন্টের আশেপাশে নিয়ে গিয়েছে। এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে দেশীয় শেয়ারবাজার দিনটি শুরু করবে একটি ইতিবাচক নোটে।
আন্তর্জাতিক বাজারেও সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে স্থিতিশীলতা ও আশাবাদ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল সূচকগুলো—ডাও জোন্স, ন্যাসডাক ও এসঅ্যান্ডপি ৫০০—সবই মঙ্গলবারের ট্রেডে শক্ত অবস্থানে ছিল। ফেডারেল রিজার্ভ ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত দেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নতুন করে আস্থা ফিরে পাচ্ছেন।
এশিয়ার দিকেও আজ সকালে বাজারগুলো বেশ উজ্জ্বল। জাপানের নিক্কেই ২২৫ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচকেও ইতিবাচক প্রবণতা, এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচকও আজ সবুজে খোলা। এই সমস্ত বৈশ্বিক ধারা ভারতের শেয়ারবাজারকেও সাহস জোগাচ্ছে।
চীনের অর্থনৈতিক কার্যকলাপে সাম্প্রতিক উল্লম্ফনও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে। সেখানে শিল্প উৎপাদন ও খুচরো বিক্রির পরিসংখ্যান প্রত্যাশার তুলনায় ভালো আসায় বৈশ্বিক বাজারে আস্থা ফিরে এসেছে।
মঙ্গলবার ভারতীয় বাজারে দেখা গিয়েছিল এক রোলারকোস্টার ধরনের ওঠানামা। দিন শেষে নিফটি ৫০ বন্ধ হয় ২৫,৯৩৬.২০ পয়েন্টে, এবং সেন্সেক্স দাঁড়ায় ৮৫,৬১২.৩০ পয়েন্টে। দিনের মধ্যে লাভক্ষতি মিলিয়ে বাজারে বিনিয়োগকারীরা কিছুটা সতর্ক ভঙ্গিতে ছিলেন, কারণ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের (FII) তরফে মাঝারি পরিমাণ শেয়ার বিক্রি হয়েছিল।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, আজকের বৈশ্বিক পরিবেশ ও ডলারের দুর্বলতা ভারতের পক্ষে কাজ করতে পারে। এছাড়া অপরিশোধিত তেলের দাম ৮৫ ডলারের নিচে নেমে আসায় আমদানি-নির্ভর ভারতীয় অর্থনীতির জন্য এটি বাড়তি স্বস্তি।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের ট্রেডিং-এ মেটাল, ব্যাংকিং এবং অটো খাতে ক্রয়চাপ থাকতে পারে। বিশ্বজুড়ে ধাতু-নির্ভর কোম্পানিগুলির জন্য চাহিদা বাড়ছে, এবং আন্তর্জাতিক কাঁচামাল বাজারে দামের উত্থান এই খাতকে সহায়তা করবে।
অন্যদিকে, রিয়েল এস্টেট, আইটি ও এফএমসিজি খাত কিছুটা চাপে পড়তে পারে। কারণ দেশীয় চাহিদা এখনও পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়ায়নি এবং বিদেশি সফটওয়্যার অর্ডার কিছুটা মন্থর।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের উচিত টেকনিক্যাল সাপোর্ট-রোধ (Support & Resistance) লাইনগুলো মাথায় রেখে ক্রয়বিক্রয় করা। বর্তমানে নিফটির জন্য সমর্থন স্তর ২৫,৭০০–২৫,৭৫০ পয়েন্ট, এবং রোধ স্তর ২৬,০৫০–২৬,১০০ পয়েন্ট।
আজকের দিনের জন্য কয়েকটি মূল বিষয় বিনিয়োগকারীদের নজরে রাখা উচিত:
কোম্পানির ত্রৈমাসিক ফলাফল: বড় আইটি, ব্যাংকিং ও ইনফ্রা কোম্পানির ফলাফল আজ প্রকাশিত হতে পারে, যা সূচকের গতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ (FII Flow): সাম্প্রতিক কিছু দিনে বিদেশি পুঁজির বহিঃপ্রবাহ কমেছে, যা ইতিবাচক ইঙ্গিত।
রুপির স্থিতিশীলতা: ডলারের তুলনায় রুপির মান কিছুটা শক্ত হওয়ায় আমদানি খাতে চাপ কমছে।
ক্রুড অয়েলের দাম: তেলের আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল থাকলে ভারতের মুদ্রাস্ফীতি-ঝুঁকি কিছুটা প্রশমিত হবে।
Nomura, Citi ও Motilal Oswal এর মতো বড় ব্রোকারেজ হাউজগুলি ভারতের ইকুইটি মার্কেট নিয়ে এখনও ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করছে। তাঁদের মতে, ভারতের আর্থিক ভিত্তি মজবুত, এবং সরকারি বিনিয়োগ, রপ্তানি বৃদ্ধির ধারা, ও উপভোক্তা-চাহিদার পুনরুদ্ধার—সব মিলিয়ে বাজারের গতি বজায় থাকবে।
Motilal Oswal এর টেকনিক্যাল অ্যানালিস্ট অনুজ গুপ্ত বলেন, “নিফটি যদি ২৬,১০০ অতিক্রম করতে পারে, তবে নতুন উচ্চতায় যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে ২৫,৭০০ এর নিচে নামলে আবার বিক্রির চাপ তৈরি হতে পারে।”
বর্তমান বাজারে ইতিবাচক সূচনা দেখা দিলেও সতর্কতা বজায় রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। স্বল্পমেয়াদি মুনাফার আশায় ঝুঁকি না নিয়ে বরং বাছাই করা ব্লু-চিপ ও ব্যাংকিং স্টকগুলিতে ধীরে ধীরে বিনিয়োগ করাই নিরাপদ। পাশাপাশি আইটি ও রিয়েল এস্টেট খাতে আপাতত ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ কৌশল নেওয়া যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতীয় অর্থনীতি যে পুনরুদ্ধারের পথে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। আন্তর্জাতিক সংকেত ইতিবাচক, কেন্দ্রীয় সরকারও মূলধন ব্যয় বাড়াচ্ছে—এই প্রেক্ষাপটে ২০২৫ এর শেষার্ধে ভারতীয় বাজার আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারে।