Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

সোনার দামে বড় স্বস্তি আজ কিনলে কতটা সাশ্রয় হবে দেখুন

আবারও কমেছে সোনার দাম যার ফলে ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য তৈরি হয়েছে নতুন সুযোগ আজকের সোনার রেট দেখে এখন কিনলে কতটা সাশ্রয় করা যাবে তার হিসাব সহজেই মিলবে

সোনার দামে বড় স্বস্তি আজ কিনলে কতটা সাশ্রয় হবে দেখুন
ব্যবসা বাণিজ্য

আবারও স্বস্তির খবর ক্রেতাদের জন্য। টানা ওঠানামার পর বাজারে কিছুটা কমেছে সোনার দাম। ফলে গয়না কেনা হোক কিংবা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এই সময়টা অনেকের কাছেই নতুন সুযোগের জানালা খুলে দিয়েছে। যারা গত কয়েক মাস ধরে দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে অপেক্ষায় ছিলেন তাঁদের কাছে এই পতন একটি ইতিবাচক সংকেত। এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে আজ সোনা কিনলে সত্যিই কতটা লাভ হতে পারে এবং এই মুহূর্তটি কতটা উপযুক্ত।

সোনার দাম নির্ধারিত হয় একাধিক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় কারণে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য পরিবর্তন তার মধ্যে অন্যতম। বিশ্ববাজারে যখন সোনার দাম কমে তখন তার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশীয় বাজারে। আবার মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার অবস্থানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডলার শক্তিশালী হলে আমদানি খরচ বেড়ে যায় এবং সোনার দামে তার প্রতিফলন দেখা যায়। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের প্রবণতা বাড়লে অনেক সময় বিনিয়োগকারীরা সোনা থেকে অর্থ সরিয়ে নেন ফলে চাহিদা কমে দাম নেমে আসতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সুদের হার নীতিও প্রভাব ফেলে। সুদের হার বেশি হলে সোনা তুলনামূলক কম আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে কারণ তখন স্থির আয়ের বিনিয়োগে বেশি রিটার্ন পাওয়া যায়। অন্যদিকে উৎসব বা বিয়ের মরশুমে চাহিদা বাড়লে দামও বাড়তে পারে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে দামে সামান্য পতন এবং ডলারের অবস্থানের পরিবর্তনের ফলে দেশীয় বাজারেও কিছুটা স্বস্তি এসেছে। শুক্রবার বিশ জানুয়ারি বাজারদর অনুযায়ী বাইশ ক্যারেট সোনার দাম হয়েছে চৌদ্দ হাজার ছয়শো পনেরো টাকা প্রতি গ্রাম। আঠারো ক্যারেট সোনার দাম বারো হাজার টাকা। এক কেজি রুপোর দাম হয়েছে দুই লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার সাতাশি টাকা। তবে মনে রাখতে হবে এই দামের সঙ্গে আরও তিন শতাংশ জিএসটি যুক্ত হবে। ফলে ক্রয়ের সময় মোট খরচ কিছুটা বাড়বে। গয়না কিনলে মেকিং চার্জও আলাদা করে যোগ হয় যা দোকানভেদে ভিন্ন হতে পারে।

এখন প্রশ্ন বিনিয়োগ হিসেবে এটি কতটা ভাল সময়। বিশেষজ্ঞদের মতে দীর্ঘমেয়াদে সোনা সাধারণত মূল্য ধরে রাখে এবং মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় সোনা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই যারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের কথা ভাবছেন তাঁদের কাছে দামের পতন একটি সম্ভাব্য সুযোগ হতে পারে। তবে স্বল্পমেয়াদে লাভ করতে চাইলে বাজারের ট্রেন্ড এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা জরুরি। হঠাৎ ওঠানামা হলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

গত কয়েক বছরে সোনার দাম যেভাবে দ্রুত বেড়েছে তাতে অনেকেই তাঁদের পোর্টফোলিওতে সোনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রাখছেন। কেউ ফিজিক্যাল গোল্ড কিনছেন আবার কেউ গোল্ড ইটিএফ বা ডিজিটাল গোল্ডের মতো বিকল্পে বিনিয়োগ করছেন। ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন বিনিয়োগের মধ্যে ভারসাম্য রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। সোনা সেখানে স্থিতিশীলতার ভূমিকা নিতে পারে।

তবে যেকোনও বিনিয়োগের আগে নিজের বাজেট এবং আর্থিক লক্ষ্য পরিষ্কার করা জরুরি। বিয়ে বা উৎসবের জন্য গয়না কিনতে চাইলে বর্তমান দাম কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। আবার বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে কিনলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা মাথায় রাখা উচিত। হলমার্ক যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যাতে সোনার বিশুদ্ধতা নিয়ে কোনও সন্দেহ না থাকে।

সব মিলিয়ে বলা যায় সোনার দামে পতন মানেই আতঙ্কের কারণ নয় বরং অনেক সময় সেটাই হয়ে ওঠে সেরা কেনার সুযোগ। বাজার পরিস্থিতি বুঝে পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত নিলে বর্তমান দর অনেকের জন্য লাভজনক হতে পারে। তথ্যসূত্র হিসেবে স্বর্ণশিল্প বাঁচাও কমিটি এসএসবিসি যে দাম প্রকাশ করেছে তা অনুযায়ী আজকের বাজার কিছুটা ক্রেতাবান্ধব। এখন দেখার আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং মুদ্রাবাজারের পরিবর্তন আগামী দিনে দামের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে।

সোনার বাজারের দিকে তাকালে দেখা যায় এই ধাতুটি কেবল একটি গয়নার উপাদান নয় বরং এটি বহু বছর ধরেই মানুষের আর্থিক নিরাপত্তার প্রতীক। ইতিহাসের নানা পর্যায়ে অর্থনৈতিক মন্দা যুদ্ধ কিংবা রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সোনা মানুষের আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছে। বর্তমান সময়েও তার ব্যতিক্রম নয়। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়লে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে এসে সোনার মতো নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এই কারণেই সোনার দামের ওঠানামা শুধু গয়নার বাজারে নয় সামগ্রিক অর্থনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।

দেশীয় বাজারে সোনার দাম কমার ফলে সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি ছোট বিনিয়োগকারীরাও কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিলেন একটু কম দামে কেনার জন্য। এখন সেই সুযোগ কিছুটা হলেও তৈরি হয়েছে। তবে এই সুযোগ কতদিন থাকবে তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে একটুখানি পরিবর্তন হলেই তার প্রভাব দ্রুত দেশীয় বাজারে পড়ে। তাই যারা কিনতে চান তাঁদের উচিত দামের দিকে নজর রেখে ধাপে ধাপে কেনাকাটা করা।

বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে সোনায় বিনিয়োগের পথও বদলেছে। আগে যেখানে ফিজিক্যাল সোনা কেনাই ছিল একমাত্র উপায় এখন সেখানে ডিজিটাল গোল্ড গোল্ড ইটিএফ এবং সোভেরেন গোল্ড বন্ডের মতো বিকল্প রয়েছে। ফিজিক্যাল সোনার ক্ষেত্রে সংরক্ষণ এবং নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল মাধ্যম সেই ঝামেলা অনেকটাই কমিয়ে দেয়। তবে প্রতিটি বিনিয়োগ মাধ্যমেরই নিজস্ব সুবিধা এবং সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিনিয়োগের আগে সেগুলি ভালোভাবে বুঝে নেওয়া প্রয়োজন।

news image
আরও খবর

গয়না কেনার সময় শুধু দামের দিকেই তাকালে চলবে না। মেকিং চার্জ হলমার্ক এবং বিক্রয় পরবর্তী পরিষেবার বিষয়েও সচেতন থাকা জরুরি। অনেক সময় কম দামের লোভে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে যা পরে ক্ষতির কারণ হয়। নির্ভরযোগ্য দোকান থেকে কেনাকাটা করা এবং বিল সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে বিক্রি করতে গেলে এই নথিগুলি কাজে আসে।

বিনিয়োগের দৃষ্টিকোণ থেকে সোনা কেনার ক্ষেত্রে একটি সাধারণ নিয়ম হল একসঙ্গে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ না করে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ করা। এতে দামের ওঠানামার ঝুঁকি কিছুটা হলেও কমে। একে বলা হয় গড় ক্রয় মূল্য কৌশল। দীর্ঘমেয়াদে এই পদ্ধতি অনেক ক্ষেত্রেই লাভজনক প্রমাণিত হয়েছে।

মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। এই পরিস্থিতিতে সোনা অনেক সময় মূল্য ধরে রাখে। ফলে সোনাকে মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে একটি ঢাল হিসেবে দেখা হয়। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির কাছে এটি একটি পরিচিত ধারণা। বিয়ে উৎসব বা ভবিষ্যতের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে সোনা জমিয়ে রাখার প্রবণতা ভারতীয় সমাজে বহু পুরনো।

তবে এটাও মনে রাখা জরুরি যে সোনা থেকে নিয়মিত আয় হয় না। শেয়ার বা বন্ডের মতো এখানে সুদ বা লভ্যাংশ নেই। লাভ নির্ভর করে পুরোপুরি দামের বাড়ার উপর। তাই সোনাকে একমাত্র বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বরং একটি ভারসাম্যপূর্ণ পোর্টফোলিওর অংশ হিসেবেই সোনায় বিনিয়োগ করা বুদ্ধিমানের।

বর্তমান দামের পতন অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগাচ্ছে আরও কি দাম কমবে। এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর কেউ দিতে পারে না। কারণ দাম নির্ভর করে বহু অজানা উপাদানের উপর। আন্তর্জাতিক রাজনীতি কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক সুদের হার এবং মুদ্রাবাজারের ওঠানামা সবকিছুই এতে ভূমিকা রাখে। তাই ভবিষ্যতের অনুমান করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে নিজের প্রয়োজন এবং সামর্থ্য অনুযায়ী পরিকল্পনা করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

সব মিলিয়ে বলা যায় সোনার দামে সাম্প্রতিক পতন ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে সচেতনতা ও পরিকল্পনা জরুরি। আবেগের বশে নয় বরং তথ্য ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিলে সোনায় বিনিয়োগ সত্যিই লাভজনক হতে পারে।

সোনার বাজারে এই সাময়িক স্বস্তি অনেক পরিবারের আর্থিক পরিকল্পনাকে নতুনভাবে সাজানোর সুযোগ এনে দিয়েছে। বিশেষ করে যারা বিয়ে বা বড় কোনও সামাজিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁদের জন্য বর্তমান দর কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক। আগে যেখানে বাড়তি দামের কারণে কেনাকাটা পিছিয়ে দিতে হচ্ছিল এখন সেখানে পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোনো সহজ হতে পারে। তবে একসঙ্গে বড় পরিমাণ কেনার বদলে ধাপে ধাপে কেনা অনেক সময় বেশি যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত হয়ে ওঠে।

বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রেও বর্তমান পরিস্থিতি নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। অনেকেই তাঁদের সঞ্চয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ সোনায় রাখেন যাতে বাজারের অস্থিরতার সময় কিছুটা স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। বিশেষজ্ঞরা সাধারণত মোট বিনিয়োগের একটি সীমিত অংশ সোনায় রাখার পরামর্শ দেন। এতে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং প্রয়োজনে দ্রুত নগদে রূপান্তর করাও তুলনামূলক সহজ হয়।

একই সঙ্গে বাজার সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তন সুদের হারের ওঠানামা কিংবা আন্তর্জাতিক সংঘাতের মতো ঘটনাও সোনার দামে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সচেতন বিনিয়োগই এখানে মূল চাবিকাঠি। বর্তমান দর যদি আপনার বাজেট ও লক্ষ্য অনুযায়ী মানানসই হয় তবে এটি একটি উপযুক্ত সময় হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের আর্থিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ভালোভাবে বিবেচনা করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

 

Preview image