ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বল হাতে প্রত্যাশিত পারফর্ম করতে পারেননি অক্ষর পটেল। ব্যাট হাতেও তাঁর তেমন কিছু করার সুযোগ ছিল না। তবু দুরন্ত ফিল্ডিং করে দলের জয়ে অবদান রেখেছেন সহ-অধিনায়ক।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচে ভারতের জয়ের অন্যতম নেপথ্য নায়ক হয়ে উঠেছিলেন অক্ষর পটেল। বল হাতে সেদিন বিশেষ সাফল্য না পেলেও ফিল্ডিংয়ে তাঁর অসাধারণ দক্ষতা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার হ্যারি ব্রুক এবং উইল জ্যাকসকে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অক্ষরের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঠে তাঁর উপস্থিত বুদ্ধি, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং অসাধারণ অ্যাথলেটিক ফিটনেস এই ম্যাচে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ম্যাচের শুরু থেকেই ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করছিলেন। সেই সময় ভারতের ফিল্ডারদের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ঘটে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। পয়েন্ট অঞ্চলে ফিল্ডিং করছিলেন অক্ষর পটেল। ভারতের তারকা পেসার জসপ্রীত বুমরাহ একটি ধীর গতির ডেলিভারি করেন, যেটিকে জোরে তুলে মারতে গিয়েছিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। কিন্তু বলের গতি কম থাকায় শটটি ঠিকমতো বাউন্ডারি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। সেই সুযোগটাই কাজে লাগান অক্ষর।
পয়েন্ট থেকে বাউন্ডারির দিকে মুখ করে প্রায় ২০ মিটার দৌড়ে গিয়ে সামনে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি এবং অসাধারণ দক্ষতায় ক্যাচটি তালুবন্দি করেন। এই ক্যাচটি শুধু কঠিনই ছিল না, বরং সময় ও গতি বিচার করে নেওয়া একটি নিখুঁত অ্যাথলেটিক মুহূর্ত। ব্রুকের ব্যাট থেকে বল বেরোনোর পর অক্ষরের হাতে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৫.৪ সেকেন্ড। সেই অল্প সময়ের মধ্যেই দূরত্ব মেপে সঠিক জায়গায় পৌঁছে ক্যাচ নেওয়া সত্যিই অসাধারণ কৃতিত্ব।
এই ক্যাচের গুরুত্ব ছিল আরও বেশি, কারণ ব্রুক তখন ইংল্যান্ডের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাঁকে আউট করার ফলে ইংল্যান্ডের ইনিংসে বড় ধাক্কা লাগে এবং ভারত ম্যাচে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়।
এরপর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি আসে ইংল্যান্ডের ইনিংসের ১৪তম ওভারে। ভারতের তরুণ পেসার অর্শদীপ সিংহ একটি ওয়াইড ফুলটস বল করেন, যেটিকে ছয় মারার চেষ্টা করেন উইল জ্যাকস। শটটি বেশ জোরেই গিয়েছিল এবং মনে হচ্ছিল বলটি বাউন্ডারি পার হয়ে যাবে। কিন্তু সেই সময় ডিপ কভার অঞ্চলে ছিলেন অক্ষর পটেল।
তিনি বাঁ দিকে অনেকটা দৌড়ে গিয়ে প্রায় বাউন্ডারি লাইনের ধারে ঝাঁপিয়ে বলটি ধরেন। কিন্তু তখন তাঁর শরীরের গতি এতটাই বেশি ছিল যে, থামা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। সেই মুহূর্তে অসাধারণ উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দেন অক্ষর। তিনি বুঝতে পারেন যে বল হাতে নিয়ে যদি তিনি বাউন্ডারি লাইনের বাইরে চলে যান, তাহলে সেটি ছয় হিসেবে গণ্য হবে। তাই বাউন্ডারি পার হওয়ার ঠিক আগে তিনি বলটি ছুড়ে দেন কাছে থাকা সতীর্থ শিবম দুবের দিকে।
শিবম দুবে দ্রুত এগিয়ে এসে সেই বলটি ধরে ফেলেন এবং ক্যাচটি সম্পূর্ণ করেন। যদিও পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই আউটের কৃতিত্ব শিবম দুবের নামে লেখা হয়, কিন্তু বাস্তবে এটি ছিল একটি নিখুঁত রিলে ক্যাচ, যার মূল অবদান ছিল অক্ষর পটেলের। মাঠে এমন সমন্বয় ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া খুবই বিরল ঘটনা।
ম্যাচ শেষে এই দুই ক্যাচ নিয়ে আলোচনা হয়। প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার পার্থিব পটেল ম্যাচ শেষে অক্ষর পটেলের সঙ্গে কথা বলার সময় জানতে চান, এই দুই অসাধারণ ক্যাচের মধ্যে কোনটি তাঁর বেশি পছন্দের। উত্তরে অক্ষর বলেন, হ্যারি ব্রুকের ক্যাচটাই তাঁর বেশি প্রিয়।
অক্ষরের মতে, ব্রুকের ক্যাচটি নেওয়া অনেক বেশি কঠিন ছিল। কারণ সেই ক্ষেত্রে তাঁকে বলের গতির দিকে মুখ করে দৌড়াতে হয়েছিল। এ ধরনের ক্যাচ নেওয়ার সময় বলের উপর নজর রাখা অনেক কঠিন হয়ে যায়। তিনি জানান, রিপ্লেতে দেখা যাবে যে ক্যাচ ধরার ঠিক আগে তিনি সামান্য থেমে গিয়েছিলেন। কারণ তিনি নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন যে বলের আগে তিনি পৌঁছে যাচ্ছেন না এবং সঠিক সময়েই ঝাঁপ দিচ্ছেন।
অক্ষর আরও বলেন, সেই সময় ম্যাচে যথেষ্ট চাপ ছিল। সেমিফাইনাল ম্যাচে ছোট একটি ভুলও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিস্থিতি বিচার করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সব দিক বিবেচনা করে ব্রুকের ক্যাচটিকেই তিনি নিজের কাছে বেশি বিশেষ বলে মনে করেন।
অন্যদিকে উইল জ্যাকসের রিলে ক্যাচ নিয়েও তিনি নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। অক্ষর বলেন, দ্বিতীয় ক্যাচটির সময় তিনি পাশের দিকে দৌড়চ্ছিলেন, যা প্রথম ক্যাচের তুলনায় একটু আলাদা পরিস্থিতি। প্রথমে তাঁর মনে হয়েছিল তিনি হয়তো বল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবেন না। কিন্তু শেষ মুহূর্তে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং সেই চেষ্টাই সফল হয়।
তিনি আরও জানান, এই ক্যাচের ক্ষেত্রে শিবম দুবের অবদানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শিবম ঠিক সময় মতো তাঁর কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন এবং দু’জনের মধ্যে কোনও ধাক্কাধাক্কিও হয়নি। অক্ষর যখন ক্যাচটি ধরেন, তখনই বুঝতে পারেন যে তিনি বাউন্ডারি লাইনের বাইরে চলে যাচ্ছেন। সেই মুহূর্তে মাত্র এক সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।
সৌভাগ্যবশত শিবম খুব কাছেই ছিলেন, ফলে বলটি তাঁর দিকে ছুড়ে দেওয়া সহজ হয়ে যায়। শিবম সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্যাচ সম্পূর্ণ করেন এবং ইংল্যান্ডের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট পড়ে যায়।
এই দুই মুহূর্তই প্রমাণ করে দেয় যে আধুনিক ক্রিকেটে ফিল্ডিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগে যেখানে ব্যাটিং ও বোলিংকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো, এখন সেখানে ফিল্ডিংও ম্যাচ জেতানোর অন্যতম প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠেছে। অক্ষর পটেলের মতো অলরাউন্ডাররা শুধু বল বা ব্যাট নয়, ফিল্ডিংয়েও দলের জন্য বড় অবদান রাখছেন।
এই ম্যাচে অক্ষরের ফিল্ডিং শুধু দুইটি ক্যাচেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পুরো ম্যাচ জুড়ে তাঁর তৎপরতা, দ্রুত নড়াচড়া এবং সঠিক জায়গায় ফিল্ডিং করা ভারতীয় দলের ফিল্ডিং মানকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছিল। সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এমন পারফরম্যান্স দলের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দেয়।
ভারতীয় দলের সহ-অধিনায়ক হিসেবে অক্ষর পটেল এখন দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার। ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং— তিন বিভাগেই তাঁর অবদান দলকে ভারসাম্য এনে দেয়। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই সেমিফাইনাল ম্যাচে তাঁর ফিল্ডিংয়ের দুইটি মুহূর্ত ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন ধরে থেকে যাবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এই ম্যাচে অক্ষর পটেল প্রমাণ করেছেন যে ক্রিকেট শুধু ব্যাট বা বলের খেলা নয়, এটি প্রতিটি মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার খেলা। আর সেই সিদ্ধান্তই কখনও কখনও একটি ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই সেমিফাইনালে তাঁর দুইটি ক্যাচ সেই সত্যকেই আবারও সামনে এনে দিয়েছে।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ভারতীয় দলের হয়ে এক অনন্য ফিল্ডিং প্রদর্শনীর সাক্ষী থাকল ক্রিকেট বিশ্ব। ব্যাট বা বল হাতে বড় সাফল্য না পেলেও ফিল্ডিংয়ের দিক থেকে ম্যাচের অন্যতম নায়ক হয়ে উঠলেন ভারতের সহ-অধিনায়ক Axar Patel। তাঁর দু’টি অসাধারণ ক্যাচ শুধু দর্শকদের মুগ্ধই করেনি, বরং ম্যাচের গতিপথও অনেকটাই বদলে দেয়। ইংল্যান্ডের দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার Harry Brook এবং Will Jacks-কে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অক্ষরের উপস্থিত বুদ্ধি, দ্রুততা এবং নিখুঁত ফিল্ডিং বড় ভূমিকা নেয়।
এই ম্যাচটি ছিল ICC Men's T20 World Cup-এর সেমিফাইনাল, যেখানে ভারতের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নেমেছিল ইংল্যান্ড। দুই দলের লড়াই ঘিরে ছিল ব্যাপক উত্তেজনা। শুরু থেকেই ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ভারতের বোলারদের পাশাপাশি ফিল্ডাররাও ছিলেন সমান সতর্ক। সেই সতর্কতার অন্যতম উদাহরণ হয়ে ওঠেন অক্ষর পটেল।
ইংল্যান্ডের ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ঘটে ম্যাচের প্রথম বড় মুহূর্ত। ভারতের অন্যতম সেরা পেসার Jasprit Bumrah তখন বল হাতে। তিনি এক