Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ভারতীয় মহিলা বক্সিংয়ে বড় চমক! প্রধান কোচ হিসেবে ফিরলেন সান্তিয়াগো নেভা

ভারতীয় মহিলা বক্সিং দলে বড় পরিবর্তন আনতে আবারও ফিরলেন অভিজ্ঞ কোচ সান্তিয়াগো নেভা। দীর্ঘ সময় ভারতের পুরুষ বক্সিং দলের হাই-পারফরম্যান্স ডিরেক্টর হিসাবে কাজ করার পর নেভা এবার দায়িত্ব নিলেন মহিলা বক্সিং দলের প্রধান কোচ হিসেবে। তাঁর ফিরে আসা ভারতীয় বক্সিংয়ে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে প্যারিস অলিম্পিকের প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলোকে সামনে রেখে। নেভার কোচিংয়ের অধীনে ভারতীয় বক্সাররা অতীতে বহু আন্তর্জাতিক সাফল্য অর্জন করেছে। তাঁর বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, কৌশলগত পরিকল্পনা ও বক্সারদের ফিটনেস উন্নত করার ক্ষমতা তাকে বিশ্বব্যাপী সম্মান এনে দিয়েছে। তাই মহিলা দলের জন্য তাঁর প্রত্যাবর্তনকে অনেকেই গেম চেঞ্জার বলে উল্লেখ করছেন। বক্সিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে নেভাকে ফিরিয়ে আনার মূল উদ্দেশ্য হল দলকে আরও পেশাদার, দক্ষ এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতার উপযোগী করে তোলা। মেরি কম থেকে নিকাত জারিন ভারতের শীর্ষ মহিলা বক্সাররা নেভার কোচিংয়ে নিজেদের পারফরম্যান্স আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে পারবেন বলে আশা করছেন। নেভার প্রত্যাবর্তনে ভারতীয় মহিলা বক্সিং দল নতুন পরিকল্পনা, আধুনিক ট্রেনিং ও আরও কৌশলগত উন্নতির পথে হাঁটবে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

ভারতীয় মহিলা বক্সিংয়ে নেভা বিপ্লব: বৈজ্ঞানিক কোচিংয়ের প্রত্যাবর্তন—প্রত্যাশা, চ্যালেঞ্জ ও সোনালি ভবিষ্যতের ব্লু-প্রিন্ট

 

নয়াদিল্লি, নভেম্বর ২৮ (বিশেষ বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন):

ভারতীয় মহিলা বক্সিংয়ে এখন পরিবর্তনের বাতাস। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং প্রমাণিত সাফল্যের রেকর্ডধারী আন্তর্জাতিক কোচ সান্তিয়াগো নেভা (Santiago Nieva)-এর ভারতীয় মহিলা বক্সিং দলের প্রধান কোচ হিসেবে প্রত্যাবর্তনকে শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক রদবদল হিসেবে দেখা ভুল হবে। এটি ভারতীয় বক্সিং ফেডারেশন (BFI) কর্তৃক গৃহীত একটি কৌশলগত বিনিয়োগ, একটি বড় বিশ্বাস এবং সোনালি ভবিষ্যতের জন্য একটি স্পষ্ট ব্লু-প্রিন্ট। মেরি কম, নিকাত জারিন, লাভলিনা বর্গোহাঁই—এঁদের মতো বিশ্বমানের বক্সারদের দেশে বক্সিং কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেভার ফিরে আসা ক্রীড়াজগতে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ভারতীয় মহিলা বক্সিংয়ের স্থগিত হয়ে থাকা 'সোনালি অধ্যায়ের' পুনরারম্ভ।


 

১.  কে এই সান্তিয়াগো নেভা? কেন তাঁর প্রত্যাবর্তন এত গুরুত্বপূর্ণ?

 

সান্তিয়াগো নেভা, সুইডেনে জন্ম নেওয়া একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ এবং বিশ্বমানের বক্সিং কোচ। তাঁর কোচিংয়ের মূল ভিত্তি হলো বৈজ্ঞানিক ট্রেনিং পদ্ধতি, শারীরিক-মানসিক উন্নয়নের বিশেষ কৌশল এবং প্রতিপক্ষের উপর ভিত্তি করে ম্যাচ কৌশল তৈরি করা। এর আগে তিনি ভারতের পুরুষ বক্সিং দলের হাই-পারফরম্যান্স ডিরেক্টর হিসেবে অত্যন্ত সফল ছিলেন।

 

 নেভার সময়কালে ভারতের অভূতপূর্ব সাফল্য:

 

তাঁর সময়কালে ভারতীয় বক্সিংয়ের মান এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিল:

  • আন্তর্জাতিক পদকের বন্যা: ভারত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে, বিশেষত এশিয়ান এবং কমনওয়েলথ গেমসে, রেকর্ড সংখ্যক পদক জিতেছিল।

  • অলিম্পিক কোটায় ধারাবাহিকতা: অলিম্পিকের মতো কঠিন মঞ্চে একাধিক কোটা অর্জন করে ভারতীয় বক্সাররা ধারাবাহিকতা দেখিয়েছিলেন।

  • বক্সারদের সামগ্রিক উন্নয়ন: বক্সারদের ফিটনেস, স্ট্র্যাটেজি এবং টেকনিক্যাল দক্ষতা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল।

পুরুষ দলের সাফল্যের পর মহিলা বক্সিং দলের প্রধান কোচ হিসেবে তাঁর ফিরে আসা দেশের সামগ্রিক বক্সিং কাঠামোকে দৃঢ় করতে এবং মহিলা বক্সিংকে বৈশ্বিক মানচিত্রে আরও উপরে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।


 

২.  মহিলা বক্সিং দল কেন নেভাকে চাইছিল? স্থিতিশীলতার সন্ধান

 

গত কয়েক বছরে ভারতীয় মহিলা বক্সিং দল মেরি কম, নিকাত জারিন এবং লাভলিনা বর্গোহাঁইয়ের ব্যক্তিগত সাফল্যে উজ্জ্বল হলেও, কোচিং কাঠামোতে স্থিতিশীলতার অভাব ছিল। ঘন ঘন কোচ বদলের কারণে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বারবার ব্যাহত হচ্ছিল, যা খেলোয়াড়দের মানিয়ে নিতে সমস্যার সৃষ্টি করত।

নেভার প্রত্যাবর্তন এই কাঠামোগত অস্থিরতার অবসান ঘটাবে এবং মহিলা বক্সিংয়ে একটি স্থায়ী এবং প্রমাণিত ট্রেনিং সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করবে।

 

খেলোয়াড়দের উচ্চ প্রত্যাশার মূল কারণসমূহ:

 

  • বৈজ্ঞানিক ও ব্যক্তিগত পরিকল্পনা: তাঁর কোচিং স্টাইল অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক। তিনি প্রতিটি বক্সারের শক্তি-দুর্বলতা (Strengths and Weaknesses) চিহ্নিত করে তার জন্য আলাদা পরিকল্পনা তৈরি করেন।

  • ফিটনেস ট্রেনিংয়ে বিশেষ দক্ষতা: আধুনিক বক্সিংয়ে ফিটনেস একটি গেম-চেঞ্জার। নেভার ফিটনেস ট্রেনিং মডিউল আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত, যা বক্সারদের বাউটের শেষ রাউন্ড পর্যন্ত এনার্জি বজায় রাখতে সাহায্য করে।

  • প্রতিপক্ষ বিশ্লেষণ (Opponent Analysis): আন্তর্জাতিক প্রতিপক্ষদের ভিডিও স্টাডি ও অ্যানালাইসিসে তাঁর দল অত্যন্ত পারদর্শী, যা বাউটের কৌশল নির্ধারণে সহায়তা করে।

  • আধুনিক পদ্ধতির সংমিশ্রণ: কঠোর শৃঙ্খলা এবং আধুনিক বক্সিং পদ্ধতির এই সংমিশ্রণই তাঁর কোচিংয়ের মূল বৈশিষ্ট্য।

এক কথায়, মহিলা বক্সিং দলের জন্য নেভা মানে একটি পুনর্জাগরণের ছোঁয়া এবং পেশাদারিত্বের প্রতিষ্ঠা।


 

৩.  ভারতের শীর্ষ মহিলা বক্সারদের প্রত্যাশা: একীভূত কণ্ঠস্বর

 

ভারতীয় বক্সিংয়ের তারকাদের প্রতিক্রিয়া নেভার প্রতি তাদের আস্থা ও প্রত্যাশা স্পষ্ট করে তোলে।

  • নিকাত জারিন (Nikhat Zareen): “নেভা স্যার আমাদের শক্তি-দুর্বলতা চিহ্নিত করতে খুব দক্ষ। তাঁর ট্যাকটিক্স এবং নির্ভুল নির্দেশাবলী আমাকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম দিন থেকেই সাহায্য করেছে। তাঁর ফিরে আসা আমাদের জন্য বিশাল ইতিবাচক দিক।”

  • লাভলিনা বর্গোহাঁই (Lovlina Borgohain): “নেভা স্যার কেবল একজন টেকনিক্যাল কোচ নন, তিনি মাঠে ও মাঠের বাইরে উভয় জায়গায় খেলোয়াড়দের পাশে থাকেন এবং মানসিকভাবে শক্তি জোগান। তাঁর কোচিং আমাদের আরও শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী করে।”

  • যুব বক্সারদের প্রতিক্রিয়া: “নেভা স্যার ফিরেছেন মানে আমরা অলিম্পিক ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে পারব। তিনি জুনিয়র স্তর থেকেও খেলোয়াড়দের চিনতে ও উন্নত করতে পারেন।”


 

৪.  নেভার কোচিং দর্শন—বৈজ্ঞানিক, আধুনিক ও মানসিক দৃঢ়তার ওপর জোর

 

সান্তিয়াগো নেভা বক্সিংকে শুধুমাত্র শক্তি বা অভ্যাস নয়, বরং একটি বিশুদ্ধ বিজ্ঞান মনে করেন, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপের পেছনে একটি যুক্তি থাকতে হবে।

news image
আরও খবর

তাঁর ট্রেনিংয়ের মূল উপাদান ও দর্শন:

  • High-Performance Training System (HPTS): এই সিস্টেমে ট্রেনিংকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে প্রতিটা অনুশীলন সেশন বাউটের মতো তীব্র হয়।

  • Video Analysis & Opponent Study: প্রতিপক্ষের প্রতিটি বাউট বিশ্লেষণ করে দুর্বলতা খুঁজে বের করা হয় এবং সেই অনুযায়ী আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক কৌশল তৈরি করা হয়।

  • Strength & Conditioning: বক্সিংয়ের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা শক্তি ও কন্ডিশনিং প্রোগ্রাম, যা বক্সারদের ইনজুরি থেকে রক্ষা করে এবং স্ট্যামিনা বাড়ায়।

  • Mental Conditioning and Focus Training: আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো করতে গেলে মানসিক দৃঢ়তা অপরিহার্য। নেভা মানসিক প্রস্তুতি এবং চাপের মুখে মনোযোগ ধরে রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন।

  • Long-Term Athlete Development Model (LTAD): এটি কেবল বর্তমানের জন্য নয়, নেভা আগামী ৫-৮ বছরের জন্য নতুন প্রজন্মের বক্সারদের বিশ্বমানের করে তোলার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করবেন।

এই ধরনের পদ্ধতিই বিশ্বের শীর্ষ বক্সিং দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার জন্য সবচেয়ে কার্যকর—এমনটাই মত ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের।


 

৫.  মহিলা বক্সিংয়ের নতুন লক্ষ্য—অলিম্পিক, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ও এশিয়ান গেমস

 

ভারতীয় বক্সিং ফেডারেশন (BFI) অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে নেভার হাতে তিনটি প্রধান লক্ষ্য তুলে দিয়েছে, যা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভারতীয় বক্সিংয়ের ভবিষ্যতের মান নির্ধারণ করবে:

  1.  প্যারিস অলিম্পিকের কোয়ালিফিকেশন ও পদক: ভারত চাইবে কোয়ালিফায়িং স্টেজে আরও বেশি সংখ্যক বক্সার যেন প্যারিস অলিম্পিকের টিকিট নিশ্চিত করতে পারেন এবং সেখানে পদক সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারেন।

  2.  বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে পদক সংখ্যা বৃদ্ধি: ভারতীয় মহিলা বক্সাররা অতীতে পদক জিতেছে, কিন্তু এখন লক্ষ্য হলো বিভিন্ন ওজন শ্রেণিতে ধারাবাহিকভাবে পদক জেতা।

  3.  এশিয়ান গেমসে শক্তিশালী উপস্থিতি: এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলি (যেমন চীন, কোরিয়া, থাইল্যান্ড) বক্সিংয়ে অত্যন্ত শক্তিশালী। এখানে সফলতা অর্জন করা চ্যালেঞ্জিং হলেও নেভার অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত নির্দেশনায় ভারত আরও আত্মবিশ্বাসী।


 

৬.  নেভার তিনটি বড় পরিবর্তন যা মহিলা বক্সিংয়ে আসবে

 

নেভা তাঁর প্রত্যাবর্তনে ভারতীয় মহিলা বক্সিংয়ে তিনটি মৌলিক পরিবর্তন আনতে চলেছেন:

পরিবর্তন বিশ্লেষণ গুরুত্ব
১. শুদ্ধ টেকনিক থেকে আক্রমণাত্মক কৌশলে রূপান্তর ভারতের বক্সারদের টেকনিক ভালো হলেও আক্রমণাত্মক বা 'হাই-ভলিউম' বক্সিংয়ে ঘাটতি আছে। নেভা সেই ব্যবধান কমিয়ে বক্সারদের প্রথম পাঞ্চটি ফেলার মানসিকতা দেবেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাউট জেতার জন্য আগ্রাসী স্কোরিং অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
২. ফিটনেসকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নত করা আধুনিক বক্সিংয়ে ফিটনেস ৫০% এবং দক্ষতা ৫০%। নেভা এমন একটি কন্ডিশনিং প্রোগ্রাম নিয়ে আসবেন যা বক্সারদের অতিরিক্ত বাউট লোড নেওয়ার ক্ষমতা দেবে। আন্তর্জাতিক মানের স্ট্যামিনা ছাড়া শেষ রাউন্ডে সফল হওয়া অসম্ভব।
৩. দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা (LTAD) নেভা কেবল সিনিয়র দল নিয়ে কাজ করবেন না। তিনি আগামী ৫–৮ বছরের মধ্যে নতুন প্রতিভাবান বক্সারদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিশ্বমানের করে তোলার জন্য একটি সুসংগঠিত পাইপলাইন তৈরি করবেন। এটি ভারতীয় বক্সিংয়ের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

 

৭.  বিশ্ব বক্সিংয়ে ভারতের অবস্থান ও নেভার ভূমিকা

 

বক্সিংয়ে ভারত ইতিমধ্যেই শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে নিজেদের জায়গা পাকা করেছে। কিন্তু নেভার মূল চ্যালেঞ্জ হলো ভারতকে স্থায়ীভাবে শীর্ষ ৫-এ নিয়ে যাওয়া। এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে চারটি বিষয় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন:

  1. ধারাবাহিকতা: প্রতিটি আন্তর্জাতিক ইভেন্টে পদক জেতার অভ্যাস তৈরি করা।

  2. বৈজ্ঞানিক ট্রেনিং: বিশ্বের সেরা কোচিং পদ্ধতির প্রয়োগ।

  3. উন্নত কৌশল: প্রতিপক্ষের দুর্বলতা অনুসারে কৌশল নির্ধারণ করা।

  4. অভিজ্ঞ কোচিং: নেভার মতো অভিজ্ঞ নেতার উপস্থিতি।

নেভা তাঁর অভিজ্ঞতা এবং পদ্ধতি দিয়ে এই চারটি দিকেই সেরা ফল দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। BFI-এর সভাপতি বলেছেন: “মহিলা বক্সিং নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে নেভাই সঠিক ব্যক্তি। তাঁর অভিজ্ঞতা ও আধুনিক কোচিং সিস্টেম আমাদের সাফল্যের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।”


 

৮.  সমালোচকদের প্রশ্ন ও কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ

 

নেভার প্রত্যাবর্তন অত্যন্ত ইতিবাচক হলেও, সমালোচকরা কিছু কাঠামোগত প্রশ্ন তুলেছেন:

  • নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা: ভারতীয় বক্সারদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কি আরও বেশি স্বচ্ছতা ও পরিবর্তন আসবে?

  • রাজ্য কাঠামো উন্নত হবে কি? কেবল জাতীয় ক্যাম্প নয়, বিভিন্ন রাজ্যের কোচিং কাঠামো এবং সুবিধা আরও উন্নত হবে কি না, তা একটি বড় প্রশ্ন।

  • আবাসিক ক্যাম্পের সক্ষমতা: মহিলা দলের আবাসিক ক্যাম্প কি আরও শক্তিশালী ও বিশ্বমানের হবে, যেখানে সব ধরনের সুবিধা থাকবে?

নেভার হাতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এই কাঠামোগত উন্নয়নগুলো কার্যকর করা এবং কেন্দ্রীয় ফেডারেশন থেকে রাজ্য স্তর পর্যন্ত তাঁর দর্শনকে ছড়িয়ে দেওয়া।


 

৯.  শেষ কথা—নতুন বিপ্লবের সূচনা

 

সান্তিয়াগো নেভার প্রত্যাবর্তন কেবল একজন কোচের ফেরত আসা নয়; এটি ভারতীয় মহিলা বক্সিংয়ের নতুন বিপ্লবের সূচনা। ভারতের মহিলা বক্সিং এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। নতুন বক্সারদের উত্থান, সিনিয়রদের অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের শক্তি—সব মিলিয়ে নেভার সামনে বিশাল দায়িত্ব।

তবে তাঁর আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব, সুসংগঠিত পরিকল্পনা এবং অতীতে সাফল্য বলে—ভারতের মহিলা বক্সিং সত্যিই একটি নতুন সোনালি অধ্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। ২০২৫-এর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা এবং পরবর্তী অলিম্পিকে এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল তা প্রমাণ হবে। নেভার তত্ত্বাবধানে ভারতীয় মহিলা বক্সাররা বিশ্ব মঞ্চে আরও শক্তিশালী এবং আরও প্রস্তুত হয়ে উঠবে—এই বিশ্বাস এখন ভারতীয় ক্রীড়ামহলের মূল সুর।

Preview image