দক্ষিণ আফ্রিকা সফরকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে ভারত দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় টেস্টের মাঝেই। দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ শক্রি কনরাডের একটি মন্তব্য ক্রিকেট বিশ্বে আগুন জ্বালিয়েছে। তিনি প্রোটিয়া দলের আক্রমণাত্মক মনোভাব বোঝাতে Grovel শব্দটি ব্যবহার করেন। এই শব্দটির ইতিহাস অত্যন্ত সংবেদনশীল বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের অতীতের বর্ণবাদী প্রেক্ষাপটে এটি বহু বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কনরাডের মুখে এমন শব্দ শোনার পর বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া দিলেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার পার্থিব পটেল। পার্থিবের অভিযোগ, কনরাড যখন গ্রোভেল বলেন তখন তাঁর মুখে ছিল একটি মুচকি হাসি যা পুরো ব্যাপারটিকে আরও অশ্রদ্ধাজনক করে তোলে। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এটি অতীতের এক বেদনাদায়ক ইঙ্গিত বহন করে। পার্থিবের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে উত্তেজনা। অনেকে কনরাডের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে অতিরঞ্জিত প্রতিক্রিয়া বলেও দাবি করেছেন। তবে যে বিষয়টি পরিষ্কার এই একটি শব্দই ভারত দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। ক্রিকেট মাঠে প্রতিযোগিতা যতই তীব্র হোক না কেন, শব্দের ব্যবহারেও থাকা উচিত সম্মান এটাই মনে করিয়ে দিলেন পার্থিব পটেল।
বিশেষ প্রতিবেদক: ক্রীড়া ডেস্ক
কেপ টাউন, বুধবার: দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সিরিজ মানেই মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি তীব্র মানসিক চাপ, স্নায়ুর যুদ্ধ এবং বিতর্ক। এইবারের সিরিজও তার ব্যতিক্রম হলো না, তবে এবার বিতর্কটি মাঠের বাইরের, যার শিকড় প্রোথিত বর্ণবাদ এবং ক্রিকেটের বেদনাদায়ক ইতিহাসে। দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ শক্রি কনরাড (Schalk Burger Conradie) এমন একটি শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা গোটা ক্রিকেট বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তাঁর মুখে 'Grovel' শব্দটি শুনেই তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন প্রাক্তন ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান পার্থিব পটেল, যিনি সরাসরি কোচের এই মন্তব্যকে ‘অশ্রদ্ধামূলক’ এবং ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
কনরাড যখন বলেন—“We will make them Grovel,” তখন তাঁর মুখে ছিল এক রহস্যময় হাসি, যা ক্যামেরায় স্পষ্ট ধরা পড়েছে। ঠিক এই মুচকি হাসিটিই পার্থিব পটেলের সমালোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
পার্থিব পটেল এক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কনরাড যখন শব্দটি ব্যবহার করলেন, তাঁর মুখে ছিল স্পষ্ট মুচকি হাসি। এটা একেবারেই অশ্রদ্ধাজনক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন শব্দ ব্যবহার করা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আপনি যদি রসিকতাও করেন, তবে তারও একটি সীমা থাকা উচিত। ‘Grovel’ কোনো সাধারণ শব্দ নয়, এর ইতিহাস বর্ণবাদ, অসম্মান আর মানবিক অবমাননার সঙ্গে জড়িত।”
'Grovel' শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো 'হাঁটু গেড়ে বা নতজানু হয়ে ক্ষমা চাওয়া বা কারো বশ্যতা স্বীকার করা'। কিন্তু ক্রিকেটের প্রেক্ষাপটে এই শব্দটি কেবল একটি ইংরেজি শব্দ নয়; এটি ১৯৭০-এর দশকের একটি গভীর ক্ষত, যা সাদা চামড়ার মানুষের ঔদ্ধত্য এবং ঔপনিবেশিক মানসিকতাকে তুলে ধরে।
১৯৭৬ সালের সেই কুখ্যাত ঘটনা: ক্রিকেটে 'Grovel' শব্দটি প্রথমবার প্রবল বিতর্ক সৃষ্টি করে ১৯৭৬ সালে। সে সময় ইংল্যান্ড দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যাওয়ার আগে ইংলিশ ক্যাপ্টেন টনি গ্রেগ (Tony Greig), যিনি নিজেও দক্ষিণ আফ্রিকার বংশোদ্ভূত ছিলেন, একটি মন্তব্য করেন। তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের আগ্রাসী ফাস্ট বোলিং এবং খেলার ধরনে আতঙ্কিত ছিলেন না বোঝাতে বলেন:
“I intend, with the help of a few South Africans, to make them grovel.”
(অর্থাৎ, "আমি কয়েক জন দক্ষিণ আফ্রিকানের সাহায্যে তাদের হাঁটু গেড়ে ক্ষমা চাইতে বা বশ্যতা স্বীকার করতে বাধ্য করব।")
এই মন্তব্যটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দাসত্বের ইতিহাস বহনকারী একটি দেশের কাছে ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং বর্ণবাদী। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানরা এই মন্তব্যটিকে জাতিগত অপমান এবং উপনিবেশিক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ধরে নেয়। এর ফলস্বরূপ, কিংবদন্তি ক্লাইভ লয়েডের (Clive Lloyd) নেতৃত্বাধীন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল মাঠে আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং ইংল্যান্ডকে ৫ ম্যাচের সিরিজটিতে ৩-০ ব্যবধানে পরাজিত করে টনি গ্রেগের মন্তব্যের উচিত জবাব দেয়।
সিরিজ জয়ের পর, ক্লাইভ লয়েড মাঠে টনি গ্রেগকে উপহাস করে কৃত্রিমভাবে মাটিতে শুয়ে পড়ে 'গ্রোভেল' (Grovel) করার ভঙ্গি করেন। এটি ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিরোধের প্রতীক। এই ঘটনার পর থেকেই শব্দটি ক্রিকেট বিশ্বে কার্যত নিষিদ্ধ হয়ে যায়। এমনকি পরবর্তী সময়ে টনি গ্রেগও তাঁর মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন। এই ইতিহাস জানা সত্ত্বেও কনরাডের মতো একজন আন্তর্জাতিক এবং অভিজ্ঞ কোচের মুখে এমন শব্দ উচ্চারিত হওয়া তাই আরও বেশি নিন্দনীয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় টেস্টের আগে যখন তাদের দল প্রথম টেস্টের পারফরম্যান্স ভুলে নতুন করে আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা সাজাচ্ছিল, ঠিক তখনই কোচ শক্রি কনরাড সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। ভারতীয় ক্রিকেটমহল সহ আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সামনে সেখানেই তাঁর মুখ থেকে বেরিয়ে আসে বিতর্কিত মন্তব্যটি।
কনরাড সাংবাদিকদের বলেন: “We will make them Grovel.”
ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, এই গুরুতর শব্দটি বলার সময় কোচের মুখে একটি রহস্যময়, প্রায় বিদ্রূপাত্মক হাসি ছিল। এই হাসির ভঙ্গিটিই পার্থিব পটেলকে সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ করেছে। পার্থিব পটেল এই প্রসঙ্গে আরও যোগ করেন:
“একজন আন্তর্জাতিক দলের কোচ কীভাবে এমন শব্দ ব্যবহার করেন? এটি কোনো রসিকতা নয়। এর ইতিহাস অত্যন্ত কষ্টের এবং যন্ত্রণার। হাসিমুখে এমন কথা বলা আরও অসম্মানের। এটি প্রমাণ করে যে তিনি জেনেশুনে এবং ইচ্ছাকৃতভাবেই এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যা শুধু ভারতীয় দলের প্রতি নয়, ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রতিও অশ্রদ্ধা।”
তাঁর মতে, খেলার মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই, কিন্তু সেটি যেন কখনোই ব্যক্তিগত আক্রমণ, জাতিগত ইঙ্গিত বা ঐতিহাসিক অবমাননার পর্যায়ে না যায়।
পার্থিব পটেল সাধারণত বিতর্কিত মন্তব্য এড়িয়ে চললেও, এবার তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর এই প্রতিক্রিয়ার পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে, যা কেবল ক্রিকেটীয় প্রতিযোগিতা নয়, আন্তর্জাতিক শিষ্টাচারের প্রশ্নও তোলে:
আন্তর্জাতিক কোচের দায়িত্ব: একজন আন্তর্জাতিক দলের কোচের অন্যতম দায়িত্ব হলো দলের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং জনসমক্ষে শব্দচয়ন সম্পর্কে সংবেদনশীল থাকা। কনরাডের এই মন্তব্য সেই দায়িত্ববোধের অভাবকেই তুলে ধরেছে।
বর্ণবাদ-সংশ্লিষ্ট শব্দের ব্যবহার: দক্ষিণ আফ্রিকার মতো যে দেশটি একসময় বর্ণবিদ্বেষ (Apartheid) এর জন্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গন থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল, সেই দেশের একজন কোচের মুখে এমন বর্ণবাদ-সংশ্লিষ্ট শব্দের ব্যবহার অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি নজির স্থাপন করে।
ইচ্ছাকৃত কটাক্ষ: পার্থিব পটেলের মতে, মুচকি হাসি বিষয়টিকে নিছক ভুল-বোঝাবুঝির স্তর থেকে সরিয়ে এনে ইচ্ছাকৃত এবং কটাক্ষপূর্ণ করেছে। তিনি বলেন, “ক্রিকেট একটি ভদ্রলোকের খেলা। কিন্তু এই শব্দ ব্যবহারে কোনো ভদ্রলোকের আচরণ নেই।”
খেলার সৌন্দর্য ও সম্মান: প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও আগ্রাসন খেলার অংশ, কিন্তু অসম্মান বা ঐতিহাসিক আঘাত দেওয়াটা খেলার সৌন্দর্যকে নষ্ট করে দেয়।
পার্থিব পটেলের এই সাহসী মন্তব্যের পর ভারতীয় ক্রিকেটমহলের একাধিক প্রাক্তন খেলোয়াড় ও বিশ্লেষক তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের সকলেরই দাবি— “ক্রিকেটে আক্রমণাত্মক হওয়া যায়, কিন্তু অশ্রদ্ধাজনক হওয়া যায় না।”
ভারতীয় ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, “দক্ষিণ আফ্রিকা–ওয়েস্ট ইন্ডিজ–ইংল্যান্ড—এই তিন দেশের সম্পর্কের ইতিহাস অত্যন্ত জটিল এবং ঔপনিবেশিক। ফলে ‘Grovel’ শব্দটি স্রেফ একটি শব্দ নয়। এর পেছনে শত শত বছরের বেদনা, দাসত্ব এবং জাতিগত অপমানের ক্ষত লুকিয়ে আছে। এমন একটি দেশের কোচ হিসেবে কনরাডের আরও বেশি সংবেদনশীল হওয়া উচিত ছিল।”
যদিও অনেকেই কনরাডকে সমর্থন করে বক্তব্য রেখেছেন যে:
তিনি শব্দটি শুধুমাত্র আক্রমণাত্মক মনোভাব বোঝাতে ব্যবহার করেছেন এবং তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় দলকে চাপে রাখা।
বক্তব্যটি ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে এবং এটিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে টেনে আনা হচ্ছে।
এখনকার প্রজন্ম হয়তো শব্দটির পুরনো ইতিহাস ভুলে গেছে, তাই এটিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বর্ণবাদী ভাবা উচিত নয়।
তবে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক স্তরে একজন কোচের কাছে এই ধরনের শব্দের ইতিহাস অজানা থাকতে পারে না।
বিশিষ্ট এক ক্রীড়া মনোবিজ্ঞানীর মতে, “সংবেদনশীল শব্দ নিয়ে রসিকতা করা বা ‘হাসতে হাসতে’ বলা কখনোই নৈতিক নয়। এই শব্দটির ব্যবহার ভারতীয় দলের আত্মসম্মানে আঘাত হানার জন্য যথেষ্ট। এটি এক ধরনের মানসিক স্লেজিং, যা ইতিহাসের অপব্যবহার করে করা হয়েছে।”
কনরাডের মন্তব্য ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুটি ভিন্ন মত:
| সমালোচকদের বক্তব্য (অশ্রদ্ধা) | সমর্থকদের বক্তব্য (অতিরঞ্জন) |
| শব্দটি বর্ণবিদ্বেষের প্রতীক এবং ঐতিহাসিক আঘাত। | এটি খেলার উত্তাপে বেরিয়ে যাওয়া একটি সাধারণ মন্তব্য। |
| আন্তর্জাতিক কোচদের শিষ্টাচার শেখানো হয়। | বিষয়টি অতিরিক্ত টেনে আনা হচ্ছে এবং অতিরঞ্জিত প্রতিক্রিয়া দেখানো হচ্ছে। |
| মুচকি হেসে বলা মানে মন্তব্যটি কটাক্ষপূর্ণ এবং ইচ্ছাকৃত। | কনরাডের উদ্দেশ্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। |
| এটি খেলার মাঠের শিষ্টাচারের পরিপন্থী। | ক্রিকেটে স্লেজিং নতুন নয় এবং এটিকে সেভাবেই দেখা উচিত। |
কিছু বিশ্লেষকের মতে, এই মন্তব্য মাঠের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। ভারতীয় দল, যারা এমনিতেই প্রথম টেস্টে ব্যর্থ হয়েছে, তারা এখন এই অপমানকে বাড়তি উদ্দীপনা হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। খেলোয়াড়রা এখন বাড়তি আগ্রাসন ও প্রতিজ্ঞা নিয়ে মাঠে নামবে, যা তাদের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এই বিতর্ক দক্ষিণ আফ্রিকার উপরও মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। দল এখন চাইছে যে এই বিতর্ক সিরিজের ফোকাস নষ্ট না করুক। তবে বিতর্ক একবার শুরু হলে তার প্রভাব সহজে দূর হয় না।
এই ঘটনার ওপর ভিত্তি করে অধিকাংশ বিশ্লেষকের মত হলো:
কনরাড মারাত্মক ভুল করেছেন।
শব্দটির ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞতা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তাঁর অবিলম্বে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
কারণ খেলার উত্তাপ বা রসিকতা যাই হোক না কেন, ‘Grovel’ শব্দটির সঙ্গে যে ঐতিহাসিক বেদনা জড়িত, তা কোনোভাবেই মুছে ফেলা সম্ভব নয়। পার্থিব পটেলের তীব্র প্রতিক্রিয়া তাই এই বিতর্কটিকে আরও গভীর এবং আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
ক্রিকেট শুধু বল, ব্যাট বা উইকেটের খেলা নয়; এটি দেশের সম্মান, ইতিহাস, সংস্কৃতি আর কোটি কোটি মানুষের অনুভূতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত একটি আবেগ। শক্রি কনরাডের মুখে ‘Grovel’ শব্দটি আবার সেই পুরনো, বেদনাদায়ক অধ্যায়কে সামনে এনেছে, যা ক্রিকেটবিশ্ব বহু বছর আগে ভুলতে চেয়েছিল।
পার্থিব পটেল একদিকে এই অসম্মানজনক শব্দটির ব্যবহার, আর অন্যদিকে কনরাডের হাস্যকৌতুকপূর্ণ ভঙ্গি—দুটোকেই অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করেছেন। তাঁর প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সমস্ত কোচ এবং খেলোয়াড়কে মনে করিয়ে দিল:
খেলার মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, উত্তাপ থাকবে, কিন্তু সম্মান না থাকলে খেলার সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। এই ঘটনাই আবারও প্রমাণ করলো—শব্দ কখনো কখনো বলের থেকেও তীক্ষ্ণ হতে পারে। আন্তর্জাতিক আঙিনায় প্রতিটি শব্দই পরিমাপ করে ব্যবহার করা উচিত।