রঞ্জি ট্রফির চতুর্থ রাউন্ডে দুরন্ত ফর্মে বাংলা! শাহবাজ় আহমেদের বিধ্বংসী বোলিংয়ে রেলওয়েজ়কে ইনিংস ও ১১৯ রানে হারিয়ে গ্রুপশীর্ষে উঠে এল অনুষ্টুপ মজুমদারের দল।
রঞ্জি ট্রফির চতুর্থ রাউন্ডে এক দুরন্ত জয় ছিনিয়ে নিল বাংলা। মঙ্গলবার সকালে সুরতের মাটিতে রেলওয়েজ়কে ইনিংস ও ১১৯ রানে হারিয়ে এলিট গ্রুপ সি-র শীর্ষে উঠে এল অনুষ্টুপ মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দল। ম্যাচের আগে থেকেই আন্দাজ করা যাচ্ছিল বাংলার জয়ের — আর সেই দেওয়াল লিখনকে বাস্তবে পরিণত করতে মাত্র এক ঘণ্টাই সময় নিলেন শাহবাজ় আহমেদ ও তাঁর সহযোদ্ধারা।
চতুর্থ দিন সকালে ৫ উইকেটে ৯০ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে রেলওয়েজ়। দলের সব আশা তখন নির্ভর করছিল দুই সেট ব্যাটার ভার্গব মেরাই ও উপেন্দ্র যাদবের উপর। প্রথম ইনিংসে এই দু’জনই জুটি গড়ে দলকে লড়াইয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলার বোলিং আক্রমণের সামনে তাঁরা দাঁড়াতেই পারলেন না। মেরাই ২৬ ও উপেন্দ্র ২১ রানে আউট হওয়ার পর রেলওয়েজ়ের হার সময়ের অপেক্ষা হয়ে দাঁড়ায়।
প্রথম ইনিংসে মাত্র ১ উইকেট নেওয়া শাহবাজ় দ্বিতীয় ইনিংসে যেন একাই ভেঙে ফেললেন রেলের ব্যাটিং লাইন-আপ। মঙ্গলবার সকালেই বাংলার স্পিনারদের ঝড় তছনছ করে দিল প্রতিপক্ষকে। চতুর্থ দিনের সকালে রেলওয়েজ় মাত্র ৪২ রান যোগ করতেই গুটিয়ে যায়, যার সমস্ত সাতটি উইকেটই তুলে নেন শাহবাজ় আহমেদ। তিনি ২২.৫ ওভার বল করে ৫৬ রান দিয়ে ৭ উইকেট নেন — রেলওয়েজ়ের ব্যাটাররা তাঁর বাঁহাতি স্পিনের সামনে একেবারে অসহায় হয়ে পড়েন।
এর আগে প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শন করে ৪৭৪ রান তুলেছিল বাংলা। অনুষ্টুপ মজুমদারের ১৩৬ এবং সুমন্ত গুপ্তর ১২০ রানের ইনিংস দলকে এনে দেয় মজবুত ভিত্তি। জবাবে রেলওয়েজ় প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় ২২২ রানে। তাঁদের হয়ে মেরাই করেন ৯১ ও উপেন্দ্র ৭০ রান। বাংলার পেসার সুরজ সিন্ধু জয়সওয়াল নেন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। এরপর রেলকে ফলো অন করানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলা, এবং সেই সিদ্ধান্ত যে একেবারে সঠিক ছিল, তা প্রমাণ করেন শাহবাজ়রা দ্বিতীয় ইনিংসে।
এই ইনিংস জয়ের ফলে বাংলা অর্জন করেছে মূল্যবান ৭ পয়েন্ট, যা নিয়ে ৪ ম্যাচ শেষে তাদের মোট পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ২০। এলিট গ্রুপ সি-র তালিকায় এখন বাংলাই শীর্ষে। ১৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে হরিয়ানা, আর ১৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে উত্তরাখণ্ড। সার্ভিসেস ১৩ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে চতুর্থ স্থানে।
বাংলার এই জয়ে নতুন করে জেগে উঠেছে রাজ্যের ক্রিকেটপ্রেমীরা। শাহবাজ় আহমেদের বিধ্বংসী বোলিং, অনুষ্টুপ ও সুমন্তের পরিপক্ক ব্যাটিং — সব মিলিয়ে বাংলার এই ইনিংস জয় রঞ্জি ট্রফিতে এক অনবদ্য অধ্যায় হয়ে থাকবে।