Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বিশ্বকাপের দল প্রায় চূড়ান্ত! এক বছর আগেই গিলের ঘোষণা, রোহিত-বিরাটকে রাখবেন গম্ভীর?

বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে এখন থেকেই জোর দিচ্ছে ভারত। অধিনায়ক শুভমান গিলের বার্তায় স্পষ্ট, দলের যাবতীয় পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু এবার বিশ্বকাপ।

বিশ্বকাপের ঢাকে ইতিমধ্যেই কাঠি পড়ে গিয়েছে। মেগা টুর্নামেন্টের সূচি প্রকাশিত হয়েছে এবং হাতে আর এক বছরও নেই। ফলে ভারতীয় ক্রিকেট দলও এখন ধীরে ধীরে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিকে সামনে রেখে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করেছে। অধিনায়ক শুভমান গিলের সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই প্রস্তুতির ছবিটাই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাঁর কথায় পরিষ্কার, এখন থেকে দলের যাবতীয় পরিকল্পনা এবং ক্রিকেটীয় কার্যকলাপের মূল লক্ষ্য হতে চলেছে বিশ্বকাপ।

বিশ্বকাপের দল গঠন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্রিকেটমহলে আলোচনা চলছে। কোন ক্রিকেটার কোন জায়গায় খেলবেন, কার উপর কতটা ভরসা করা হবে এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ভূমিকা কী হবে—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর ধীরে ধীরে সামনে আসতে শুরু করেছে। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেটের দুই মহাতারকা বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মা।

রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি আগামী বিশ্বকাপে খেলবেন কি না, তা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে রোহিতের অবসর নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে সেই সমস্ত জল্পনার অনেকটাই থামিয়ে দিয়েছেন ভারতীয় তারকা। একইভাবে বিরাট কোহলিও দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ম্যাচের পর শুভমান গিলের মন্তব্য সেই জল্পনায় আরও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নিয়মরক্ষার ম্যাচে ভারতীয় দল ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারলেও ব্যাটিংয়ে একাধিক ইতিবাচক দিক দেখা গিয়েছে। ম্যাচের শুরুতে ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডার কিছুটা চাপে পড়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি সামলে রোহিত শর্মা এবং কে এল রাহুল দুর্দান্ত ব্যাটিং করে দলকে বড় রানের দিকে এগিয়ে দেন। তাঁদের ব্যাটে ভর করে ভারতের স্কোর সাড়ে তিনশোর গণ্ডি পেরিয়ে যায়।

শেষ পর্যন্ত সেই রানও যথেষ্ট হয়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা দুর্দান্তভাবে রান তাড়া করে ভারতকে পরাজিত করেন। তবে ম্যাচের ফলের থেকেও ভারতের ব্যাটিং নিয়ে আলোচনাই বেশি হয়েছে। বিশেষ করে রোহিত শর্মা, কে এল রাহুল এবং বিরাট কোহলির মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স ভারতীয় দলের জন্য স্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে।

ম্যাচের পর শুভমান গিলকে যখন ভারতের ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী উত্তর দেন। ভারত অধিনায়ক বুঝিয়ে দেন যে দলের ব্যাটিং নিয়ে তাঁর খুব বেশি চিন্তা নেই। বরং সিনিয়র এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা নিজেদের দায়িত্ব খুব ভালোভাবেই পালন করছেন।

রোহিত শর্মার সাম্প্রতিক ফর্মের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন শুভমান গিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রোহিত গত কয়েকটি ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন এবং ধারাবাহিকভাবে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রান করেছেন। বিরাট কোহলির ক্ষেত্রেও তাঁর আস্থা স্পষ্ট। পাশাপাশি কে এল রাহুল সুযোগ পেলেই দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন বলেও জানান ভারত অধিনায়ক।

এই মন্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, বিশ্বকাপের আগে ভারতের সম্ভাব্য ব্যাটিং কম্বিনেশন নিয়ে গিলের আত্মবিশ্বাস। সাধারণত বড় কোনও টুর্নামেন্টের আগে দলকে একাধিক ক্রিকেটারকে সুযোগ দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দেখা যায়। কিন্তু গিলের বক্তব্য অনুযায়ী, সেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় প্রায় শেষের দিকে। এখন থেকে যে ক্রিকেটারদের নিয়ে বিশ্বকাপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তাঁদের নিয়েই ধীরে ধীরে দলের কাঠামো তৈরি করা হবে।

শুভমান গিল স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সামনে আর খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সময় নেই। পরের সিরিজ থেকেই যদি দলের সমস্ত ক্রিকেটারকে পাওয়া যায়, তাহলে বিশ্বকাপে যে কম্বিনেশন নিয়ে ভারত খেলতে চাইবে, সেই কম্বিনেশনেই দলকে প্রস্তুত করা হবে। অর্থাৎ বিশ্বকাপের একাদশ এবং দলের ভারসাম্য তৈরির কাজ এখন থেকেই শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের।

এই বক্তব্য থেকেই ক্রিকেটমহলের অনেকের ধারণা, রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলিকে ঘিরে ভারতের বিশ্বকাপ পরিকল্পনা যথেষ্ট ইতিবাচক। দুজনের অভিজ্ঞতা এবং বড় ম্যাচে পারফর্ম করার ক্ষমতা ভারতীয় দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে চাপ সামলানোর ক্ষেত্রে তাঁদের অভিজ্ঞতা দলের তরুণ ক্রিকেটারদের জন্যও বড় সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।

রোহিত শর্মার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিষয় তাঁর সাম্প্রতিক ফর্ম। বয়স নিয়ে আলোচনা থাকলেও ব্যাট হাতে তাঁর পারফরম্যান্স সেই প্রশ্নগুলিকে অনেকটাই পিছনে ফেলে দিয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৯২ রানের ইনিংসও তাঁর আত্মবিশ্বাস এবং ফর্মের প্রমাণ। তার আগে একাধিক ম্যাচে রান করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে এখনও বড় মঞ্চে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে।

অন্যদিকে বিরাট কোহলিও ভারতীয় ব্যাটিংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর ধারাবাহিকতা, অভিজ্ঞতা এবং বড় ম্যাচে পারফরম্যান্স তাঁকে আলাদা জায়গা দিয়েছে। ফলে বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে তাঁর উপস্থিতি ভারতীয় দলের জন্য বাড়তি আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে পারে।

২০২৩ সালের বিশ্বকাপের স্মৃতিও এখনও ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে তাজা। সেই বিশ্বকাপে ভারত দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেও ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে ট্রফি জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি। সেই অসমাপ্ত স্বপ্ন এবার আরও একবার পূরণ করার সুযোগ সামনে আসতে পারে। রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলির মতো ক্রিকেটারদের জন্যও এটি হতে পারে নিজেদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আরও একটি বড় অধ্যায়।

news image
আরও খবর

তবে বিশ্বকাপ এখনও অনেক দূরে। আগামী কয়েকটি সিরিজে ক্রিকেটারদের ফিটনেস, ফর্ম এবং পারফরম্যান্সের উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। কোনও ক্রিকেটার চোট পেলে বা ফর্ম হারালে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে। তবুও শুভমান গিলের মন্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট যে ভারতীয় দল এখন আর শুধুমাত্র দ্বিপাক্ষিক সিরিজের জন্য দল তৈরি করতে চাইছে না। বরং প্রতিটি ম্যাচকেই বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে।

ভারতের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সঠিক কম্বিনেশন তৈরি করা। ওপেনিং জুটি থেকে শুরু করে মিডল অর্ডার, উইকেটকিপিং, অলরাউন্ডার এবং বোলিং বিভাগ—প্রতিটি জায়গাতেই সঠিক ভারসাম্য প্রয়োজন। রোহিত ও শুভমান গিল ওপেন করলে দলের শুরুটা কেমন হবে, বিরাট কোন পজিশনে ব্যাট করবেন, কে এল রাহুলের ভূমিকা কী হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর আগামী সিরিজগুলিতে আরও পরিষ্কার হতে পারে।

কে এল রাহুলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তাঁর দুর্দান্ত ইনিংস ভারতীয় দলের মিডল অর্ডারকে বড় ভরসা দিয়েছে। রাহুল এমন একজন ক্রিকেটার যিনি একাধিক পজিশনে ব্যাট করতে পারেন এবং উইকেটকিপিংও করতে পারেন। ফলে বিশ্বকাপের মতো দীর্ঘ টুর্নামেন্টে তাঁর বহুমুখী ভূমিকা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ভারতীয় দলের ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল তরুণ ক্রিকেটারদের সঙ্গে অভিজ্ঞদের ভারসাম্য। শুভমান গিল নিজেই তরুণ প্রজন্মের অন্যতম মুখ এবং তাঁর নেতৃত্বে ভারতীয় দল নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের আরও বেশি সুযোগ দিতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে রোহিত, বিরাট এবং রাহুলের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের উপস্থিতি দলকে প্রয়োজনীয় স্থিরতা দিতে পারে।

গিলের মন্তব্য তাই শুধুমাত্র রোহিত বা বিরাটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নয়, বরং ভারতের সামগ্রিক বিশ্বকাপ পরিকল্পনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, দলকে এখন একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। বারবার ক্রিকেটার বদলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে বিশ্বকাপের আগে দলের মধ্যে প্রয়োজনীয় বোঝাপড়া তৈরি করা কঠিন হতে পারে।

বিশ্বকাপের আগে ভারতের হাতে যে সময় রয়েছে, সেই সময়ের মধ্যে ক্রিকেটারদের ভূমিকা নির্দিষ্ট করা, ব্যাটিং অর্ডার স্থির করা, বোলিং কম্বিনেশন তৈরি করা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করা হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অবশ্যই রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলিকে ঘিরে। তাঁরা কি সত্যিই পরবর্তী বিশ্বকাপের ভারতীয় দলে থাকবেন? শুভমান গিলের সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই সম্ভাবনা যথেষ্ট জোরালো হয়েছে। যদিও চূড়ান্ত দল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়, তবুও অধিনায়কের বক্তব্যে তাঁদের নিয়ে ইতিবাচক বার্তা স্পষ্ট।

রোহিতের সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতা এবং বিরাটের অভিজ্ঞতা ভারতীয় দলের জন্য বড় শক্তি হতে পারে। বিশ্বকাপের মঞ্চে চাপের পরিস্থিতিতে ম্যাচ জেতানোর অভিজ্ঞতা দুজনেরই রয়েছে। ফলে তাঁদের বাদ দিয়ে নতুন দল গড়ার বদলে তাঁদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তরুণ ক্রিকেটারদের সঙ্গে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল তৈরি করাই হয়তো ভারতের লক্ষ্য।

ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য তাই আগামী সিরিজগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। কোন ক্রিকেটার নিয়মিত সুযোগ পাচ্ছেন, কোন জায়গায় ব্যাট করছেন এবং কোন কম্বিনেশন বারবার মাঠে নামছে—সেই সবকিছুর উপর নজর থাকবে। কারণ বিশ্বকাপের আগে এই সিরিজগুলিই হয়তো ভারতীয় দলের চূড়ান্ত নীলনকশা তৈরি করবে।

শুভমান গিলের বক্তব্যে একটা বিষয় পরিষ্কার—বিশ্বকাপের প্রস্তুতি আর ভবিষ্যতের কোনও বিষয় নয়, সেটি এখন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে। ভারতীয় দলের প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি সিদ্ধান্ত এবং প্রতিটি ক্রিকেটারের পারফরম্যান্স এখন বিশ্বকাপের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা হতে পারে।

রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলির মতো দুই মহাতারকার ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা থাকলেও মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ কথা বলবে। তাঁরা যদি নিজেদের ফর্ম ধরে রাখতে পারেন এবং ফিট থাকেন, তাহলে বিশ্বকাপের ভারতীয় দলে তাঁদের জায়গা আরও শক্তিশালী হতে পারে।

২০২৩ সালের অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণ করার সুযোগ কি এবার রোহিত-বিরাটরা পাবেন? শুভমান গিলের বক্তব্য সেই সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে। এখন নজর থাকবে পরবর্তী সিরিজগুলির দিকে। সেখানেই ধীরে ধীরে স্পষ্ট হবে ভারতের বিশ্বকাপের আসল কম্বিনেশন।

ভারতীয় ক্রিকেটের সমর্থকদের কাছে তাই আগামী সময়টা অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। একদিকে শুভমান গিলের নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের ভারত, অন্যদিকে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির মতো অভিজ্ঞ তারকারা—এই দুই প্রজন্মের মেলবন্ধনই ভারতের বিশ্বকাপ অভিযানের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে। বিশ্বকাপের ট্রফি ঘরে ফেরানোর লক্ষ্যে এখন থেকেই যে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে, গিলের মন্তব্য তারই বড় ইঙ্গিত।

Preview image