মেদিনীপুরে এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে রাস্তার নিকাশি ব্যবস্থার দুরবস্থা খতিয়ে দেখলেন বিজেপি বিধায়ক ডঃ শঙ্কর কুমার গুছাইত। স্থানীয় সমস্যার দ্রুত সমাধানের আশ্বাসও দেন তিনি।
মেদিনীপুরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার বেহাল অবস্থা ও নিকাশি ব্যবস্থার সমস্যাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল। বর্ষার আগমনের আগে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। এমন পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর অভিযোগ ও সমস্যার কথা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে এলাকা পরিদর্শনে বেরোলেন মেদিনীপুরের বিজেপি বিধায়ক ডঃ শঙ্কর কুমার গুছাইত। পরিদর্শনের সময় তিনি রাস্তার অবস্থা, নিকাশি নালার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, জল জমে থাকার সমস্যা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ভোগান্তির চিত্র নিজে চোখে দেখেন।
এদিন সকাল থেকেই এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে স্থানীয় বাসিন্দারা বিধায়কের আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন। এলাকায় পৌঁছতেই বহু মানুষ তাঁকে ঘিরে নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। কেউ অভিযোগ করেন যে সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তার উপর হাঁটু সমান জল জমে যায়, আবার কেউ জানান দীর্ঘদিন ধরে নিকাশি নালা পরিষ্কার না হওয়ায় দুর্গন্ধে এলাকায় বসবাস করা কঠিন হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বহুবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও স্থায়ী সমাধানের কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি।
ডঃ শঙ্কর কুমার গুছাইত এলাকাবাসীর অভিযোগ মন দিয়ে শোনেন এবং বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে সমস্যার বাস্তব চিত্র পরিদর্শন করেন। তিনি রাস্তার পাশে জমে থাকা নোংরা জল, ভাঙা ড্রেন ও অপরিষ্কার নালার ছবি খতিয়ে দেখেন। বেশ কিছু এলাকায় দেখা যায় ড্রেনের জল উপচে রাস্তায় পড়ছে, যার ফলে পথচলতি মানুষ থেকে শুরু করে স্কুল পড়ুয়া এবং বয়স্কদের ব্যাপক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।
পরিদর্শনের সময় বিধায়ক বলেন, সাধারণ মানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধান করা প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। রাস্তা ও নিকাশি ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় তার বিরূপ প্রভাব পড়ে। তিনি আরও জানান, এলাকার বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন এবং দ্রুত সমাধানের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে কথা বলবেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানান, বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। জল জমে থাকার কারণে অনেক সময় বাড়ির ভিতরেও নোংরা জল ঢুকে পড়ে। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে নানা ধরনের রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায় নিকাশি ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনার কারণে।
বিধায়ক এলাকায় ঘুরে দেখার সময় কিছু জায়গায় নালার মুখ সম্পূর্ণভাবে আবর্জনায় আটকে থাকতে দেখেন। তিনি স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, শুধুমাত্র অস্থায়ী সমাধান নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন।
এদিন তাঁর সঙ্গে বিজেপির একাধিক স্থানীয় নেতা ও কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা এলাকার বিভিন্ন সমস্যা বিধায়কের সামনে তুলে ধরেন। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, উন্নয়নের নামে বহু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষ এখনও ন্যূনতম পরিষেবা থেকে বঞ্চিত। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণেই এলাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ডঃ শঙ্কর কুমার গুছাইত বলেন, “মানুষের সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। আমি এলাকাবাসীর পাশে রয়েছি এবং তাঁদের সমস্যার সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করব।” তিনি আরও বলেন, এলাকার উন্নয়ন শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বাস্তব ক্ষেত্রেও তার প্রতিফলন দেখা দরকার।
পরিদর্শনের সময় অনেকেই বিধায়কের কাছে রাস্তা সংস্কারের দাবিও জানান। বেশ কিছু এলাকায় রাস্তার উপর বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বৃষ্টির সময় সেই গর্তে জল জমে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে। মোটরবাইক চালক ও সাইকেল আরোহীদের সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখে পড়তে হয় বলেও স্থানীয়রা জানান। বিধায়ক এই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখেন এবং দ্রুত সংস্কারের বিষয়ে আশ্বাস দেন।
এলাকার ব্যবসায়ীরাও নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাঁদের দাবি, রাস্তার দুরবস্থা ও জল জমে থাকার কারণে অনেক সময় ক্রেতাদের আসা কমে যায়, ফলে ব্যবসায় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। বাজার এলাকায় নোংরা জল জমে থাকায় পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ।
বিধায়ক সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অভাব-অভিযোগ শোনেন এবং সমস্যাগুলি লিখিত আকারে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি জানান, সমস্ত বিষয় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দফতরের নজরে আনা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনে উচ্চ পর্যায়েও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
স্থানীয় মহিলাদের একাংশ অভিযোগ করেন, নিকাশি ব্যবস্থার সমস্যার কারণে বাড়ির সামনে সবসময় নোংরা জল জমে থাকে। শিশুদের স্কুলে যেতে সমস্যার মুখে পড়তে হয়। অনেক সময় দুর্গন্ধের কারণে বাড়ির দরজা-জানলা খুলে রাখা যায় না। বিধায়ক তাঁদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে এলাকায় গিয়ে সমস্যা খতিয়ে দেখার এই উদ্যোগ রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ স্থানীয় স্তরে মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা নিয়েই বর্তমানে বেশি আলোচনা হচ্ছে। উন্নয়নের দাবির পাশাপাশি বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মানুষের প্রত্যাশার ফারাক নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এদিনের পরিদর্শন ঘিরে এলাকায় যথেষ্ট চাঞ্চল্য দেখা যায়। বহু সাধারণ মানুষ বিধায়কের সামনে নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরতে ভিড় করেন। কেউ রাস্তার সমস্যা, কেউ পানীয় জল, আবার কেউ নিকাশি ব্যবস্থার কথা বলেন। ডঃ শঙ্কর কুমার গুছাইত সকলের বক্তব্য শোনার চেষ্টা করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, “মানুষের কষ্ট আমি অনুভব করতে পারছি। এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে যে সমস্যা চলছে, তা দ্রুত সমাধান হওয়া দরকার। আমি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার আবেদন জানাব।” তাঁর এই বক্তব্যে অনেকেই আশাবাদী হয়ে ওঠেন।
স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, এই ধরনের সরেজমিন পরিদর্শনের ফলে প্রশাসনের উপর চাপ বাড়বে এবং সমস্যার সমাধানের পথ খুলতে পারে। বিশেষ করে বর্ষার আগে নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি বলেই মত তাঁদের।
সব মিলিয়ে, মেদিনীপুরে বিজেপি বিধায়ক ডঃ শঙ্কর কুমার গুছাইতের এই এলাকা পরিদর্শনকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুই মহলেই আলোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা সামনে আসায় আগামী দিনে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর সকলের।
এলাকা পরিদর্শনের সময় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে, তা হল নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বহু বছর আগে নিকাশি নালা তৈরি হলেও পরবর্তীতে তার সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। ফলে নালার বিভিন্ন অংশ ভেঙে গিয়েছে এবং অনেক জায়গায় আবর্জনা জমে জল চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, শুধুমাত্র বর্ষার সময় নয়, বছরের অধিকাংশ সময়ই এই সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
ডঃ শঙ্কর কুমার গুছাইত পরিদর্শনের সময় বলেন, এলাকার উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি। তিনি জানান, রাস্তা ও নিকাশি ব্যবস্থা শুধু একটি এলাকার সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। জল জমে থাকার কারণে মশার উপদ্রব বাড়ছে এবং বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিন অনেক যুবক-যুবতীও বিধায়কের সামনে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সমস্যা সমাধান না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের প্রতিদিন যাতায়াতে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। বৃষ্টির দিনে কাদা ও জল জমে থাকার কারণে রাস্তায় চলাচল অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
বিধায়ক স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, সাধারণ মানুষের করের টাকায় উন্নয়নের কাজ হওয়ার কথা, তাই সেই কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে কি না তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা দরকার। তিনি আশ্বাস দেন, এলাকার মানুষ যাতে দ্রুত স্বস্তি পান তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।
পরিদর্শনের শেষে স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেন যে এই উদ্যোগের ফলে তাঁদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হবে। অনেকেই মনে করছেন, জনপ্রতিনিধির সরাসরি এলাকায় উপস্থিত হয়ে সমস্যা খতিয়ে দেখা সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখন সকলের নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।