Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

‘বৌ চিৎকার করলেও সানস্ক্রিন মাখি না!’ রণবীরের ত্বকচর্চার রহস্য ফাঁস, রুটিন শুনলে চমকে যাবেন

‘রাম’ রণবীরের ত্বকচর্চা নাকি একেবারেই সাদামাটা! বৌয়ের বকুনি সত্ত্বেও সানস্ক্রিন বা ক্রিম মাখেন না অভিনেতা। তাহলে কীভাবে ত্বকের যত্ন নেন তিনি? জানুন তাঁর সহজ রুটিন।

বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা রণবীর কপূরকে পর্দায় কখনও ‘রাম’, কখনও ‘সিড’ কিংবা কখনও একেবারে অন্য রূপে দেখা যায়। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর ফিটনেস ও সুস্থ থাকার রুটিন নিয়েও অনুরাগীদের আগ্রহ কম নয়। তবে ত্বকের যত্নের ক্ষেত্রে রণবীরের ভাবনাটা বেশ আলাদা। প্রচলিত অর্থে ময়েশ্চারাইজ়ার, সানস্ক্রিন কিংবা নিয়মিত ফেশিয়াল—এই ধরনের স্কিনকেয়ার রুটিনে তাঁর বিশেষ আগ্রহ নেই। বরং শরীরকে ভিতর থেকে সুস্থ রাখার উপরেই বেশি জোর দেন তিনি।

সম্প্রতি নিজের ওয়েলনেস রুটিন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রণবীর জানিয়েছেন, জীবনে তিনি কখনও নিয়ম করে ময়েশ্চারাইজ়ার বা সানস্ক্রিন ব্যবহার করেননি। এমনকি এই অভ্যাসের জন্য স্ত্রী আলিয়া ভট্টের বকাঝকাও শুনতে হয় তাঁকে। রণবীরের কথায়, তাঁর স্ত্রী ত্বকের যত্নের বিষয়ে তাঁকে বারবার সচেতন করেন। কিন্তু অভিনেতার নিজের পছন্দ একটু অন্যরকম। তাঁর বিশ্বাস, বাইরে থেকে ত্বকের উপর একাধিক প্রসাধনী ব্যবহারের চেয়ে শরীরকে ভিতর থেকে সুস্থ ও সতেজ রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তবে তার মানে এই নয় যে রণবীর নিজের শরীর বা ত্বকের যত্ন নেন না। বরং তাঁর ওয়েলনেস রুটিনে রয়েছে বেশ কিছু আধুনিক পদ্ধতি। কোল্ড প্লাঞ্জ, ইনফ্রারেড সনা, স্টিম এবং হাইপারবারিক অক্সিজেন থেরাপির মতো পদ্ধতির প্রতি তাঁর আগ্রহ রয়েছে। এই পদ্ধতিগুলি মূলত শরীরকে পুনরুদ্ধার করা, সতেজ রাখা এবং সামগ্রিক সুস্থতার সঙ্গে যুক্ত। যদিও এগুলিকে সরাসরি ত্বকের পরিচর্যার বিকল্প হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

প্রচলিত স্কিনকেয়ারে কেন আগ্রহ নেই রণবীরের?

ত্বকের যত্ন বলতে সাধারণত পরিষ্কার করা, ময়েশ্চারাইজ়ার ব্যবহার, সানস্ক্রিন লাগানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী ব্যবহারের কথা বলা হয়। বিশেষ করে বাইরে শুটিং করা তারকাদের ক্ষেত্রে সূর্যের অতিবেগনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রণবীর জানিয়েছেন, তিনি নিয়মিত ময়েশ্চারাইজ়ার বা সানস্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস তৈরি করেননি।

অভিনেতার এই বক্তব্য শুনে অনেকেরই কৌতূহল তৈরি হয়েছে—তা হলে তাঁর ত্বকের যত্নের রহস্যটা কী? রণবীরের রুটিনে মূল গুরুত্ব পাচ্ছে ওয়েলনেস এবং রিকভারি। অর্থাৎ শুধু মুখের ত্বকের উপর বাইরে থেকে প্রসাধনী প্রয়োগ না করে শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার দিকে নজর দেওয়াই তাঁর পছন্দ।

তবে বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে বিষয়টি একটু আলাদা। একজন তারকার ব্যক্তিগত অভ্যাসকে সবার জন্য আদর্শ রুটিন হিসেবে অনুসরণ করা ঠিক নয়। ত্বকের ধরন, বয়স, জীবনযাপন এবং সূর্যের সংস্পর্শের উপর ভিত্তি করে স্কিনকেয়ারের প্রয়োজনীয়তা বদলে যায়। বিশেষ করে দিনের বেলায় বাইরে বের হলে সূর্যের অতিবেগনি রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে সানস্ক্রিন গুরুত্বপূর্ণ।

কোল্ড প্লাঞ্জ কী এবং কেন জনপ্রিয়?

রণবীরের ওয়েলনেস রুটিনে অন্যতম আকর্ষণীয় বিষয় হল কোল্ড প্লাঞ্জ। নাম থেকেই বোঝা যায়, এটি ঠান্ডা জলে শরীরকে কিছু সময়ের জন্য ডুবিয়ে রাখার একটি পদ্ধতি। সাধারণত তুলনামূলক কম তাপমাত্রার জলে অল্প সময়ের জন্য শরীর ডুবিয়ে রাখা হয়।

ক্রীড়াবিদ এবং ফিটনেসপ্রেমীদের মধ্যে কোল্ড ওয়াটার এক্সপোজার বেশ জনপ্রিয়। শরীরচর্চার পরে পেশির ক্লান্তি বা অস্বস্তি কমানোর উদ্দেশ্যে অনেকেই এই পদ্ধতি ব্যবহার করেন। ঠান্ডা জলের সংস্পর্শে শরীরে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। রক্তনালির সংকোচন ও পরবর্তী পরিবর্তনের ফলে শরীরের রক্তসঞ্চালনে পরিবর্তন আসে এবং অনেকের কাছে এটি সতেজ অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

তবে কোল্ড প্লাঞ্জকে সব রোগের সমাধান বা ত্বকের বিশেষ চিকিৎসা হিসেবে দেখা উচিত নয়। অতিরিক্ত ঠান্ডা জলে দীর্ঘক্ষণ থাকলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। হৃদ্‌রোগ বা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ধরনের পদ্ধতি করা উচিত নয়।

ইনফ্রারেড সনা কী?

রণবীরের ওয়েলনেস রুটিনের আর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হল ইনফ্রারেড সনা। প্রচলিত সনায় মূলত গরম পরিবেশের মাধ্যমে শরীরকে উত্তপ্ত করা হয়। কিন্তু ইনফ্রারেড সনায় ইনফ্রারেড রশ্মি ব্যবহার করে শরীরকে উষ্ণ করা হয়।

এর ফলে শরীরের তাপমাত্রা বাড়ে এবং ঘাম হয়। অনেকে ইনফ্রারেড সনাকে রিল্যাক্সেশন এবং ওয়েলনেস রুটিনের অংশ হিসেবে ব্যবহার করেন। ঘাম হওয়ার কারণে ত্বক সাময়িক ভাবে সতেজ মনে হতে পারে। তবে সনা থেকে ঘাম হওয়াকে শরীরের ‘ডিটক্সিফিকেশন’-এর নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। শরীরের বর্জ্য অপসারণের ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করে লিভার ও কিডনি।

অর্থাৎ ইনফ্রারেড সনা আরাম বা রিল্যাক্সেশনের জন্য উপকারী মনে হলেও, এটিকে ত্বকের নিয়মিত পরিচর্যার বিকল্প বলা যায় না।

স্টিম কীভাবে কাজ করে?

স্টিম বা বাষ্প গ্রহণও রণবীরের ওয়েলনেস রুটিনের অংশ। গরম জলীয় বাষ্পে ভরা পরিবেশে কিছু সময় থাকার ফলে শরীর গরম হয় এবং প্রচুর ঘাম হতে পারে।

স্টিম নেওয়ার ফলে অনেকের নাক বন্ধ থাকা বা শ্বাসনালিতে জমে থাকা অস্বস্তি সাময়িক ভাবে কমতে পারে। উষ্ণ বাষ্প শ্বাসনালিকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। ত্বকের ক্ষেত্রেও স্টিমের কারণে সাময়িক ভাবে রোমকূপ কিছুটা প্রসারিত মনে হতে পারে এবং মুখ পরিষ্কার করার আগে অনেকে স্টিম ব্যবহার করেন।

তবে স্টিম ত্বকের সমস্ত সমস্যা দূর করে না। অতিরিক্ত গরম বাষ্পে ত্বকে জ্বালা, শুষ্কতা বা পোড়ার মতো সমস্যা হতে পারে। তাই দীর্ঘ সময় ধরে বা অত্যধিক তাপমাত্রায় স্টিম নেওয়া উচিত নয়।

হাইপারবারিক অক্সিজেন থেরাপি কী?

রণবীরের ওয়েলনেস রুটিনের মধ্যে সবচেয়ে প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিগুলির একটি হল হাইপারবারিক অক্সিজেন থেরাপি বা HBOT। এই পদ্ধতিতে বিশেষ একটি চেম্বারের ভিতরে স্বাভাবিক বায়ুমণ্ডলীয় চাপের তুলনায় বেশি চাপে উচ্চমাত্রার অক্সিজেন গ্রহণ করতে হয়।

news image
আরও খবর

স্বাভাবিক বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ প্রায় ২১ শতাংশ। হাইপারবারিক অক্সিজেন থেরাপিতে বিশেষ পরিবেশে বেশি চাপের অধীনে অক্সিজেন শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। এর ফলে রক্তে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়তে পারে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে নির্দিষ্ট কিছু অবস্থায় হাইপারবারিক অক্সিজেন থেরাপির ব্যবহার রয়েছে। তবে এটি কোনও সাধারণ বিউটি ট্রিটমেন্ট নয় এবং শুধুমাত্র ‘ত্বক ভাল রাখা’ বা ‘শরীর ডিটক্স’ করার জন্য নিজের ইচ্ছায় এই থেরাপি নেওয়া উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ এবং প্রশিক্ষিত পেশাদারের তত্ত্বাবধান প্রয়োজন।

রণবীরের ফেশিয়াল পছন্দ নয় কেন?

অনেক তারকার মতো নিয়মিত ফেশিয়াল করানোতেও রণবীর খুব একটা আগ্রহী নন। তাঁর বক্তব্যের মূল জায়গা হল—ত্বকের যত্ন শুধু বাইরে থেকে করা নয়, বরং শরীরের ভিতরের স্বাস্থ্যও গুরুত্বপূর্ণ।

ঘুম, পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত জল পান, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ—এসবই শরীর ও ত্বকের সামগ্রিক সুস্থতার সঙ্গে সম্পর্কিত। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে চোখের নীচে ক্লান্তির ছাপ দেখা দিতে পারে, আবার দীর্ঘদিনের অনিয়মিত জীবনযাপন ত্বকের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই রণবীরের ওয়েলনেস দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল শরীরের সামগ্রিক যত্ন। তবে এর অর্থ এই নয় যে বাইরের স্কিনকেয়ারের প্রয়োজন নেই।

সানস্ক্রিন কি সত্যিই জরুরি?

রণবীরের বক্তব্যের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হল তাঁর সানস্ক্রিন না ব্যবহারের অভ্যাস। কিন্তু এখানে ব্যক্তিগত অভ্যাস এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরামর্শকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।

সূর্যের অতিবেগনি রশ্মি ত্বকের উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। অতিরিক্ত UV exposure ত্বকের অকাল বার্ধক্য, রোদে পোড়া এবং অন্যান্য ত্বকের সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই বাইরে বেরোনোর সময় উপযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ত্বকের যত্নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশেষ করে যাঁদের দিনের বেশির ভাগ সময় বাইরে কাটাতে হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে সানস্ক্রিন আরও গুরুত্বপূর্ণ। রণবীরের ব্যক্তিগত অভ্যাসকে তাই সাধারণ মানুষের জন্য স্কিনকেয়ারের নিয়ম হিসেবে নেওয়া উচিত নয়।

শুধু ওয়েলনেস ট্রেন্ড অনুসরণ করলেই কি ত্বক ভাল থাকবে?

কোল্ড প্লাঞ্জ, সনা, স্টিম কিংবা হাইপারবারিক অক্সিজেন থেরাপি বর্তমানে ওয়েলনেস দুনিয়ায় যথেষ্ট জনপ্রিয়। তারকারা এই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও আগ্রহ বাড়ছে। কিন্তু মনে রাখা দরকার, জনপ্রিয় হলেই কোনও পদ্ধতি সবার জন্য প্রয়োজনীয় বা নিরাপদ হয়ে যায় না।

ত্বক ভাল রাখতে প্রথমে প্রয়োজন মৌলিক কিছু অভ্যাস—পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত জল পান, ধূমপান এড়িয়ে চলা, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষা দেওয়া। এর পাশাপাশি নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী ক্লিনজার, ময়েশ্চারাইজ়ার এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

যাঁদের ত্বকে ব্রণ, অ্যালার্জি, অতিরিক্ত শুষ্কতা, র‍্যাশ বা অন্য কোনও সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে নিজে থেকে কোনও ট্রেন্ডিং ট্রিটমেন্ট শুরু না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভাল।

রণবীরের রুটিন থেকে কী শেখা যায়?

রণবীর কপূরের স্কিনকেয়ার রুটিনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত ‘ওয়েলনেস’-এর গুরুত্ব। তিনি প্রচলিত প্রসাধনী ব্যবহারে খুব একটা বিশ্বাসী না হলেও শরীরকে সক্রিয় রাখা এবং রিকভারির উপর গুরুত্ব দেন।

তবে তাঁর জীবনযাপন একজন পেশাদার অভিনেতার। শুটিং, ফিটনেস, প্রশিক্ষণ এবং ব্যক্তিগত ওয়েলনেসের জন্য যে সময় ও সুযোগ তিনি পান, তা সবার ক্ষেত্রে একই নয়। তাই তাঁর ব্যবহৃত প্রতিটি পদ্ধতি নিজের জীবনে হুবহু অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই।

বিশেষ করে কোল্ড প্লাঞ্জ, ইনফ্রারেড সনা কিংবা হাইপারবারিক অক্সিজেন থেরাপির মতো পদ্ধতি শুরু করার আগে নিজের শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ বিবেচনা করা জরুরি।

সব মিলিয়ে, রণবীর কপূরের ত্বকচর্চার দর্শন বেশ আলাদা। ময়েশ্চারাইজ়ার বা সানস্ক্রিনের মতো প্রচলিত স্কিনকেয়ারে অনীহা থাকলেও শরীরকে ভিতর থেকে সুস্থ রাখার নানা ওয়েলনেস পদ্ধতিতে তাঁর আগ্রহ রয়েছে। স্ত্রী আলিয়া ভট্টের বকাঝকা সত্ত্বেও তাঁর এই অভ্যাস বদলায়নি—আর সেই কারণেই তাঁর স্কিনকেয়ার রুটিন এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

তবে রণবীরের ব্যক্তিগত রুটিনকে অনুসরণ করার আগে মনে রাখা দরকার, ত্বকের যত্ন ব্যক্তি বিশেষে আলাদা। সবার ত্বকের ধরন এবং প্রয়োজন এক নয়। তাই তারকার রুটিন দেখে কোনও চিকিৎসা বা স্কিনকেয়ার পদ্ধতি শুরু না করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

Preview image