Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

তুষারঝড়ে বিকট শব্দে ফাটছে গাছ! আমেরিকায় রহস্যময় ‘বৃক্ষ বিস্ফোরণ’-এর আসল কারণ জানালেন বিজ্ঞানীরা

আমেরিকার মধ্য-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলে তীব্র শীতে গাছের ভিতরের জল জমে প্রসারিত হওয়ায় বিকট শব্দে ফাটার ঘটনা ঘটছে, যা থেকেই জন্ম নিয়েছে ‘বৃক্ষ বিস্ফোরণ’ নিয়ে কৌতূহল ও আলোচনা।

শীতঝড়ে কাঁপছে আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। উত্তর ও মধ্য আমেরিকার বহু রাজ্যে তাপমাত্রা নেমে যাচ্ছে হিমাঙ্কের অনেক নীচে। এর মধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এক অদ্ভুত দাবি—তীব্র ঠান্ডায় নাকি বিকট শব্দে একের পর এক গাছ ‘বিস্ফোরিত’ হচ্ছে! কোথাও কোথাও গুলির আওয়াজের মতো শব্দ শোনা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকেই ভাবছেন, তবে কি সত্যিই গাছে বিস্ফোরণ ঘটে? সিনেমায় যেমন গাড়ি উড়ে যায় বা ভবন ধসে পড়ে, তেমনই কি প্রকৃতিতেও ঘটছে এমন কিছু?

বিজ্ঞানীরা অবশ্য বলছেন, বাস্তব চিত্রটি সিনেমার মতো নাটকীয় নয়। তবে এটাও অস্বীকার করছেন না যে, চরম ঠান্ডায় গাছে বিকট শব্দে ফাটল ধরার ঘটনা ঘটে থাকে, যা অনেক সময় বিস্ফোরণের মতোই শোনায়। এই প্রাকৃতিক ঘটনাকেই সাম্প্রতিক সময়ে সমাজমাধ্যমে ‘বৃক্ষ বিস্ফোরণ’ (Tree Explosion) নামে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে তাপমাত্রার হঠাৎ পতন, গাছের ভেতরের জল বা রসের অবস্থা পরিবর্তন এবং জল জমে বরফে পরিণত হওয়ার সময় তার প্রসারণ ক্ষমতা। এর ফলেই গাছের কাণ্ড বা ডালে সৃষ্টি হয় প্রবল চাপ, যা শেষ পর্যন্ত ফাটল ধরায়। কখনও কখনও সেই ফাটলের শব্দ এতটাই তীব্র হয় যে, তা দূর থেকেও বিস্ফোরণের মতো শোনায়।

সমাজমাধ্যমে ভাইরাল ‘বৃক্ষ বিস্ফোরণ’ দাবি

সম্প্রতি আমেরিকার এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর এক্স (পূর্বতন টুইটার) মাধ্যমে একটি পোস্ট করে জানান, আমেরিকার মধ্য-পশ্চিম ও উত্তরাংশে তাপমাত্রা মাইনাস ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নামতে পারে। তাঁর দাবি ছিল, এই প্রবল ঠান্ডার কারণে বহু গাছ ‘বিস্ফোরিত’ হতে পারে। সেই পোস্টের পরেই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় তীব্র আলোচনা।

অনেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন যে, তাঁরা নিজেরাই গভীর রাতে বা ভোরের দিকে বিকট শব্দ শুনেছেন, যা গুলির আওয়াজ বা বিস্ফোরণের মতো শোনাচ্ছিল। অনেকে আবার ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে গাছের কাণ্ডে হঠাৎ ফাটল ধরছে বা ডাল ভেঙে পড়ছে। এর ফলে মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—এটা কি আদৌ বাস্তব ঘটনা, না কি সমাজমাধ্যমে বাড়িয়ে বলা হচ্ছে?

আমেরিকার তাপমাত্রা পরিস্থিতি: কতটা ভয়াবহ ঠান্ডা?

আমেরিকার ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (NWS)-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর সমতলভূমির একাধিক অঞ্চলে তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে। উত্তর ডাকোটা, মিনেসোটা, উইসকনসিন, মন্টানা এবং মিশিগানের কিছু অংশে প্রবল তুষারঝড় ও হিমেল বাতাসের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এই তাপমাত্রাকে আবহবিদেরা ‘প্রাণঘাতী ঠান্ডা’ বলে চিহ্নিত করেছেন। কারণ, এমন ঠান্ডায় দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকলে হাইপোথার্মিয়া ও ফ্রস্টবাইটের ঝুঁকি বেড়ে যায়। শুধু মানুষ নয়, এই তীব্র ঠান্ডার প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, পরিবহণ পরিষেবা, পশুপাখি এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের উপরও।

এই পরিস্থিতিতে গাছের মতো জীবন্ত কাঠামোর ভেতরেও যে অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হবে, তা বলাই বাহুল্য। আর সেই চাপ থেকেই জন্ম নিচ্ছে এই তথাকথিত ‘বৃক্ষ বিস্ফোরণ’-এর ঘটনা।

সত্যিই কি বিস্ফোরণ ঘটে গাছে?

উইসকনসিন স্টেটের প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের গবেষক বিল ম্যাকনি জানিয়েছেন, গাছ সত্যিই ফাটছে, কিন্তু এটাকে বিস্ফোরণ বলা ঠিক নয়। তাঁর মতে, গাছের ভেতরের রস বা জল জমে বরফে পরিণত হলে তার আয়তন বেড়ে যায়। এই প্রসারণ গাছের কাণ্ডের ভিতরে তীব্র চাপ সৃষ্টি করে। সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে গাছের ছাল বা কাঠের অংশে ফাটল ধরে যায়।

এই ফাটল ধরার মুহূর্তে যে বিকট শব্দ হয়, সেটাই অনেকের কানে বিস্ফোরণের মতো শোনায়। তবে বাস্তবে গাছ উড়ে যাওয়া, ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া বা আগুন ধরে যাওয়ার মতো কোনও ঘটনা ঘটে না। এটি মূলত একটি যান্ত্রিক ও তাপগতীয় প্রক্রিয়া—বরফে পরিণত হওয়ার সময় জলের প্রসারণ ক্ষমতার ফল।

ম্যাকনি আরও বলেন, “এই ধরনের ফাটল সাধারণত গাছের নির্দিষ্ট অংশে হয়—পুরো গাছ চৌচির হয়ে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। আমি নিজে কখনও এমন সম্পূর্ণ বিস্ফোরণ দেখিনি।”

গাছের ভিতরে কী ঘটে তীব্র ঠান্ডায়?

গাছের ভেতরে থাকে জল, খনিজ পদার্থ এবং নানা ধরনের রস (sap), যা গাছের বিভিন্ন অংশে পুষ্টি পরিবহণের কাজ করে। সাধারণ তাপমাত্রায় এই রস তরল অবস্থায় থাকে। কিন্তু তাপমাত্রা যদি দ্রুত হিমাঙ্কের অনেক নীচে নেমে যায়, তখন সেই তরল জমে বরফে পরিণত হয়।

জল যখন বরফে পরিণত হয়, তখন তার আয়তন প্রায় ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এই প্রসারণ গাছের অভ্যন্তরে তীব্র চাপ সৃষ্টি করে। যেহেতু গাছের কাণ্ড বা ডালের কাঠামো একটি নির্দিষ্ট সীমার বাইরে প্রসারিত হতে পারে না, তাই অতিরিক্ত চাপ জমতে জমতে শেষ পর্যন্ত কাঠ ফেটে যায়। সেই ফাটল ধরার মুহূর্তে যে শব্দ হয়, সেটাই শোনা যায় বিস্ফোরণের মতো।

বিশেষ করে যেসব গাছে জলীয় অংশ বেশি, যেমন ম্যাপল, ওক বা পপলার প্রজাতির গাছ, সেগুলিতে এই ধরনের ফাটল বেশি দেখা যায়। একই সঙ্গে যেসব গাছ আগেই কোনও রোগে আক্রান্ত, দুর্বল বা ভিতরে ফাঁপা হয়ে গেছে, সেগুলির ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।

কেন এত জোরে শব্দ হয়?

গাছের কাণ্ড সাধারণত শক্ত ও ঘন কাঠ দিয়ে তৈরি। যখন ভেতরের চাপ হঠাৎ করে মুক্তি পায়, তখন কাঠের তন্তুগুলি আচমকা ভেঙে যায়। এর ফলে তৈরি হয় একটি তীক্ষ্ণ ও প্রতিধ্বনিময় শব্দ, যা রাতের নিস্তব্ধতায় আরও বেশি তীব্র শোনায়।

অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তাঁরা গভীর রাতে হঠাৎ ‘পপ’ বা ‘বুম’ ধরনের আওয়াজ শুনেছেন, যা গুলির শব্দের মতো মনে হয়েছে। কেউ কেউ ভেবেছেন আতশবাজি বা বন্দুকের আওয়াজ। পরে দেখা গেছে, কাছের কোনও গাছে ফাটল ধরেছে বা বড় ডাল ভেঙে পড়েছে।

এই শব্দ আসলে কাঠের ভেতরের চাপের হঠাৎ মুক্তির ফল—একটি প্রাকৃতিক, কিন্তু অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতা।

পোলার ভর্টেক্স কী এবং এর ভূমিকা কী?

এই অস্বাভাবিক ঠান্ডার নেপথ্যে আবহবিদেরা দায়ী করছেন ‘পোলার ভর্টেক্স’ বা মেরু ঘূর্ণাবর্তকে। এটি হল উত্তর ও দক্ষিণ মেরুকে ঘিরে থাকা এক বিশাল নিম্নচাপ বলয়, যার মধ্যে থাকে অত্যন্ত ঠান্ডা বাতাস।

সাধারণ অবস্থায় এই ঠান্ডা বাতাস মেরু অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু কখনও কখনও পোলার ভর্টেক্স দুর্বল হয়ে পড়ে বা বিভক্ত হয়ে যায়। তখন মেরুর ঠান্ডা বাতাস দক্ষিণ দিকে নেমে আসে—আমেরিকা, কানাডা এবং ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হঠাৎ তীব্র শীতের সৃষ্টি হয়।

চলতি বছরে এই পোলার ভর্টেক্স অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আবহবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মেরু অঞ্চলের উষ্ণতা বাড়ছে, যার ফলে পোলার ভর্টেক্সের স্থিতিশীলতা কমে যাচ্ছে। এর ফলেই মাঝেমধ্যেই এমন চরম শীতল ঢেউ দক্ষিণ দিকে নেমে আসছে।

এই হঠাৎ ও প্রবল ঠান্ডাই গাছের ভিতরের রস দ্রুত জমিয়ে দিচ্ছে এবং সৃষ্টি করছে তথাকথিত ‘বৃক্ষ বিস্ফোরণ’-এর পরিস্থিতি।

জলবায়ু পরিবর্তন ও চরম আবহাওয়ার সম্পর্ক

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়লেও একই সঙ্গে বাড়ছে আবহাওয়ার চরমতা। অর্থাৎ, কোথাও তীব্র গরম, কোথাও অস্বাভাবিক ঠান্ডা, কোথাও বিধ্বংসী বন্যা বা দাবানল—এই ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটছে।

পোলার ভর্টেক্সের দুর্বলতা এবং তার ফলে দক্ষিণমুখী ঠান্ডা বাতাস প্রবাহও জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। এর অর্থ হল, ভবিষ্যতে এমন চরম শীতল ঢেউ এবং তার সঙ্গে যুক্ত গাছ ফাটার মতো অদ্ভুত প্রাকৃতিক ঘটনাও আরও বেশি দেখা যেতে পারে।

অতএব, ‘বৃক্ষ বিস্ফোরণ’ শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি বৃহত্তর জলবায়ু পরিবর্তনের এক অদ্ভুত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিফলন।

এই ঘটনা কি গাছের জন্য মারাত্মক?

news image
আরও খবর

সব ক্ষেত্রে নয়। অনেক সময় গাছে সামান্য ফাটল ধরলেও তা নিজে থেকেই সেরে ওঠে। গাছের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকে, যা ক্ষতস্থানে নতুন টিস্যু তৈরি করে দেয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে বড় ফাটল গাছকে দুর্বল করে দিতে পারে।

বিশেষ করে যদি ফাটল গভীর হয় এবং কাঠের ভেতরের অংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তাহলে সেখানে ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া বা পোকামাকড় ঢুকে পড়তে পারে। এতে গাছের রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে গাছ মারা যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

এ ছাড়া বড় ডাল বা কাণ্ড ভেঙে পড়লে তা মানুষের সম্পত্তি বা জীবনহানির কারণও হতে পারে। তাই তীব্র ঠান্ডার সময় গাছপালা থাকা এলাকায় সতর্ক থাকা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।

মানুষের জীবনে এর প্রভাব কী?

এই ধরনের গাছ ফাটার ঘটনা শুধু একটি বৈজ্ঞানিক কৌতূহল নয়—এটির বাস্তব সামাজিক প্রভাবও রয়েছে।

? নিরাপত্তা ঝুঁকি: বড় গাছ বা ডাল হঠাৎ ভেঙে পড়লে তা বাড়ি, গাড়ি বা বিদ্যুৎ লাইনের উপর পড়তে পারে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।

? মানসিক আতঙ্ক: রাতে বিকট শব্দ শোনা গেলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ ভাবেন গুলি চলছে বা বিস্ফোরণ হয়েছে।

? পরিবেশগত ক্ষতি: বহু গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বনাঞ্চলের স্বাভাবিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে।

? অর্থনৈতিক ক্ষতি: গাছ ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হলে বা সম্পত্তির ক্ষতি হলে তা অর্থনৈতিক প্রভাবও ফেলতে পারে।

এই কারণেই আবহবিদ ও স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলছেন, বিশেষ করে প্রবল শীত ও তুষারঝড়ের সময় বড় গাছের আশপাশে অপ্রয়োজনীয় চলাফেরা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন।

অতীতে কি এমন ঘটনা ঘটেছে?

হ্যাঁ, ইতিহাসে এমন ঘটনার নজির রয়েছে। কানাডা, আলাস্কা এবং উত্তর ইউরোপের দেশগুলিতে দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র শীতের সময় গাছ ফাটার শব্দ শোনা যায় বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

কিছু ক্ষেত্রে এই ঘটনাকে স্থানীয় ভাষায় আলাদা নামেও ডাকা হয়। যেমন কানাডার কিছু অঞ্চলে একে বলা হয় “frost crack” বা “frost split”—অর্থাৎ শীতজনিত ফাটল। বিজ্ঞানসম্মত ভাষায় এটিকে বলা হয় “freeze-thaw stress” বা “thermal stress cracking”।

তবে সমাজমাধ্যমের দৌলতে সাম্প্রতিক সময়ে এই ঘটনাগুলি অনেক বেশি আলোচনায় এসেছে এবং ‘tree explosion’ নামটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞানীরা কী বলছেন?

আবহবিদ কোডি ম্যাটজ় জানিয়েছেন, বর্তমানে আমেরিকার উত্তরাংশে যে তাপমাত্রা রয়েছে, তাতে গাছে ফাটল ধরার ঘটনা স্বাভাবিক। তবে তিনি এটাও বলেছেন, প্রকৃত বিস্ফোরণ—অর্থাৎ পুরো গাছ ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া—অত্যন্ত বিরল এবং বাস্তবে খুব কম ক্ষেত্রেই দেখা যায়।

তাঁর মতে, “মানুষ যে শব্দ শুনছে, তা মূলত কাঠ ফাটার আওয়াজ। এটি প্রকৃতির একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া, যদিও শব্দটি ভয় ধরানোর মতো হতে পারে।”

ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসও জানিয়েছে, এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়, তবে চলতি বছরে ঠান্ডার তীব্রতা এত বেশি যে অনেক এলাকায় একসঙ্গে বহু গাছে ফাটল ধরছে। ফলে ঘটনাটি নজরে আসছে বেশি।

কোন ধরনের গাছে এই ঘটনা বেশি ঘটে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সব গাছে সমানভাবে এই ধরনের ফাটল দেখা যায় না। কিছু প্রজাতি বেশি সংবেদনশীল।

? ম্যাপল গাছ: এর রসের পরিমাণ বেশি হওয়ায় ঠান্ডায় ফাটল ধরার ঝুঁকি বেশি।
? ওক ও পপলার: কাঠের গঠন ও জলীয় অংশের কারণে এদের মধ্যেও এই প্রবণতা দেখা যায়।
? বয়স্ক বা দুর্বল গাছ: যেসব গাছ আগে থেকেই রোগাক্রান্ত, শুকনো বা কাঠের ভেতর ফাঁপা হয়ে গেছে, সেগুলি বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

অন্যদিকে, কিছু শঙ্কু জাতের গাছ (যেমন পাইন বা ফার) তুলনামূলকভাবে এই ধরনের ফাটলের বিরুদ্ধে বেশি প্রতিরোধী।

এই ঘটনা কি আবার ঘটবে?

আবহবিদদের মতে, যতদিন পর্যন্ত তাপমাত্রা দ্রুত হ্রাস পাবে এবং হিমাঙ্কের অনেক নীচে থাকবে, ততদিন এই ধরনের গাছ ফাটার ঘটনা ঘটতেই পারে। বিশেষ করে রাতে তাপমাত্রা দ্রুত নামলে এই ঝুঁকি আরও বাড়ে।

ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটলে, এই ধরনের ‘বৃক্ষ বিস্ফোরণ’-এর খবরও নিয়মিত শোনা যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সাধারণ মানুষের জন্য কী সতর্কতা প্রয়োজন?

বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় প্রশাসনের তরফে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—

✔ প্রবল ঠান্ডা ও তুষারঝড়ের সময় বড় গাছের নীচে দাঁড়ানো এড়িয়ে চলুন।
✔ বাড়ির আশপাশে দুর্বল বা শুকনো গাছ থাকলে আগেভাগেই সেগুলির পরিচর্যা বা ছাঁটাই করান।
✔ রাতে বিকট শব্দ শুনলে আতঙ্কিত না হয়ে আশপাশ পর্যবেক্ষণ করুন—গাছ ভেঙে পড়েছে কি না দেখুন।
✔ বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান।

এই সতর্কতা মানলে এই অস্বাভাবিক প্রাকৃতিক ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

প্রকৃতির অদ্ভুত, কিন্তু বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা

‘বৃক্ষ বিস্ফোরণ’ শব্দবন্ধটি শুনতে যতটা নাটকীয়, বাস্তবে ঘটনাটি ততটাই বৈজ্ঞানিক ও প্রাকৃতিক। এটি কোনও অলৌকিক বা রহস্যময় ঘটনা নয়, বরং তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তনের প্রতি গাছের এক স্বাভাবিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া।

এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতি কতটা সংবেদনশীল এবং পরিবেশের সামান্য পরিবর্তনেও কীভাবে অপ্রত্যাশিত ফলাফল দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব প্রভাবগুলির এক জীবন্ত উদাহরণ—যেখানে শুধু মানুষ নয়, উদ্ভিদজগতও পরিবর্তিত আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে লড়াই করছে।

Preview image