বাংলার বাতাসে পুজোর গন্ধ, আর তার আগেই ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বাড়তি উত্তেজনা ডার্বি ঘিরে। বৃহস্পতিবারের হাইভোল্টেজ ম্যাচে দুই দলের লড়াইকে ঘিরে চড়ছে পারদ। নজর থাকবে সাহাল, মনবীরদের মতো তারকাদের পারফরম্যান্সের দিকেও।
মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল ডার্বি মানেই আবেগ, উত্তেজনা এবং ফুটবলপ্রেমীদের কাছে আলাদা এক অনুভূতি। বাংলার আকাশে যখন পুজোর আগমনী সুর, চারদিকে যখন উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে, ঠিক সেই সময়েই ফুটবলপ্রেমী বাঙালির জন্য সামনে আরও এক বড় আকর্ষণ। ঐতিহ্যের আইএফএ শিল্ডের শিরোপা নির্ণায়ক ম্যাচে মুখোমুখি হতে চলেছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল। ফলে শারদোৎসবের আগে কলকাতার ফুটবলমহলে যে উত্তেজনার পারদ চড়ছে, তা বলাই বাহুল্য।
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন আবারও সাক্ষী হতে চলেছে কলকাতা ডার্বির। চলতি মরশুমে এই নিয়ে চতুর্থবার মুখোমুখি হচ্ছে মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গল। এর আগে তিনটি ডার্বিতে দুই দলের লড়াই হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি। ডুরান্ড কাপে একটি করে ম্যাচ জিতেছে দুই দল। অন্যদিকে কলকাতা লিগের ডার্বি শেষ হয়েছে অমীমাংসিতভাবে। অর্থাৎ পরিসংখ্যানের বিচারে এখনও কেউ স্পষ্টভাবে এগিয়ে নেই। তাই আইএফএ শিল্ডের এই ম্যাচ শুধু একটি ফাইনাল নয়, বরং চলতি মরশুমের ডার্বি-লড়াইয়ে নিজেদের এগিয়ে রাখারও বড় সুযোগ।
এই ম্যাচকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই দুই শিবিরে বাড়ছে প্রস্তুতির চাপ। তবে মঙ্গলবার কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে মোহনবাগানের অনুশীলনে যে তাগিদ দেখা গিয়েছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে, সবুজ-মেরুন শিবির আইএফএ শিল্ডের ট্রফি ঘরে তুলতে কতটা মরিয়া। অনুশীলনে ফুটবলারদের শরীরী ভাষায় ছিল ম্যাচ জেতার ইচ্ছা। ডার্বির গুরুত্ব যে প্রত্যেক খেলোয়াড়ই বুঝতে পারছেন, তা অনুশীলনের প্রস্তুতি থেকেই স্পষ্ট।
কলকাতা এবং বাংলার ফুটবল সংস্কৃতিতে ডার্বির গুরুত্ব নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল—দুই দলের সমর্থকদের কাছে এই ম্যাচ কেবল তিন পয়েন্ট বা একটি ট্রফির লড়াই নয়। বহু দশকের ঐতিহ্য, আবেগ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং গর্বের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই ম্যাচ।
বিশেষ করে পুজোর আগে ডার্বি হওয়ায় এবারের ম্যাচের আবহ আরও অন্যরকম। বাংলার মানুষের কাছে দুর্গাপুজো যেমন আবেগের, তেমনই ফুটবলও বাঙালির জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই দুই আবেগ যখন কাছাকাছি সময়ে এসে মিশে যায়, তখন কলকাতার ফুটবলমহলে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
আইএফএ শিল্ডের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতার ফাইনালে আবার দুই প্রধানের মুখোমুখি হওয়া সেই উত্তেজনাকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে যুবভারতীতে শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ হবে না, বরং দেখা যাবে দুই দলের সমর্থকদের আবেগের লড়াইও।
এ মরশুমে ইতিমধ্যেই তিনবার মুখোমুখি হয়েছে মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গল। ডুরান্ড কাপে দুই দলের মধ্যে হয়েছে দুটি ম্যাচ। তার মধ্যে একটি ম্যাচে জয় পেয়েছে মোহনবাগান, অন্যটিতে জিতেছে ইস্টবেঙ্গল। অর্থাৎ ডুরান্ডের লড়াইয়ে দুই দলই একে অপরকে হারানোর স্বাদ পেয়েছে।
এরপর কলকাতা লিগে আবার মুখোমুখি হয় দুই দল। সেই ম্যাচ অবশ্য ড্র হয়ে যায়। ফলে তিনটি ডার্বির পর দুই শিবিরের হিসাব কার্যত সমান। এমন পরিস্থিতিতে আইএফএ শিল্ডের ফাইনাল দুই দলের কাছেই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
চতুর্থ ডার্বিতে যে দল জিতবে, তারা শুধু আইএফএ শিল্ডের ট্রফিই হাতে তুলবে না, মরশুমের ডার্বি পরিসংখ্যানেও এগিয়ে যাবে। সেই কারণেই ম্যাচটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
ফাইনালে সাধারণত ট্রফি জেতাই থাকে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। কিন্তু মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল ম্যাচের ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু আলাদা। কারণ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জয় পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের সমর্থকদের কাছে গর্বের জায়গাটিও তৈরি করতে হয়।
আইএফএ শিল্ডের শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ডার্বি জয়ের সুযোগ তাই দুই দলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আগের তিন ম্যাচে যখন জয়-পরাজয়ের ব্যবধান নেই, তখন চতুর্থ ম্যাচটি কার্যত নতুন করে শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার লড়াই।
মোহনবাগান শিবির তাই এই ম্যাচে কোনওরকম গা-ছাড়া মনোভাব নিয়ে মাঠে নামতে চাইবে না। প্রতিপক্ষের শক্তি, ডার্বির আবেগ এবং ফাইনালের চাপ—সবকিছু মাথায় রেখেই প্রস্তুতি চলছে।
মঙ্গলবার কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে মোহনবাগানের অনুশীলনে সেই জয়ের তাগিদই চোখে পড়েছে। ফাইনালের আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না সবুজ-মেরুন শিবির।
ডার্বির মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মানসিক প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঠে কৌশল, পরিকল্পনা এবং ফিটনেসের পাশাপাশি চাপ সামলানোর ক্ষমতাও ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেয়। মোহনবাগান কোচ এবং দলের ফুটবলাররা সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষ করে ডার্বির আবেগ যেন ম্যাচের পরিকল্পনাকে প্রভাবিত না করে, সেদিকেও নজর থাকবে। কারণ বড় ম্যাচে ছোট একটি ভুলও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। আবার একটি দুর্দান্ত মুহূর্তই দলকে ট্রফির আরও কাছে পৌঁছে দিতে পারে।
মরশুমের চতুর্থ ডার্বিতে নিজেদের পক্ষে ফল আনার পাশাপাশি আইএফএ শিল্ডের ট্রফি জেতাই এখন মোহনবাগানের মূল লক্ষ্য। শারদোৎসবের আগে সমর্থকদের হাতে একটি বড় জয় তুলে দিতে পারলে তার গুরুত্বও কম নয়।
সবুজ-মেরুন সমর্থকদের প্রত্যাশা বরাবরই বেশি। দলের কাছ থেকে বড় ম্যাচে বড় পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা থাকে। আইএফএ শিল্ড ফাইনালের মতো মঞ্চে সেই প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।
তাই মাঠে নামার আগে ফুটবলারদের দায়িত্বও যথেষ্ট। ডার্বির চাপ সামলে নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলতে পারা এবং সুযোগ কাজে লাগানোই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলও এই ম্যাচে কোনওভাবেই পিছিয়ে থাকতে চাইবে না। আগের ডার্বিতে জয়ের আত্মবিশ্বাস লাল-হলুদ শিবিরের কাছে বড় শক্তি হতে পারে। একই সঙ্গে আইএফএ শিল্ডের মতো ঐতিহ্যবাহী ট্রফি জেতার সুযোগও তাদের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
ডার্বির ইতিহাসে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের লড়াই বরাবরই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তাই ফাইনালের দিন দুই দলই শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামতে পারে। ম্যাচের প্রথম কয়েক মিনিটেই চাপ তৈরি করার চেষ্টা থাকবে দুই শিবিরের।
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন কলকাতা ডার্বির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই জড়িত। বড় ম্যাচে স্টেডিয়ামের পরিবেশও ম্যাচের অংশ হয়ে ওঠে। গ্যালারির আবেগ, সমর্থকদের স্লোগান এবং দুই দলের রঙে সেজে ওঠা স্টেডিয়াম—সব মিলিয়ে ডার্বির আবহ তৈরি হয়।
আইএফএ শিল্ড ফাইনাল হওয়ায় এবারও যুবভারতীতে বিশেষ পরিবেশ তৈরি হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে ম্যাচ নিয়ে আগ্রহ ইতিমধ্যেই বাড়তে শুরু করেছে।
পুজোর ঠিক আগে এই ডার্বি হওয়ায় অনেক সমর্থকের কাছে এটি উৎসবের আগের আরও একটি বড় উৎসবের মতো। একদিকে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি, অন্যদিকে প্রিয় দলের ডার্বি—দুই আবেগ মিলিয়ে বাংলার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে সময়টা বিশেষ।
ডার্বির মতো ম্যাচে কোচের কৌশল অনেক সময় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে। প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করা, নিজেদের শক্তিকে কাজে লাগানো এবং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল বদলানো—সবই গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে আগের তিন ডার্বির অভিজ্ঞতা থেকে দুই কোচই অনেক কিছু জানতে পারবেন। কোথায় ভুল হয়েছিল, কোন জায়গায় ভালো খেলেছিল দল, প্রতিপক্ষ কীভাবে আক্রমণ তৈরি করেছিল—এসব বিষয় ফাইনালের আগে বিশ্লেষণ করা হবে।
মোহনবাগানের ক্ষেত্রে অনুশীলনে খেলোয়াড়দের মধ্যে যে বাড়তি তাগিদ দেখা গিয়েছে, সেটি কোচের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বড় ম্যাচে সাধারণত তারকা ফুটবলারদের দিকে আলাদা নজর থাকে। তবে ডার্বির মতো ম্যাচে শুধু তারকারাই নন, যে কোনও ফুটবলার ম্যাচের নায়ক হয়ে উঠতে পারেন। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ, ডিফেন্সের দৃঢ়তা এবং আক্রমণভাগের সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে।
গোলরক্ষকের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ ফাইনালের মতো ম্যাচে একটি সেভ যেমন দলকে বাঁচাতে পারে, তেমনই ছোট ভুল বিপদ ডেকে আনতে পারে।
মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গল—দুই দলই তাই নিজেদের সেরা একাদশ নিয়ে মাঠে নামতে চাইবে। ম্যাচের আগে ফুটবলারদের ফিটনেস, ফর্ম এবং কৌশলগত সিদ্ধান্তের ওপর নজর থাকবে সমর্থকদের।
ফুটবলারদের জন্য ডার্বি মানে বাড়তি চাপ। সমর্থকদের প্রত্যাশা, সংবাদমাধ্যমের নজর এবং ম্যাচের গুরুত্ব—সব মিলিয়ে মানসিক চাপ অনেকটাই বেশি থাকে।
এই চাপ সামলে যে দল শান্ত থাকতে পারবে, তারাই সুবিধা পেতে পারে। বিশেষ করে ম্যাচের শুরুতে গোল না হলে অস্থির না হয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলা চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
একইভাবে এগিয়ে যাওয়ার পরেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা জরুরি। কারণ ডার্বিতে কখন কী ঘটে যায়, তা আগে থেকে বলা কঠিন।
মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গল—দুই দলের সমর্থকরাই নিজেদের দলকে ট্রফি জিততে দেখতে চাইবেন। ডার্বির আবেগে সেই প্রত্যাশা আরও তীব্র হয়।
মোহনবাগান সমর্থকদের আশা, দল আইএফএ শিল্ডের ট্রফি জয়ের পাশাপাশি ডার্বির হিসাবেও এগিয়ে যাবে। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল চাইবে, আগের ডার্বির জয়ের ধারাকে কাজে লাগিয়ে ফাইনালেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে।
ফলে মাঠের বাইরেও এই ম্যাচ ঘিরে আলোচনা, তর্ক এবং উত্তেজনা বাড়বে।
বাংলার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে একটি ডার্বি নিজেই বড় আকর্ষণ। তার সঙ্গে যদি জড়িয়ে থাকে ঐতিহ্যবাহী আইএফএ শিল্ডের ট্রফি, তাহলে সেই ম্যাচের গুরুত্ব আরও বাড়ে।
শারদোৎসবের আগে প্রিয় দলের হাতে ট্রফি দেখতে পাওয়া সমর্থকদের কাছে নিঃসন্দেহে বড় আনন্দের বিষয়। তাই দুই দলের খেলোয়াড়দের ওপর দায়িত্বও কম নয়।
মোহনবাগান চাইবে সবুজ-মেরুন সমর্থকদের মুখে হাসি ফুটিয়ে পুজোর আগে একটি স্মরণীয় জয় উপহার দিতে। ইস্টবেঙ্গলও একই লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। ফলে ম্যাচে লড়াই যে তীব্র হবে, তা বলাই যায়।
চলতি মরশুমের প্রথম তিন ডার্বির ফলাফল এই ম্যাচকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। দুই দলই একটি করে ম্যাচ জিতেছে এবং একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। অর্থাৎ চতুর্থ ডার্বির আগে কোনও পক্ষকেই স্পষ্ট ফেভারিট বলা সহজ নয়।
এই সমীকরণ থেকেই বোঝা যায়, আইএফএ শিল্ড ফাইনাল শুধু একটি ট্রফি নির্ধারণ করবে না। এটি মরশুমের ডার্বি-লড়াইয়ের ভারসাম্যও বদলে দিতে পারে।
ম্যাচ জেতা দল পরিসংখ্যানে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবেও বাড়তি সুবিধা পাবে। পরবর্তী সময়ে দুই দলের আত্মবিশ্বাসেও সেই জয়ের প্রভাব পড়তে পারে।
ফাইনালের আগে অনুশীলনের প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেট-পিস, আক্রমণ তৈরি, ডিফেন্সের সংগঠন, বল দখল এবং দ্রুত ট্রানজিশনের মতো বিষয়গুলিতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
মোহনবাগানের মঙ্গলবারের অনুশীলনে যে তাগিদ দেখা গিয়েছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে দলটি ম্যাচটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। ফাইনালের চাপ এবং ডার্বির আবেগ—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখে নিজেদের সেরা ফুটবল খেলাই হবে লক্ষ্য।
সব হিসাবের শেষ উত্তর পাওয়া যাবে যুবভারতীর মাঠে। আগের তিন ডার্বিতে যখন দুই দলই নিজেদের শক্তি দেখিয়েছে, তখন চতুর্থ ডার্বিতে কে শেষ হাসি হাসবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
মোহনবাগানের লক্ষ্য স্পষ্ট—আইএফএ শিল্ডের ট্রফি ঘরে তোলা এবং ডার্বির পরিসংখ্যানে এগিয়ে যাওয়া। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল চাইবে ফাইনালে সবুজ-মেরুনকে হারিয়ে ট্রফি জয়ের পাশাপাশি মরশুমের ডার্বি হিসাব নিজেদের পক্ষে নিয়ে যেতে।
পুজোর আগেই বাংলার ফুটবলপ্রেমীরা পেতে চলেছেন আবেগ, উত্তেজনা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভরা আরও একটি কলকাতা ডার্বি। যুবভারতীর সবুজ গালিচায় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কোন রঙের পতাকা উড়বে, সেদিকেই তাকিয়ে থাকবে গোটা ফুটবলমহল।
আইএফএ শিল্ডের ফাইনাল তাই শুধুমাত্র একটি ট্রফির লড়াই নয়। এটি মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গলের ঐতিহ্য, মর্যাদা এবং শ্রেষ্ঠত্বের আরও একটি অধ্যায়। পুজোর আগের এই ডার্বি শেষ পর্যন্ত কোন দলকে হাসাবে, তার উত্তর মিলবে মাঠের ৯০ মিনিটের লড়াইয়েই।