ল্যাপটপে কাজের সময় ভুল ভঙ্গি ও উচ্চতায় রাখলে বাড়তে পারে ঘাড়-পিঠের ব্যথা। সঠিক অবস্থান ও বসার ভঙ্গি কী হওয়া উচিত, জেনে নিন জরুরি কয়েকটি নিয়ম।
ল্যাপটপ ও কম্পিউটার এখন দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম প্রয়োজনীয় অংশ। অফিসের কাজ, অনলাইন ক্লাস, ব্যবসা, ফ্রিল্যান্সিং কিংবা বাড়ি থেকে কাজ—দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটার বা ল্যাপটপের সামনে বসে থাকতে হয় অনেককেই। কিন্তু কাজের ব্যস্ততায় আমরা অনেক সময় খেয়ালই করি না যে, দিনের পর দিন ভুল ভঙ্গিতে বসে কাজ করার কারণে শরীরে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের সমস্যা। বিশেষ করে ঘাড়, কাঁধ, পিঠ ও কোমরে ব্যথার অভিযোগ এখন তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও ক্রমশ বাড়ছে।
অনেকের ধারণা, বয়স বাড়লেই হাড়ের ক্ষয় বা ঘাড়-পিঠের সমস্যা শুরু হয়। কিন্তু বাস্তবে কম বয়সেও দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকা, ঘাড় নিচু করে ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা এবং পিঠের সঠিক সাপোর্ট না নিয়ে কাজ করার অভ্যাস থেকে অস্বস্তি ও ব্যথা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন একটানা কয়েক ঘণ্টা ল্যাপটপে কাজ করেন, তাঁদের জন্য সঠিক বসার ভঙ্গি ও ল্যাপটপের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অস্থিরোগ চিকিৎসকদের মতে, ঘাড়ের প্রধান কাজ হল মাথাকে ধরে রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাথা ঘোরাতে সাহায্য করা। তাই ঘাড়কে দীর্ঘ সময় অস্বাভাবিক অবস্থানে রেখে কাজ করলে পেশি ও আশপাশের কাঠামোর উপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। এর ফলে ঘাড়ে ব্যথা, কাঁধে টান, মাথাব্যথা বা পিঠে অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ল্যাপটপে কাজ করার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির একটি হল স্ক্রিনের অবস্থান। অনেকেই টেবিলের উপর ল্যাপটপ রেখে দীর্ঘক্ষণ কাজ করেন। এতে স্ক্রিন তুলনামূলক নিচু অবস্থানে থাকে এবং স্ক্রিন দেখতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃত ভাবে ঘাড় সামনের দিকে বা নিচের দিকে ঝুঁকে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এই অবস্থায় থাকলে ঘাড়ের উপর চাপ বাড়তে পারে।
তাই ল্যাপটপের স্ক্রিন এমন উচ্চতায় রাখার চেষ্টা করতে হবে, যাতে কাজ করার সময় ঘাড় অতিরিক্ত নিচু করে রাখতে না হয়। স্ক্রিনটি চোখের কাছাকাছি সমতলে বা এমন অবস্থানে রাখা ভালো, যেখানে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বসে স্ক্রিন দেখা যায়।
ল্যাপটপের স্ক্রিনের পাশাপাশি কীবোর্ড ও মাউস ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় টাইপ করার প্রয়োজন হলে বাহু ও কব্জি যেন আরামদায়ক অবস্থানে থাকে, সেটিও খেয়াল করা দরকার। প্রয়োজনে ল্যাপটপকে উঁচুতে রেখে আলাদা কীবোর্ড ও মাউস ব্যবহার করা যেতে পারে।
শুধু পিঠ সোজা রাখলেই হবে না, বসার ভঙ্গি আরামদায়ক হওয়াও জরুরি। অনেকেই পিঠ একেবারে শক্ত করে সোজা করে বসার চেষ্টা করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় এমন অবস্থায় বসে থাকাও অস্বস্তিকর হতে পারে।
চেয়ারে বসার সময় পিঠ ও মেরুদণ্ডকে স্বাভাবিক অবস্থায় রাখতে হবে। চেয়ারে পিঠের পর্যাপ্ত সাপোর্ট থাকা ভালো। শরীরকে সামনের দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকিয়ে বা কুঁজো হয়ে ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে কাজ করা এড়ানো উচিত।
একই সঙ্গে কাঁধকে স্বাভাবিক ও আরামদায়ক অবস্থায় রাখতে হবে। কাঁধ উঁচু করে বা শরীর শক্ত করে দীর্ঘক্ষণ কাজ করলে ঘাড় ও কাঁধের পেশিতে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
বসার সময় শুধু ঘাড় ও পিঠের দিকে নজর দিলেই হবে না। পায়ের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। চেষ্টা করতে হবে, পা যেন মেঝেতে স্বাভাবিক ভাবে রাখা থাকে এবং শরীরের ভারসাম্য ঠিক থাকে।
চেয়ারের উচ্চতা এমন হওয়া ভালো, যাতে বসলে পা আরাম করে মেঝেতে রাখতে পারেন। পা ঝুলিয়ে বা অস্বাভাবিক ভাবে গুটিয়ে দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ না করাই ভালো।
ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে কাজের সময় সবচেয়ে সাধারণ ভুলগুলির একটি হল দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থায় বসে থাকা। কাজের চাপ বেশি থাকলে অনেকেই টানা দুই-তিন ঘণ্টা চেয়ার থেকে ওঠেন না। কিন্তু শরীরের জন্য এই অভ্যাস মোটেই ভালো নয়।
একই ভঙ্গিতে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে শরীরের বিভিন্ন পেশিতে চাপ পড়তে পারে। বিশেষ করে ঘাড়, কাঁধ ও পিঠের পেশিগুলি দীর্ঘ সময় একই অবস্থায় থাকলে অস্বস্তি বাড়তে পারে। তাই কাজের মধ্যে নিয়মিত বিরতি নেওয়া জরুরি।
প্রায় ৪০-৪৫ মিনিট কাজ করার পর উঠে দাঁড়ানো যেতে পারে। কয়েক মিনিট হাঁটাচলা করা, ঘাড় ধীরে ডান-বাঁ দিকে ঘোরানো কিংবা হালকা স্ট্রেচিং করা যেতে পারে। এতে দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থায় বসে থাকার একঘেয়েমি কাটবে এবং শরীরও কিছুটা নড়াচড়ার সুযোগ পাবে।
কাজের ফাঁকে খুব কঠিন কোনও ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই। বরং হালকা নড়াচড়াই যথেষ্ট। উঠে দাঁড়িয়ে ঘাড় ধীরে এক দিক থেকে অন্য দিকে ঘোরানো যেতে পারে। কাঁধ সামান্য সামনে ও পিছনে নাড়ানো যায়। কয়েক মিনিট হাঁটাচলাও করা যেতে পারে।
তবে কোনও স্ট্রেচিং করতে গিয়ে ব্যথা বাড়লে জোর করা উচিত নয়। তীব্র ব্যথা থাকলে বা কোনও নির্দিষ্ট নড়াচড়ায় সমস্যা হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
শুধু ল্যাপটপ ব্যবহারের সময় নয়, মোবাইল ফোন দেখার সময়ও একই ধরনের সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ মাথা নিচু করে মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে ঘাড়ের স্বাভাবিক অবস্থান বদলে যেতে পারে। ফলে ঘাড় ও কাঁধে অস্বস্তি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
তাই ল্যাপটপে কাজের পাশাপাশি মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রেও স্ক্রিন চোখের কাছাকাছি উচ্চতায় রাখার চেষ্টা করা উচিত। দীর্ঘক্ষণ একটানা মোবাইল দেখা এড়িয়ে মাঝে মাঝে চোখ ও ঘাড়কে বিশ্রাম দেওয়া ভালো।
কাজের সময় সামান্য অস্বস্তি হলেই যে গুরুতর সমস্যা হয়েছে, এমন নয়। তবে ঘাড়, কাঁধ বা পিঠের ব্যথা যদি নিয়মিত হতে থাকে কিংবা দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা দেয়, তা হলে বিষয়টিকে অবহেলা করা উচিত নয়।
বিশেষ করে ঘাড় ঘোরাতে সমস্যা হলে, ব্যথা ক্রমশ বাড়তে থাকলে বা ঘাড়-কাঁধের অংশে অসাড়তার অনুভূতি শুরু হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একই ভাবে ব্যথার সঙ্গে হাত-পায়ে ঝিনঝিনি, দুর্বলতা বা অন্য কোনও অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ল্যাপটপে দীর্ঘক্ষণ কাজ করার সময় কয়েকটি সহজ বিষয় মেনে চললেই ভুল ভঙ্গিতে কাজ করার অভ্যাস অনেকটা কমানো সম্ভব।
১. ল্যাপটপের স্ক্রিন এমন উচ্চতায় রাখুন, যাতে ঘাড় অতিরিক্ত নিচু করতে না হয়।
২. পিঠ ও মেরুদণ্ডকে স্বাভাবিক ও আরামদায়ক অবস্থায় রাখুন।
৩. কাঁধ শক্ত করে বা শরীর সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে দীর্ঘক্ষণ কাজ করবেন না।
৪. পা মেঝেতে স্বাভাবিক ভাবে রাখুন এবং শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখুন।
৫. দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে না থেকে নিয়মিত উঠে দাঁড়ান ও হাঁটাচলা করুন।
৬. প্রায় ৪০-৪৫ মিনিট পর কয়েক মিনিটের জন্য কাজ থেকে বিরতি নেওয়ার অভ্যাস করুন।
৭. বিরতির সময় হালকা স্ট্রেচিং করতে পারেন।
৮. ঘাড়, কাঁধ বা পিঠের ব্যথা নিয়মিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ল্যাপটপে কাজ করা এড়িয়ে চলা সবসময় সম্ভব নয়। বরং কাজের ধরন অনুযায়ী দীর্ঘ সময় কম্পিউটার ব্যবহার অনেকেরই প্রয়োজন। তাই ল্যাপটপ ব্যবহার বন্ধ করার বদলে কী ভাবে সঠিক ভঙ্গিতে কাজ করা যায়, সেটির দিকে নজর দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ল্যাপটপের স্ক্রিনের উচ্চতা, চেয়ারে বসার ভঙ্গি, পিঠের সাপোর্ট, পায়ের অবস্থান এবং কাজের মধ্যে নিয়মিত বিরতি—এই কয়েকটি সাধারণ বিষয় দৈনন্দিন রুটিনে মেনে চলা দরকার। দীর্ঘ সময় একই অবস্থায় বসে না থেকে মাঝে মাঝে উঠে হাঁটাচলা করা এবং হালকা স্ট্রেচিং করার অভ্যাসও তৈরি করা যেতে পারে।
তবে নিয়ম মেনে চলার পরেও যদি ঘাড় বা পিঠের ব্যথা বারবার ফিরে আসে, ঘাড় ঘোরাতে সমস্যা হয় কিংবা ব্যথার সঙ্গে অসাড়তা বা অন্য কোনও অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দেয়, তা হলে নিজে থেকে চিকিৎসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
ল্যাপটপ ও কম্পিউটার এখন দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম প্রয়োজনীয় অংশ। অফিসের কাজ, অনলাইন ক্লাস, ব্যবসা, ফ্রিল্যান্সিং কিংবা বাড়ি থেকে কাজ—দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটার বা ল্যাপটপের সামনে বসে থাকতে হয় অনেককেই। কিন্তু কাজের ব্যস্ততায় আমরা অনেক সময় খেয়ালই করি না যে, দিনের পর দিন ভুল ভঙ্গিতে বসে কাজ করার কারণে শরীরে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের সমস্যা। বিশেষ করে ঘাড়, কাঁধ, পিঠ ও কোমরে ব্যথার অভিযোগ এখন তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও ক্রমশ বাড়ছে।
অনেকের ধারণা, বয়স বাড়লেই হাড়ের ক্ষয় বা ঘাড়-পিঠের সমস্যা শুরু হয়। কিন্তু বাস্তবে কম বয়সেও দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকা, ঘাড় নিচু করে ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা এবং পিঠের সঠিক সাপোর্ট না নিয়ে কাজ করার অভ্যাস থেকে অস্বস্তি ও ব্যথা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন একটানা কয়েক ঘণ্টা ল্যাপটপে কাজ করেন, তাঁদের জন্য সঠিক বসার ভঙ্গি ও ল্যাপটপের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অস্থিরোগ চিকিৎসকদের মতে, ঘাড়ের প্রধান কাজ হল মাথাকে ধরে রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাথা ঘোরাতে সাহায্য করা। তাই ঘাড়কে দীর্ঘ সময় অস্বাভাবিক অবস্থানে রেখে কাজ করলে পেশি ও আশপাশের কাঠামোর উপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। এর ফলে ঘাড়ে ব্যথা, কাঁধে টান, মাথাব্যথা বা পিঠে অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ল্যাপটপে কাজ করার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির একটি হল স্ক্রিনের অবস্থান। অনেকেই টেবিলের উপর ল্যাপটপ রেখে দীর্ঘক্ষণ কাজ করেন। এতে স্ক্রিন তুলনামূলক নিচু অবস্থানে থাকে এবং স্ক্রিন দেখতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃত ভাবে ঘাড় সামনের দিকে বা নিচের দিকে ঝুঁকে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এই অবস্থায় থাকলে ঘাড়ের উপর চাপ বাড়তে পারে।
তাই ল্যাপটপের স্ক্রিন এমন উচ্চতায় রাখার চেষ্টা করতে হবে, যাতে কাজ করার সময় ঘাড় অতিরিক্ত নিচু করে রাখতে না হয়। স্ক্রিনটি চোখের কাছাকাছি সমতলে বা এমন অবস্থানে রাখা ভালো, যেখানে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বসে স্ক্রিন দেখা যায়।
ল্যাপটপের স্ক্রিনের পাশাপাশি কীবোর্ড ও মাউস ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় টাইপ করার প্রয়োজন হলে বাহু ও কব্জি যেন আরামদায়ক অবস্থানে থাকে, সেটিও খেয়াল করা দরকার। প্রয়োজনে ল্যাপটপকে উঁচুতে রেখে আলাদা কীবোর্ড ও মাউস ব্যবহার করা যেতে পারে।
শুধু পিঠ সোজা রাখলেই হবে না, বসার ভঙ্গি আরামদায়ক হওয়াও জরুরি। অনেকেই পিঠ একেবারে শক্ত করে সোজা করে বসার চেষ্টা করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় এমন অবস্থায় বসে থাকাও অস্বস্তিকর হতে পারে।
চেয়ারে বসার সময় পিঠ ও মেরুদণ্ডকে স্বাভাবিক অবস্থায় রাখতে হবে। চেয়ারে পিঠের পর্যাপ্ত সাপোর্ট থাকা ভালো। শরীরকে সামনের দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকিয়ে বা কুঁজো হয়ে ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে কাজ করা এড়ানো উচিত।
একই সঙ্গে কাঁধকে স্বাভাবিক ও আরামদায়ক অবস্থায় রাখতে হবে। কাঁধ উঁচু করে বা শরীর শক্ত করে দীর্ঘক্ষণ কাজ করলে ঘাড় ও কাঁধের পেশিতে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
বসার সময় শুধু ঘাড় ও পিঠের দিকে নজর দিলেই হবে না। পায়ের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। চেষ্টা করতে হবে, পা যেন মেঝেতে স্বাভাবিক ভাবে রাখা থাকে এবং শরীরের ভারসাম্য ঠিক থাকে।
চেয়ারের উচ্চতা এমন হওয়া ভালো, যাতে বসলে পা আরাম করে মেঝেতে রাখতে পারেন। পা ঝুলিয়ে বা অস্বাভাবিক ভাবে গুটিয়ে দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ না করাই ভালো।
ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে কাজের সময় সবচেয়ে সাধারণ ভুলগুলির একটি হল দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থায় বসে থাকা। কাজের চাপ বেশি থাকলে অনেকেই টানা দুই-তিন ঘণ্টা চেয়ার থেকে ওঠেন না। কিন্তু শরীরের জন্য এই অভ্যাস মোটেই ভালো নয়।
একই ভঙ্গিতে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে শরীরের বিভিন্ন পেশিতে চাপ পড়তে পারে। বিশেষ করে ঘাড়, কাঁধ ও পিঠের পেশিগুলি দীর্ঘ সময় একই অবস্থায় থাকলে অস্বস্তি বাড়তে পারে। তাই কাজের মধ্যে নিয়মিত বিরতি নেওয়া জরুরি।
প্রায় ৪০-৪৫ মিনিট কাজ করার পর উঠে দাঁড়ানো যেতে পারে। কয়েক মিনিট হাঁটাচলা করা, ঘাড় ধীরে ডান-বাঁ দিকে ঘোরানো কিংবা হালকা স্ট্রেচিং করা যেতে পারে। এতে দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থায় বসে থাকার একঘেয়েমি কাটবে এবং শরীরও কিছুটা নড়াচড়ার সুযোগ পাবে।
কাজের ফাঁকে খুব কঠিন কোনও ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই। বরং হালকা নড়াচড়াই যথেষ্ট। উঠে দাঁড়িয়ে ঘাড় ধীরে এক দিক থেকে অন্য দিকে ঘোরানো যেতে পারে। কাঁধ সামান্য সামনে ও পিছনে নাড়ানো যায়। কয়েক মিনিট হাঁটাচলাও করা যেতে পারে।
তবে কোনও স্ট্রেচিং করতে গিয়ে ব্যথা বাড়লে জোর করা উচিত নয়। তীব্র ব্যথা থাকলে বা কোনও নির্দিষ্ট নড়াচড়ায় সমস্যা হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
শুধু ল্যাপটপ ব্যবহারের সময় নয়, মোবাইল ফোন দেখার সময়ও একই ধরনের সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ মাথা নিচু করে মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে ঘাড়ের স্বাভাবিক অবস্থান বদলে যেতে পারে। ফলে ঘাড় ও কাঁধে অস্বস্তি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
তাই ল্যাপটপে কাজের পাশাপাশি মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রেও স্ক্রিন চোখের কাছাকাছি উচ্চতায় রাখার চেষ্টা করা উচিত। দীর্ঘক্ষণ একটানা মোবাইল দেখা এড়িয়ে মাঝে মাঝে চোখ ও ঘাড়কে বিশ্রাম দেওয়া ভালো।
কাজের সময় সামান্য অস্বস্তি হলেই যে গুরুতর সমস্যা হয়েছে, এমন নয়। তবে ঘাড়, কাঁধ বা পিঠের ব্যথা যদি নিয়মিত হতে থাকে কিংবা দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা দেয়, তা হলে বিষয়টিকে অবহেলা করা উচিত নয়।
বিশেষ করে ঘাড় ঘোরাতে সমস্যা হলে, ব্যথা ক্রমশ বাড়তে থাকলে বা ঘাড়-কাঁধের অংশে অসাড়তার অনুভূতি শুরু হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একই ভাবে ব্যথার সঙ্গে হাত-পায়ে ঝিনঝিনি, দুর্বলতা বা অন্য কোনও অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ল্যাপটপে দীর্ঘক্ষণ কাজ করার সময় কয়েকটি সহজ বিষয় মেনে চললেই ভুল ভঙ্গিতে কাজ করার অভ্যাস অনেকটা কমানো সম্ভব।
১. ল্যাপটপের স্ক্রিন এমন উচ্চতায় রাখুন, যাতে ঘাড় অতিরিক্ত নিচু করতে না হয়।
২. পিঠ ও মেরুদণ্ডকে স্বাভাবিক ও আরামদায়ক অবস্থায় রাখুন।
৩. কাঁধ শক্ত করে বা শরীর সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে দীর্ঘক্ষণ কাজ করবেন না।
৪. পা মেঝেতে স্বাভাবিক ভাবে রাখুন এবং শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখুন।
৫. দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে না থেকে নিয়মিত উঠে দাঁড়ান ও হাঁটাচলা করুন।
৬. প্রায় ৪০-৪৫ মিনিট পর কয়েক মিনিটের জন্য কাজ থেকে বিরতি নেওয়ার অভ্যাস করুন।
৭. বিরতির সময় হালকা স্ট্রেচিং করতে পারেন।
৮. ঘাড়, কাঁধ বা পিঠের ব্যথা নিয়মিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ল্যাপটপে কাজ করা এড়িয়ে চলা সবসময় সম্ভব নয়। বরং কাজের ধরন অনুযায়ী দীর্ঘ সময় কম্পিউটার ব্যবহার অনেকেরই প্রয়োজন। তাই ল্যাপটপ ব্যবহার বন্ধ করার বদলে কী ভাবে সঠিক ভঙ্গিতে কাজ করা যায়, সেটির দিকে নজর দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ল্যাপটপের স্ক্রিনের উচ্চতা, চেয়ারে বসার ভঙ্গি, পিঠের সাপোর্ট, পায়ের অবস্থান এবং কাজের মধ্যে নিয়মিত বিরতি—এই কয়েকটি সাধারণ বিষয় দৈনন্দিন রুটিনে মেনে চলা দরকার। দীর্ঘ সময় একই অবস্থায় বসে না থেকে মাঝে মাঝে উঠে হাঁটাচলা করা এবং হালকা স্ট্রেচিং করার অভ্যাসও তৈরি করা যেতে পারে।
তবে নিয়ম মেনে চলার পরেও যদি ঘাড় বা পিঠের ব্যথা বারবার ফিরে আসে, ঘাড় ঘোরাতে সমস্যা হয় কিংবা ব্যথার সঙ্গে অসাড়তা বা অন্য কোনও অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দেয়, তা হলে নিজে থেকে চিকিৎসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।