সিডিএসসিও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করেছে বারবার বা অপ্রয়োজনে এসব ওষুধ খেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে তাই কোন ওষুধ কতটা এবং কত দিন খেতে হবে তা চিকিৎসকের পরামর্শ মেনেই ঠিক করার কথা বলা হয়েছে তবে সব ব্যথানাশক ও অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রিতে নতুন করে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে এমন দাবি এই সতর্কবার্তা থেকে করা ঠিক হবে না
মাথাব্যথা, জ্বর বা শরীরে ব্যথা হলে অনেকেই আগে থেকে পরিচিত কোনও ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে নেন। আবার সর্দি, কাশি বা গলাব্যথায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক নেওয়ার প্রবণতাও রয়েছে। ওষুধের এই ধরনের ব্যবহার নিয়ে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিডিএসসিও। তাদের ২১ সেপ্টেম্বরের নির্দেশিকায় ব্যথানাশক ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে চিকিৎসক ওষুধ বিক্রেতা এবং সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।
ব্যথা কমানোর জন্য ব্যবহৃত কিছু ওষুধ নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস বা এনএসএআইডি নামে পরিচিত। এগুলি প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসায় ব্যবহার করা হলেও বারবার, দীর্ঘ সময় বা অনুপযুক্ত অবস্থায় খেলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে আগে থেকে কিডনির অসুখ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে, কিংবা শরীরে জলের ঘাটতি তৈরি হলে, কিছু এনএসএআইডি কিডনির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই ব্যথা ফিরে এলেই নিজের সিদ্ধান্তে একই ওষুধ খেতে থাকার বদলে ব্যথার কারণ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সিডিএসসিওর নির্দেশিকায় চিকিৎসকদেরও রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে ওষুধ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কোনও ব্যথানাশক প্রয়োজন হলে উপযুক্ত ক্ষেত্রে কার্যকর সর্বনিম্ন মাত্রা এবং প্রয়োজনীয় সর্বনিম্ন সময়ের কথা বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। একজনের জন্য নির্ধারিত ওষুধ, মাত্রা বা ব্যবহারের সময় অন্যজনের জন্য ঠিক হবে এমন ধরে নেওয়া নিরাপদ নয়। বয়স, আগে থেকে থাকা রোগ এবং অন্য কোনও ওষুধ চলছে কি না চিকিৎসার সিদ্ধান্তে এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা জরুরি। সব জ্বর বা সংক্রমণের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না। কোন অসুখে কোন অ্যান্টিবায়োটিক লাগবে আদৌ লাগবে কি না এবং কত দিন খেতে হবে, তা রোগের ধরন বুঝে চিকিৎসক ঠিক করেন। অপ্রয়োজনে বা ভুলভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে জীবাণুর ওষুধ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে কিছু সংক্রমণের চিকিৎসা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ও অতিরিক্ত ব্যবহারকে এই সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অনেক সময় আগের চিকিৎসার পরে বাড়িতে থেকে যাওয়া অ্যান্টিবায়োটিক নতুন করে অসুস্থ হলে খাওয়া হয়। পরিচিত কারও প্রেসক্রিপশন দেখে একই ওষুধ নেওয়ার ঘটনাও ঘটে। কিন্তু উপসর্গ কাছাকাছি হলেই রোগের কারণ এক হবে, এমন নয়। নিজের মতো ওষুধ শুরু করা, মাত্রা বদলানো কিংবা চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া মাঝপথে বন্ধ করার সিদ্ধান্তে চিকিৎসা ব্যাহত হতে পারে। উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে বা বারবার ফিরে এলে পরীক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজন আছে কি না, তা চিকিৎসককে জানানোই যথাযথ পথ।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা দরকার। সিডিএসসিওর সতর্কবার্তার অর্থ এই নয় যে সব ব্যথানাশক ও অ্যান্টিবায়োটিকের উৎপাদন বা বিক্রি নতুন করে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট শ্রেণির প্রেসক্রিপশনভিত্তিক ওষুধ বিক্রির বিদ্যমান নিয়ম মেনে চলা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। কোনও নির্দিষ্ট ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে প্রেসক্রিপশন প্রয়োজন কি না তা সেই ওষুধের শ্রেণি ও প্রযোজ্য নিয়মের উপর নির্ভর করে। সাধারণ মানুষের জন্য বার্তাটি সহজ ব্যথা বা জ্বরের উপসর্গ বারবার দেখা দিলে শুধু ওষুধ খেয়ে তা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। চিকিৎসককে আগে থেকে থাকা রোগ, নিয়মিত খাওয়া ওষুধ এবং আগের কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা জানান। প্রেসক্রিপশনে দেওয়া মাত্রা ও সময়সীমা মেনে চলুন। ওষুধের ব্যবহার নিয়ে সন্দেহ থাকলে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের কাছে ব্যাখ্যা চান। সচেতনভাবে ওষুধ ব্যবহার করলে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা রক্ষার চেষ্টাতেও সাহায্য করা যায়। সিডিএসসিওর সাম্প্রতিক সতর্কবার্তা নিয়ে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি। সব ব্যথানাশক বা অ্যান্টিবায়োটিকের উৎপাদন ও বিক্রি নতুন করে নিষিদ্ধ করা হয়নি। সংস্থাটি মূলত চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস এবং প্রেসক্রিপশনভিত্তিক ওষুধ বিক্রির নিয়ম যথাযথভাবে মেনে চলার উপর জোর দিয়েছে। কোনও ওষুধ কিনতে প্রেসক্রিপশন লাগবে কি না, তা নির্ভর করে সেই নির্দিষ্ট ওষুধটি কোন শ্রেণিতে পড়ে এবং তার ক্ষেত্রে কী নিয়ম প্রযোজ্য। তাই একটি সতর্কবার্তা দেখে সব ধরনের ব্যথার ওষুধের জন্য একই নিয়ম ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
দৈনন্দিন জীবনে মাথাব্যথা, জ্বর, দাঁতের ব্যথা বা শরীরের অন্য কোনও যন্ত্রণা হলে অনেকেই দ্রুত স্বস্তি পেতে ওষুধ খান। সাময়িকভাবে উপসর্গ কমলেও ব্যথার কারণ সব সময় দূর হয় না। কিছুদিন পর একই সমস্যা ফিরে এলে বারবার নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ খাওয়ার বদলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ব্যথা বা জ্বর দীর্ঘ সময় ধরে থাকলে, ঘন ঘন ফিরে এলে কিংবা নতুন কোনও উপসর্গ দেখা দিলে তার কারণ বোঝা জরুরি। কিছু ব্যথানাশক ওষুধ, বিশেষত এনএসএআইডি শ্রেণির ওষুধ, দীর্ঘ সময় বা অনুপযুক্ত অবস্থায় ব্যবহার করলে কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। আগে থেকেই কিডনির সমস্যা, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে আরও সতর্কতা প্রয়োজন। শরীরে জলের ঘাটতি থাকলেও কিছু ওষুধের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাই আগে কোনও ওষুধ খেয়ে উপকার হয়েছিল বলেই সেটি প্রতিবার একইভাবে ব্যবহার করা নিরাপদ হবে, এমন নয়। চিকিৎসক রোগীর বর্তমান অবস্থা দেখে ওষুধ প্রয়োজন কি না, কতটা প্রয়োজন এবং কত দিনের জন্য প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করতে পারেন।
অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ শুরু করা থেকে বিরত থাকা উচিত। সব জ্বর, সর্দি বা গলাব্যথায় অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। একই রকম উপসর্গের পেছনে ভিন্ন কারণ থাকতে পারে। আগের প্রেসক্রিপশন দেখে ওষুধ খাওয়া, বাড়িতে থেকে যাওয়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা কিংবা অন্য কারও জন্য দেওয়া ওষুধ নিজে খাওয়া এসব সিদ্ধান্তে সঠিক চিকিৎসা পেতে দেরি হতে পারে। অপ্রয়োজনীয় ও ভুল অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার ওষুধ প্রতিরোধী জীবাণু তৈরির সমস্যাকেও বাড়ায়। চিকিৎসকের কাছে গেলে নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে পূর্ণ তথ্য জানানো গুরুত্বপূর্ণ। আগে থেকে কিডনি, লিভার বা অন্য কোনও রোগ আছে কি না, নিয়মিত কোন ওষুধ খাচ্ছেন, কোনও ওষুধে আগে অ্যালার্জি বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছিল কি না এসব তথ্য চিকিৎসার সিদ্ধান্তে কাজে লাগে। চিকিৎসক যে মাত্রায় এবং যত দিনের জন্য ওষুধ লিখেছেন, সেই নির্দেশ মেনে চলুন। ওষুধ খাওয়ার পরে অস্বাভাবিক কোনও সমস্যা হলে অথবা উপসর্গ না কমলে আবার চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। নিজের মতো করে মাত্রা বাড়ানো বা চিকিৎসার সময়সীমা বদলানো উচিত নয়।
ওষুধ কেনার সময় প্রেসক্রিপশন প্রয়োজন হলে তা দেখিয়ে ওষুধ নেওয়া এবং কীভাবে ওষুধটি খেতে হবে তা বুঝে নেওয়া দরকার। প্রেসক্রিপশনের লেখা অস্পষ্ট হলে বা একই সঙ্গে একাধিক ওষুধ খাওয়ার নিয়ম নিয়ে সন্দেহ থাকলে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের কাছে ব্যাখ্যা চাইতে পারেন। ওষুধের নাম জানা থাকাই যথেষ্ট নয়; সেটি কেন দেওয়া হয়েছে, কত দিন খেতে হবে এবং কোনও বিশেষ সতর্কতা রয়েছে কি না, সেটিও জানা প্রয়োজন। সিডিএসসিওর বার্তার মূল লক্ষ্য সচেতন ও যুক্তিসংগত ওষুধ ব্যবহার। ব্যথা বা জ্বর হলে দ্রুত আরাম পাওয়ার প্রয়োজন যেমন বাস্তব, তেমনই বারবার উপসর্গ ফিরে আসার কারণ খুঁজে দেখাও জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ নির্দিষ্ট ওষুধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য প্রেসক্রিপশনের নিয়ম এবং সঠিক মাত্রা মেনে চললে অপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা ভবিষ্যতের জন্য বজায় রাখার চেষ্টাতেও প্রত্যেকে ভূমিকা রাখতে পারেন।অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ শুরু করা থেকে বিরত থাকা উচিত। সব জ্বর, সর্দি বা গলাব্যথায় অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। একই রকম উপসর্গের পেছনে ভিন্ন কারণ থাকতে পারে। আগের প্রেসক্রিপশন দেখে ওষুধ খাওয়া, বাড়িতে থেকে যাওয়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা কিংবা অন্য কারও জন্য দেওয়া ওষুধ নিজে খাওয়া এসব সিদ্ধান্তে সঠিক চিকিৎসা পেতে দেরি হতে পারে। অপ্রয়োজনীয় ও ভুল অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার ওষুধ প্রতিরোধী জীবাণু তৈরির সমস্যাকেও বাড়ায়। চিকিৎসকের কাছে গেলে নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে পূর্ণ তথ্য জানানো গুরুত্বপূর্ণ। আগে থেকে কিডনি, লিভার বা অন্য কোনও রোগ আছে কি না, নিয়মিত কোন ওষুধ খাচ্ছেন, কোনও ওষুধে আগে অ্যালার্জি বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছিল কি না এসব তথ্য চিকিৎসার সিদ্ধান্তে কাজে লাগে।