Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

চিনের আগ্রাসী বাও কে কুপোকাত করে এবার সোনা লভলিনার

চিনের শক্তিশালী প্রতিপক্ষ বাও কে হারিয়ে সোনা জিতলেন লভলিনা বরগোহাঁই দুরন্ত লড়াই ও আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সে ভারতীয় মহিলা বক্সিংয়ে নতুন কৃতিত্বের নজির গড়লেন তিনি তাঁর এই সাফল্য দেশের বক্সিংপ্রেমীদের কাছে গর্বের মুহূর্ত

জন্মদিনেই সোনালি সাফল্য লভলিনা বরগোহাঁইয়ের। চিনের বাও জ়িয়িকে হারিয়ে ২০২৬ সালের এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ৭৫ কেজি বিভাগের বক্সিংয়ে সোনা জিতলেন ভারতীয় তারকা। জাপানের আইচি-নাগোয়ায় আয়োজিত প্রতিযোগিতার ফাইনালে পাঁচ বিচারকের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে ৫-০ ব্যবধানে জয় পেলেন তিনি। এই জয়ের সঙ্গে নিজের প্রথম এশিয়ান গেমস সোনাও নিশ্চিত করলেন অলিম্পিক পদকজয়ী বক্সার। লভলিনার এই সাফল্যের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে ভারতীয় মহিলা বক্সিংয়ের ইতিহাসে। মেরি কমের পরে দ্বিতীয় ভারতীয় মহিলা বক্সার হিসাবে এশিয়ান গেমসে সোনা জিতলেন তিনি। ২০১৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচিয়নে মহিলাদের ৫১ কেজি বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন মেরি কম। তার ১২ বছর পরে আবার এই প্রতিযোগিতায় ভারতীয় মহিলা বক্সারের গলায় উঠল সোনার পদক। ফাইনালে লভলিনার সামনে ছিলেন শক্তিশালী প্রতিপক্ষ বাও। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক বক্সিংয়ের মাধ্যমে চাপ তৈরির চেষ্টা করেন চিনের বক্সার। তবে লভলিনা ধৈর্য ধরে সুযোগের অপেক্ষা করেন এবং পাল্টা ঘুষিতে জবাব দেন। প্রথম রাউন্ডে ৩-২ ব্যবধানে বিচারকদের রায় নিজের পক্ষে পান ভারতীয় বক্সার। ফলে শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয় তাঁর।

দ্বিতীয় রাউন্ডেও আক্রমণের তীব্রতা বাড়ান বাও। কিন্তু সেই চাপের মধ্যেও নিজের ছন্দ ধরে রাখেন লভলিনা। তাঁর কার্যকর ঘুষি এবং আত্মবিশ্বাসী লড়াই বিচারকদের নজর কাড়ে। এই রাউন্ডে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে যান তিনি। শেষ রাউন্ডেও নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে লড়াই শেষ করেন ভারতীয় তারকা। তিন রাউন্ড শেষে পাঁচ বিচারকই তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। অর্থাৎ, জয়টি এসেছে বিচারকদের সিদ্ধান্তে; নকআউটের মাধ্যমে নয়। এ বারের সোনা লভলিনার কাছে আগের এশিয়ান গেমসের সাফল্যকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মুহূর্ত। হাংঝৌ আসরে তিনি রুপো জিতেছিলেন। সেই প্রতিযোগিতার ফাইনালে চিনের লি কিয়ানের কাছে হেরে সোনা অধরা থেকে গিয়েছিল। এ বার অন্য এক চিনা প্রতিপক্ষকে হারিয়ে সেই লক্ষ্য পূরণ করলেন তিনি। পরপর দুই আসরে ফাইনালে পৌঁছনোর পরে এবার শীর্ষস্থানে শেষ করলেন লভলিনা। ফাইনালে ওঠার পথও সহজ ছিল না। সেমিফাইনালে কাজ়াখস্তানের নাতালিয়া বোগদানোভার বিরুদ্ধে কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হন লভলিনা। মহিলাদের ৭০ কেজি বিভাগের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বোগদানোভাকে ৭৫ কেজির সেমিফাইনালে ৩ ২ ব্যবধানে হারান তিনি। সেই জয়েই প্রথম ভারতীয় মহিলা বক্সার হিসাবে পরপর দুই এশিয়ান গেমসের ফাইনালে ওঠার নজির গড়েছিলেন লভলিনা। সোনা জিতে সেই অভিযানের সফল সমাপ্তি ঘটালেন তিনি। এই জয় ব্যক্তিগত ভাবেও স্মরণীয়। ২ অক্টোবর নিজের ২৯তম জন্মদিনে এশিয়ান গেমসের সোনা জিতলেন লভলিনা। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে জয় এবং জন্মদিন দুই উপলক্ষ একসঙ্গে মিশে গেল তাঁর জীবনে। হাংঝৌয়ের রুপো থেকে আইচি-নাগোয়ার সোনায় পৌঁছনোর ঘটনাই এবারের জন্মদিনকে আলাদা করে রাখবে। টোকিয়ো অলিম্পিক্সের ব্রোঞ্জজয়ী লভলিনা এর আগেই আন্তর্জাতিক বক্সিংয়ে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। এশিয়ান গেমসের এই সোনা তাঁর সাফল্যের তালিকায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। একই সঙ্গে মেরি কমের পরে এশিয়ান গেমসে সোনা জেতা দ্বিতীয় ভারতীয় মহিলা বক্সার হিসাবে তাঁর নাম জায়গা পেল বিশেষ এক তালিকায়। লভলিনার ফাইনালের পারফরম্যান্সের মূল আকর্ষণ ছিল চাপের মধ্যে সংযম বজায় রাখা। প্রতিপক্ষের আক্রমণে তাড়াহুড়ো করে জবাব দেওয়ার বদলে সুযোগ বুঝে পাল্টা আঘাত করেছেন তিনি। এই ম্যাচ তরুণ বক্সারদের কাছে ধৈর্য, সময়জ্ঞান এবং কার্যকর আক্রমণের গুরুত্ব বোঝার একটি উদাহরণ হয়ে থাকতে পারে। ভারতীয় মহিলা বক্সিংয়ের জন্য লভলিনার সোনা তাই এক স্মরণীয় অর্জন। পরপর দুই এশিয়ান গেমসের ফাইনাল আগের রুপোকে সোনায় বদলে দেওয়া এবং জন্মদিনে চ্যাম্পিয়ন হওয়া সব মিলিয়ে তাঁর কেরিয়ারে যুক্ত হল বিশেষ একটি অধ্যায়। বাওয়ের বিরুদ্ধে জয় ভারতীয় বক্সিংয়ের ইতিহাসে তাঁর অবস্থানকে আরও উজ্জ্বল করল। লভলিনা বরগোহাঁইয়ের সোনাজয়ী লড়াইয়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল চাপের মুখেও নিজের সংযম ধরে রাখা। ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রতিপক্ষ যখন আক্রমণের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন, তখন উত্তেজনায় পরিকল্পনা থেকে সরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। লভলিনা সেই পরিস্থিতিতে ধৈর্য দেখিয়েছেন। চিনের বাও জ়িয়ির আক্রমণে তাড়াহুড়ো করে জবাব দেওয়ার পরিবর্তে সুযোগ বুঝে পাল্টা ঘুষি চালিয়েছেন তিনি। তাঁর এই কৌশলে আক্রমণ ও আত্মরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় ছিল। বক্সিংয়ে শুধু শক্তি থাকলেই সাফল্য আসে না। প্রতিপক্ষের গতিবিধি বোঝা, দূরত্ব মেপে এগোনো এবং সঠিক সময়ে আঘাত করার ক্ষমতাও প্রয়োজন। কখন আক্রমণ করতে হবে এবং কখন অপেক্ষা করতে হবে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয় খুব অল্প সময়ের মধ্যে। সেই কারণে রিংয়ের লড়াই শারীরিক দক্ষতার পাশাপাশি মানসিক প্রস্তুতিরও পরীক্ষা। চাপের মুহূর্তে মাথা ঠান্ডা রাখতে পারলে নিজের কৌশল কার্যকর করার সুযোগ বাড়ে। লভলিনার ফাইনালের পারফরম্যান্সকে এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই দেখা যায়। প্রতিপক্ষ সামনে এগিয়ে এলেই একইভাবে আক্রমণ করতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। বরং তাঁর আক্রমণের মধ্যে কোথায় সুযোগ তৈরি হচ্ছে, তা বুঝতে পারা গুরুত্বপূর্ণ। বাওয়ের বিরুদ্ধে লভলিনার পাল্টা আক্রমণ সেই সময়জ্ঞানের পরিচয় দিয়েছে। ম্যাচের সরাসরি বিবরণ অনুযায়ী প্রথম রাউন্ডে ৩-২ এবং দ্বিতীয় রাউন্ডে ৪-১ ব্যবধানে বিচারকদের রায় নিজের পক্ষে পান তিনি। শেষ পর্যন্ত পাঁচ বিচারকই তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। এই ফলাফলের অর্থ বুঝতে একটি বিষয় স্পষ্ট রাখা প্রয়োজন। ফাইনালে লভলিনার ৫ ০ ব্যবধানের জয় এসেছে বিচারকদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে। এটি নকআউট জয় নয়। পাঁচ বিচারকের প্রত্যেকেই সামগ্রিক লড়াইয়ে ভারতীয় বক্সারকে এগিয়ে রেখেছেন। মহিলাদের ৭৫ কেজি বিভাগে এই জয়ের মাধ্যমেই নিজের প্রথম এশিয়ান গেমস সোনা নিশ্চিত করেন লভলিনা।

news image
আরও খবর

তরুণ বক্সারদের কাছে এই ম্যাচের শিক্ষামূলক গুরুত্ব থাকতে পারে। প্রশিক্ষণে ঘুষির শক্তি ও গতি বাড়ানোর পাশাপাশি পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভ্যাসও তৈরি করতে হয়। প্রতিপক্ষের চাপের মুখে নিজের স্বাভাবিক ছন্দ ধরে রাখা সহজ নয়। এর জন্য নিয়মিত অনুশীলন, আত্মবিশ্বাস এবং নিজের কৌশলের প্রতি আস্থা প্রয়োজন। লভলিনার এই লড়াই দেখে নতুন খেলোয়াড়েরা ধৈর্য ও কার্যকর পাল্টা আক্রমণের সম্পর্ক নিয়ে ভাবতে পারেন। তবে কোনও একটি ম্যাচের কৌশল সব প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একইভাবে প্রয়োগ করা যায় না। প্রত্যেক বক্সারের আক্রমণের ধরন, গতি ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য আলাদা। তাই এই ফাইনাল থেকে শেখার মূল বিষয় হল পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। নিজের শক্তির জায়গা বুঝে এবং প্রতিপক্ষের ধরন বিবেচনা করে লড়াইয়ের পরিকল্পনা তৈরি করতে হয়। সঠিক সিদ্ধান্তের মূল্য অনেক সময় একটি শক্তিশালী ঘুষির মতোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। লভলিনার সোনার আরেকটি তাৎপর্য রয়েছে তাঁর আগের এশিয়ান গেমসের ফলাফলের সঙ্গে। হাংঝৌ আসরে তিনি রুপো পেয়েছিলেন। সেই প্রতিযোগিতার ফাইনালে চিনের লি কিয়ানের কাছে হেরে সোনা অধরা থেকে যায়। এবার বাওকে হারিয়ে আগের রুপোর পরে সোনা জিতলেন তিনি। তাঁর এশিয়ান গেমসের যাত্রায় এটি একটি স্পষ্ট অগ্রগতি। বড় প্রতিযোগিতায় ফাইনালে পৌঁছনো এবং সেখানে জয় পাওয়া দুটি পৃথক চ্যালেঞ্জ। ফাইনালে ওঠার জন্য একাধিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করতে হয়। আর চূড়ান্ত লড়াইয়ে সেই দক্ষতাকে কাজে লাগাতে হয় পদক নির্ধারণের চাপের মধ্যে। আগেরবার রুপো জেতার পরে আবার ফাইনালে পৌঁছে সোনা পাওয়া লভলিনার সাফল্যকে বিশেষ মাত্রা দিয়েছে। পরপর দুই এশিয়ান গেমসের ফাইনালে ওঠার মধ্য দিয়েও নজির গড়েছেন তিনি। সেমিফাইনালে কাজ়াখস্তানের নাতালিয়া বোগদানোভাকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথম ভারতীয় মহিলা বক্সার হিসাবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন লভলিনা। বোগদানোভা ছিলেন মহিলাদের ৭০ কেজি বিভাগের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। ফলে ফাইনালের আগে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়েই তাঁকে এগোতে হয়েছিল। এই ধারাবাহিকতার মূল্যও কম নয়। একটি প্রতিযোগিতায় ভালো ফল করার পরে পরের আসরেও একই পর্যায়ে পৌঁছতে নতুন করে প্রস্তুতি নিতে হয়। সময়ের সঙ্গে প্রতিপক্ষ বদলে যায়, তাঁদের কৌশল বদলায় এবং প্রতিযোগিতার পরিস্থিতিও নতুন হয়। আগের সাফল্য আত্মবিশ্বাস দিতে পারে কিন্তু নতুন ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে সেই দিনের পারফরম্যান্স। লভলিনার পরপর দুই ফাইনাল তাই তাঁর সাফল্যের ধারাবাহিক দিকটিকেও সামনে এনেছে। ভারতীয় মহিলা বক্সিংয়ের ইতিহাসেও এই সোনার বিশেষ স্থান রয়েছে। মেরি কমের পরে দ্বিতীয় ভারতীয় মহিলা বক্সার হিসাবে এশিয়ান গেমসে সোনা জিতেছেন লভলিনা। মেরি কম ২০১৪ সালে ইনচিয়ন এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ৫১ কেজি বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। এবার ৭৫ কেজি বিভাগে লভলিনার জয় সেই ঐতিহাসিক তালিকায় আরও একটি নাম যুক্ত করল। দুই বক্সারের সাফল্য পৃথক সময় ও পৃথক ওজন বিভাগে এসেছে। প্রত্যেকের অর্জনের নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে। মেরি কমের পরে লভলিনার সোনা ভারতীয় মহিলা বক্সিংয়ের জন্য আরও একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় মহিলা খেলোয়াড়দের সাফল্যের আলোচনায় এই জয় দীর্ঘদিন প্রাসঙ্গিক থাকবে। লভলিনার কাছে দিনটি ব্যক্তিগত কারণেও স্মরণীয়। নিজের ২৯তম জন্মদিনে এশিয়ান গেমসের সোনা জিতেছেন তিনি। জন্মদিনের সঙ্গে কেরিয়ারের এত বড় সাফল্য মিলে যাওয়ায় এই মুহূর্তের আবেগ আরও বেড়েছে। আগের আসরের রুপোকে এবার সোনায় বদলে দেওয়ার ঘটনাই তাঁর জন্মদিনে বিশেষ অর্থ যোগ করেছে। টোকিয়ো অলিম্পিক্সের ব্রোঞ্জজয়ী লভলিনার পরিচয়ের সঙ্গে এবার যুক্ত হল এশিয়ান গেমস চ্যাম্পিয়নের পরিচয়। অলিম্পিক পদক পাওয়ার পরে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নতুন সাফল্য অর্জন তাঁর কেরিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। বাওয়ের বিরুদ্ধে ফাইনালের জয় সেই অর্জনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে। ধরনের সাফল্য নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যারা বক্সিং শেখার শুরুতে রয়েছে, তারা বুঝতে পারে যে উন্নতির জন্য শক্তি, কৌশল ও মানসিক প্রস্তুতিকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হয়। ম্যাচে সবসময় নিজের পছন্দের পরিস্থিতি পাওয়া যায় না। কখনও প্রতিপক্ষ চাপ তৈরি করবেন, কখনও নিজের পরিকল্পনা বদলাতে হবে। সেই পরিবর্তনের মধ্যেও মনোযোগ ধরে রাখাই খেলোয়াড়ের বড় পরীক্ষা। লভলিনার এই জয়কে তাই ধৈর্য ও লক্ষ্যপূরণের একটি অধ্যায় হিসাবেও দেখা যায়। আগের ফাইনালের রুপো, আবার চূড়ান্ত লড়াইয়ে পৌঁছনো এবং এবার সোনা এই ধারাবাহিকতায় তাঁর এশিয়ান গেমসের সাফল্য পূর্ণতা পেয়েছে। জন্মদিনে পাওয়া পদক মুহূর্তটিকে ব্যক্তিগতভাবে বিশেষ করেছে, আর মেরি কমের পরে দ্বিতীয় ভারতীয় মহিলা হিসাবে সোনা জেতার নজির তাকে ঐতিহাসিক গুরুত্ব দিয়েছে। বাওয়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে লভলিনার সংযম ছিল তাঁর পারফরম্যান্সের অন্যতম আকর্ষণ। সুযোগ বুঝে পাল্টা আক্রমণ এবং চাপের মধ্যে নিজের পরিকল্পনা ধরে রাখার মাধ্যমে তিনি চূড়ান্ত জয় অর্জন করেছেন। এই ফাইনাল তাঁর সোনাজয়ের স্মৃতি হয়ে থাকবে এবং তরুণ বক্সারদের কাছে সময়জ্ঞান ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসের গুরুত্ব নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি করবে।

Preview image