Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ফিরছে না ভারত-অস্ট্রেলিয়া ইংল্যান্ডের আপত্তিতে ভাবনা বাতিল আইসিসি-র

এক সময়ের জনপ্রিয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছিল আইসিসি। কিন্তু ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বিরোধিতায় শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাতিল করতে হল ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থাকে।

ক্রিকেটবিশ্বে এক সময় বেশ জনপ্রিয় ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি। বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগের সেরা দলগুলিকে নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ফ্র্যাঞ্চাইজি দল। আইপিএল, বিগ ব্যাশ লিগ-সহ একাধিক ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার দল এই মঞ্চে অংশ নিয়েছিল। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আয়োজিত হওয়ার পর সেই প্রতিযোগিতা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পর সেটি নতুন করে ফিরিয়ে আনার ভাবনা তৈরি হয়েছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বা আইসিসি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগগুলির জনপ্রিয়তা এবং বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বিস্তারকে কাজে লাগিয়ে নতুন একটি ক্লাবভিত্তিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের কথা ভাবছিল। অনেকটা ফুটবলের ক্লাব বিশ্বকাপের আদলে ক্রিকেটেও বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া লিগের সফল দলগুলিকে একই মঞ্চে নিয়ে আসার পরিকল্পনা ছিল। তবে সেই উদ্যোগ নিয়ে ক্রিকেটের তিন গুরুত্বপূর্ণ শক্তি ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের আপত্তি সামনে আসে। অতিরিক্ত ম্যাচ এবং ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির কারণে নতুন প্রতিযোগিতা আয়োজনের ক্ষেত্রে সময়ের সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আপত্তি ছিল।

ফলে আপাতত আইসিসি-র সেই পরিকল্পনা বাতিল হয়েছে বলেই খবর। এর অর্থ, ২০৩১ সাল পর্যন্ত আইসিসি-র নির্ধারিত প্রতিযোগিতার সূচিতে এই মুহূর্তে বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। আগামী কয়েক বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ক্যালেন্ডারে বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মতো প্রতিযোগিতাই মূল জায়গা ধরে রাখবে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টির ইতিহাসও যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। ২০০৯ সালে প্রথমবার এই প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ থেকে যোগ্যতা অর্জন করা দলগুলি এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিত। আইপিএলের একাধিক দল যেমন এই প্রতিযোগিতায় খেলেছে, তেমনই অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগ এবং অন্যান্য দেশের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগের প্রতিনিধিরাও অংশ নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সেরা দলগুলির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছিল এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে।

২০১৪ সালের পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু গত কয়েক বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টি-টোয়েন্টি লিগের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আইপিএল, বিগ ব্যাশ লিগ, পাকিস্তান সুপার লিগ, দ্য হান্ড্রেড, ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ, মেজর লিগ ক্রিকেটসহ একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতা ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে জায়গা করে নিয়েছে। ফলে বিভিন্ন দেশের লিগের সেরা দলগুলিকে নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক ক্লাব প্রতিযোগিতা আয়োজনের ভাবনা ফের সামনে আসে।

আইসিসি-র দৃষ্টিকোণ থেকেও এই ধরনের প্রতিযোগিতা আকর্ষণীয় হতে পারে। কারণ কোনও দেশের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ থেকে সরাসরি আইসিসি-র আয় হয় না। সেই জায়গায় আন্তর্জাতিক স্তরে ক্লাব বা ফ্র্যাঞ্চাইজি দলগুলিকে নিয়ে একটি প্রতিযোগিতা আয়োজন করা গেলে নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি হতে পারে। সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ এবং দর্শক আগ্রহের কারণে এই ধরনের টুর্নামেন্ট থেকে বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

তবে সমস্যা তৈরি হচ্ছে ক্রিকেটারদের ব্যস্ত সূচি নিয়ে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটাররা এখন একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশ নেন। এর ফলে ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে নতুন কোনও প্রতিযোগিতা যোগ করলে ম্যাচের সংখ্যা আরও বাড়বে। খেলোয়াড়দের বিশ্রাম, চোটের ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক সিরিজের প্রস্তুতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের মতো দেশের ক্রিকেট বোর্ডগুলির আপত্তি সেই ব্যস্ত সূচির বিষয়টিকেই সামনে এনেছে। এই তিন দেশের ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি নিজেদের ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতাতেও ব্যস্ত থাকেন। তাই নতুন একটি আন্তর্জাতিক ক্লাব টুর্নামেন্টের জন্য আলাদা সময় বের করা কঠিন হতে পারে। আইসিসি-র পরিকল্পনা বাতিল হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে সেই সময়-সংকটকেই দেখা হচ্ছে।

এর ফলে আগামী চার বছরের ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রাম বা এফটিপি-তে বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ এবং আইসিসি-র নির্ধারিত বড় প্রতিযোগিতাগুলি আয়োজন করা হবে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বা ম্যাচের সংখ্যা নিয়ে পরিবর্তনের আলোচনা হতে পারে। তবে নতুন করে কোনও বড় ক্লাবভিত্তিক আইসিসি প্রতিযোগিতা আপাতত যুক্ত হচ্ছে না।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপও আগামী দিনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে। টেস্ট ক্রিকেটকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে এই চক্রে দলগুলির সংখ্যা, ম্যাচের সংখ্যা কিংবা পয়েন্ট ব্যবস্থায় পরিবর্তনের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে সেগুলি আলাদা বিষয় এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি ফেরানোর পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।

news image
আরও খবর

একইসঙ্গে আইসিসি-র সীমিত ওভারের বিশ্বকাপগুলিও ক্রিকেট ক্যালেন্ডারের প্রধান আকর্ষণ হয়ে থাকবে। ওয়ানডে বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মতো প্রতিযোগিতাগুলির জন্য আগে থেকেই নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ থাকে। নতুন কোনও টুর্নামেন্ট যুক্ত করতে গেলে সেই সূচির সঙ্গে সমন্বয় করাই বড় চ্যালেঞ্জ।

ফিফার ক্লাব বিশ্বকাপের মতো ক্রিকেটে একটি বড় ক্লাবভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের ভাবনা তাই আপাতত বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ক্রিকেটে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের জনপ্রিয়তা বাড়লেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এবং ঘরোয়া লিগের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এখন ক্রিকেট প্রশাসনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি ফেরানোর পরিকল্পনা বাতিল হওয়ায় বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের দর্শকদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ খবর। তবে ভবিষ্যতে ক্রিকেট ক্যালেন্ডার আরও পরিবর্তিত হলে এই ধরনের প্রতিযোগিতার ভাবনা আবার সামনে আসতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সব মিলিয়ে, ২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ক্রিকেটপ্রেমীদের বিনোদন দেওয়া চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি আপাতত ফিরছে না। ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের আপত্তির পর আইসিসি নতুন ক্লাবভিত্তিক টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে। ফলে ২০৩১ সাল পর্যন্ত আইসিসি-র প্রতিযোগিতার কাঠামোতে বড় কোনও পরিবর্তন না আসার সম্ভাবনাই বেশি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে আগামী দিনে আইসিসি কীভাবে ক্রিকেট ক্যালেন্ডার সাজায়, এখন সেদিকেই নজর ক্রিকেটমহলের।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি ফেরানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। কারণ এই প্রতিযোগিতা শুধু একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট ছিল না, বরং বিশ্বের বিভিন্ন ঘরোয়া লিগের সেরা দলগুলিকে একই মঞ্চে দেখার সুযোগ তৈরি করেছিল। আইপিএলের দলগুলির সঙ্গে অন্য দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের মুখোমুখি লড়াই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে একটি আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছিল।

বিশেষ করে আইপিএলের জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টির মতো প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও বেড়েছিল। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শক্তিশালী টি-টোয়েন্টি লিগ রয়েছে। সেই কারণে পুরনো ফরম্যাটকে আরও বড় করে নতুন করে আয়োজন করার চিন্তা করা হয়েছিল। তবে ক্রিকেটের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

একটি নতুন আন্তর্জাতিক ক্লাব প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে হলে ক্রিকেটারদের জন্য আলাদা সময় বের করতে হত। কিন্তু বর্তমানে অনেক ক্রিকেটারই সারা বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগে খেলেন। ফলে নতুন টুর্নামেন্ট যোগ হলে তাঁদের ম্যাচের সংখ্যা আরও বাড়ত। একই সঙ্গে বিশ্রাম এবং চোট থেকে ক্রিকেটারদের সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এই কারণেই আইসিসি-র সামনে বড় প্রশ্ন ছিল—নতুন প্রতিযোগিতার জন্য সময় কোথা থেকে বের করা হবে? আন্তর্জাতিক সিরিজ, বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পাশাপাশি প্রতিটি দেশের নিজস্ব ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের সূচিও আগে থেকেই ব্যস্ত। এই পরিস্থিতিতে আরও একটি বড় প্রতিযোগিতা যোগ করলে পুরো ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে চাপ বাড়ার আশঙ্কা ছিল।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি আপাতত না ফিরলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের গুরুত্ব কমছে না। বরং আইপিএলসহ বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগের জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়ছে। ক্রিকেট বোর্ডগুলির কাছে এই লিগগুলি আর্থিক ও দর্শক আকর্ষণের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে তাই নতুন কোনও আন্তর্জাতিক ক্লাব প্রতিযোগিতা নিয়ে আবার আলোচনা হতে পারে।

তবে আপাতত আইসিসি-র পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন নেই। আগামী কয়েক বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মূল ফোকাস থাকবে বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মতো বড় প্রতিযোগিতার উপর। ফলে পুরনো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টির প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় থাকা ক্রিকেটপ্রেমীদের আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।

Preview image