Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

“সিস্ট ফিরে, নতুন লড়াই—ভয়ের কথাও স্বীকার করলেন ক্যানসার-যোদ্ধা দীপিকা কক্কর”

সম্প্রতি এক ব্লগে দীপিকা কক্কর জানান, ক্যানসারের চিকিৎসা এখন আরও জোরদারভাবে চলছে, তবুও শারীরিক ও মানসিকভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে এখনও লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে তাঁকে।

“সিস্ট ফিরে, নতুন লড়াই—ভয়ের কথাও স্বীকার করলেন ক্যানসার-যোদ্ধা দীপিকা কক্কর”
health and wellness

ভারতীয় টেলিভিশন দুনিয়ার পরিচিত মুখ দীপিকা কক্কর—যাঁকে দর্শকরা একদিকে যেমন তাঁর অভিনয়ের জন্য ভালবাসেন, তেমনই তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের নানা দিকও সমান আগ্রহের সঙ্গে অনুসরণ করেন—গত এক বছর ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এক কঠিন অসুখের সঙ্গে। লিভারের ক্যানসার ধরা পড়ার পর থেকেই তাঁর জীবন যেন আমূল বদলে গেছে। কিন্তু এই লড়াই শুধু শারীরিক নয়, মানসিক এবং আবেগের দিক থেকেও সমান কঠিন—এ কথা বারবার নিজের ব্লগের মাধ্যমে জানিয়ে আসছেন তিনি।

সম্প্রতি একটি ব্লগে তিনি এমন একটি তথ্য সামনে এনেছেন, যা তাঁর অনুরাগীদের যেমন উদ্বিগ্ন করেছে, তেমনই ক্যানসার নিয়ে নতুন করে ভাবতেও বাধ্য করেছে অনেককে। দীর্ঘ চিকিৎসা এবং অস্ত্রোপচারের পরেও আবার তাঁর লিভারে সিস্ট ফিরে এসেছে। আর এই ঘটনাই তাঁকে ভিতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছে—যা তিনি নিজেই অকপটে স্বীকার করেছেন।


প্রথম ধাক্কা: টেনিস বলের মতো সিস্ট

গত বছর যখন প্রথমবার তাঁর লিভারে একটি সিস্ট ধরা পড়ে, তখন সেটির আকার ছিল প্রায় একটি টেনিস বলের সমান। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে জানান, সেটি ক্যানসারপ্রবণ। এই খবর যে কোনও মানুষের জন্যই এক বড় ধাক্কা—আর একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রীর জন্য, যাঁর জীবন সবসময় আলোয় ঘেরা, সেই ধাক্কা হয়তো আরও গভীর।

অস্ত্রোপচার ছাড়া তখন আর কোনও পথ ছিল না। চিকিৎসকেরা তাঁর লিভারের প্রায় ২২ শতাংশ অংশ কেটে বাদ দিতে বাধ্য হন, যাতে সেই সিস্ট সম্পূর্ণভাবে সরানো যায়। অস্ত্রোপচার সফল হলেও, এরপর শুরু হয় আরও দীর্ঘ চিকিৎসার পথ—যেখানে নিয়মিত চেকআপ, ওষুধ এবং শারীরিক-মানসিক যত্ন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


চিকিৎসার মধ্যেই নতুন আশঙ্কা

অস্ত্রোপচারের পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছিলেন দীপিকা। পরিবারের সমর্থন, চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধান এবং নিজের মানসিক শক্তির উপর ভর করে তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইছিলেন।

কিন্তু চলতি বছরের মার্চ মাসে আসে দ্বিতীয় ধাক্কা। নিয়মিত পরীক্ষার সময় ধরা পড়ে, তাঁর লিভারে আবার একটি সিস্ট তৈরি হয়েছে। যদিও এইবার সেটির আকার ছিল তুলনামূলক ছোট—প্রায় ১.৩ সেন্টিমিটার—তবুও এটি ছিল ক্যানসারপ্রবণ।

আবারও অস্ত্রোপচার করতে হয়। মার্চ মাসেই সেই সিস্ট অপসারণ করা হয়। শারীরিকভাবে এই অস্ত্রোপচার সফল হলেও, মানসিকভাবে তিনি ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছেন—এ কথা তিনি নিজেই জানিয়েছেন।


‘এ বার আমি ভয় পেয়েছি’—অন্তরের স্বীকারোক্তি

নিজের ব্লগে দীপিকা অকপটে লিখেছেন, এইবার তিনি সত্যিই ভয় পেয়ে গিয়েছেন।

তিনি বলেন,
“এত অল্প সময়ের মধ্যে ক্যানসারের ফিরে আসা আমাকে ভিতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এখন আমার ভয় করতে শুরু করেছে। বারবার মনে হচ্ছে, আবার যদি ফিরে আসে?”

এই ভয় শুধু একটি রোগের ভয় নয়—এটি অনিশ্চয়তার ভয়, ভবিষ্যতের ভয় এবং জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ হারানোর ভয়।

তিনি আরও জানিয়েছেন, এখন তিনি খাবারদাবার থেকে শুরু করে জীবনযাত্রার প্রতিটি দিকেই অতিরিক্ত সতর্ক হয়ে উঠেছেন। কিন্তু এত কিছু করার পরেও সেই ভয় কাটছে না।


মানসিক চাপ: ক্যানসারের সবচেয়ে বড় লড়াই

ক্যানসার শুধুমাত্র শরীরের রোগ নয়—এটি মনের উপরও গভীর প্রভাব ফেলে। চিকিৎসকেরাও বলেন, ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মানসিক শক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দীপিকার ক্ষেত্রেও সেটাই স্পষ্ট। তিনি জানিয়েছেন, ক্যানসারের ফিরে আসা তাঁর মানসিক স্থিতি নাড়িয়ে দিয়েছে। উদ্বেগ, ভয় এবং অনিশ্চয়তা—এই তিনটি অনুভূতি যেন তাঁর প্রতিদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে।

তিনি বুঝতে পারছেন, তাঁর পরিবারও একইভাবে উদ্বিগ্ন। তাঁর মা, শাশুড়ি এবং স্বামী—সবাই তাঁর জন্য চিন্তিত, যদিও তাঁকে তা বুঝতে দেন না।


পরিবার ও মাতৃত্বের উপর প্রভাব

একজন মায়ের জীবনে সন্তানের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। কিন্তু অসুস্থতার কারণে নিজের ছেলের সঙ্গে সময় কাটাতে না পারার কষ্ট তিনি লুকিয়ে রাখতে পারেননি।

তিনি জানিয়েছেন, তাঁর ছোট ছেলে রুহান প্রায়ই তাঁর কাছে আসতে চায়। কিন্তু কখনও তিনি ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েন, কখনও আবার শারীরিক অসুস্থতার কারণে সময় দিতে পারেন না।

আর যখন সময় পান, তখন মাথায় ঘুরতে থাকে ভবিষ্যতের চিন্তা—নিজের অসুস্থতা এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ।

এই অনুভূতি যে কতটা কষ্টের, তা শুধু একজন মা-ই বোঝেন।


ক্যানসার ফিরে আসা: কেন এত ভয়?

ক্যানসার একবার ধরা পড়ার পর চিকিৎসার মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও, তার ফিরে আসার সম্ভাবনা অনেক সময় থেকেই যায়। এই ‘রিল্যাপ্স’ বা ফিরে আসা রোগীদের কাছে সবচেয়ে বড় আতঙ্কের কারণ।

দীপিকার ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে আবার সিস্ট ফিরে আসায় তাঁর মনে ভয় তৈরি হয়েছে—যা স্বাভাবিক।

এই ভয় অনেক সময় রোগীর মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। উদ্বেগ, ডিপ্রেশন, অনিদ্রা—এসব সমস্যাও দেখা দিতে পারে।


চিকিৎসা আরও জোরদার, কিন্তু মন এখনও অস্থির

সম্প্রতি নিজের ব্লগে তিনি জানিয়েছেন, এখন তাঁর চিকিৎসা আরও জোরদারভাবে চলছে। চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আর না হয়।

তবুও তিনি মানসিকভাবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারছেন না। কারণ, একবার যে ভয় মনে ঢুকে গেছে, তা সহজে দূর হয় না।


লড়াইয়ের শক্তি: অন্যদের গল্প থেকে অনুপ্রেরণা

তবে এত কিছুর মাঝেও তিনি হাল ছাড়েননি।

তিনি জানিয়েছেন, তিনি এমন অনেক ক্যানসার যোদ্ধার সঙ্গে কথা বলেছেন, যাঁদের ক্ষেত্রেও ক্যানসার ফিরে এসেছিল। তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি সাহস পাচ্ছেন।

বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো—এই সবই তাঁকে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে সাহায্য করছে।


পরিবার ও চিকিৎসকদের ভূমিকা

এই কঠিন সময়ে তাঁর পরিবার তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে। তাঁর স্বামী, মা, শাশুড়ি—সবাই তাঁকে আগলে রেখেছেন।

চিকিৎসকেরাও তাঁকে নিয়মিত গাইড করছেন, যাতে তিনি সঠিক পথে এগোতে পারেন।

এই সমর্থনই তাঁকে আবার উঠে দাঁড়ানোর শক্তি দিচ্ছে।


দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের পর নতুন শুরু

news image
আরও খবর

দ্বিতীয়বারের অস্ত্রোপচারের পর তিনি আবার নিজের জীবনকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

তিনি জানেন, এই লড়াই সহজ নয়। কিন্তু তবুও তিনি থামতে চান না।

কারণ, ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই শুধু চিকিৎসার মাধ্যমে নয়—এটি মানসিক শক্তি, ধৈর্য এবং আশার লড়াই।


ক্যানসার যোদ্ধাদের জন্য বার্তা

দীপিকার এই অভিজ্ঞতা শুধুমাত্র তাঁর ব্যক্তিগত গল্প নয়—এটি হাজার হাজার ক্যানসার রোগীর বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন।

তিনি পরোক্ষভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছেন—
 ভয় পাওয়া স্বাভাবিক
 মানসিকভাবে ভেঙে পড়াও স্বাভাবিক
 কিন্তু লড়াই থামানো চলবে না

মানসিক পুনরুদ্ধার: ধীরে ধীরে নিজেকে ফিরে পাওয়া

ক্যানসারের মতো একটি রোগ শুধু শরীরের উপরই নয়, মানুষের মানসিক গঠনের উপরও গভীর প্রভাব ফেলে। চিকিৎসা যতই এগোতে থাকুক না কেন, রোগীর মনে যে আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা এবং ভয় বাসা বাঁধে, তা কাটিয়ে ওঠা অনেক সময় আরও কঠিন হয়ে যায়। দীপিকা কক্কর-এর ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই ঘটছে।

তিনি নিজেই জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের পর শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ বোধ করলেও মানসিকভাবে সেই জায়গায় পৌঁছতে পারেননি। ছোট ছোট বিষয়েও এখন তাঁর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। আগে যেসব বিষয় তিনি সহজভাবে নিতেন, এখন সেগুলোও তাঁকে ভাবিয়ে তুলছে। এই পরিবর্তনটি খুবই স্বাভাবিক—বিশেষ করে এমন একটি রোগের ক্ষেত্রে, যেখানে অনিশ্চয়তা সবসময়ই একটি বড় ফ্যাক্টর।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, ক্যানসার রোগীদের মধ্যে “fear of recurrence” বা রোগ ফিরে আসার ভয় একটি সাধারণ কিন্তু গুরুতর মানসিক সমস্যা। এটি রোগীর আত্মবিশ্বাস, দৈনন্দিন জীবনযাপন এবং সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলে। দীপিকার অভিজ্ঞতা সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনে দেয়।


দৈনন্দিন জীবনে পরিবর্তন: ছোট ছোট অভ্যাসে বড় সতর্কতা

অসুস্থতার পর দীপিকার দৈনন্দিন জীবনযাপনেও এসেছে বড় পরিবর্তন। তিনি জানিয়েছেন, এখন তিনি নিজের খাদ্যাভ্যাস থেকে শুরু করে ঘুমের রুটিন—সবকিছুই অনেক বেশি সচেতনভাবে মেনে চলার চেষ্টা করছেন।

স্বাস্থ্যকর খাবার, নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়া, পর্যাপ্ত বিশ্রাম—এই বিষয়গুলো এখন তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। বাইরে খাওয়া প্রায় বন্ধ, তেল-মশলা কম, এবং শরীরের জন্য উপকারী খাবারই এখন তাঁর প্রাধান্য পাচ্ছে।

তবে তিনি এটাও স্বীকার করেছেন যে, এই নিয়ম মেনে চলা সবসময় সহজ নয়। কখনও মানসিক ক্লান্তি, কখনও শারীরিক দুর্বলতা—এই সবকিছুই তাঁকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। তবুও তিনি চেষ্টা করে যাচ্ছেন, কারণ তিনি জানেন—এই লড়াইয়ে প্রতিটি ছোট পদক্ষেপই গুরুত্বপূর্ণ।


সম্পর্কের নতুন মানে: কাছের মানুষদের ভূমিকা

কঠিন সময়ে কে কতটা পাশে থাকে, সেটাই আসল সম্পর্কের পরিচয় দেয়। দীপিকার জীবনে এই সময়টাতে তাঁর পরিবার এবং কাছের মানুষদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তিনি জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী সবসময় তাঁকে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে সাহায্য করছেন। নিজের কাজের ব্যস্ততার মাঝেও তিনি চেষ্টা করছেন দীপিকার পাশে থাকার। একইভাবে তাঁর মা এবং শাশুড়িও তাঁকে সবসময় সাহস জোগাচ্ছেন।

এই সমর্থন একজন ক্যানসার রোগীর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কারণ, একা এই লড়াই লড়া প্রায় অসম্ভব। মানসিক শক্তি অনেকটাই আসে কাছের মানুষের ভালোবাসা এবং যত্ন থেকে।


নিজের সঙ্গে লড়াই: ভিতরের ভয়কে জয় করার চেষ্টা

বাইরের লড়াইয়ের পাশাপাশি, সবচেয়ে বড় লড়াইটা হচ্ছে নিজের ভিতরের সঙ্গে। ভয়, উদ্বেগ, হতাশা—এই সব অনুভূতির সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই করতে হচ্ছে দীপিকাকে।

তিনি জানিয়েছেন, অনেক সময় তিনি নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করেন—সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু কিছু মুহূর্তে সেই ভয় আবার ফিরে আসে। এই ওঠা-নামার মধ্যেই চলছে তাঁর মানসিক লড়াই।

তবে তিনি এটাও বলেছেন, তিনি চেষ্টা করছেন নিজেকে ব্যস্ত রাখতে। ব্লগ লেখা, বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো—এই সবই তাঁকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে।


অনুপ্রেরণার উৎস: অন্য ক্যানসার যোদ্ধাদের গল্প

নিজের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি, অন্যদের গল্প থেকেও তিনি অনুপ্রেরণা খুঁজে নিচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, যাঁরা এই একই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন এবং আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন—তাঁদের গল্প তাঁকে সাহস জোগাচ্ছে।

এই ধরনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি রোগীদের মধ্যে এক ধরনের সংযোগ তৈরি করে—যেখানে তারা বুঝতে পারে, তারা একা নয়।


সোশ্যাল মিডিয়া ও ব্লগ: অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার প্ল্যাটফর্ম

দীপিকা নিয়মিত তাঁর ব্লগের মাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন। এই উদ্যোগটি শুধু তাঁর নিজের জন্য নয়, বরং অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

অনেকেই তাঁর লেখা পড়ে সাহস পাচ্ছেন, নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে উৎসাহিত হচ্ছেন। এইভাবে সোশ্যাল মিডিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে—যেখানে মানুষ নিজের কষ্ট, ভয় এবং লড়াইকে প্রকাশ করার সুযোগ পাচ্ছে।


চিকিৎসার বাইরে: মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব

ক্যানসারের চিকিৎসা বলতে আমরা সাধারণত অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি বা ওষুধের কথা ভাবি। কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ—এ কথা আজ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

দীপিকার অভিজ্ঞতা আমাদের সেই দিকটিকেই মনে করিয়ে দেয়। একজন রোগীকে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ করে তুলতে গেলে তাঁর মন এবং শরীর—দুটিরই যত্ন নিতে হয়।


ভবিষ্যতের দিকে তাকানো: আশা এবং অনিশ্চয়তা

ভবিষ্যৎ নিয়ে দীপিকার মনে যেমন আশা আছে, তেমনই রয়েছে কিছুটা অনিশ্চয়তা। তিনি জানেন না সামনে কী অপেক্ষা করছে, কিন্তু তবুও তিনি ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করছেন।

এই মনোভাবই তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কারণ, ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আশা একটি বড় অস্ত্র।


ভয়কে সঙ্গী করেই এগিয়ে চলা

দীপিকা কক্করের এই যাত্রা আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়—ভয়কে পুরোপুরি দূর করা সবসময় সম্ভব নয়। কিন্তু সেই ভয়কে সঙ্গী করেই এগিয়ে চলা সম্ভব।

তিনি আজও ভয় পান, উদ্বিগ্ন হন, ভেঙে পড়েন—কিন্তু থামেন না। আর এই না-থামার মধ্যেই লুকিয়ে আছে তাঁর আসল শক্তি।

তাঁর গল্প শুধু একজন অভিনেত্রীর নয়, এটি প্রতিটি সেই মানুষের গল্প—যারা জীবনের কঠিন সময়ের মধ্যেও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

Preview image