Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

দাউদ ইব্রাহিমের মায়ের ভূমি: সরকারি নিলামে কেউ কিনলো না!

দাউদ ইব্রাহিমের মায়ের জমি: সরকারি নিলামে কেন কেউ কিনল না? মহারাষ্ট্রের রত্নগিরি জেলার খেদ এলাকায় দাউদ ইব্রাহিমের মায়ের নামে থাকা চারটি জমির সরকারি নিলাম ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সরকারের নিলামে জমিগুলির মূল্য ধার্য ছিল যথাক্রমে ₹২.৩৩ লক্ষ, ₹৯.৪১ লক্ষ, ₹৮.০৮ লক্ষ এবং ₹১৫ হাজার। এত কম মূল্যের জমি বিক্রির সুযোগ থাকলেও আশ্চর্যজনকভাবে কোনও ক্রেতাই নিলামে অংশ নেননি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমিগুলির সঙ্গে যুক্ত আছে “ভয়ের ইতিহাস”। দাউদ ইব্রাহিমের পরিবারের নাম শুনলেই ক্রেতারা পিছিয়ে যান। অনেকের ধারণা, এই জমি কিনলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা, তদন্ত বা সামাজিক নজরদারিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, জমিগুলির অবস্থান ও ব্যবহারের অযোগ্যতা ক্রেতাদের নিরুৎসাহিত করেছে। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে নিলামের শেষ মুহূর্তে। এক ক্রেতা হঠাৎ ₹২ কোটি টাকার অফার করেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেই অফার বাতিল করে দেয়, কারণ ওই ব্যক্তি নাকি “ব্ল্যাকলিস্টেড ক্রেতা”। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই জনমনে শুরু হয় জল্পনা— সরকার কি সত্যিই স্বচ্ছভাবে নিলাম সম্পন্ন করেছে, নাকি কোনও গোপন পরিকল্পনা কাজ করছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার যদি সত্যিই জমিগুলি বিক্রি করতে চায়, তবে প্রথমে এই সম্পত্তিগুলির আইনি জটিলতা এবং সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত ইতিহাস মুছে ফেলা জরুরি। সাধারণ মানুষ যতক্ষণ না নিরাপদ মনে করেন, ততক্ষণ এই জমিগুলির প্রতি কেউ আগ্রহ দেখাবেন না। রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। কেউ বলছেন, সরকার আসলে জমিগুলি বিক্রি করতে চায় না, বরং এগুলি কোনও গোপন সরকারি তহবিল বা সুরক্ষা ব্যবস্থার আড়ালে রাখছে। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও চলছে তীব্র বিতর্ক— “এটা কি সত্যিই ব্যর্থ নিলাম, নাকি এর পেছনে বড় কোনও খেলা?” সরকার সূত্রে জানা গেছে, আগামী দিনে পুনরায় নিলামের আয়োজন করা হবে। তবে এবার কেউ এগিয়ে আসবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। দাউদ ইব্রাহিমের নামের সঙ্গে জড়িত সম্পত্তি নিয়ে মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক রয়েছে, তা এই ঘটনার মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জমি বিক্রি না হলেও, এই নিলাম প্রমাণ করেছে যে অপরাধজগতের অতীতের ছায়া এখনও ভারতের প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে।

দাউদ ইব্রাহিমের মায়ের জমি: সরকারি নিলামে রহস্যের ছায়া, কেন কেউ এগিয়ে এল না?

মহারাষ্ট্রের রত্নগিরি জেলার খেদ উপশহরে ঘটেছে এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য। দেশের কুখ্যাত আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের মায়ের নামে থাকা চারটি জমির সরকারি নিলাম আয়োজন করা হয়েছিল, কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় — একটি জমিও বিক্রি হল না! সরকারি সূত্রে জানা যায়, বহু আলোচিত এই জমিগুলির দাম লাখ লাখ টাকা ধার্য করা হলেও, কোনও ক্রেতাই সেই জমি কিনতে এগিয়ে আসেননি। প্রশ্ন উঠছে, এই অস্বাভাবিক নীরবতার পেছনে ঠিক কী লুকিয়ে আছে?


 জমির দাম, তবু নেই ক্রেতা

নিলামের জন্য নির্ধারিত চারটি জমির মূল্য ছিল যথাক্রমে ₹২.৩৩ লক্ষ, ₹৯.৪১ লক্ষ, ₹৮.০৮ লক্ষ এবং ₹১৫ হাজার। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, এগুলি ছিল ছোট ছোট প্লট হলেও তাদের আইনি এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিশাল। দাউদ ইব্রাহিমের পরিবারের নামে নিবন্ধিত হওয়ায় এই জমিগুলি বহুদিন ধরে বিতর্কিত ছিল। তবু প্রশ্ন রয়ে গেছে— এত কম দামে এত আলোচিত জমি কেন কেউ কিনল না?

স্থানীয়দের মতে, জমিগুলির সঙ্গে যুক্ত আছে “ভয়ের ছায়া”। অনেকেই বিশ্বাস করেন, দাউদ ইব্রাহিমের নামের সঙ্গে যুক্ত যে কোনও সম্পত্তি কিনলে ভবিষ্যতে আইনি ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। আবার কেউ কেউ বলছেন, জমিগুলোর আশেপাশে অবকাঠামোর অভাব এবং জমির অনুপযোগী অবস্থা ক্রেতাদের নিরুৎসাহিত করেছে।


 নিলামে রহস্যজনক অফার বাতিল

সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে নিলামের শেষ মুহূর্তে। এক অজানা ক্রেতা এক পার্সেলের জন্য ₹২ কোটি টাকার অফার দেন — যা মূল দামের তুলনায় বহু গুণ বেশি! কিন্তু প্রশাসন সেই অফার বাতিল করে দেয়, কারণ ওই ব্যক্তি “ব্ল্যাকলিস্টেড ক্রেতা” বলে জানা যায়। এই ঘটনার পর থেকেই শুরু হয় তীব্র জল্পনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সরকার কি সত্যিই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিলাম সম্পন্ন করছে, নাকি এর পেছনে চলছে অন্য কোনও খেলা?

একজন সিনিয়র প্রশাসনিক আধিকারিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, “আমরা যাচাই-বাছাই না করে কাউকে জমি বিক্রি করতে পারি না। নিরাপত্তা ও আইনি বিষয়গুলি এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” কিন্তু জনমনে প্রশ্ন থেকেই গেছে — এই ব্ল্যাকলিস্টেড ক্রেতার পরিচয় কি আদৌ তদন্ত করা হয়েছে?

news image
আরও খবর

 বাজারে জমি, কিন্তু বাজারে মানুষ নেই

গত কয়েক বছরে রত্নগিরি এলাকায় বহু সরকারি জমি নিলামে উঠেছে, কিন্তু বিক্রি হয়েছে অল্পই। বিশেষ করে যেগুলি বিতর্কিত বা অপরাধ জগতের সঙ্গে যুক্ত, সেগুলি প্রায়শই অবিক্রীত থেকে যায়। স্থানীয় রিয়েল এস্টেট এজেন্টদের মতে, “মানুষ এখনও দাউদ ইব্রাহিমের নাম শুনলেই পিছিয়ে যায়। আইনি ঝামেলা, সামাজিক নজরদারি আর নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা সব মিলিয়ে কেউ ঝুঁকি নিতে চায় না।”


 সরকার ও সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলেও তোলপাড় পড়ে গেছে। কেউ কেউ বলছেন, সরকার এই জমিগুলিকে বিক্রি না করে আসলে এক ধরনের "সিকিউরিটি কভার" বজায় রাখছে। আবার অনেকে বলছেন, এই নিলামগুলি শুধুই কাগজে কলমে, বাস্তবে বিক্রির কোনও ইচ্ছাই সরকারের নেই। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই বিষয় নিয়ে শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক। কেউ লিখেছেন, “এটা শুধু নিলাম নয়, এটা সরকারের গোপন খেলা। এই জমির পেছনে অন্য গল্প লুকিয়ে আছে।”


 এখন কী হবে?

সরকার নাকি পুনরায় নিলাম আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। তবে প্রশ্ন হল — এবার কি কেউ এগিয়ে আসবে? না কি আগের মতোই ভয়ের ছায়ায় জমিগুলি আবার অবিক্রীত থেকে যাবে? প্রশাসনিক মহল মনে করছে, আগামী নিলামে আরও স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে সাধারণ ক্রেতারাও এগিয়ে আসতে পারেন।

কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, “যদি সরকার সত্যিই এই জমিগুলি বিক্রি করতে চায়, তবে তাদের প্রথমে জমির আইনি জটিলতা ও সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত প্রশ্নগুলির সমাধান করতে হবে। সাধারণ ক্রেতা যতক্ষণ না নিরাপদ বোধ করছেন, ততক্ষণ কোনও বিক্রি সম্ভব নয়।”


 জমি বিক্রির গল্প নাকি রাজনৈতিক আড়াল?

এই ঘটনাটি কি শুধুই একটি ব্যর্থ নিলাম? নাকি এর পেছনে আছে বড় কোনও গোপন পরিকল্পনা? কেউ কেউ বলছেন, এটি আসলে প্রশাসনের ভেতরের দুর্নীতি ঢাকার একটি উপায়। আবার কেউ বলছেন, এই জমিগুলি রাষ্ট্রের গোপন তহবিল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যেভাবেই দেখা হোক, এটি নিছক রিয়েল এস্টেটের গল্প নয়—এটি ভারতের অপরাধ ইতিহাসের একটি প্রতিচ্ছবি।


 শেষ কথা

দাউদ ইব্রাহিমের নামের সঙ্গে যুক্ত যে কোনও সম্পত্তি ভারতের জনমানসে এক অদ্ভুত আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তার মায়ের নামে থাকা জমি বিক্রিতে সরকারের এই ব্যর্থতা সেই ভয়ের বাস্তব প্রমাণ। তবে এই ঘটনার মাধ্যমে একটা বিষয় স্পষ্ট — যতদিন না রাষ্ট্র সাহসের সঙ্গে এই অতীতের ছায়াগুলিকে মুছে ফেলতে পারে, ততদিন দাউদের নামের প্রতিধ্বনি ভারতের জমির বুক থেকে হারাবে না।

Preview image